ভবিষ্যৎ প্রজন্মই একটি দেশের প্রকৃত সম্পদ

in Incredible India3 years ago

কেমন আছেন বন্ধুরা? আমি সৃষ্টিকর্তার অশেষ মেহেরবানীতে ভালোই আছি। আজ আমি আপনাদের মাঝে “ভবিষ্যৎ প্রজন্মই একটি দেশের প্রকৃত সম্পদ” শীর্ষক আমার একটি লিখনি উপস্থাপন করলাম। তাহলে শুরু করা যাকঃ-

kid-1241817_1280.jpg
source

একজন বাঙ্গালীর খাদ্যাভাস তার বাঙ্গালিয়ানার প্রকাশ ঘটায় এবং এটা প্রমাণিত। যেখানেই একজন বাঙ্গালী যাক, খাদ্য হিসেবে তার ভাত আর মাছ চাই চাই। তাইতো বলা হয় মাছে ভাতে বাঙ্গালী। তবে বর্তমান প্রজন্ম কতটুকু এই বিষয়ে জানে সেটি কিন্তু প্রশ্নবিদ্ধ।

তাই ধীরে ধীরে বাঙ্গালীর এই পরিচয় ইতিহাস হয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে মাছের সেই জায়গা দখল করে নিয়েছে ব্রয়লার মুরগী বা ফার্মের মুরগী। দুঃখজনক হলেও বর্তমান কিন্তু এটাই বাস্তব। কেননা আগে যেরকম মাছ পাওয়া যেত নদনদী আর খালবিলে সেরকম মাছ এখন আর পাওয়া যায় না। এর অনেক কারণ রয়েছে।

যাবেই বা কি করে, নদ নদী খাল বিল সব তো মানুষেরাই দখল করে বাসস্থান তৈরি করছে। আর অতিরিক্ত পরিবেশ দূষণের ফলে মাছ হাড়াচ্ছে তার আশ্রয়স্থান। আর এভাবে ধীরে ধীরে মূল বাঙ্গালিয়ানা থেকে বর্তমান প্রজন্ম দূরে সরে যাচ্ছে।

বিশ্বের প্রতিটি দেশের শিকর বা ভীত হচ্ছে সেই দেশের শিশু-সন্তানরা। কথায় আছে আজকের শিশু আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। একটি শিশুর শারীরিক বৃদ্ধি, মানসিক বিকাশ এবং সুবুদ্ধি বিকাশের প্রথম এবং প্রধান উপাদান হচ্ছে সুষম খাদ্য। সুষম খাদ্য বলতে আমরা বুঝি যে খাদ্য পুষ্টি গুণে ভরা।

সেটি হতে পারে আমিষ জাতীয় খাদ্য, শর্করা জাতীয় খাদ্য, ভিটামিন জাতীয় খাদ্য ইত্যাদি। এসব খাদ্য একদম ছোটবেলা থেকে যদি একটি শিশুকে পরিমিত পরিমানে খাওয়ানো হয় তাহলে শিশুর পরিপূর্ণ বৃদ্ধিতে কোন ব্যঘাত ঘটে না। তাই বর্তমান প্রজন্মকে মানসিক ও শারীরিকভাবে প্রস্তুত করতে হলে সুষম খাদ্যের কোন বিকল্প নেই।

eggs-2191991_1280.jpg
soruce

আমার দেশ বাংলাদেশ। বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ। প্রতিনিয়তই আমাদের দেশের উন্নয়ন ত্বরিত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যে চোখে পরার মতো যাতায়ত ব্যবস্থার উন্নয়ন, কল-কারখানার উন্নয়ন, আমাদানি রপ্তানির উন্নয়ন ইত্যাদি।

এত সব উন্নয়ন কার জন্য বলুন তো? ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য। কারণ একটি দেশের প্রধান এবং প্রকৃত সম্পদই হচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম।

একটি শিশু যখন বড় হবে তখন তাকে কাজ করে তার সকল চাহিদা পূরণ করতে হবে। তবে এই কাজের ধরণ কিন্তু ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে সময় এবং পরিস্থিতি অনুসারে। কেউ থাকবে যারা মস্তিস্ক ব্যবহার করে কাজ করবে, আবার কেউ থাকবে যারা শারীরিক শ্রম দিয়ে কাজ করবে,

আবার কেউ কেউ থাকবে যারা মস্তিস্ক এবং শ্রম দুই ব্যবহার করে কাজ করবে। যে যে শ্রেণি অনুযায়ী কাজ করুক না কেন একা কিন্তু কখনো কোন কাজ করা সম্ভব নয়, সে যতই শক্তিশালী হোক না কেন। সকলে মিলেই মিলেমিশে যেকোন কাজ সুন্দরভাবে সম্পাদন করবে।

