সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞ হওয়া

in Incredible India2 years ago

কেমন আছেন বন্ধুরা? আমি সৃষ্টিকর্তার অশেষ মেহেরবানীতে ভালোই আছি। আজ আমি আপনাদের মাঝে “সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞ হওয়া” শীর্ষক একটি লিখনি উপস্থাপন করছি। কথা না বাড়িয়ে তাহলে শুরু করা যাক।

pexels-kelly-2918152.jpg
source

আমরা অনেকেই আছি যারা সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞ হতে কৃপনতা করি। সবাই মুখে স্বীকার করি যে সৃষ্টিকর্তার প্রতি আমি কৃতজ্ঞ কিন্তু কর্মে তার প্রতিফলন খুবই কম ঘটাই। জীবনে সফলতা অর্জন করলে খুশি হই।

আশেপাশের লোকজন সফলতার জন্য শুভকামনা জানায় এবং নিজেকে নিয়ে নিজের গর্ব হয়। অনেককেই ধন্যবাদ দেই ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি। কিন্তু সৃষ্টিকর্তার কথা ভুলে যাই। সৃষ্টিকর্তার এতবড় নেয়ামতের জন্য কৃতজ্ঞতা জানাতে ভুলে যাই।

আমরা যদি আমাদের আশেপাশে একটু তাকাই তাহলে দেখবো যে এমন অনেক মানুষ আছেন যাদের একটি হাত নেই অথবা একটি পা নেই। কিন্তু আমাদের হাত পা সব ঠিক আছে। আমরা হাত পা স্বাচ্ছন্দে ব্যবহার করতে পারছি।

কিন্তু একবার যদি ভেবে দেখি আমাদের এমনটা হলে কী হতো, একটি হাত না থাকলে বা একটি পা না থাকলে কী হতো। এই কথা ভাবলে কিন্তু সৃষ্টিকর্তা প্রতি এমনিতেই আমরা কৃতজ্ঞ হবো। তাঁর নিয়ামতগুলোর শুকরিয়া আদায় করবো।

একবার একটি ছোট ছেলে তার দাদুকে জিজ্ঞাসা করেছিলো, দাদু আমরা নামাজ পরি কেন? আমার বন্ধু চন্দ্র পুজো করে কেন?

দাদু উত্তরে বলে আমরা নামাজের মাধ্যমে সৃষ্টিকর্তার শুকরিয়া আদায় করি এবং তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি। ঠিক তেমনি তোমার বন্ধু চন্দ্রও তাদের দেবতাকে পুজো করে শুকরিয়া আদায় করে এবং দেবতার প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে।

এই যে আমরা তিনবেলা পেট ভরে খাচ্ছি, ঘুরছি, ফিরছি, কাজ করছি আবার দিনশেষে রাতে ঘুমাচ্ছি এসব কিছুর জন্য সৃষ্টিকর্তার প্রতি আমরা সকলেই কৃতজ্ঞ।

pexels-shvets-production-7533332.jpg
source

কারণ তিনি আমাদের খাওয়ান। এবার ছেলেটি দাদুকে প্রশ্ন করে যে দাদু সৃষ্টিকর্তা কে? তাকে তো আমি কোনদিন দেখিনি? দাদু উত্তরে বলে ভাই সৃষ্টিকর্তাকে দেখা যায় না। মন দিয়ে অনুভব করতে হয়। এই বিশ্বজগৎ সব কিছু তিনি সৃষ্টি করেছেন।

ছেলেটি বলে বুজেছি দাদু। কিন্তু আমরা তো অনেকেই সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞ হই না। তাঁকে স্মরণ করি না। কই এতে তো কারোর ক্ষতি হয় না। দাদু একটু হেসে বলেন সৃষ্টিকর্তা এতে কিছু মনে করেন না। তিনি শুধু আমাদের নিয়ামত দিয়েই যান।

কারণ তিনি ভালো করেই জানেন একদিন তাঁর কাছে আমাদের ফিরে যেতেই হবে। এছাড়া আর কোন উপায় নেই আমাদের। ছেলেটি আবার দাদুকে প্রশ্ন করেন, আচ্ছা দাদু আমার মনে সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা তৈরি করবো কী করে। আমি তো খেলাধুলা করি, খাই দাই ঘুমাই।

সব কিছুই ঠিকঠাক। দাদু বলে আচ্ছা ঐ যে পানির বোতলটা আছে নিয়ে আমার এখানে আসো। পানির বোতল ছেলেটি দৌড়ে গিয়ে নিয়ে আসে তারপর দাদু বলে বোতলের ছিপি খোলো এবং পানি পান করো। ছেলেটি কথামতো তাই করলো।

এরপর দাদু পকেট থেকে একটি রাবার অর্থ্যাৎ গাটার বের করলো এবং ছেলেটির দুই হাতের দুটি করে মোট চারটি আঙ্গুল বেঁধে দিলো।

