"প্রথমবার দমদম উৎসবে যাওয়ার অভিজ্ঞতা- প্রথম পর্ব"

in Incredible Indiayesterday
IMG_20260109_181516.jpg
"দমদম উৎসব"

Hello,

Everyone,

ফোনের গ্যালারি ঘাঁটতে ঘাঁটতে আজ বেশ কয়েক মাস পুরনো কিছু ছবি চোখে পড়লো। যেগুলো আপনাদের সাথে শেয়ার করবো বলে তুলেছিলাম, কিন্তু কোনো কারণে সেই সময় আর শেয়ার করা হয়ে ওঠেনি।

হয়তো অন্যান্য বিষয়গুলো শেয়ার করতে গিয়ে এইসব ছবিগুলো গ্যালারিতেই থেকে গেছে। ফলতো সেই মুহূর্তগুলো আপনাদের সাথে আর শেয়ার করা হয়ে ওঠেনি। তাই ভাবলাম আজকের পোস্টের মাধ্যমে আপনাদের সাথে কয়েক মাস আগের এক সুন্দর সন্ধ্যার গল্প শেয়ার করি।

দিনটি ছিল জানুয়ারি মাসের ৯ তারিখ। আপনারা অনেকেই হয়তো মনে করতে পারবেন এই বছরের শুরুটা আমার হয়েছিলো মালদায়। আমি আর শুভ সেই সময় মালদায় গিয়েছিলাম এবং আমরা ফেরার সময় আমাদের সাথে বৌদি আর আমার দাদার ছেলেও এসেছিলো। প্রথমবার ওরা কলকাতায় আমাদের বাড়িতে এসেছিলো, তাই ওদেরকে নিয়ে আমার মামা বাড়িতে, দিদি বাড়িতেও ঘুরতে গিয়েছিলাম।

IMG_20260109_181207.jpg
"মেলার প্রবেশ পথ"

এই বছর ঠান্ডাও পড়েছিল ভীষণ। আর যেদিন আমরা দিদি বাড়িতে গিয়েছিলাম সেদিন দিদিরা জোর করেই আমাদের ওদের বাড়ির পাশের একটা ছোট্ট মেলায় নিয়ে গিয়েছিলো। ছোট্ট মেলা এই কারণেই বললাম আপনারা সকলেই নিশ্চয়ই জানবেন, কলকাতার মতন জায়গায় বিশাল বড় মাঠ জুড়ে মেলার আয়োজন করা সব জায়গাতে সম্ভব নয়। তাই দিদির বাড়ি থেকে খানিকটা দূরে ছোট্ট একটা জায়গাতেই দমদম পৌরসভার তরফ থেকে মেলার আয়োজন করা হয়েছিলো।

IMG_20260109_181248.jpg
"তিতলি ও ধীরাজকে নিয়ে দিদির মেলায় ঢোকার মুহূর্ত"

তার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক উৎসবের আয়োজনও হয়েছিলো। প্রথমে ভেবেছিলাম এক্কেবারে ছোট্ট একটা জায়গাতেই হয়তো আয়োজন করা হয়েছে। তবে সেখানে গিয়ে দেখলাম জায়গাটা নেহাৎ ছোটো নয়। "দমদম উৎসবের" কথা এর আগে শুনেছি। কিন্তু কখনো যাওয়ার সুযোগ হয়নি। এখানে বেশ নামি দামি শিল্পীরাও আসেন পারফর্ম করতে।

IMG_20260109_181228.jpg
"রাস্তাটা সুন্দর ভাবে লাইট দিয়ে সাজানো ছিলো"

দিদি যেতে বলে প্রত্যেকবারই কিন্তু তেমনভাবে আর যাওয়া হয়ে ওঠে না। তবে এবছর বৌদিরা এসেছিলো, সেই সুবাদেই দিদির বাড়িতে গিয়েছিলাম। আর সেখানে গিয়ে কিভাবে যেন হঠাৎ প্ল্যান করে আমরাও চলে গিয়েছিলাম দিদিদের সাথে। ধীরাজ অর্থাৎ আমার দাদার ছেলে এই প্রথম কলকাতার কোনো মেলায় গিয়েছিলো। তাই ও ভীষণ এক্সাইটেড ছিলো। আর যেহেতু তিতলি ও তাতান ছিল সাথে, তাই তিন জনের একটা সুন্দর টিম তৈরি হয়েছিলো।

