“ধূমপান মানেই বিষপান”
আসসালামু আলাইকুম/আদাব,
কেমন আছেন বন্ধুরা? আমি সৃষ্টিকর্তার অশেষ মেহেরবানীতে ভালোই আছি। আজ আমি আপনাদের মাঝে “ধূমপান মানেই বিষপান” শীর্ষক আমার একটি লিখনি উপস্থাপন করলাম। তাহলে শুরু করা যাকঃ-
আমরা সকলেই জানি যে আত্মহত্যা মহাপাপ। তাই আমরা এই মহাপাপে কেউ পাপি হতে চাই না। কিন্তু আমাদের অজান্তেই এই মহাপাপের দিকে আমরা ধীরে ধীরে ধাবিত হচ্ছি। আমরা মানি বা না মানি এটিই কিন্তু সত্য। অনেকে হয়তো জিজ্ঞাসা করবেন কেন? উত্তরে আমি বলবো ধূমপান করার কারণে।
ধূমপানের কারণে আমাদের বিভিন্ন রোগ হয় এবং আমরা তিলে তিলে মৃত্যুর দিকে ধাবিত হই। যেহেতু আমরা সকলেই কম বেশি এই কথা জানি সেহেতু জেনেশুনে ধূমপান করাকে আমি আত্মহত্যার শামিল হিসেবে বলতেই পারি। ধূমপানকে শুধু যে বিষপানের সাথে তুলনা করবো তাহলে সেটি যথার্থ হবে না, বরং ধূমপান বিষপানের চেয়েও অধিক মারাত্মক।
কেননা যে বিষপান করে শুধু সেই বোঝে বিষপানের কত যন্ত্রনা এবং এর ক্ষতিকর দিক। আর একজনের ধূমপানের কারণে আমাদের সবাইকে এর খেসারত দিতে হয়। ধূমপানে পরিবেশের ক্ষতি, অধূমপায়ীদের ক্ষতি এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মেরও সর্বনাশ হয়ে থাকে।
ধূমপান একটি জাতির জন্য হুমকিস্বরুপ। এটি মারাত্মক বিষাক্ত এবং জনস্বাস্থ্যের জন্যও হুমকিস্বরুপ। এই কথার সাথে ধূমপায়ী ব্যক্তি, উৎপাদক, বিপননকারীসহ সকলেই একমত পোষণ করে। কিন্তু তাতেও খুব যে বেশি লাভ হচ্ছে তা কিন্তু না। বরং দিন দিন ধূমপানকারী ব্যক্তির সংখ্যা বেড়েই যাচ্ছে।
বর্তমানে সিগারেটের বিজ্ঞাপনেও লেখা থাকে ধূমপান স্বাস্থের জন্য ক্ষতিকর। তাছাড়া বিড়ি, সিগারেটের প্যকেটে বিভিন্ন সতর্কীকরণ বার্তা লিখা থাকে। এমনকি চিত্র আকারেও এর ক্ষতিকর দিকগুলো প্রকাশ করা হয়। এরপরেও আমরা যদি নিজে থেকে সচেতন না হই তাহলে এটি আমাদের সকলের জন্য অভিশাপ হয়ে দাঁড়াবে।
প্রতিটি ধর্মেই ধূমপানের বিষয়ে কিছু না কিছু বলা আছে। আমাদের ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে ধূমপান নিষিদ্ধ ও এটিকে হারাম হিসেবে সাবস্থ করা হয়েছ। তাছাড়াও পৃথিবীর সকল চিকিৎসাবিজ্ঞানীরাও একমত যে ধূমপান আমাদের প্রত্যেকের জন্য অমঙ্গলজনক।
সকল রোগীকেই ধূমপান না করার জন্য চিকিৎসক পরামর্শ দিয়ে থাকেন। একটুকরো পরিচ্ছন্ন কাগজে মোড়া সিগারেট সদৃশ্য হলেও এটি আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য এমন ক্ষতিকর যে, এটি নিকোটিনের বিষে ভরা, যা একটি ইনজেকশনের মাধ্যমে কোন সুস্থ্য মানুষের শরীলে প্রবেশ করালে নির্ঘাত মৃত্যু হবে।
ধূমপানের প্রতি সবাইকে নিরুৎসাহিত করতে যাবতীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। সবাইকে বোঝাতে হবে যে ধূমপান নিষিদ্ধ সামগ্রীর অন্তর্ভুক্ত। ধূমপানে আসক্ত হওয়া মানে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ এবং দেশ ও জাতির ক্ষতি করা। প্রতিটি ধূমপায়ীকে ধরে ধরে ধূমপানের কুফল সম্পর্কে সচেতন করা ও তামাক জাতীয় সকল পণ্য ব্যবহারে নিরুৎসাহিত করতে হবে।
ধূমপান প্রতিরোধে সুশীল সমাজ, বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক, সরকারী সেবা প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারী সেবা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিশেষভাবে এগিয়ে আসতে হবে। ধূমপানকে না বলার যে স্লোগান সেটি সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে হবে। এর মাধ্যমে সামাজিক আন্দোলনকে আরো জোরদার করতে হবে।
সকল ধর্মের পবিত্র গ্রন্থগুলোর আলোকে ধূমপানের ক্ষতিকর দিকগুলো সামাজিক মাধ্যম ও গণমাধ্যমে ব্যপকভাবে প্রচার করতে হবে। ধূমপানের বিরুদ্ধে গণজাগরণ সৃষ্টি করতে হবে। প্রত্যেকে যদি তদের ধর্মীয় অনুশাসন মেনে সুস্থ ও সুন্দর জীবন যাপন করে এবং ধূমপান মুক্ত ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ বজায় রাখে তাহলে এ সমস্যার সমাধান অনেকখানি সম্ভব হবে।
