একজন ছাত্রের শিক্ষকের প্রতি সম্মান ও ভালোবাসা
কেমন আছেন বন্ধুরা? আমি সৃষ্টিকর্তার অশেষ মেহেরবানীতে ভালোই আছি। আজ আমি আপনাদের মাঝে “একজন ছাত্রের শিক্ষকের প্রতি সম্মান ও ভালোবাসা” শীর্ষক আমার একটি লিখনি উপস্থাপন করলাম। তাহলে শুরু করা যাকঃ-
গতকাল শুক্রবার আমি বেশ অসুস্থ ছিলাম। জ্বর আর সর্দি যেন পিছু ছাড়ছেই না। আমাদের বাংলাদেশে কেবল শীতের আবির্ভাব ঘটেছে। এই সময়টায় দিনে গরম আর রাতে বেশ ঠান্ডা অনূভুত হয়। তাই শরীর হয়তো এই আবহাওয়ার সাথে মানিয়ে নিতে একটু বেশি সময় নিচ্ছে। ফলস্বরুপ অসুস্থতা বেড়েই চলছে।
যাইহোক একজন ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে ফার্মাসিতে ঔষুধ কিনতে গেলাম। গিয়েই একজন শিক্ষকের সাথে দেখা হয়ে গেল। তাঁর সাথে কুশল বিনিময় করলাম। ওনার সাথে আমার প্রায়শই দেখা হয়। উনি একজন অবসরপ্রাপ্ত প্রাইমারী স্কুল শিক্ষক।
অবসরের এই সময়টায় তাঁকে বাজারেই বেশিরভাগ পাওয়া যায়। বিভিন্ন মানুষজনের সাথে গল্পে মেতে থাকেন। তাছাড়া পেপার পত্রিকা তো আছেই। তো আমি কুশল বিনিময় করে ঔষধ নিতে লাগলাম।
এর মধ্যে বিশ থেকে বাইশ বছর বয়সি একটি ছেলে এসে স্যারকে জড়িয়ে ধরলো। স্যার তো হকচকিয়ে গেলেন। বললেন এই কে কে! আমরা সবাই অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলাম।
এরপর কিছুক্ষণ জড়িয়ে ধরে থাকার পর ছেলেটি বললেন স্যার আমাকে চিনতে পারেননি? আমি আপনার ছাত্র রাজিব। দেখলাম স্যার কিছু বলছেন না। চুপ করে আছেন। যতদূর মনে হলো স্যার মনে হয় তাকে চেনেন নি?
কিছুক্ষণ পর স্যার তার পরিচয় জানতে চাইলো। এরপর ছেলেটা তার বাবা মায়ের নাম সহ কোথায় থাকে বর্তমানে আগে কোথায় ছিলো সবকিছু বলতে লাগলো। এরপর স্যার বললো ও মনে পরেছে, তুই সে রাজীব। ইচরে পাকা রাজীব। ছেলেটি একটু লজ্জ্বা পেয়ে বললো জ্বী স্যার।
পরে স্যার তার সাথে কুশলাদি আবার বিনিময় করলো। এরপর ছাত্রটির সাথে আবার বুক মিলিয়ে নিলো। ছাত্রটি স্যারকে জড়িয়ে ধরতে পেরে কতটা যে খুশি সেটা বলে বুঝানো সম্ভব নয়। সেই মহূর্তে সেখানে একটি আবেগময় মহূর্ত তৈরি হয়েছিলো। যাইহোক এবার ছেলেটি বিদায় নিলো।
অন্যরা সকলেই বলতে লাগলো স্যার আপনি সত্যি ধন্য। এত পুরোনো একজন ছাত্র আপনাকে মনে রেখেছে। সত্যিই ত ছাত্র আর শিক্ষকের মাঝে এমন সম্পর্কই থাকা উচিত। সকলেই বাহ্ বাহ্ দিতে লাগলো।
আগেই বলেছিলাম স্যার একটু রশিক মানুষ এবং গল্প করতে বেশ পছন্দ করে। তাই স্যার এই উত্তম সময়টাকে আর হেলায় নষ্ট করলেন না। মোজে গেলেন গল্পে। গল্পে গল্পে বলতে লাগলেন আমার এই ছাত্রটি ছিলো সবথেকে দুষ্ট। ক্লাসের অন্যসব ছেলেমেয়েদের সাথে তার একদম মিলতই না।
প্রতিদিন তার নামে বিচার আসতো অফিস কক্ষে। মারামারি, শার্ট ছিঁড়ে দেয়া, সিট দখল করা, খাতা ছিঁড়ে ফেলা ইত্যাদি ইত্যাদি বিচার কেউ না কেউ দিতো। একসময় আমরা অতিষ্ঠ হয়ে তার বাবাকে ডাকলে তার বাবা বলেছিলো স্যার এই ছেলেকে মনে হয় আমি মানুষ করতে পারবো না।
