"অভিরাজ হোমস্টে তে কাটানো সকাল বেলার অভিজ্ঞতা"
|
|---|
Hello,
Everyone,
বেশ কিছুদিন হয়ে গেল আপনাদের সাথে দার্জিলিং ঘোরার গল্প শেয়ার করা হয় না। তাই ভাবলাম যেখানে লাস্ট পোস্ট শেষ করেছিলাম, আজ সেখান থেকে আবার শুরু করি।
গত পোস্টে আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করেছিলাম অভিরাজ হোমস্টেতে রাত্রি যাপনের অভিজ্ঞতা। আর আজ আপনাদের সাথে শেয়ার করবো, সকাল থেকে দিনটা কিভাবে শুরু হয়েছিলো।
খুব সত্যি কথা বলতে দার্জিলিং এ ঘুরতে যাওয়ার কয়েকদিন ইচ্ছে ছিলো একটু বেলাতেই ঘুম থেকে উঠবো। কারণ প্রতিদিন বাড়িতে নির্দিষ্ট সময়ে ঘুম থেকে উঠতে হয়। তবে যেদিন থেকে দার্জিলিঙে গিয়েছি সেদিন থেকে সময়ের আরো অনেক আগে ঘুম উঠে পড়েছি। কারণ ভোরের আলো যখন থেকে ফুটতো, তখন থেকেই যেন পাহাড়ের সৌন্দর্য্য দেখার লোভ সামলাতে পারতাম না কেউই।
|
|---|
তাই একজনের কোনো ভাবে ঘুম ভেঙ্গে গেলে, বাকি সকলকে ডেকে তুলে দেওয়া হতো। যাতে সেই সৌন্দর্য্য আমরা উপভোগ করতে পারি। এই দিনেও তার অন্যথা হয়নি। সকাল ৫ টা বাজতে না বাজতেই মোটামুটি সকলেই ঘুম থেকে উঠে পড়েছিলাম। আর সেই দিন ওখানে বেশ ভালো ঠান্ডাও ছিলো। যেহেতু আগের দিন রাতে ভালোই বৃষ্টি হয়েছে। আর তারপর থেকে সকলেই অপেক্ষা করছিলাম সূর্যোদয়ের।
|
|---|
তবে মেঘে ঢাকা থাকার কারণে কখনো এক ঝলক সূর্য মামার দেখা মিল ছিলো, আবার মুহূর্তের মধ্যেই ঢাকা পড়ে যাচ্ছিলো মেঘের নিচে। তবে সেই মুহূর্ত গুলোও যথেষ্ট উপভোগ্য। বাইরে বেশিক্ষণ দাড়াতে পারছিলাম না শীতের কারণে, তাই প্রত্যেক ঘরে এসে কম্বলের তলায় ঢুকে পড়লাম। তবে আমাদের রুমটা খুব সুন্দর ছিলো যেখানে সামনে লম্বা কাঁচের জানালা ছিলো।
|
|---|
|
|---|
যে জানালাটা কুয়াশার কারণে ঝাপসা হয়ে গেলেও সূর্যোদয়ের সৌন্দর্য্য সেই কাঁচের মধ্যে থেকেও যেন খুব সুন্দর ভাবে উপভোগ করতে পারছিলাম। এরকমভাবে সকলে অনেকগুলো ছবিও তুললাম। বেলা বাড়ার সাথে সাথে ধীরে ধীরে মেঘ কাটতে থাকলে, কিছুক্ষণ বাদে রৌদ্দুরের ঝলক দেখা গেলো।
|
|---|
|
|---|
আমরা সকলেই সামনের বারান্দাতে এসে বসলাম, যেখানে রোদ্দুরটা খুব সুন্দর ভাবে পড়ছিলো। আর সামনে থাকা প্রকৃতিটা সেখানে বসেই অনেকক্ষণ ধরে সকলে মিলে উপভোগ করলাম। ইতিমধ্যে পিয়ালী পাশ থেকে কতগুলো ফুল তুলে নিয়ে এসেছিলো। এই ফুলগুলো রাস্তার পাশেই হয়ে থাকে, কিন্তু সৌন্দর্য্য অসাধারণ।
|
|---|
|
|---|
আমিও তাই সেই ফুলগুলোর ছবি তুলে নিলাম। আশাকরি ছবিতে আপনারা আমাদের দু'জনকে দেখতে পাচ্ছেন। তবে ফুলগুলো দেখানোই উদ্দেশ্য ছিল। যাইহোক এই সমস্ত কিছু করতে করতে কলিংবেলের আওয়াজে দরজা খুলতেই দেখলাম আমাদের সকালের চা দিয়ে গেলো।