বর্তমানে আমাদের দেশে প্রতিটি সিগারেটের প্যাকেটের মধ্যে লেখা থাকে, “ধূমপান ফুসফুস ও ক্যান্সারের কারণ”, “ধূমপানের কারণে মৃত্যু হয়”, “ধূমপান স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর”, “ধূমপানে স্ট্রোক হয়”, ইত্যাদি। তবুও আমাদের দেশ সহ বিশ্বে আশঙ্খাজনকভাবে বেড়েই চলছে ধূমপায়ীদের সংখ্যা।
ধূমপান করলে ফুসফুস, মূত্রনালী, যকৃত, মুখ, গলা, পরিপাকতন্ত্রসহ শরীরের বিভিন্ন স্থান ক্ষতিগ্রস্থ হয় এবং ধীরে ধীরে ধূমপায়ী ব্যক্তি মৃত্যুর কোলে ঢলে পরে। বর্তমান করোনা ভাইরাস বড় একটি আতংকের নাম। একজন ধূমপায়ী ব্যক্তির শরীরে যদি করোনা ভাইরাস থাকে তাহলে সে এই সমাজের জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরুপ।
কেননা তিনি সিগারেট খেয়ে যখন ধোঁয়া ছাড়বেন তখন সেই ধোঁয়ায় ভর করে করোনা ভাইরাস আশেপাশে ছড়িয়ে পরবে। তখন করোনা ভাইরাস এতটাই শক্তিশালী হয় যে, বাতাসে তিন ঘন্টা পর্যন্ত জীবিত থাকতে পারে। তাই আসুন আজকেই ধূমপানকে না বলি।
যিনি ধূমপান করেন তিনি এখনই প্রতিজ্ঞা করুণ যে আর ধূমপান করবেন না। টেবিলে কিংবা পকেটে রাখা সিগারেট বা সিগারেটের প্যকেট ডাস্টবিনে ছুড়ে ফেলুন। সিগারেট থেকে দূরত্ব বজায় রাখুন।
প্রথমদিন ধূমপান থেকে বিরত থাকুন। ধূমপান না করার আর করার পার্থক্য অনুধাবন করতে চেষ্টা করুন। ধূমপান করতে বেশি ইচ্ছে হলে চকলেট, চুইনগাম বা পানসুপাড়ি খেতে পারেন। এরপর দুইদিন, তিনদিন ধূমপান না করার চেষ্টা করুন দেখবেন ধীরে ধীরে অভ্যাস গড়ে উঠেছে।
যারা অধূমপায়ী তাদের অনুসরণের চেষ্টা করুন। অথবা যারা আগে ধূমপান করতো এখন করে না তাদের সাথে কথা বলুন। তাদের স্বাস্থ্যগত পরিবর্তন খেয়াল করুন এবং নিজের বিবেককে বোঝান। দেখবেন পরিবর্তন সুনিশ্চিত।
আচ্ছা একটু হিসাব করে দেখুন তো, দিনে বা মাসে আপনি কত টাকার ধূমপান করেন। বছরে মোট কত টাকা ধূমপানের পেছনে আপনার ব্যয় হয়। হিসেব করলে খুব সহজে সমাধান পাবেন এবং আপনার জন্য ধূমপান ছাড়া সহজ হবে। কেননা ধূমপানের পেছনে যে টাকা ব্যয় হয় সেই টাকা হলে আপনি অন্য কিছু করতে পারবেন।
আপনার যেসব ধূমপায়ী বন্ধু আছে তাদের আপাতত এড়িয়ে চলুন। যে কোন ধূমপায়ী আড্ডাখানায় যাওয়া থেকে নিজেকে বিরত রাখুন। সেই সময় অন্য কাজে নিজেকে ব্যস্ত রাখুন। দেখবেন ফলাফল আসতে শুরু করেছে।
সামাজিক বিভিন্ন সংগঠনের সাথে জড়িত হতে পারেন। সামাজিক বিভিন্ন কাজের মাধ্যমে নিজেকে ব্যস্ত রাখুন। সমাজের উন্নয়নে নিজেকে বিলিয়ে দিন। ভালো কাজ করুন। দেখবেন ধূমপানের মরণ থাবা থেকে রক্ষা পেতে শুরু করেছেন।
আর একদম নিরুপায় হলে চিকিৎসকের স্মরণাপন্ন হতে পারেন। চিকিৎসকের দেয়া ঔষুধ সেবন করুন। চিকিৎসক যেগুলো শারীরিক ব্যয়াম আপনাকে করতে বলে সেগুলো করতে থাকুন দেখবেন ধূমপানের হাত থেকে রেহাই পেয়েছেন।
আজ আর নয় বন্ধুরা। ভালো থাকবেন সবাই।
ধুমপান মানেই বিষ পান এটা জানা সত্বেও মানুষ এই ধুমপান করে থাকে ৷ এই ধুমপান মানব জাতির এবং সমাজ জাতির জন্য খুবই ভয়ানক ৷ যদি ও আমরা ধুমপান স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিগ্রস্ত তারপরও আমরা ধুমপান করে থাকি ৷ আর এই ধুমপানের ফলে আমরা তিলে তিলে মৃত্যুর পথে ধাবিত হচ্ছি ৷ যার জন্য আমাদের প্রত্যেকই এই ধুমপান থেকে বিরত থাকতে হবে ৷
যাই হোক ভাই আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ এত সুন্দর একটি পোস্ট আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য ৷ ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন ৷