যাইহোক দিদিদের বাড়ির সামনে থেকে টোটোতে করে আমরা মেলার গেটের সামনে পৌঁছালাম। তারপর সেখান থেকে একটুখানি পায়ে হেঁটেই পৌঁছে গিয়েছিলাম মেলার প্রাঙ্গণে। শুরুতেই খুব সুন্দর একটা গেট চোখে পড়েছিলো, আর সম্পূর্ণ রাস্তাটা সুন্দর লাইট দিয়ে সাজানো ছিলো।

IMG_20260109_181321.jpg
"বিভিন্ন রঙের লাইট দিয়ে সাজানো জলের ট্যাঙ্কি"

মেলা প্রাঙ্গণে ঢুকে সবার প্রথম যেটা নজর কেড়েছিল সেটি হলো সেখানকার জলের ট্যাংকিটি। যেটা খুব সুন্দরভাবে লাইট দিয়ে সাজিয়েছিলো, যেটা দেখতে বেশ ভালো লাগছিলো।

IMG_20260109_181450.jpg
"মাতৃভাষার সম্মানে তৈরি"
IMG_20260109_181407.jpg
" তিনজন একসাথে- তাতান, তিতলি ও ধীরাজ।"

তারপর হাতের কাজের ছোট্ট ছোট্ট জিনিস দিয়ে, একটা পাশ সুন্দরভাবে সাজানো ছিলো। যেখানে দেশের সংস্কৃতিকে তুলে ধরা হয়েছিলো বিভিন্ন ভাবে। একদিকে বিদ্যাসাগর, রামমোহন, নেতাজী সুভাষচন্দ্র বোস, সকলের সুন্দর ছবি দিয়ে একটা ছোট্ট স্টেজ বানানো ছিলো।

IMG_20260109_181333.jpg
"হাতে তৈরি পুতুল"
IMG_20260109_181501.jpg
"কামান "

আরেক দিকে হাতে তৈরি ছোট্ট ছোট্ট পুতুল তৈরি করে বাংলার ঐতিহ্যকে তুলে ধরেছে। পাশে ছিলো ছোট্ট একটা কামান, তার পাশাপাশি দক্ষিণেশ্বরের মন্দিরের ছবি দিয়ে সুন্দর ছোট্ট একটা স্টেজ তৈরি করা হয়েছিলো এবং সেখানে রামকৃষ্ণ দেবের মতো সেজে একজন আর্টিস্টও দাঁড়ানো ছিলো। সবকিছু মিলিয়ে এইসব কিছু দেখতেই দারুন লাগলো।

IMG_20260109_181555.jpg
"দক্ষিণেশ্বরের আদলে তৈরি স্টেজ"
IMG_20260109_194937.jpg
"রামকৃষ্ণ দেবের মতন করে‌ সেজে দাঁড়িয়ে ছিলেন একজন আর্টিস্ট"

এই বিষয়গুলি বাচ্চাদেরও বেশ ভালো লেগেছিলো। ওরা খুবই আনন্দ পাচ্ছিলো এগুলো দেখে এবং এই সম্পর্কিত বেশ কিছু প্রশ্ন ছিলো ওদের মনে। যেই প্রশ্নগুলোর উত্তর কখনো দিদিকে, কখনো আমাকে জিজ্ঞাসা করছিলো।

IMG_20260109_181521.jpg
"অনুসন্ধান অফিস, পাশেই ছিলো অ্যাম্বুলেন্স, আর তার পাশেই প্রাথমিক চিকিৎসা কেন্দ্রের আয়োজন করা ছিলো।"

এরপর আরও খানিকটা এগিয়ে গিয়ে দেখলাম পৌরসভা তরফ থেকেই একপাশে এম্বুলেন্স দাঁড় করানো আছে। তাছাড়া একটা অনুসন্ধান অফিসও আছে। যাতে মেলার মধ্যে কেউ কোনো ভাবে হারিয়ে গেলে, এই অনুসন্ধান অফিসে এসে যোগাযোগ করতে পারেন। এছাড়াও ফার্স্ট এইডের একটা কাউন্টার করা ছিলো। যেখানে হঠাৎ কোনো সমস্যা হলে, প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য যোগাযোগ করার কথা বলা ছিলো।

