সময়ের সাথে সাথে সবকিছুই পরিবর্তন হয়ে যায়
সময় প্রতিটা মানুষের জীবনের জন্য এক অদৃশ্য যাত্রা পথ। যা কারো জন্যই কখনোই থেমে থাকে না। সেটা তার নিজের গতিতেই চলতে থাকে আর সময়ের সাথে সাথেই সবকিছু পাল্টে যায়। পাল্টে যায় সমাজ, পাল্টে যায় মানুষের কথা বলার ধরন। পাল্টে যায় আমাদের পরিবেশ এবং আমাদের চিন্তাধারা। একটা মানুষের আবেগ, জীবন, সম্পর্ক, প্রযুক্তি তার সাথে সাথে সংস্কৃতি। সবকিছুই কিন্তু সময়ের সাথে সাথে রূপান্তরিত হয়ে থাকে এক নতুন রূপে। যেটা দেখার পর মাঝে মাঝে আমরা নিজেরাও অনেক বেশি অবাক হয়ে যায়। তবে এই পরিবর্তনের কারণে কারো জীবনে চলে আসে, আনন্দের জোয়ার আবার কারো জীবন ভেসে যায় দুঃখের জোয়ারে।
মানুষের সম্পর্কের দিকটা যদি আমরা বিবেচনা করি। তাহলে মানুষের প্রতি আন্তরিকতা আত্মীয়-স্বজনের প্রতি ভালবাসা, শৈশবের বন্ধুদের প্রতি আমাদের মনের টান। সবকিছুই কিন্তু বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে অনেক পরিবর্তন হয়ে গেছে। নিজের আত্মীয়-স্বজনের প্রতি আমাদের যে আন্তরিকতা ছিল, যোগাযোগের একটা মাধ্যম ছিল। সেটা কিন্তু বর্তমান সময়ে একেবারেই বিলীন হয়ে গেছে। ছোটবেলার খেলার মাঠ গ্রামের সেই শান্ত পরিবেশ, এখন কিন্তু আর আগের মত কোন কিছুই নেই। শহরের ব্যস্ত মানুষের জীবনে যেন, একে অপরের চেনা মুখগুলো অনেক বেশি অপরিচিত হয়ে উঠেছে।
বর্তমান সময়টা বদলে গেছে প্রযুক্তির প্রভাবে, আগেকার মানুষ হাতে চিঠি লিখতো আর প্রিয় মানুষকে নিজের মনের অনুভূতি প্রকাশ করার জন্য, ঘন্টার পর ঘন্টা সেই চিঠি লেখায় সময় দিত। কিন্তু এখন মুহূর্তের মধ্যে আমাদের মনের অনুভূতি বার্তা হিসেবে আমরা পাঠিয়ে দিচ্ছি, আমাদের প্রিয় মানুষের কাছে। একসময়ের লন্ঠন হারিকেন বর্তমান সময়ে বৈদ্যুতিক লাইটের রূপান্তরিত হয়েছে। একটা সময় যখন গরুর গাড়ি দিয়ে মানুষ চলাফেরা করতো। বর্তমান সময় সে গরুর গাড়ির জায়গা করে নিয়েছে, বড় বড় মোটর গাড়ি গুলো বিমান।
এই পরিবর্তন আমাদের সমাজকে অনেক বেশি গতিময় করে তুলেছে। কিন্তু আমাদের ঐতিহ্য মানবিক যোগাযোগ মাধ্যম আমরা হারিয়ে ফেলেছি অনেক আগে। শিক্ষা এবং আমাদের চিন্তা ধারার মধ্যেও কিন্তু এই সময় অনেক বেশি পরিবর্তন নিয়ে এসেছে। একটা সময় ছিল শিক্ষা গুরুর মাধ্যমে পড়াশোনার ব্যবস্থা, কিন্তু বর্তমান সময় ডিজিটাল যুগে, ডিজিটাল ক্লাসরুমের রূপ নিয়েছে। পাঠ্য বইয়ের বাহিরে আমরা যদি কোন কিছু শিখতে যাই। তাহলে আমাদেরকে ইন্টারনেট গুগল সার্চ করতে হয়। যদিও এতে করে আমাদের অনেক সুবিধা বেড়ে গিয়েছে। কিন্তু তার সাথে সাথে আমাদের মনোযোগ অনেকটাই কমে গেছে। আমাদের আবেগ অনেকটাই কমে গেছে। আমরা শুধু ইন্টারনেটের উপর নির্ভর হয়ে পড়ছি, আধুনিক যুগের ওপর এতটাই নির্ভর হয়ে পড়ছি, আমরা নিজেরা একটু কষ্ট করতে অনীহা প্রকাশ করছি।
বর্তমান সময়ে শিশুদের শৈশবের মুহূর্তগুলো এখন শুধুমাত্র মোবাইল স্ক্রিনের মধ্যেই আবদ্ধ থাকে। মাঠে গিয়ে খেলাধুলা করার অনুভূতি, প্রকৃতির সান্নিধ্যে গিয়ে কিছুটা সময় কাটানো, এখন তাদের কাছ থেকে এইসব কিছু অনেকটাই দূরে। বর্তমান সময়ের পরিবর্তন সংস্কৃতি নাটক কিংবা ছবির মধ্যেও অনেকটাই পরিবর্তন নিয়ে এসেছে। আগেকার নাটক সিনেমাগুলো ছিল সামাজিক বিষয়ের উপর নির্ভর করা। সামাজিক শিক্ষামূলক, যেটা বাবা-মা সবার সামনে বসে দেখা যেত, কিন্তু বর্তমান সময়ের ভার্চুয়াল জগতে যেই মুভি গুলো তৈরি করা হয়। সেটা বাবা-মা কেন নিজের সন্তানের সামনে বসে দেখাটাও অনেক বেশি দুষ্কর হয়ে পড়েছে।
