" 'পান্ডবা নির্জলা একাদশী'- র সারাদিন যেভাবে কাটালাম"

in Incredible India12 hours ago

IMG_20260626_090807.jpg
"পান্ডব নির্জলা একাদশীর দিনে সাজানো পুজোর আসন"

Hello,

Everyone,

আশা করি আপনারা সকলে ভালো আছেন সুস্থ আছেন এবং আপনাদের সকলের আজকের দিনটি খুব ভালো কেটেছে।

আজ আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করতে চলেছি ২৬ তারিখ সারাটা দিন আমার কিভাবে কেটেছিল সেই গল্পই। দিনটি ছিলো শুক্রবার। আর এদিন জ্যৈষ্ঠ মাসের শেষ একাদশী ছিলো, যার নাম ছিল "পান্ডব নির্জলা একাদশী"। অনেকে আবার এটিকে বা "ভীমসেনী একাদশী" ও বলেন।

হিন্দু পঞ্জিকা অনুসারে এটি জ্যৈষ্ঠ মাসের শুক্লপক্ষের একাদশী তিথি। সারা বছরে যে ২৪ টি একাদশী পালিত হয়, তার মধ্যে এটি সবচেয়ে কঠিন ও পবিত্র বলে মনে করা হয়। এই ব্রত পালনের ক্ষেত্রে অন্ন-জল ছাড়া সম্পূর্ণ উপবাস করতে হয়।

এর পেছনে অবশ্য একটি পৌরাণিক প্রেক্ষাপটও রয়েছে। এই বছর অনেক আগে থেকেই ঠিক করেছিলাম এদিন নির্জলা থাকার চেষ্টা করবো। খুব সমস্যা না হলে জল বা ফল কোনোটিই গ্রহণ করবো না।

তাই আগের দিন রাত বারোটার আগেই জল খেয়ে, ব্রাশ করে তারপর শুতে গিয়েছিলাম। পরদিন খুব সকালে উঠেছিলাম কারণ, বেলার দিকে কাজ করলে অনেকখানি বেশি কষ্ট হয়। তখন জল পিপাসা আরও বেশি পায়। এই কারণে সকালে উঠে ঘর মুছে, ঠাকুরের বাসন মেজে, ফুল তোলা সম্পন্ন করেছিলাম।

সৌভাগ্যবশত এই দিন শুভর অফিস ছুটি ছিলো, তাই রান্নার কোনো ঝামেলা ছিল না। আর আমাদের বাড়িতে আমি, শুভ, শাশুড়ি মা তিনজনেই যেহেতু একাদশী পালন করি, তাই রান্নার কোনো চাহই ছিলো না সেদিন।

IMG_20260626_172439.jpg
"আমাদের গোপাল।"

শাশুড়ি মা বাজারে গিয়েছিলেন ফল‌ আনার জন্য। আমি ততক্ষণে স্নান সেরে ঠাকুর পূজো সম্পন্ন করে নিয়েছিলাম। তারপর কমিউনিটির কিছু কাজ করেছি আর নিজের পোস্ট লেখার সম্পন্ন করেছি।

দুপুরের দিকে শুভ এবং শাশুড়ি মা ফল খেয়েছিলো। শুভর পক্ষে নির্জলা থাকা সম্ভব ছিলো না, আর শাশুড়ি মা যেহেতু ওষুধ খান তাই ওনাকে জল খেতেই হতো। তাই ওনরা ওনাদের মতন ফল, জল গ্রহণ করেছিলেন। এরপর মালদা থেকে বৌদি ফোন করলে ওর সাথে কিছুক্ষন কথা বললাম। আমার মতন সেদিন বৌদিও এই ব্রত পালন করছিলো।

ঠাকুর পূজা যেহেতু সকালেই শেষ হয়ে গিয়েছিলো, আর রান্নাবান্নারও কোনো ঝামেলা ছিলো না। তাই দুপুরের দিকে তেমন কোনো কাজ ছিলো না, এই কারণে কিছুক্ষণ আমি একাদশীর ব্রত মাহাত্ম্যের বইয়ে এই পান্ডব নির্জলা একাদশীর কাহিনী পড়েছি।

**মহাভারতের বর্ণনা অনুযায়ী, পঞ্চ পাণ্ডব গনের মধ্যে তাদের দ্বিতীয় ভাই ভীমসেন অত্যন্ত ভোজনরসিক ছিলেন। আর তিনি কোনো মতেই খিদে সহ্য করতে পারতেন না।

অন্যান্য ভাইদের মতো তিনি চাইলেও বছরের সব একাদশী ব্রত পালন করতে পারতেন না এই খিদের কারণে। মহর্ষি বেদব্যাসের শরণাপন্ন হয়ে তিনি তার এই সমস্যার কথা জানান।**

IMG_20260626_172814.jpg
"একাদশীর মাহাত্ম্য। "

আর বেদব্যাস তাকে জানায় সারা বছরের সব কটি একাদশী তাকে পালন করতে হবে না। কিন্তু তার বদলে তাকে নিষ্ঠা সহকারে পান্ডব নির্জলা একাদশী ব্রত পালন করতে হবে। তাহলে বাকি ২৩ টি একাদশী পূর্ণ ফল তিনি লাভ করতে পারবেন।

বেদব্যাসের আদেশানুসারে তিনি জ্যৈষ্ঠ মাসের শুক্লপক্ষের এই কঠোর একাদশী ব্রত পালন করেন। যেহেতু ভীম এই ব্রত পালন করেছিলেন, তাই এই একাদশীর আরেক নাম 'ভীমসেনী একাদশী'। পৌরাণিক কাহিনী অনুয়ায়ী এই একটি ব্রত পালন করলেই বছরের বাকি ২৩ টি একাদশীর পুণ্যফল লাভ করা যায়।