IMG_20260109_181738.jpg
"kulhad pizza"

এরপর আরও কিছুটা এগিয়ে গেলাম একটা পিজ্জার দোকান চোখে পড়লো নাম ছিলো "Kulhad Pizza"। ছোট্ট একটা মাটির ভাঁড়ের মধ্যে পিজ্জার সব উপকরণ দিয়ে, ওপর থেকে প্রচুর পরিমাণে চিজ দেওয়া ছিলো। ওখানে যখন আপনি পিজ্জা কিনবেন, তখন ওভেনের মধ্যে দিয়ে ওরা শুধু পিজ্জাটাকে একটু গরম করে দেবে। দেখতে বেশ আকর্ষণীয় লাগছিলো, তাই একটা ছবি তুলেছিলাম।

IMG_20260109_181752.jpg
"বিভিন্ন রকম ফ্লেভারের কাবাব"

এরপর একটা কাবাব এর দোকান ছিলো, যেখানে বিভিন্ন ধরনের কাবাব তৈরি করে রাখা ছিলো। যেখানে আলাদা আলাদা ফ্লেভারও ছিলো। সেখান থেকে সকলেই নিজেদের পছন্দ মতো যে কোনো ফ্লেভারের কাবাব টেস্ট করতে পারবেন।

IMG_20260109_181755.jpg
"মাছ দিয়ে তৈরি বিভিন্ন মুখরোচক পদ পাওয়া যাচ্ছিলো এই দোকানে"

এরপর চোখে পড়ল একটা মাছ দিয়ে তৈরি বিভিন্ন ধরনের মুখরোচক খাবারের দোকান। যেখানে মাছের কাটলেট, ফিস ফিঙ্গার, ফিস বাটার ফ্রাই ,‌মাছ ভাজা স, আরও বিভিন্ন ধরনের আইটেম পাওয়া যাচ্ছিলো।

IMG_20260109_181805.jpg
"মকটেল কাউন্টার"

তবে সব থেকে আকর্ষণীয় লাগছিলো এই ককটেল কাউন্টারটা। যেটা খুব সুন্দরভাবে সাজানো ছিলো এবং এখানে বিভিন্ন ধরনের মকটেল পাওয়া যাচ্ছিলো। তবে সত্যি কথা বলতে বাচ্চাদের শুরুতেই খাবারের দিকে খুব একটা বেশি আকর্ষণ ছিলো না।

তারা মেলার একেবারে শেষ প্রান্তে গিয়ে দেখতে চাইছিল সেখানে কি কি রাইড এসেছে। কোন কোন জিনিসে তারা চড়তে পারবে। সেই সমস্ত নিয়েই তাদের আলোচনা পর্ব চলছিলো।

IMG_20260109_181723.jpg
"রাইড এর দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময়।"

যাইহোক সকলকে সাথে নিয়ে আমরা আরও কিছুটা এগিয়ে গেলাম। এরপরে রাইড এর কাছে গিয়ে ওরা কেমন ভাবে মজা করেছিলো, সেই সমস্ত কিছু আপনাদের সাথে পরবর্তী পর্বে শেয়ার করবো। আজকে মেলায় ঘোরার পর্ব এতটুকুই।

অনেকদিন বাদে এই ছবিগুলো দেখে বেশ ভালো লাগলো। সত্যি কথা বলতে আমাদের প্রত্যেকের ফোনের গ্যালারিতেই এইরকম পুরনো কিছু মুহূর্ত থাকে, যা বর্তমানের মন খারাপকে এক মুহূর্তেই আনন্দে পরিণত করে।

আজ তেমনই কিছু ছবি দেখার সুযোগ হলো। তাই ভাবলাম আপনাদের সাথেও শেয়ার করি। আপনাদের কেমন লাগলো ছবিগুলো দেখে, জানাতে ভুলবেন না। সকলের সুস্বাস্থ্য কামনা করে আজকের লেখা শেষ করছি। ভালো থাকবেন।

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.33
JST 0.081
BTC 59794.17
ETH 1581.74
USDT 1.00
SBD 0.42