বাংলাদেশের হাওড় অঞ্চলের একটি বিলুপ্ত প্রায় পল্লী সংগীতের নাম ঘাটু গান।
আমার যমুনার জল দেখতে কালো,
চান করিতে লাগে ভালো,
যৌবন মিশিয়া গেলো জলে।
অবশ্য হুমায়ুন আহমেদ মানেই অন্যকিছু। তার সবকিছুই আলাদা। সেটা লেখা ,নাটক কিংবা সিনেমা যাই হোক না কেন । অভিনেতাদের অভিনয়ও মন কেড়ে নিয়েছিলো। কিন্তু কষ্ট লেগেছিলো ঘেটুপুত্র কমলা চরিত্রের বাচ্চাটার কথা চিন্তা করে। এটা ভাবনায় এসেছিলো যে ,ঘেটু গানের দলের এমন কত কিশোর ছেলেকে এমন বাজে অভিজ্ঞতার ভেতর দিয়ে যেতে হয়েছে।
ধারণা করা হয় যে , প্রায় দুইশত বছর আগে বৃহত্তর সিলেটের হবিগঞ্জ জেলার 'জলসুখা 'গ্রামের এক বৈষ্ণব আখড়ায় ‘ঘাটুগান’ নামে বাংলা লোকসংগীতের এক নতুন ধারার সৃষ্টি হয়েছিলো। আর সেই বৈষ্ণব আখড়ার ভগবান কৃষ্ণের প্রেমে নিমগ্ন বেশ কিছু ভক্তের মধ্য থেকে কয়েকজন বালককে শ্রীরাধার সখী সাজিয়ে নেচে নেচে বিরহ সংগীত পরিবেশন করা হতো। আর সেই থেকেই প্রচলন ঘটে এই ঘাটু বা ঘেটু গানের।আবার অনেকের মতে, বৃহত্তর সিলেটের আজমিরীগঞ্জের উদয় আচার্যই ছিলেন এই গানের প্রবর্তক।
এই গানের ধারাতে গান প্রচলিত কীর্তন সুরে করা হলেও এতে উচ্চাঙ্গসঙ্গীতেরও বেশ প্রভাব দেখা যায় । এই গানে ঢোল, খুঞ্চুরি, করতাল, ঘুঘুরা, মন্দিরা, ঢোলক, হারমোনিয়াম ইত্যাদি বাদ্যযন্ত্র ব্যবহৃত হয়।অঞ্চলভেদে এই গানকে ঘাঁটু, ঘেটু, গেন্টু, ঘাডু,গাড়ু,গাঁটু, ইত্যাদি নাম ডাকা হয়। তবে শুরুর দিকে এই গান পূজা অর্চনার অংশ থাকলেও পরবর্তীতে এই গানকে বাণিজ্যিক করে বেশ জনপ্রিয় করে তোলা হয় তরুণদের মাঝে।
ঘাটু বা ঘেটু যে নামেই ডাকি না কেন এই শব্দটি এসেছে মূলত ‘ঘাট’ শব্দ থেকে। বিভিন্ন ঘাটে নৌকা ভিরিয়ে এই গান গাওয়া হতো বলেই এই ধারার গানকে ঘাটু বা ঘেটু গান বলা হয়ে থাকে।সিলেটের সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ ,বৃহত্তর ময়মনসিংহের কেন্দুয়া, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ ইত্যাদি অঞ্চলের নিম্নাঞ্চল ভাটি তথা হাওর এলাকা নাম পরিচিত । এই এলাকাগুলো বৈশাখ মাসে ধান তোলার পর থেকে প্রায় কার্তিক মাস পর্যন্ত জলমগ্ন থাকে ।
এরকম সময়ে এই সব জায়গাতে এক অঞ্চলের সঙ্গে আর এক অঞ্চলের যোগাযোগের মাধ্যম থাকে কেবলমাত্র জলপথ। এই সময়ে একটা গ্রাম বা বৃকে দেখতে অনেকটা দ্বীপের মতো মনে হয়। এসময়টা ঐসব এলাকার মানুষের জন্য অখন্ড অবসর কাল। আর এরকম সময় গান-বাজনা, জারি, সারি, কীর্তন, বাউল, কবিগানই ছিলো ঐ সমস্ত অঞ্চলের মানুষদের মনোরঞ্জনের একমাত্র মাধ্যম।