|
|---|
তাই সকলে মিলে আবার রুমে এসে কম্বলের ভিতরে বসে গরম গরম চা উপভোগ করলাম। সকালের ব্রেকফাস্ট টা এই হোমস্টে থেকেই আমাদের দেবে এমনটা আগে থেকেই কথা ছিলো। এরপর একা করে প্রত্যেককে ফ্রেশ হয়ে তৈরি হয়ে নিলাম, কারণ মোটামুটি নটার মধ্যে বেরিয়ে যাবো এমনটাই ঠিক হয়েছিলো, যাতে পরবর্তী জায়গা গুলো আমরা ঘুরে দেখতে পারি।
|
|---|
|
|---|
যাইহোক সকলের স্নান করতে করতে বেশ খানিকটা সময় লাগলো। তার মধ্যে আমাদেরকে জানালো ব্রেকফাস্টও রেডি হয়ে গেছে। তাই সকলে মিলে একসাথে গিয়ে ব্রেকফাস্ট করলাম। ব্রেকফাস্টে ছিল ছোলার ডাল এবং আলুর পরোটা। খেতে মোটামুটি বেশ ভালোই হয়েছিলো। সকলেই মোটামুটি তৈরি হয়ে গিয়েছিলো। তবে হোমস্টের খরচের বিষয় নিয়ে আলোচনার জন্য বেশ কিছুটা সময় নিয়েছিল আমাদের সাথে যাওয়া দাদারা।
|
|---|
"হোমস্টেতে সজ্জিত ফুলের বাহার"
এই কারণে সেই সুযোগে আমরা হোমস্টের চারপাশে যে সুন্দর ফুলের গাছ ছিলো সেগুলো আরও একবার উপভোগ করলাম। কারণ এরপর আর কবে এখানে আসা হবে তার কোনো নিশ্চয়তা ছিলো না। তাই যতটা সময় আমরা সেখানে ছিলাম, সম্পূর্ণ জায়গাটাই খুব সুন্দরভাবে উপভোগ করার চেষ্টা করেছিলাম। এরপর আমাদের গাড়ি রওনা করেছিলো পরবর্তী ডেসটিনেশনে।
|
|---|
সত্যি কথা বলতে অভিরাজ হোমস্টেতে কাটানো দিনটা খুবই সুন্দর ছিলো। আর রুমের সামনের পরিবেশটা এতো সুন্দর ছিল যে, তার স্মৃতি আজীবন মনের মনিকোঠায় জমা হয়ে থাকবে। সত্যি কথা বলতে দার্জিলিংয়ের ঘোরার প্রত্যেকটা মুহূর্ত আমরা সকলেই অনেক বেশি উপভোগ করেছি। প্রথমত এটি ছিল আমাদের প্রথম পাহাড় দেখার অভিজ্ঞতা। তারপর বন্ধুদের সাথে একত্রে এই জায়গা উপভোগ করার সুযোগ পেয়েছিলেন, তাই আনন্দ বহুগুণ বেড়ে গিয়েছিলো।
যাইহোক এর পরবর্তীতে আমরা বেশ কিছু জায়গা দেখে তারপর রওনা করেছিলাম দার্জিলিং এর উদ্দেশ্যে। দুটো দিন আমরা অফবিটে কাটিয়েছিলাম। তার আনন্দ ও অনুভূতি খুবই সুন্দর। আমি প্রতিদিনকার ছোট ছোট মুহূর্তগুলো আপনাদের সাথে লেখার মাধ্যমে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। আশাকরি আপনাদের আমার এই দার্জিলিং সিরিজের গল্পের পোস্ট পড়তে ভালো লাগছে।
যাইহোক পরবর্তীতে আবার আরও একটাই নতুন পোস্টে আপনাদের সাথে পরবর্তী জায়গার গল্প শেয়ার করবো। আজ তাহলে এই পর্যন্ত থাক। ভালো থাকবেন সকলে। ধন্যবাদ।
You have been supported by the Team 02:
Thank you for your support @pelon53 Sir. 🙏