আপনাদের হাতে তুলে দিলাম ওকে। মারেন কাটেন যা করেন করেন। বাসায় ওর মা এত মারে তারপরও তার কোন শিক্ষা হয় না। আমরা তো সব শিক্ষক পরলাম বিপদে। কী করা যায়। তখন চলছিলো জুলাই কি আগষ্ট মাস। এ সময় তো কাউকে স্কুল ছাড়া করতেও পারবো না। নিজের বিবেক বাধা দেবে। যাই হোক সেই ছেলেকে তারপর সবার থেকে আলাদা করে দিয়েছিলাম।
বলেছিলাম ওর জন্য শুধু ওই একটা সিট বরাদ্দ থাকবে। অন্যান্য ছাত্রদের বলে দিয়েছিলাম তোমরা ওর কাছে কেউ যাবে না। ও একায় বসবে। প্রয়োজন ছাড়া ওর সাথে কেউ কথা বলবে না। সব ছাত্র মাথা পেতে নিয়েছিলো ব্যপারটা। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যে দেখি আবারো সেই সেইম কেস।
সব ছাত্রদের মিশেলে সে শুধু তালগোল পাকাতে শুরু করলো। কয়েকদিন ঠিক থাকার পরে আবারও সেই দুষ্টামি শুরু করলো। পরে বুঝলাম এ ছেলে ঠিক হবার নয়। এভাবেই সে প্রাইময়ারীর গণ্ডি পার হয়। এরপর কোথায় ভর্তি হয়েছিলো তা আর জানতাম না।
কিন্তু আজ যখন শুনলাম সেই ছাত্র এখন দেশের নামকরা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে তখন গর্বে বুকটা ভরে ওঠে। এই বলে স্যার একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়লেন। এটা হলো তৃপ্তির দীর্ঘশ্বাস। যেখানে নেই কোন স্বার্থ।
এরপর ঔষধ নিয়ে স্যারকে আবারো সালাম দিয়ে আমি বাড়ির দিকে রহনা হলাম। বাড়ী আসতে আসতে নিজেই নিজেকে প্রশ্ন করতে লাগলাম বর্তমান প্রজন্মে সত্যি খুব কম এমন ছাত্রের দেখা পাওয়া যায়। কারণ আমি দেখেছি আমার অনেক বন্ধুই পুরোনো কোন স্যারকে দেখলে ঠিকমত সালাম বিনিময় করে না।
কেউ কেউ আছে পাশ কাটিয়ে চলে যায়। সবাই যে এমন তা কিন্তু নয়। অনেকেই আছে যারা টিচারদের সত্যিকারের সম্মান করে। সে প্রাইমারীর টিচার হোক কিংবা হাইস্কুলের হোক। তবে আজকের এই ঘটনাটি নিজ চোখে দেখে খুবই ভালো লাগলো। অসুস্থতা নিয়ে আর বেশি কিছু লিখতে পারছি না। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন।
আজ আর নয় বন্ধুরা, ভালো থাকবেন সবাই।
আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি। আপনার লেখাটা পড়ে আমার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক এর কথা মনে পড়ে গেল। স্যার নাম হলো অসীম কুমার।
তাকে বিদ্যালয়ের সকল ছাত্র ছাত্রীরা একটু বেশিই সম্মান করতো কারণ স্যার সকল ছাত্র ছাত্রীকে খুবই ভালো বাসতো।
আর বর্তমান সময়ে দেখা যায় কি ছাত্র ছাত্রীরা আগের মত শিক্ষাকে সম্মান করে না। তো যাই হোক ভাই আপনার পোস্টটি পড়ে অনেক ভালো লাগলো। আপনার পরবর্তী পোস্টের জন্য অপেক্ষা রইলাম ভালো থাকবেন আপনি।
ছাত্র শিক্ষকের সম্পর্ক এমনই মধুর হওয়া উচিৎ। খুব ভালো লাগলো লেখাটি পড়ে