কিন্তু অন্য সব গানের মতো ঘেটু গান এখানেই সীমাবদ্ধ ছিল না। দেখা যেতো যে ,মেয়েলি চেহারার তেরো /চৈদ্দ বছর বয়সী কিশোর ছেলেদেরকে মেয়ে সাজিয়ে এই গান এর সাথে নাচানো হতো। এই সময় অনেক ধনী পরিবারের সদস্যরাই তাদের বউবাচ্চাকে মাস ছয়েকের জন্য বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়ে এসব কিশোর ছেলেদের সাথে নাচ গানে মগ্ন থাকতো। এতে করে সমাজে
সমকামিতা ছড়িয়ে পরে। এর ফলে এসব পরিবারের সদস্যরা এই গানের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হয়ে উঠে। যার কারণে পরবর্তীকালে ধীরে ধীরে এই গান জনপ্রিয়তা হারাতে শুরু করে আর বিলুপ্তির দিকে যেতে শুরু করে। আর এভাবেই হারিয়ে যেতে থাকে এক সময়ের প্রবল জনপ্রিয় ঘেটু গান।
The topic that I'm writing about is the folk song 'Ghatu' gan. Ghatu songs were popular in our country once. Ghatu Gan was an almost extinct rural music from the Howar region of Bangladesh. The popularity of Ghatu songs is fading away. I wrote the entire article in Bengali because it is my native language and allows me to express myself better.
◦•●◉✿ Thanks Everyone ✿◉●•◦
◦•●◉✿ Thanks Everyone ✿◉●•◦
মুভিটা বাংলার একটা সময় কে তুলে ধরা হয়েছে। মুভিটিতে সমকামিতা সম্পর্কে তুলে ধরেছে যেটা বাংলাদেশের কালচার বিরুদ্ধ।তবে ঘেটু গান নিয়ে যেহেতু মুভিটি,এটাতে যে গান গুলো ব্যবহার করা হয়েছে তা সত্যিই অসাধারণ।
অনেক ধন্যবাদ আপনাকে মন্তব্য করার জন্য। ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন সবসময়।
ঘাটু গান যদিও আমি কম শুনি। কিন্তু আমার যমুনার জল দেখতে কালো এই গানটা আমি অনেকবার শুনেছি। এবং এর পরিপ্রেক্ষিতে একটা টেলিফিল্ম রয়েছে। সেটাও আমি দেখেছি নাটকটা অসম্ভব সুন্দর।
আজকে আপনি বেশ কয়েকটা ঘাটু গান সম্পর্কে আমাদের সাথে আলোচনা করেছেন। অবশ্যই গানগুলো ইউটিউব থেকে দেখার চেষ্টা করব। ধন্যবাদ আপনাকে, বিলুপ্তপ্রায় এই গান সম্পর্কে আমাদের সাথে উপস্থাপন করার জন্য। ভালো থাকবেন।
@rubina203(67)
ঘেটু গান কম শুনা ছাড়া উপায়ও নেই তেমন একটা। কারন ইউটিউব এ হাতেগুনা কয়েকটি গান ছাড়া পাওয়াও যায় না।
এত সুন্দর করে মন্তব্য করার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।
ভালো থাকবেন সবসময় এই শুভকামনা রইলো আপনার জন্য।
আমার মনে হয় ঘুাট গান নাম এই প্রথম শুনেছি, তবে এই গান প্রায় বিলুপ্তের পথে আপনার পোস্ট পড়ে বুঝতে পেরেছি আপনি খুব সুন্দর ভাবে পোস্টটা উপস্থাপনা করেছেন আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
@karobiamin71(63)
মন্তব্য করার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। ভালো থাকবেন সবসময় এই শুভকামনা রইলো আপনার জন্য।
Welcome