তারপর আবার বললো ঐ যে আরেকটি পানির বোতল দেখা যাচ্ছে ঐটা নিয়ে এসো। ছেলেটি দৌঁড়ে গেলো কিন্তু এবার আর পানির বোতলটি স্বাচ্ছন্দে নিয়ে আসতে পারলো না। মাঝে একবার হাত থেকে ফেলে দিলো। কারণ আঙ্গুল বাঁধা অবস্থায় থাকার কারণে সে পানির বোতলটি ভালোভাবে ধরতে পারছিলো না।

তারপর বোতলটি কোনরকম নিয়ে আসলে দাদু বললো এবার ছিপি খুলে পানি খাও দেখি। ছেলেটি অনেক চেষ্টার পর বোতলের ছিপি খুলতে সক্ষম হলো তারপর পানি পান করলো। তারপর দাদু আঙ্গুলের বাঁধন খুলে দিয়ে বললো কোন অবস্থায় পানি পান করে তুমি বেশি আনন্দ পেয়েছো, আঙ্গুল বাঁধা অবস্থায় নাকি স্বাভাবিক অবস্থায়।
pexels-brett-sayles-1073083.jpg
source

ছেলেটি বললো স্বাভাবিক অবস্থায়। এবার দাদু বললো এই যে আমরা যারা স্বাভাবিক অবস্থায় আছি এটি কিন্তু সৃষ্টিকর্তার অসীম রহমত। তোমার যদি হাতের দুটি আঙ্গুল না থাকতো তাহলে কী শান্তিমতন পানি পান করতে পারতে। অনেক কষ্ট হতো না বলো। ছেলেটি বললো জ্বী দাদু।

এবার আমি বুঝেছি কেন সৃষ্টিকর্তার প্রতি আমাদের কৃতজ্ঞ হতে হবে। সৃষ্টিকর্তা আমাকে ভালো রেখেছে, সুস্থ রেখেছে তাই সৃষ্টিকর্তার প্রতি আমি কৃতজ্ঞ হবো। দাদু একটু মুচকি হাসি দিয়ে নাতির কপালে চুমু খেয়ে বললো চলো দুপুরের খাবার খাই। ছেলেটি বললো না দাদু আমি এখনো নামাজ পরিনি, আগে নামাজ পরে আসি। দাদুর মন আনন্দে ভরে উঠলো।

আজ আর নয় বন্ধুরা, ভালো থাকবেন সবাই।

Sort:  
Loading...
 2 years ago 

আসলে আমাদের যা আছে আমরা সেই টুকু নিয়ে কখনোই সন্তুষ্টি প্রাপ্তি লাভ করতে পারিনা। আমাদের আরো চাই কিন্তু রাস্তার পাশে এমন অনেক মানুষকে দেখতে পাই। যাদের একটা হাত নেই একটা পা নেই শরীরের একটা অঙ্গ একেবারেই বিকলাঙ্গ হয়ে আছে। সেই জায়গা থেকে আমার মনে হয়। অবশ্যই সৃষ্টিকর্তার কাছে শুকরিয়া আদায় করা উচিত।

আপনি আজকের দারুন একটা গল্প আমাদের সাথে শেয়ার করেছেন। যেটা সত্যিই একেবারে শিখনীয় আসলে আমাদের হাত যখন ঠিক থাকে। তখন আমরা যে কোন কাজ খুব সহজেই করতে পারি। কিন্তু যখন ছেলেটার চারটে আঙ্গুল বেঁধে দেয়া হলো। তখন সে সঠিকভাবে ওই বোতল নিয়ে আসতে পারল না।

এখান থেকে সৃষ্টিকর্তার কাছে শুকরিয়া আদায় করা উচিত। আমরা ভালো আছি। ধন্যবাদ চমৎকার গল্প নিয়ে এত সুন্দর একটা টপিক আমাদের সাথে আলোচনা করার জন্য। ভালো থাকবেন।

 2 years ago 
  • সর্বাবস্থায় ই আমাদের আল্লাহ পাকের উপর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা উচিত। আমাদের আশেপাশের মানুষের জীবন থেকে অনেক কিছু শিখার বা দেখা হয়েছে। আল্লাহ আমাদের সুস্থ সবল রেখেছেন এবং প্রয়োজনীয় আলো বাতাসের মাধ্যমে আমাদের বেঁচে থাকার জন্য সাহায্য করেছেন। তাই প্রতিমুহূর্তেই সৃষ্টিকর্তার উপর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা উচিত। ধন্যবাদ আপনাকে এত সুন্দর একটি লেখা আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য।
 2 years ago 

ইদানীং একটা রেওয়াজ দেখা যায়, কোথাও কোন সফলতা পেলে মানুষ ক্রেডিট দেয় অন্য কোন মানুষকে, হতে পারে সেটা স্ত্রী বা হাজবেন্ড। অনেকেই বলে এর পএছনে এই মানুষের অবদান, কিন্তু কখনোই তাদের কে বলতে শুনিনা সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানোর কথা। সবার আগে আমাদের তারই কৃতজ্ঞতা স্বীকার করা উচিৎ যিনি আমাদের সব ভালো খারাপ দেখ ভাল করেন।

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.33
JST 0.095
BTC 62264.73
ETH 1738.94
USDT 1.00
SBD 0.39