তবেই তো আমাদের দেশ তথা পৃথিবীর উন্নয়নের ধারা অব্যাহত থাকবে। তাই দেশের প্রতিটি শিশুর পরিমিত পরিমানে মৌলিক সুষম খাদ্য গ্রহণ অতীব জরুরি একটি বিষয়। একটি শিশুর সুষম খাদ্য নিশ্চিতকরণের দায়িত্ব আমার আপনার সকলের।

একটি শিশুর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা অর্জন বাধ্যতামূলক। একটি দেশের প্রতিটি শিশু যত বেশি প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় শিক্ষিত হবে সেই দেশ তত দ্রুত উন্নতি লাভ করবে। তাই শিশুর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা অর্জনের বিষয়ে সকল অভিভাবকদের কঠোর দৃষ্টি দিতে হবে।

প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি শিশুকে সু-শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে। এখানে সু-শিক্ষা বলতে শিশুর আচার-আচরণ, দায়িত্ব ও কর্তব্যবোধ ইত্যাদিকে বোঝায়। আর শিশু এই শিক্ষা পায় তার পরিবারের কাছ থেকে। তাই প্রতিটি পরিবারের সকল সদস্যদের এ বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা জরুরী।

hands-2847508_1280.jpg
source

কারন আজ আমি যে খারাপ আচরণ অন্যের সাথে করবো, আমার শিশু সেটি দেখে শিখবে এবং ভবিষ্যতে আমার সাথেই সে একই আচরণ করবে। তাই প্রতিটি অভিভাবককে এ ব্যপারে সাবধান হওয়া উচিত। আসুন সকলেই এক হয়ে বলি আজকের শিশুই আগামীর কর্নধার।

আজ আর নয় বন্ধুরা, ভালো থাকবেন সবাই।

Sort:  
 3 years ago 

আজকের প্রজন্ম আগামী দিনের ভবিষ্যৎ এটা ভুলে গেলে চলবে না।নতুন প্রজন্মকে ছেড়ে দিতে হবে এই পৃথিবী এবং গড়ে তুলতে হবে তাদের জন্য নিরাপদ আবাসস্থল।কিন্তু আমরা এত বেশি বিপর্যয় করেছি পরিবেশের উপরে যে আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম ধুকে ধুকে বেড়ে উঠছে। নিয়মিত বিষাক্ত ও ফরমালিনযুক্ত খাবার খেতে খেতে এ জাতি হয়ে যাচ্ছে বুদ্ধিহীন।

আপনি ঠিকই বলেছেন বর্তমানে মাছেভাতে বাঙালি এ কথাটি যেন শিশুরা ভুলে যেতেই চলছে ।তাদের চাই ফার্মের মুরগি। আপনার লেখনীর মাধ্যমে যদি একজন মানুষও সচেতন হয় তাহলে বুঝতে পারবো এতেই আপনার সার্থকতা।

Loading...
 3 years ago 

বর্তমান সময়ে দেশি মাছ পাওয়া যায় না। বেশিরভাগ পাওয়া যায় চাষকৃত মাছ এবং বয়লার মুরগি। আসলে মাছের মধ্যে যে পুষ্টি রয়েছে, আমিষ রয়েছে। সেটা আসলে মুরগি কখনই পূরণ করতে পারে না।

আমাদের সন্তান আমাদের ভবিষ্যৎ। আর ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আমাদের এই পৃথিবীটাকে সঠিকভাবে গড়ে তুলতে হবে। কিন্তু বর্তমানে দেশ বিদেশ প্রত্যেকটা জায়গায় ফরমালিনযুক্ত খাবার। যার কারণে অল্প বয়সে শিশুরা অনেক বেশি রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকে।

আগেকার সময় মানুষ ফরমালিনযুক্ত খাবার খেত না। ফরমালিনযুক্ত মাছ খেত না। মানুষ কত ভাল ছিল। বর্তমানে এসে আমরা যদি বিচার করি তাহলে দেখতে পাই। চারপাশের মানুষ অনেক বেশি অসুস্থ। এর পেছনের কারণ যদি আমরা খুঁজতে যাই। তাহলে বিরাট একটা ঝামেলা হয়ে যাবে। তবে অবশ্যই আমাদের প্রজন্মকে সঠিকভাবে এই পৃথিবীতে টিকিয়ে রাখার জন্য। আমাদের নিজেদের কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত। এত সুন্দর একটা বার্তা আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ।

