আপনার ব্যক্তিগত মুঠোফোনটি যখন অন্য কেউ নিয়ন্ত্রন করে, তখন আপনার করণীয় কী?
কেমন আছেন বন্ধুরা? আমি সৃষ্টিকর্তার অশেষ মেহেরবানীতে ভালোই আছি। আজ আমি আপনাদের মাঝে “আপনার ব্যক্তিগত মুঠোফোনটি যখন অন্য কেউ নিয়ন্ত্রন করে, তখন আপনার করণীয় কী?” তাহলে চলুন শুরু করিঃ- -
এবার মূল কথায় আসি, আজ সকালে এক বড়ভাইয়ের একটা ফেসবুক পোষ্ট দেখে চোখ আটকে গেলো। সেখানে তিনি একটি প্রতারণার ঘটনা উল্লেখ করেছেন। ঘটনাটি এরকম, কেউ একজন তার ব্যক্তিগত মুঠোফোনের নিয়ন্ত্রন নিয়ে নেয়।
তো কমেন্ট বক্সে দেখলাম অনেকেই এই বিষয়টি নিয়ে ট্রল করছে। কেউবা আবার সেই ভাইকেই দোষারোপ করছে। কথায় কথায় ভাইকে বলছে লোভে পাপ আর পাপে নাকি গোরস্থান। কথাটা কিন্তু একটু উল্টো করে বলেছেন। যে বলেছেন সেই এর যথার্থটা বলতে পারবেন। যাইহোক সেদিকে আর যাবো না।
কিন্তু এই কথা সত্যি যে, অনলাইনে বর্তমানে যতগুলো প্রতারণার ঘটনা ঘটে তার সিঙ্ঘভাগই লোভের কারনেই ঘটে। আমরা লোভের বশবর্তী হয়ে অনেক সময় এই ভুলগুলো করে থাকি। বিভিন্ন ওয়েবসাইটে অনেক লোভনীয় অফারের কথা বলে বিভিন্ন লিংকে আমাদের ক্লিক করতে বলে।
আসলে ঐ লিংকগুলোই হলো প্রতারণার সবথেকে বড় ফাঁদ। এসব লিংকে ক্লিক করলে অজান্তেই আমাদের ব্যক্তিগত তথ্য সব প্রতারকরা হাতিয়ে নেয়।
অনেকক্ষেত্রে আবার প্রতারকরা প্রতারণার জন্য অন্য কৌশুল অবলম্বন করে। ধরুন হঠ্যাৎ একদিন আপনার মুঠোফোনে টুং করে বেজে উঠলো, অর্থ্যাৎ যেকোন মাধ্যমে একটি ম্যসেজ আসলো। সেটা হতে পারে ম্যসেঞ্জার। ম্যসেজ ওপেন করে দেখলেন কোন এক সুন্দরি রমনী আপনাকে একটি ম্যসেজ দিয়েছে।
আপনি হয়ত প্রথম অবস্থায় নিজেকে গুরুত্বপূর্ণ ভেবে ম্যসেজ না দেখার ভান করে সেটা এড়িয়ে গেলেন। কিন্তু একজন ছেলে কতক্ষন আর চুপ থাকতে পারে বলুন তো। একটা সময় গিয়ে সেই ম্যসেজ এর উত্তর দিয়েই দেয়।
এরপর হয়তো দু একদিন বিভিন্ন কথা হতে লাগলো। ছেলেটি আবারো নিজেকে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ভেবে কিছু ম্যসেজ ইগনোর করতে থাকলো। কিন্তু একটা সময় গিয়ে দুজনের আলাপচারিতা বেশ জমে উঠলো।
তারপর হয়তো এই অকে প্রপোজ করলো, একদম মাখা মাখা প্রেম হয়ে গেলো দুজনের মাঝে। কিছুদিন পর শুরু হলো টাকা ধার দেয়া নেয়া।
এক পর্যায়ে গিয়ে ভালোবাসা অনেক গভীর হয়ে যায়। কিন্তু ছেলেটি বুজতে পারে না যে সে নিজের অজান্তেই ভয়াবহ এক ফাঁদে পা দিয়ে ফেলেছে। ছেলেটি তার সব কিছু মেয়েটিকে দিতে রাজি থাকে। এক পর্যায়ে দিয়েও দেয়।
কিন্তু তখন পর্যন্ত সে বুজতে পারে না যে এই মেয়ে একজন প্রতারক। যাই হোক এর পরের ঘটনা আপনারা নিজে থেকে বুঝে নেন। ছেলেটির সঙ্গে আর কি কি হয়েছিলো।
