স্বরচিত গল্প (ফারুকের ভালোবাসা)
কেমন আছেন বন্ধুরা? আমি সৃষ্টিকর্তার অশেষ মেহেরবানীতে ভালোই আছি। আজ আমি আপনাদের মাঝে “স্বরচিত গল্প (ফারুকের ভালোবাসা)” শীর্ষক আমার একটি লিখনি উপস্থাপন করলাম। তাহলে শুরু করা যাকঃ-
ধরলা নদী। তীরে বিশাল এক কাশবন। অনেকেই আসে কাশবনে ঘুরতে আসে। কেউ একা আসে, কেউবা জোড়ায় জোড়ায় আসে, আবার কেউ পরিবার নিয়ে আসে। যে যাই আসুক ফারুক নদীর তীরে বসে দূর আকাশের দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে।
অনেকগুলো পাখি ঊড়ে যাচ্ছে। পাখিগুলো দিয়ে কী জানি আঁকার চেষ্টা করছে ফারুক কিন্তু মেলাতে পারছে না। বারংবার পাখিগুলো তাদের গতিপথ পরিবর্তন করছে। কিছুক্ষণের মধ্যে পাখিগুলো ফারুকের চোখের আড়াল হয়ে গেলো। ফারুক এবার চোখ মুছে এদিক ওদিক তাকাতে থাকলো।
অনেকদিন হলো এরকম দৃশ্য তার দেখা হয়নি। কারণ সে দেশের বাইরে ছিলো। প্রবাস জীবনে সে অনেক কষ্ট করেছে। আজ দেশে এসে সবকিছুই তার কাছে নতুন লাগছে।
মন জানি কেমন করছে। হঠ্যাৎ মনে হলো লাবনির কথা। ওহ লাবনির পরিচয় হলো সে ফারুকের প্রাক্তন প্রেমিক। প্রেমিক বললে হয়তো ভুল হবে কারণ ফারুকই শুধু লাবনিকে ভালোবেসেছিলো। লাবনি ভালোবাসেনি। অনেকদিন পর লাবনির কথা মনে হলে সে তার বন্ধু আফজাল কে ফোন দেয় এবং জানতে চায় লাবনির বিষয়ে।
বন্ধু আফজাল বলে এখনো তুই লাবনিকে ভুলতে পারিসনি। পাষাণ মেয়েটার উচিত শিক্ষা হয়েছে। এবার ফারুকের বুক কেন জানি ছ্যাত করে ওঠে। হয়তো লাবনির জন্য এখনো তার মনের ঘরে ঠিক একই পরিমান ভালোবাসা রয়েছে, আগে যেমনটা ছিলো।
এবার ফারুক বললো কেন কী হয়েছে লাবনির। আফজাল বলে তুই বিদেশ চলে যাওয়ার কিছুদিন পর লাবনির এক সরকারী চাকুরিজীবির সাথে বিয়ে হয়। সব ঠিকঠাকই চলছিলো। বিয়ের এক বছর পর লাবনি মা হয়েছিলো। কিন্তু শিশুটি ছিলো প্রতিবন্ধী।
তাই শশুরবাড়ীর লোকজন তাকে বিভিন্নভাবে অপমান অপদস্ত করেছিলো। এক সময় গিয়ে শিশুটি ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। তখন শিশুটির বয়স ছিলো দেড় বছর। এখানেই শেষ নয় দু বছর আগে করোনা মহামারীতে তার স্বামীও মারা যায়।
সব শুনে ফারুক ফোন কেটে দিলো। তার অজান্তে চোখের কোনায় এসে পানি জমা হলো। যেদিন লাবনি তার ভালোবাসা অস্বীকার করেছিলো, সেদিন ফারুক যতটা কষ্ট পেয়েছিলো ঠিক আজকেও তেমন কষ্ট সে অনুভব করলো।
লাবনি ছিলো আঠারো বয়সের পরীর মতো সুন্দর একটি মেয়ে। কলেজের সব থেকে সুন্দরী মেয়ে ছিলো সে। যেমন গড়ন তেমনি চালচলন। যেকেউ দেখেই প্রেমে পরে যেতো। ফারুক যখন অনার্স প্রথম বর্ষের ছাত্র লাবনি তখন একই কলেজে উচ্চ-মাধ্যমিক এর ছাত্রী।
ফারুক ছিলো বেশ ভোলাভালা এবং আনস্মার্ট একটি ছেলে। প্রতিদিন ভাঙ্গা একটি সাইকেলে করে কলেজে আসতো। পরনে ছিলো জরাজীর্ণ বস্ত্র। তাই স্বাভাবিকভাবে কলেজের কোন মেয়ের তাকে পাত্তা দেয়ার কথা ছিলো না। ফারুক নিজেও জানতো সে আনস্মার্ট। অর্থাভাবে তার এমন করুণ দশা। যাইহোক লাবনিকে সে মনে মনে ভীষণ ভালোবেসে ফেলেছিলো।
কিন্তু সে জানতো তার ভালোবাসার কোন মূল্যই লাবনি দেবে না। কারণ লাবনি অনেক সুন্দর এবং বুদ্ধিমান মেয়ে। তারপরেও ফারুক আশা ছাড়েনি। ফেসবুকে একটি ফেইক আইডি খুলে লাবনিকে ফ্রেন্ড রিকুয়েষ্ট দিয়েছিলো। এরপর লাবনিকে ম্যসেজ করতে শুরু করলো।
এক পর্যায়ে বিরক্ত হয়ে লাবনি ফ্রেন্ড রিকুয়েষ্ট একসেপ্ট করে ম্যসেজের রিপ্লে দিয়েছিলো। তখন থেকেই কথাবার্তার মাধ্যমে তাদের মাঝে প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয়েছিলো। এক সময় এসে দেখা করতেই হলো। কিন্তু ফারুককে দেখা মাত্রই লাবনি অস্বীকার করেছিলো যে, সে যার সাথে কথা বলেছিলো সে এই ছেলে নয়।