 3 years ago 

একটি শিশু আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। সেই ভবিষ্যতকে আমরা যদি প্রথম থেকেই ভালো শিক্ষায় শিক্ষিত করতে না পারি তাহলে সে সুশিক্ষা পাবে না। এতে করে তার ভবিষ্যৎ ভালো হবে না।

বর্তমান ধীরে ধীরে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে আর এর জন্য মানুষের থাকার বাসস্থানের দরকার পড়ছে। তাই তারা বিভিন্ন খাল বিল ভরাট করে বসতি স্থাপন করছে। এতে করে মাছের বিস্তারে ব্যাঘাত ঘটছে। আর তার বিকল্প হিসেবে ব্রয়লার মুরগী সেই মাছের স্থান দখল করে নিয়েছে।

আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ এত সুন্দর একটি পোস্ট আমাদের মাঝে উপস্থাপন করার জন্য।

আপনি ঠিকই বলেছেন ভবিষ্যৎ প্রজন্মই একটি দেশের প্রকৃত সম্পদ ৷ কিন্তু আমরা এই সব আস্তে আস্তে ভূলে যাচ্ছি সব ধরনের নিয়ম ভেঙ্গে যা মন চায় তাই করতেছি এভাবে প্রজন্ম ভবিষ্যৎ কখনও প্রাকৃতিক সম্পদ হতে পারে না ৷ আর মাছের কথা কি বলবো নদী নালা খাল বিল ভরাট করে বাসা অফিস গোডাউন ইত্যাদি নানা ধরনের জিনিস মানুষ তৈরি করতেছে যার ফলে আমরা দেশী মাছ এখন চোখ দিয়ে দেখতেও পারি না ৷
আর বর্তমানে শিশুরা যে খাবার খাচ্ছে তা কোন তাতেই সঠিক পরিমানে পুষ্টিকর নেই ৷

যাই হোক আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ দারুন সুন্দর একটি টপিক নিয়ে পোস্ট করার জন্য ৷ ভালো থাকবেন ,,,

 3 years ago 

মাছে ভাতে বাঙ্গালী কথাটার মর্মার্থ এখনকার প্রজন্ম জানেও না বোঝেও না। আর একটা শিশু হচ্ছে কাদামাটির ডেলা। তাকে আমরা যেরকমভাবে বড়ো করে তুলবো, সে সেরকম ভাবেই বড়ো হয়ে উঠবে।

সে যদি দেখে আমাদের ভুল কাজ করতে, তাহলে সেও জীবনে ভুল পথ অবলম্বন করবে। আর সে যদি আমাদের দেখে সঠিক কাজ করতে বা সৎ কাজ করতে, তাহলে সে জীবনে সঠিক পথেই অগ্রসর হবে। আপনাকে ধন্যবাদ এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টা নিয়ে আলোচনা করার জন্য। ভালো থাকবেন।

 3 years ago 

ঠিক বলেছেন বর্তমানে মানুষ বৃদ্ধির কারণে এবং ফসলি জমিতে কীটনাশক ব্যবহারের ফলে খাল-বিলের ও নদী-নালার মাছ কমেছে। আগে কত রকমের দেশীয় মাছ পাওরযেত এখন তা পাওয়া যায় না। ঠিক বলেছেন আজ আপনি যার সাথে খারাপ ব্যবহার করেছেন কাল আপনার সাথে অন্য কেউ খারাপ ব্যবহার করবে্

 3 years ago 

আজকের শিশুরাই আগামী জাতির ভবিষ্যৎ। তাই তাদের সুষম খাবারের দিকে নজর দিতে হবে। পাশাপাশি তাদের কে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তুলাটাও জরুরি।

কোন ভাবেই যেন বুদ্ধিহীন হয়ে তারা বড় না হয়। এমন ভাবে তাদের তৈরি করতে হবে যেন বহি:বিশ্বের সাথে সমান তালে তাল মেলাতে পারে।

 2 years ago 

আজকের শিশুরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ।তো শিশুদের হাতে ই আগামী পৃথিবী। তাই এই পৃথিবীতে শিশুর বাস যোগ্য করে তোলার চেষ্টা করতে হবে। এবং শিশুদের সাথে ভালো ব্যবহার করা উচিত। এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করতে হবে। শিশুরা পরিবার থেকেই শিক্ষা অর্জন করে। তাই এই বিষয়ে প্রতি খেয়াল রাখতে হবে। ধন্যবাদ আপনাকে।

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.32
JST 0.081
BTC 61299.24
ETH 1623.99
USDT 1.00
SBD 0.41