এবার আমাদের নিজের ঘটনায় আসি। আমরাও মাঝে মধ্যে ফেসবুক কিংবা ইউটিউব চালানোর সময় বিভিন্ন লোভনীয় এ্যড দেখে সেসব এ্যডে ক্লিক করে ফেলি। কিন্তু জানি না যে এসব এ্যডে ক্লিক করার পরিণাম কী হতে পারে।
এটা ম্যাসেঞ্জারের প্রেমের ফাঁদের চেয়েও মারাত্মক ভয়াবহ। কারণ এটি একটি আন্তর্জাতিক চক্র, যারা মহূর্তেই আপনার মুঠোফোনের সব তথ্য তাদের কাছে নিয়ে নেবে এমনকি পুরো ফোনটির কন্ট্রল তারা নিয়ে নেবে।
এমন অনেক এ্যাড ফেসবুক বা ইউটিউবে অহরোহ আসে, যেগুলো থেকে আমাদের সাবধান থাকা জরুরী। যেমনঃ এক ক্লিকেই লোন নিন, খুব সহজে অল্প সুদে দ্রুত লোন নিন, কার কার টাকার প্রয়োজন আছে, টাকা বাতা ঊড়ে ইত্যাদি ইত্যাদি।
আপনি হয়তো কৌতুহল বশত সেসব লিংকে ক্লিক করলেন। এরপর আপনার ম্যসেঞ্জারে একটি ম্যাসেজ আসলো আপনি কত টাকা লোন নেবেন? আপনি রিপ্লে দিলেন কত টাকা প্রয়োজন আপনার। এরপর তারা লোন প্রসেসের বিভিন্ন অপশন আপনাকে দিলো। আপনি আবারো সেসব লিংকে ক্লিক করলেন।
এরপর দেখবেন আপনার প্রিয় ফোনটি হ্যাং হয়ে বন্ধ হলো এবং কিছুক্ষণ পর আপনাআপনি চালু হলো। কিন্তু ততক্ষণে কাজের কাজ হয়ে গেছে। উলটো লোন পাওয়ার বদলে আপনার ফোনের সব তথ্য তারা চুরি করে নিয়েছে।
একদম ব্যক্তিগত কোন তথ্য থাকলে দেখবেন কিছুদিন পর সেগুলো দিয়ে আপনাকে তারা ব্লাকমেল করছে। আপনার কাছে বড় অংকের টাকা দাবি করছে। বিভিন্ন ভয় ভীতি দেখাচ্ছে।
আপনার লাইফ পুরাই হেল করে দিচ্ছে। তাই সময় থাকতে সাবধান হউন। কখনো এসব লোভে আমাদের পরা উচিত নয়।
কোনভাবে যদি আমি বুজতে পারি আমার ফোনটির নিয়ন্ত্রন অন্য কেউ নিয়েছে কিংবা আমার ফোনটি বারবার হ্যাং করছে তাহলে আমার করণীয় হবেঃ-
সর্বপ্রথম ফোনটির ইন্টারনেট কানেকশন বন্ধ করতে হবে। যত দ্রুত সম্ভব ফোনটি বন্ধ করে সব সিম খুলে ফেলতে হবে। এরপর ফোনটি আবার অন করে সেটিং অপশনে ঢুকে ফ্যাক্টরি রিসেট অপশনে ক্লিক করে সম্পূর্ণ ফোনটি রিসেট করতে হবে। ফলে আপনার ফোনের সব ডাটা মুছে ফেলার অপশনে ক্লিক করতে বললে আপনি সেটাই করবেন, কারণ ডাটা মুছে যাওয়া ভালো কিন্তু চুরি হওয়া ভালো নয়।
ফোনটি পুরোপুরি রিসেট হলে আগের সব অ্যাপস্ ডিলিট হয়ে যাবে। এতে করে হ্যাকারদের যেসব অ্যাপস্ আপনার ফোনে কানেক্ট করা ছিলো সেগুলোও মুছে যাবে। কিন্তু এরপরও পুরোপুরি আশ্বস্ত হওয়ার কিছু নেই।
কারণ আপনাকে অবশ্যই আবার সবগুলো এ্যাপস্ এর ডাটা ক্লিয়ার করে দিতে হবে। অর্থ্যাৎ আপনি যখন নেট কানেকশন দিয়ে আবার নতুন করে এ্যাপস ইনস্টল করতে যাবেন তখন আবার পুরোনো ডাটাগুলো রিকভারি হওয়ার একটা প্রসেস আসবে। কিন্তু আপনাকে ডাটাগুলো রিকভারি করা যাবে না। বরং সেই অ্যাপসের সকল ডাটা ক্লিয়ার করে দিতে হবে।
