গ্রামের বাড়ির পথে যাত্রা ।

in Incredible India9 months ago

IMG_2198.jpeg

কয়েকদিন আগে সকাল ১০ তার দিকে হঠাৎ করেই আমার গ্রামে থাকা দেবর কল দিয়ে জানালো যে ,আমার এক জ্যাঠা শশুর মারা গেছেন কিছুক্ষন আগে। অনেক দিন ধরেই তিনি শয্যাশায়ী ছিলেন।

আমার জেঠি শাশুড়ি মারা যাবার পর থেকেই তিনি মূলত ভেঙে পড়েছিলেন ও ধীরে ধীরে তার অসুস্থতা বাড়তে ছিল। গত শীতের শেষের দিকে তাকে দেখতে গিয়েছিলাম তখন তিনি নিজেই তার সম্পর্কে বলেছিলেন।

অসম্ভব মিশুক ধাঁচের একজন মানুষ ছিলেন ,সারাক্ষন মানুষজন নিয়ে আড্ডা দিতে ভালোবাসতেন। নিজে খেতেও যেমন ভালোবাসতেন তেমনি অন্যদেরকেও খাওয়াতে ভালোবাসতেন। সেই মানুষটা তার শেষ দিনগুলো এক ঘরে বিছানায় শুয়ে দিন কাটিয়েছেন এটা ভাবতেও কষ্ট হয়। শরীরের নিচের অংশ প্যারালাইজড হয়ে গিয়েছিলো তার।

IMG_2194.jpeg

তার মৃত্যুসংবাদ পেয়ে মনটা অসম্ভব রকমের খারাপ হয়ে গেলো। তখন সিদ্ধান্ত নিলাম যে ,গ্রামে যাবো।এমনিতেও অনেকদিন হয়ে গেছে গ্রামে যাওয়া হয় না আমার। কিন্তু যাবো বললেই যাওয়া সম্ভব না। ছুটির দিন থাকার কারণে ঘুম থেকে উঠতে লেট্ করেছি। বুয়া কাজে আসে নাই।

আমার বিড়ালের জন্য মাছ ,মাংস ও সেই সাথে আমাদের জন্যও সাপ্তাহিক বাজার করে এনেছে। সেগুলি গুছিয়ে রাখতে হবে। দুপুরের রান্নার সিদ্ধান্ত বাদ দিলাম। তারপরও সবকিছু গুছিয়ে রেখে বাসা থেকে বের হতে হতে ১২টার বেশি বেজে গেলো।
ছোট ছেলেকে বাসায় রেখে আমরা তিনজন গ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম। ওই দিনের আবহাওয়াটা অসম্ভব রকমের সুন্দর ছিল। আকাশে পেজা পেজা তুলোর মতো মেঘ আর সেই সাথে প্রচন্ড রকমের বাতাস। এবার তো বৃষ্টির জন্য শরৎকাল দেখিই নাই বলতে গেলে ,কিন্তু ওই দিন সেই আক্ষেপ কিছুটা মিটে গেলো বলা যায়।

আর যাওয়ার পথে মাঝে মাঝেই কাশফুল দেখতে পেলাম। কাশ ফুল দেখতে দেখতে ভাবছিলাম যে হয়তো আর বছর দশেকের মাঝে আমাদের দেশ থেকে কাশফুল বিলুপ্ত হয়ে যাবে। সবজায়গা মানুষে দখল করে বাড়ি-ঘর তৈরী করছে।

IMG_2195.jpeg

ছেলেকে বললাম যে ,আমি কাশফুল কাছ থেকে দেখতে চাই। ওরা আমার এই প্রস্তাবে খুব একটা রাজি না থাকলেও বলা যায় আমার জোড়াজুড়িতেই এক জায়গায় গাড়ি থামিয়ে বললো যে ,তুমি গিয়ে দেখে আসো যত দ্রুত সম্ভব।

আমাকে তাড়া দেয়ার পেছনে অবশ্য কারণ ছিল। যায় হোক আমি কাশবনের পাশে গিয়ে একদম মুগ্ধ হয়ে গেলাম। অনেক দিন পরে একটা পরিচিত সব শুনতে পেলাম যা আমি ছোট বেলাতে আমার মামাবাড়ির পেছনের বাঁশবাগানে গেলে শুনতে পেতাম। বাতাসে বাঁশগাছের ঝরে একধরণের শোঁশোঁ শব্দ হতো ।

ঠিক ওই শব্দটাই এই কাশবনে গিয়ে শুনতে পেলাম । কাশবনের পাতাগুলো অনেকটাই শুকিয়ে গেছে ,যার কারণে শুকনো কাশের গাছগুলো বাতাসে এমন শব্দ করতেছিলো।
মানুষের ব্রেইন আসলেই খুব অদ্ভুত। এই শব্দ আমি ভুলেই গিয়েছিলাম কিন্তু কাশবনের শব্দ পেয়ে আমার সেই ছোট বেলার কথা মনে পরে গেলো।

কিন্তু খুব বেশি সময় উপভোগ করার সৌভাগ্য অবশ্য হলো না। দেরি হয়ে যাচ্ছিলো তাই ওরা হর্ন বাজিয়ে আমাকে ফেরার তাগাদা দিয়ে যাচ্ছিলো। ফলে আবাব গিয়ে গাড়িতে ঢুকে খাঁচার পশুর মতো। এরপর আবারো যাত্রা শুরু করলাম গ্রামের পথে।
এরপর কি হলো সেটা পরবর্তী লেখায় জানাবো।

3KyYabPY3g77mhATvBAAUF5zNR1CtqkeWauN9MRyWDCSJJeN9WZVXxTFs1osy6uhZisoaiFyWVDNasfkuL6TCt1ktBsbpzwrjDQjD5Whfk...ZaM9uuYHaeW4UUPGGgs2cmDJiTjepqhtQSaepYYFHTcDDjyKwJFNySU1pqwEMpSESQC3Gn7hqBvLRjSYsY6BdDKRgFVbQR2Yp7VjXiG9Wvs5d8nxs9LuoDTwMx.png

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.33
JST 0.096
BTC 61916.70
ETH 1737.12
USDT 1.00
SBD 0.39