"মামাবাড়িতে লাগানো কিছু সুন্দর ফুলগাছ"
|
|---|
Hello,
Everyone,
আশাকরি আপনারা সকলে ভালো আছেন, সুস্থ আছেন এবং আপনাদের সকলের আজকের দিনটি খুব ভালো কেটেছে।
আগের পোস্টে আপনাদের জানিয়েছিলাম আমি মামা বাড়িতে আছি এবং গতকাল সারাদিন মামা বাড়িতে বেশ আনন্দে কাটিয়েছি। আমার পুরনো পোস্টে আপনাদেরকে আগে জানিয়েছি মামারা ভাড়া বাড়িতে থাকে।
তবে মামী নিজের হাতে গাছ লাগাতে অনেক পছন্দ করে। ভাড়া বাড়িতে থাকলেও ছোট্ট ছোট্ট টবে গাছ লাগায়। এই বাড়িতেও খুব বেশি জায়গা না থাকলেও, অল্প জায়গার মধ্যে টুকটাক বেশ কিছু গাছ লাগিয়েছে। ফোনে বহুবার এই গাছগুলোর কথা শুনেছি, তবে অনেক মাস না আসার কারণে গাছগুলো সামনে থেকে দেখার সুযোগ হয়নি।
|
|---|
তাই গতকাল ব্রেকফাস্ট শেষ করার পর, আপনাদের সাথে পোস্ট লেখা শেয়ার করে, মামীদের ঘরের বাইরে বেরিয়ে বেশ কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করলাম এবং গাছগুলোর ছবি তুললাম। আজকের পোস্টের মাধ্যমে আপনাদের সাথে সেগুলোই শেয়ার করবো।
|
|---|
আমার বহু পোস্টেই আমি আপনাদের জানিয়েছি সাদা রং আমার খুব পছন্দের। আর সাদা রঙের যেকোনো ফুল আমার খুব ভালো লাগে। বিশেষত শিউলি ফুলের কথা আলাদা করে বলতেই হবে। কারণ সাদা এবং কমলা রঙের এই ফুলটি ছোটো হলেও, এর সুগন্ধ ও সৌন্দর্য্য আমাকে বরাবর আকর্ষিত করে।
আমাদের বাড়িতে একটা শিউলি ফুল গাছ ছিলো। তবে বর্তমানে গাছটি আর নেই। মামিদের ঘরের ঠিক সামনের উঠোনে একটা শিউলি ফুল গাছ আছে। গাছটি মামীরা আসার আগে থেকেই ছিলো। মালিকরাই লাগিয়েছিলেন। গাছটায় সারা বছর শিউলি ফুল ফোঁটে। আগে জানতাম দূর্গা পূজা আসলে শুধু শিউলি ফুল ফঁটো। কিন্তু এখন সারাবছর সব ধরনের ফুল, ফল এবং সবজি পাওয়া যায়।
আগেও মামিদের ঘরের সামনের এই গাছটা দেখেছি, গতকালও ঘুরতে ঘুরতে দেখলাম অনেকগুলো ফুল পড়ে আছে উঠোনে। যেহেতু সকলেই উঠোন দিয়ে হাঁটাহাঁটি করে তাই সেখানে পড়ে থাকা ফুল মামি খুব একটা তোলে না। তবে পাশে একটা বস্তা রাখা আছে, তার উপরে যে ফুলগুলো পরে সেগুলো তুলে পুজো দেয়।
আমি উঠোনে সেখানে পড়ে থাকা কয়েকটা ফুল হাতে তুললাম। আর অভ্যাসবশতই ফুলগুলো নাকের কাছে ধরলাম। কি সুন্দর গন্ধ ফুলগুলোর। যারা এই ফুলগুলো চেনেন এবং পছন্দ করেন, তারা নিশ্চয়ই জেনে থাকবেন।
|
|---|
এটি বোগেনভেলিয়া ফুল গাছ, যেটাকে আমরা কাগজ ফুল নামেও চিনি। এই ফুলের বিভিন্ন রঙ আছে, তা আপনারা সকলেই জানেন। তবে মামীর এখানে শুধু সাদা এবং গোলাপি রঙেরই ফুল রয়েছে। বেশ সুন্দর লাগছিলো এবং থোকায় অনেকগুলো করে ফুল ধরেছে গাছটায়।
|
|---|
এই ফুলগুলো দেখতে দেখতে চোখ পড়ল পাশের গোলাপ ফুল গাছটায়। এখন যদিও মাত্র দুটো ফুল ফুটে আছে, তবে বেশ কয়েক মাস আগে যখন এসেছিলাম তখন অনেক ফুল ফুটেছিল গাছটায়। ফুলগুলো খুব একটা বেশি বড় হয় না। তবে ফুলগুলো আকারে ছোটো হলেও, ফুলের রঙটা কিন্তু বেশ সুন্দর।
|
|---|
এরপর চোখে পড়ল সাদা টগর ফুল গাছে। এই গাছগুলো আমাদের বাড়িতেও আছে। মামী অবশ্য গাছের ফুল সকালেই তুলে নিয়েছিলো পুজো দেওয়ার জন্য। তাই গাছে ফোঁটা অবস্থায় কোনো ফুলের ছবি শেয়ার করা সম্ভব হলো না। তবে বেশ কয়েকটি কুঁড়ি তখনও গাছে ছিলো, যেটা এক দু দিনের মধ্যেই ফুটবে। গাছটা বেশ সুন্দরভাবে বেড়ে উঠেছে, ছবিটায় দেখতে পারছেন পাতা গুলো কত সুন্দর দেখাচ্ছে।
|
|---|
আসলে গত দুদিন ধরে কখনো মেঘ আবার কখনো রোদ্দুর, এইভাবেই আবহাওয়া পরিবর্তন হচ্ছে। মাঝে মধ্যে হালকা বৃষ্টিও হয়েছে। ফলে গাছগুলো নতুন করে প্রান ফিরে পেয়েছে। আর ঠিক এই কারণেই পাতাগুলোকে এতোটা সতেজ দেখাচ্ছে।
আমি যখন বাইরে ছিলাম, তখনও একদিকে আকাশ ছিলো সুন্দর নীল রঙের, আবার কিছুক্ষণের মধ্যেই সেই আকাশ ঢেকে যাচ্ছিল কালো মেঘে। বাড়ির আশপাশটা ঘুরে দেখতে বেশ ভালোই লাগছিলো। আরও বেশ কিছু সবজি গাছও মামি লাগিয়েছে। সেগুলো না হয় পরবর্তী পোস্টে আপনাদের সাথে শেয়ার করবো। আজকের পোস্টে শুধুমাত্র ফুল গাছের ছবিগুলোই থাক।
কেমন লাগলো আপনাদের আমার মামীর হাতে লাগানো গাছগুলোর ছবি দেখে, তা অবশ্যই মন্তব্যের মাধ্যমে জানাবেন। আর মামীর দ্রুত শারীরিক সুস্থতার জন্য প্রার্থনা করবেন। ভালো থাকবেন সকলে।