প্রয়োজনীয় যেসব অ্যাপস্ এর ডাটা আপনার লাগবেই, সেই অ্যাপস ডাউনলোড করে ওপেন করার আগে অবশ্যই সেটিং অপশনে গিয়ে হাইড অথবা পাসওয়ার্ড সেট করে নেবেন। কখনোই ইন্টারনেট থেকে ডাউনলোড করা হাইড এ্যাপস অথবা এ্যাপ লক এসব সফটওয়্যার ইউজ করবেন না।
আজ আর নয় বন্ধুরা, ভালো থাকবেন সবাই।
ইন্টারনেট ব্যবস্থা যেমন আমাদের জীবনটাকে সুন্দর ও সহজ করে তুলেছে। তেমনি আমাদের জীবনটাকে মাঝে মাঝে খুবই কঠিন এবং দুর্বিষহ করে তোলে।আমরা শুরু থেকেই দেখে এসেছি সকল সৃষ্টির পিছনে ভালো এবং মন্দ দুটোই বিষয় রয়েছে । তবে আমরা মানুষ জাতি ভালো বিষয় থেকে মন্দ বিষয় বেশি গ্রহণ করে থাকি।
আপনার পোস্টটি পড়ে আরো জানতে পারলাম যে, আমাদের নিত্য প্রয়োজনীয় মুঠোফোন থেকে আমাদের প্রয়োজনীয় কাজ যেভাবে খুব সহজে করতে পারছি তেমনি আমাদের সকল সঞ্চয় খুব সহজে হারিয়ে ফেলছি ।
কিছুদিন আগে আমিও খবরে শুনেছিলাম সাইবার ক্রাইম অপরাধীরা খুব সহজেই আমাদের কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকেও খুব সহজে টাকা নিয়ে যাচ্ছে। আর এই যে প্রলোভন দেখিয়ে বড়লোক ছেলেদের এবং অবসরপ্রাপ্ত বড় কর্মকর্তা গন্ধেরও টাকা আত্মসাৎ করে নিচ্ছে । এইরকম সাইবার ক্রাইম এর সদস্যরা আমাদের একটুও সাবধানতায় আমাদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করে দিতে পারে।
তাই আমরা আধুনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করব ,তবে তার সাথে অনেক সচেতন থাকতে হবে আমাদেরকে ।আপনার পোস্টটি পড়ে আরো ভালো লাগল ।আপনার জন্য রইল শুভকামনা ।
আপনি আমাদের সাথে অনেক সুন্দর একটি পোস্ট শেয়ার করেছেন আমরা এই পোস্ট টি পড়ার মাধ্যমে অনেক উপকৃত হবো। আমাদের ফোন বেশিরভাগ হ্যাক হয়ে এডের কারণে। আমাদের সকলের উচিত এই সব থেকে দূরে থাকা।আপনার পোস্ট টি পড়ে অনেক ভালো লাগলো ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন আর পরিবার ও নিজের খেয়াল রাখবেন।আর আপনার পরবর্তী আকর্ষণীয় পোস্ট এর জন্য অপেক্ষা করছি আশা করি খুব তাড়াতাড়ি আসবে।
নিউজপেপার আর টিভি খুললেই এখন মোবাইল হ্যাক করে প্রতারণার কথা পড়ছি আর দেখছি। যারা স্মার্টফোন ব্যবহার করেন, তারাই হয় এদের টার্গেট। ভারতে মূলত বিহারের জামতাড়া নামক জায়গা থেকে এই ধরণের প্রতারণা বেশী করা হয়ে থাকে। আপনি মোবাইল হ্যাক থেকে বাঁচার জন্য খুব ভালো টিপস দিয়েছেন। আর নিঃসন্দেহে বেস্ট অপশন হচ্ছে ফ্যাক্টরি রিসেট ব্যবহার করা।
আপনার অনেক সময় অজ্ঞিতার কারণে এসব আগত লিংকে ক্লিক করি। আমরা নিজেও জানি না এর ফল কি ভয়ানক হতে পারে। লিংকে ক্লিক করলেন আর আপনার ফ্যামিলি ফটোজ গুলো সব প্রতারকের কাছে চলে গেল, আবার অনেক ইনফরমেশন ও তারা নিয়ে পরবর্তীতে ব্ল্যাকমেইল করতে পারে।