এরপর ফারুককে সবার সামনে অনেক অপমান করেছিলো এবং তার বন্ধুদের দিয়ে ফারুককে মার খাইয়েছিলো। এতসব অপমান সহ্য করতে না পেরে শেষ পর্যন্ত ফারুক তার পৈত্রিক সম্পত্তি বিক্রি করে দেশ ছেড়েছিলো।
আজ সে সফল। সে বিদেশ ফেরত একজন মানুষ। বিদেশে এই সাত বছরে সে অনেক টাকা উপার্জন করেছে। সে যে জমি বিক্রি করে বিদেশে পারি জমিয়েছিলো তার থেকে কয়েকগুণ বেশি জমি ক্রয় করার সামর্থ এখন তার হয়েছে।
আজ এতবছর পর আবারো ফারুক লাবনির কথা ভেবে কাঁদতে শুরু করে। এক পর্যায়ে গিয়ে সেই পুরনো আইডি থেকে আবারো লাবনিকে ম্যসেজ করে। কিন্তু লাবনি ম্যসেজ দেখেও কোন রিপ্লে করে না। ফারুক নদীর পার থেকে উঠে নানা বাড়ীর উদ্দেশ্যে রহনা করে।
আজ আর নয় বন্ধুরা, ভালো থাকবেন সবাই।
ধরলা নদীর তীরে ফারুক বসে বসে পাখিদের দেখতে দেখতে হঠাৎ করেই তার কলেজে জীবনের প্রেমিকা লাবনির কথা মনে করে তার খোজ নেয়ার জন্য বন্ধুকে কল দেয়।প্রেমিকা বললে ভুল হবে যাকে যে একতরফা ভালোবাসেছিল।
সে জানতে পারে লাবনির বর কোভিডে মারা গেছে আর বাচচা ক্যান্সারে। এখন সে একা হয়ে গেছে । সে তার ভালোবাসার টানে পুরোনো আইডি থেকে নক লাবনিকে নক দেয়,কিন্তু সে রিপলাই দেয় না।
ভালো লাগলো আপনার গল্প পড়ে। পরবর্তী গল্পের অপেক্ষায় রইলাম।
শুভকামনা রইলো আপ্নার জন্য।
আপনার পুরো পোস্ট পড়ে আমি নিজে হতভম্ব হয়ে যাওয়ার মত হয়ে গেছি। ফারুক ধরলা নদীর পাশে বসে তার প্রাক্তন প্রেমিক লাবনির কথা মনে হয়েছিল। যদিও লাবনী তাকে ভালবাসেনি কিন্তু ফারুক তাকে ভালোবেসে ছিল অনেক। ধরলা নদীর পাশে বসে লাবনির কথা মনে পড়ায় তার বন্ধু আফজালকে ফারুক ফোন দিয়ে বলেছিল লাবনী কেমন আছে। তারপর আফজালের মুখে লাবনীর জীবনের কিছু ঘটে যাওয়া কথা শুনে ফারুক একদম ভেঙে পড়ে।
যদিও আপনি গল্পের মতো করে উপস্থাপন করেছেন কিন্তু বাস্তবে এরকম অনেক সত্য গল্প আমাদের আশেপাশে রয়েছে।
প্রিয় মানুষের শূন্যতা অপূরণীয়। গল্পটা পড়ে বেশ খারাপ লাগলো তবে লেখক হিসেবে আপনি একদমই নিখুঁত। আপনার লেখাতে উল্লেখিত ধরলা নদীর নামটির নাম আমি পূর্বেও শুনেছি।
আপনার গল্পটার সাথে অনেক আবেগ জরিয়ে আছে। আসলে একতরফা ভালোবাসা গুলো এমনই হয়,অপর পাশের মানুষটি যতই অবহেলা করুক না কেন তাকে হয়তে সহজে ভোলা যায় না।
যাইহোক, আপনার লেখা ফারুক এবং লাবনির গল্পটি পড়ে অনেক ভালো লাগলো।
আধুনিক প্রেম গুলো মনে হয় এভাবেই শুরু হয়। মিসডকল বা মেসেজের রিপ্লাই এর মাধ্যমে।
তবে ফারুকের লাবনী চরিত্রের জন্য আমার খারাপ লাগছে। আহা বেচারী কেমন নি:সংগ হয়ে গেলো।
ধন্যবাদ ভাই, সুন্দর গল্প শেয়ার করার জন্য।
একতরফা ভালোবাসা কখনো পূর্ণতা পায় না। আমরা একটা মানুষকে যখন নিজের মন থেকেও ভালবাসি। তখন সেই মানুষটা আমাদের গুরুত্ব দিতে চায় না। ঠিক তেমনি ফারুক লাবনীকে এত পরিমাণে ভালোবাসার পরেও তার মন পায়নি।
লাবনীর সম্পর্কে ফারুক যখন সবকিছু জানতে পেরেছিল। তখন তার আবারো পুরনো ভালোবাসা জেগে উঠেছিল। এবং সে চেষ্টা করেছিল সেই ভালোবাসাটাকে ধরার জন্য কিন্তু লাবনী কে এসএমএস করে কিন্তু লাবনী এসএমএস দেখার পরেও সেই এসএমএস এর কোন উত্তর দিল না। এক্ষেত্রে বোঝা যায় লাবনী এখনো ফারুক কে নিজের করে নিতে পারেনি। ধন্যবাদ আপনাকে চমৎকার গল্প আমাদের সাথে উপস্থাপন করার জন্য।ভালো থাকবেন।