ব্রত পালনের নিয়ম হলো একাদশীর সূর্যোদয় থেকে দ্বাদশীর সূর্যোদয় পর্যন্ত জল ও অন্ন গ্রহণ থেকে বিরত থাকতে হবে। তবে অনেকেই আছেন যারা শারীরিক বিভিন্ন সমস্যার কারণে সম্পূর্ণ নির্জলা উপবাস করতে পারেন না।

তাই যাদের পক্ষে এই উপবাস করা একেবারেই সম্ভব নয়, এই একাদশীতে তারা শুধুমাত্র জল ও ফল গ্রহণ‌ করতে পারবেন। আর একাদশীর পরের দিন দ্বাদশী তিথিতে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অন্ন বা প্রসাদ বাজে কোনো রবিশস্য গ্রহণ করে পারণ সম্পন্ন করতে‌ হবে।

আমি যে সেদিন শুধু এই পান্ডব নির্জলা একাদশীর কাহিনীই পড়েছিলাম এরকম নয়। আরও দুই একটা ব্রতের কাহিনী শুয়ে শুয়ে বেশ কিছুক্ষণ পড়েছিলাম। তারপর বিকেলের দিকে গিয়েছিলাম ছাদে। গাছ গুলিতে জল দেওয়ার প্রয়োজন ছিলো না, কারণ গাছের গোড়ার মাটি ভিজেই ছিলো।

IMG_20260626_182422.jpg
"একটা ড্রাগন ফুল এখনও শুকনো অবস্থায় ঝুলছে"

হঠাৎ চোখ পড়ল আমাদের ড্রাগন গাছের দিকে। ড্রাগন গাছের ফুল এসেছিলো সেটা আপনাদের সাথে পুরনো একটা পোস্টে শেয়ার করেছিলাম। তবে এখন ফুলগুলো শুকিয়ে গিয়েছে, দুটো ফুল ইতিমধ্যেই ঝড়ে গেছে, তবে একটা ফুল ঝরা এখনও বাকি আছে। ফলগুলো দেখতে বেশ ভালো লাগছিলো, তাই কয়েকটা ছবি তুললাম।

ছাদে সেদিন অনেকটাই সময় কাটিয়েছিলাম। তারপর সন্ধ্যা হতেই সন্ধ্যা পুজো দিলাম। সন্ধ্যার পর থেকে অনেকটা সময় কেটেছে টিভি দেখেই। টিভিতে মায়াপুর ইসকনের বিভিন্ন ভিডিও দেখছিলাম।

এভাবেই অনেকটা সময় পার হলে, রাতের দিকে আবার শাশুড়ি মা এবং শুভ নিজেদের মতো করে ফল খেয়ে নিলো। আর আমি নিজের পোস্ট লেখা শুরু করলাম। কিছুক্ষণ বাদে রাতে শোয়ার জন্য বিছানা রেডি করলাম, তারপর কিছুক্ষণ ফোন দেখতে দেখতে শুয়ে পড়লাম।

সত্যি কথা বলতে আমি ঠিক করেছিলাম যদি খুব বেশি কষ্ট হয়, তাহলে জল বা ফল কিছু খেয়ে নেবো। কিন্তু কিভাবে জানিনা এতটুকুও কষ্ট হয়নি আমার। এমনকি পরদিন সকালে উঠে সময়ের মধ্যে পারণ শেষ করে, আমি শুভর জন্য অফিসের রান্নাও করে দিয়েছিলাম। কিন্তু আগের দিন নির্জলা উপবাস করার পরেও পরদিন তেমন কোনো শরীর খারাপ লাগেনি, এটা হয়তো ঈশ্বর চেয়েছিলেন বলেই সম্ভব হয়েছে।

IMG_20260626_182442.jpg
"ড্রাগন ফল"

আগামী বছর আদেও এইরকম ভাবে এই ব্রত পালন করতে পারবো কিনা জানিনা। কিন্তু এই বছর এই ব্রত পালন করার পর এক অদ্ভুত শান্তি অনুভব করেছি, যা আপনাদের সাথে ভাষায় লিখে প্রকাশ করা সম্ভব নয়। বাকি সবটাই নিজের মনের ব্যাপার। কারণ ভক্তি কারোর মধ্যে জোর করে স্থাপন করা যায় না।

যাইহোক সারাটা দিন হয়তো তেমন কোনো কিছুই করা হয়নি, কিন্তু এই ব্রত করে আমি কেমন অনুভব করেছি সেটা আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করতে চেয়েছিলাম। তাই আজকে এই পোস্টের মাধ্যমে আপনাদের সাথে শেয়ার করলাম।

আপনারা কারা কারা একাদশী ব্রত পালন করেন, তা অবশ্যই মন্তব্যের মাধ্যমে জানাবেন। সকলে ভালো থাকবেন। আপনাদের সকলের দিনটি ভালো কাটুক।

9vWp6aU4y8kwSZ9Gw15LFL3aMdhmgmBBFMpDJregpdP328TqCvhjhspw5NBPbWMShaDD4yjYoZFwyWS9XH9YcrMyqTMGHiWpaGrwDGkXYMbDHgxptYZq3ueRpXapEAPkAuu3vPaZSXJ2USdTC.png

Sort:  


image.png
Curated by: @ahsansharif

Loading...

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.32
JST 0.089
BTC 59558.93
ETH 1569.99
USDT 1.00
SBD 0.42