"ধুতুরা ফুলের ফটোগ্রাফি"
|
|---|
Hello,
Everyone,
কয়েকদিন আগেই ছিলো শিব চতুর্দশী। বাঙ্গালীদের পালিত বিভিন্ন আচার অনুষ্ঠানের মধ্যে এটিও অন্যতম। প্রতিটি আচার অনুষ্ঠানের মত এই শিব চতুর্দশী বা শিব রাত্রি পালন করারও নির্দিষ্ট কিছু নিয়মাবলী রয়েছে। যারা এই ব্রত পালন করে, তারা চেষ্টা করে সেই নিয়মগুলো যথাযথ ভবে পালন করার।
যেমনটা আপনারা জানেন, প্রতিটি পুজোর বা আচার অনুষ্ঠানের পূর্বে প্রয়োজনীয় সমস্ত জিনিসের বাজার মূল্য এতটাই বেশি হয় যে সেক্ষেত্রে কখনো কখনো অবাক লাগে, কারণ বছরের অন্যান্য সময় প্রয়োজনীয় জিনিস গুলোর মধ্যে থেকে কিছু জিনিস আমরা বিনামূল্যে পেয়ে থাকি।
তবে যদি ব্যবসায়ীক দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখি তাহলে এর মধ্যে কোনো অন্যায় নেই। যাইহোক যদিও আজ আমি আপনাদের সাথে সেই সকল নিয়মাবলী সম্পর্কে কোনো লেখা উপস্থাপন করতে আসিনি, তবে আজ আমি এই পোস্টের মাধ্যমে আপনাদের সাথে শেয়ার করবো শিব চতুর্দশী পালন করার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ফুলের ফটোগ্রাফি ও সেই ফটোগুলো আমি কোথা থেকে, কিভাবে তুলেছিলাম সেই গল্পও।
ধুতুরা ফুল শিব ঠাকুরের পছন্দের ফুল, একথা আশাকরি সকলেই জানেন। আর শিব চতুর্দশীতে শিব রাত্রির ব্রত পালন করতে গেলে এই ফুল লাগে। বছরের অন্যান্য সময় রাস্তার পাশে এই ফুলগুলো ফুটে থাকতে দেখা গেলেও, এই শিবরাত্রির এক দুদিন আগে থেকে আপনি গাছে একটা ছোট্ট কুঁড়িও খুঁজে পাবেন না।
কারণ ব্যবসার জন্য ততক্ষণে সকলেই ছোট ছোট কুঁড়িগুলোকেও তুলে নেবে। কারণ এই সময় ফুলের এমন চাহিদা থাকে যে ফুল না পেলেও, ফুলের কুঁড়ি দিয়েও অনেকে এই দিন পুজো দিয়ে থাকেন। আজ আপনাদের সাথে এই ফুলের ফটোগ্রাফি শেয়ার করতে চলেছি। আজ দুই ধরনের ধুতুরা ফুলের ছবি আপনাদেরকে এই পোস্টের মাধ্যমে দেখাবো।
হয়তো অনেকের কাছেই এই ফুলগুলো পরিচিত লাগবে, তবে আমি প্রথমবারের জন্য ভিন্ন রংয়ের, ভিন্ন ধরনের এই ধুতুরা ফুল দেখেছিলাম। এরপূর্বে আমি কেবল সাদা রং এর ধুতুরা ফুলই দেখেছি।
প্রথম যে ছবিটি আপনারা দেখতে পারছেন, এই ছবিটি আমি তুলেছিলাম আমার বাপের বাড়ির পাশের একটি বাড়ি থেকে। জবা ফুলের যেমন বিভিন্ন প্রকারভেদ দেখা যায়, এই ধুতুরা ফুলটিও ছিল তেমনই।সামনাসামনি দেখলে মনে হয় যেন দুটো ফুল একসাথে ফুটছে। ছবির মধ্যে আপনারা কতখানি স্পষ্ট ভাবে বুঝতে পারছেন তা জানিনা, তবে সামনে থেকে দেখতে অসাধারণ ছিলো।
এমনকি ফুলটির রংও অনেকটাই অন্যরকম। প্রথমে দেখে এটাকে ধুতুরা ফুল বলে আমার বিশ্বাসই হয়নি। তবে পরে সামনাসামনি গিয়ে দেখলাম যে, হ্যাঁ এটা ভিন্ন ধরনের ধুতুরা ফুল। ফুলগুলো এতো বেশি ভালো লেগেছিল যে, তখনই অনেকগুলো ছবি তুলেছিলাম। সেগুলোই আজ উপরে আপনাদের সাথে শেয়ার করলাম।
এরপরে যে ফুলের ছবিটি শেয়ার করবো, এটি এই সরস্বতী পুজোর সময় তোলা। সরস্বতী পুজোয় বান্ধবীদের সাথে কাটানো সময়ের গল্প একটা পোস্টের মাধ্যমে আপনাদের সাথে শেয়ার করেছিলাম। সেইদিন আমার বান্ধবী পিয়ালীদের বাড়িতে গিয়ে আমি এইফুলটি দেখেছিলাম।
