চাইলেই সবার আপন হওয়া যায় না.........!
সময় আমাদের জীবনের সবচাইতে শ্রেষ্ঠ শিক্ষক আর এই শিক্ষক আমাদেরকে এমন কিছু শিক্ষা দেয়। যেটা আমরা জীবনের প্রতিটা মুহূর্তে অনুভব করতে পারি। হয়তো বা সময়ের সাথে আমরা সেটা বুঝতে পারি না। কিন্তু যখন সেই সময়টা পেরিয়ে যায় তখন আমি বুঝতে পারি আমাদের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলো, আমরা কিভাবে অপচয় করেছিলাম তাই অপচয় করা মোটেও ঠিক না।
অপচয় কারি কে স্বয়ং আল্লাহ তায়ালা ও পছন্দ করেনা। তাই অপচয় করা থেকে বিরত থাকা উচিত। আসলে কিছু মানুষ আমাদেরকে যতটুকু দেখায় আর তারা যা করে তার মধ্যে কিন্তু বিরাট তফাৎ থাকে। একটা মানুষ চাইলেই কিন্তু সবার সাথে হুটহাট করে মেলামেশা করতে পারে না। একটা মানুষ চাইলেই সবার সাথে কথা বলতে পারে না। তার মানে এই নয় যে তার ইচ্ছে হয় না। হয়তোবা মাঝে মাঝে দেখা যায় কিছু পরিস্থিতির কারণে। তার পারিবারিক সমস্যার কারণে সে নিজেকে কিছুটা এড়িয়ে চলার চেষ্টা করে।
আমার ক্ষেত্রেও ঠিক তাই হয়েছে। নিজের কিছু ব্যক্তিগত সমস্যা এবং এক কথায় বলতে পারেন অনিচ্ছা কৃতভাবেই আমি একটা মানুষের সাথে কথা বলা বন্ধ করে দিয়েছিলাম। কিন্তু দিনশেষে অতটুকু বুঝলাম মানুষটা আমাকে যতটুকু দেখিয়েছে। তার চাইতে দ্বিগুণ আমার বিরুদ্ধে অন্যের কাছে প্রকাশ করেছে। এতে আমি কোন কিছু মনে করি না। কারণ আমি মনে করি হয়তোবা আমার পেছনে কথা বলেছে, কিন্তু আমি পেছনে কথা বলব না যদি বেঁচে থাকি তাহলে সামনে সামনি গিয়ে কথা বলব।
পেছনে কথা বলাটা মোটেও ঠিক না, এটাকে গীবত বলা হয়ে থাকে। কিন্তু তারপরেও মানুষ একে অন্যের পেছনে অনেক কথা বলে। এখন বুঝতে পারলাম আসলে মানুষের মুখে এক কথা মনে আরেক কথা। ওই যে কথার বলে না বিষাক্ত সাপ হয় কিন্তু সাপের চাইতেও বিষাক্ত হয় মানুষ। যেটা আরেকজন মানুষকে ধ্বংস করে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
জীবনের এমন এক পর্যায়ে এসে দাঁড়িয়েছি, না পেছনে ফিরতে পারছি না সামনে। তবে কিছু মানুষ এমনভাবে এমন কিছু কথা বলেছিল যেটা মনে দাগ কেটে গেল। এখন আর তাদের সাথে কথা বলতে ইচ্ছা করে না। এখন আর ইচ্ছে করে না তাদের সামনাসামনি হই এখন আর ইচ্ছে করে না। তাদের ভালো-মন্দ খোঁজখবর নেই, কেননা এই মানুষগুলো এতটা বাজে ভাবে কথা বলতে পারে যেটা আমি কল্পনাও করিনি।
এটাই স্বাভাবিক আমরা যা চিন্তা করি না সেটাই আমাদের জীবনের সাথে হয়ে থাকে। তবে জীবনে বেশ কিছু শিক্ষা আমি পেয়েছি। যে শিক্ষাগুলো আমাকে এখন একা বাঁচতে শিখিয়েছে নিজে কিছু করার জন্য ভেতর থেকে তাড়না জাগিয়েছে, আর এই তাড়না যদি আমি নিজের মধ্যে জাগিয়ে রাখতে পারি। তাহলে আমার মনে হয় আমি নিজে কিছু করে দেখাতে পারবো। যদি আমার চেষ্টা আর পরিশ্রম সঠিক থাকে তাহলে অবশ্যই কিছু না কিছু করা সম্ভব।
সময় ও পরিস্থিতি আমাদের সব থেকে বড় শিক্ষক। পরিস্থিতি আমাদের পদে পদে নানা শিক্ষা দিয়ে থাকে। জীবনে অনেক পরিস্থিতি সামনে আসে যখন সিদ্ধান্ত নেওয়াটা অনেক কষ্টকর হয়ে দাঁড়ায় হবে সেই মুহুর্তে আমাদের মনকে ঠান্ডা রাখা উচিত। সৃষ্টিকর্তা যেমন অপচয়কারীকে পছন্দ করেন না তেমনই ধৈর্যশীল ব্যক্তির জন্য সৃষ্টিকর্তা ভালো কিছু রেখেছেন।