এই ডিজিটাল যুগ পুরা পৃথিবীকে আমাদের হাতের মুঠোই এনে দিয়েছে ঠিকই। কিন্তু আমাদের মধ্যে একে অপরের প্রতি ভালোবাসা, আন্তরিকতা অনেকটাই কমে গেছে। আমরা সামনাসামনি বসে গল্প করার মুহূর্তগুলোকে অনেক বেশি মিস করি। যেটা বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে এখন আর কেউ কারো সাথে গল্প করে না। সবাই নিজের মোবাইল নিয়ে অনেক বেশি ব্যস্ত থাকে। তবে এই পরিবর্তন সব সময় কখনোই নেতিবাচক নয়, আমরা যেমন অনেক কিছু হারিয়েছি ঠিক তেমনি অনেক কিছু আবার ফিরেও পেয়েছি। বিশেষ করে উন্নত চিকিৎসা ক্ষেত্রে, নারীর অধিকার বৃদ্ধি, সামাজিক সচেতনতা বর্তমান সমাজের মধ্যে ইতিবাচক পরিবর্তনের ফল।
আগেকার মানুষ যে সকল রোগে চিকিৎসা হীন ভাবে মারা যেত, বর্তমান সময়ে সে সকল রোগের চিকিৎসা চলছে। নারী তার কাজের জায়গাটা খুঁজে পাচ্ছে, তার সমান অধিকার খুঁজে পাচ্ছে। রাজনৈতিক সামাজিক এবং অর্থনৈতিক দিক দিয়েও সে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। বর্তমান সমাজের মধ্যে আগের তুলনায় অনেক বেশি সহানুভূতি সচেতনতা, তার সাথে সাথে দায়িত্ববোধ দেখা যাচ্ছে। তাই আমরা বলতেই পারি সময় আমাদের সবার জন্য এক নিরব পথপ্রদর্শক। এটি কখনোই আমাদের কাউকে থামতে বলেনি, কিন্তু আপন গতিতে পরিবর্তনের ছাপ রেখে গিয়েছে, আমাদের সকলের জীবনের প্রতিটা ক্ষেত্রেই।
আমরা কখনো চাইলে বা চেষ্টা করলেও এই সময়টাকে থামিয়ে রাখতে পারব না। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলা, সময়ের সাথে সাথে নিজেকে পরিবর্তন করা এবং নিজের সফলতার দিকে এগিয়ে যাওয়াটাও, কিন্তু আমাদের একটা শিক্ষা। আমাদের অতীত মনে রেখে বর্তমান টাকে সঠিকভাবে ব্যবহার করে, আমরা যদি ভবিষ্যৎ এ পরিণত করতে পারি। তাহলেই কিন্তু আমরা ভালো থাকতে পারবো। আর তাই আমরা বলতেই পারি, সময়ের সাথে সবকিছু পরিবর্তন হয়ে যায়। তার সেই পরিবর্তনের মধ্যেই লুকিয়ে থাকে, আমাদের জীবনের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য।
কথাটি সত্য সময়ের সাথে সাথে সবকিছু পরিবর্তন হয়ে যায় এবং ভবিষ্যতে আরো অনেক কিছু পরিবর্তন আমরা দেখতে পাবো আগে মানুষ আসলে অনেক কষ্ট করে নিজের প্রিয় মানুষের জন্য চিঠি লিখে দিয়েছে কিন্তু বর্তমান সময়ে আমরা চিঠি তো দূরের কথা এখন অনেক ছেলে মেয়ে আছে চিঠি কি জিনিস এটাই ভুলে গেছে তারা অনলাইন মোবাইল এবং আরো আবিষ্কার অনেক আধুনিক জিনিস নিয়েই পড়ে আছে যাই হোক সুন্দর একটি লেখা উপহার দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ।
একদম সত্যি কথা বলছেন যতদিন যাচ্ছে তত আমরা ভার্চুয়াল জগতের সাথে এতটাই সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ করছি যেটা বলার বাহিরে আগেকার মানুষ অনেক কষ্ট করত কিন্তু বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে মানুষের জীবনটা একেবারেই সহজ হয়ে গেছে যেমন সহজ হয়েছে ঠিক তেমনি কিন্তু আমরা অলসতার মধ্যে ডুবে যাচ্ছি তবে এভাবে নিজেদেরকে হারিয়ে ফেললে হবে না অবশ্যই পরিশ্রম করতে হবে যাই হোক অসংখ্য ধন্যবাদ চমৎকার মন্তব্য করার জন্য ভালো থাকবেন।