যখন সামনাসামনি গিয়ে দেখলাম একদম অন্য রঙের একটি ধুতুরা ফুল, যার রঙটা আমার অসম্ভব সুন্দর লেগেছে। হয়তো আপনারাও ছবি দেখে কিছুটা আন্দাজ করতে পারছেন। তবে আমি যেদিন ছবিটি তুলেছিলাম সেদিন পিয়ালী বলেছিল ফুলটা নাকি কুঁড়ি অবস্থায় আছে, ঠিকভাবে ফুটলে ফুলটা আরও বড় হবে।
কুঁড়ি অবস্থায় যে ফুলটা ফুটেছিলো, সেটা সাধারণ ধুতুরা ফুলের তুলনায় অনেকটাই বড়ো, তাই যখন সেটি ভালোভাবে ফুটবে তখন কতটা বড় হবে, সেটা আন্দাজ করেই আমি বেশ অবাক হয়েছিলাম। পিয়ালীকে অবশ্যই বলেছি এই ফুলের ফল রাখতে, যেগুলোর বীজ দিয়ে যদি সম্ভব হয় তাহলে আমাদের ছাদে টবের মধ্যে চারা গাছ লাগাবো।
পিয়ালীর কাছে শুনেছি শিবরাত্রির আগের দিন ওর মা রীতিমতো রাত জেগে ওদের এই ধুতুরা ফুল গাছটা পাহারা দিয়েছে, যাতে কেউ ফুল চুরি করতে না পারে। কারণ আশেপাশের সকলেই এই ধুতরা ফুল গাছ সম্পর্কে জেনে ওদের বাড়িতে দেখতে এসেছিলো।
তাই কাকিমার ভয় ছিলো অনেকেই হয়তো পুজো দেওয়ার জন্য এই ফুল নিতে আসতে পারে। আর তার সাথে কুঁড়ি গুলোও নষ্ট করে দিয়ে যাবে। তবে শেষ পর্যন্ত কেউ নিতে পারেনি, উনি নিজে তুলে পুজো দিয়েছিলেন। আর সত্যি কথা বলতে এমন একটা ফুল দিয়ে পূজা দিতে পারলে মনটা যেন এমনিতেই শান্তি পায়।
যাইহোক এই ছিলো দুটো ভিন্ন ধর্মী ধুতুরা ফুলের ফটোগ্রাফি। যেটা আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করলাম। গতকাল শ্বশুর মশাইকে নিয়ে আবার হসপিটালে এসেছি, এখন এখানে বসেই আপনাদের সাথে লেখাটা শেয়ার করলাম।
গতকাল দিনটা কিভাবে কাটিয়েছিলাম, সেই গল্প পরবর্তী পোস্টে জানাবো। সকলের ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন এই প্রার্থনা করে আজকের পোস্ট এখানেই শেষ করছি।
বাহ দিদি অনেকদিন পর ধুতরা ফুলের ছবি আপনার পোস্টের মাধ্যমে দেখতে পেলাম এই দুই রকমই ধুতরা ফুল গাছ আমাদের বাড়িতে ছিল। আমিও ছোট থেকে শিব পুজো করতে ভীষণ ভালোবাসি, আর আমি বাবা মহাদেবের ভক্ত। তাই ওনার জন্য সর্বদাই বাড়িতে ধুতরা গাছ লাগিয়ে রাখতাম কিন্তু কোন কারণবশত গাছগুলো মারা গেছে। বেশ কিছুদিন ধরে ধুতরা গাছ লাগানোর জন্য বীজ খুঁজছিলাম কিন্তু খুঁজেই পাচ্ছিনা। আমাদের এখানে অনেক সময় শিব পূজার সময় গাছ থেকে ফুল চুরি করে নিয়ে যায় এমনকি পূজার আগে ধুতরা ফুল বলুন আর আকন্দ ফুল কোনটাই পাওয়া যায় না। ফুল তো নেয়। তার সাথে গাছের ডালপালা গুলো ভেঙে রেখে যাই।
আপনার ধুতুরা ফুলের ছবি সত্যিই অসাধারণ হয়েছে! এত ভিন্ন রঙের ধুতুরা ফুল আগে কখনো দেখিনি আমি। আপনার পোস্টটি খুব মজাদার ছিল।
আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ এত সুন্দর একটি ফটোগ্রাফি পোস্ট আমাদেরকে উপহার দেওয়ার জন্য। আপনার জন্য সব সময় শুভকামনা রইল দিদি।
সাধারণত ছোটবেলা থেকে একটা কথা আমার মায়ের মুখে শুনে এসেছি সেটা হচ্ছে ধুতরা গাছের কাছে নাকি যাওয়া ঠিক না। আবার ধুতরা গাছের অনেক উপকারিতা রয়েছে এটা আমার দাদীর কাছে শুনেছি। আজকে আপনি বেশ কয়েক ধরনের ধুতরা ফুলের ফটোগ্রাফি আমাদের সাথে শেয়ার করেছেন যেটা দেখতে অসম্ভব সুন্দর লাগছে। অসংখ্য ধন্যবাদ চমৎকার ফটোগ্রাফি এবং ধুতরা ফুল সম্পর্কে আপনার মনের অনুভূতি আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য ভালো থাকবেন।