আজ খুব ক্লান্ত।

in Incredible India3 years ago (edited)
happy-family-sitting-couch-living-room_23-2148456279.webpsource

Hello Friends,

হঠাৎ করে আজ একটি গল্প লিখতে ইচ্ছে করল। মনে হচ্ছে আমি ক্লান্ত। তাই আজ এটা নিয়েই একটি গল্প লিখতে বসলাম। গল্প বলতে আমরা এমন কিছু বুঝি যেটা মানুষ তার অনুভূতি দিয়ে লেখে। অনেকাংশে যেটাকে আমরা কাল্পনিক বলি। তবে এই গল্প থেকেও শিক্ষা গ্রহণ করার আছে। তাহলে চলুন বন্ধুরা আমরা মূল গল্পে চলে যাই।

বেশ কয়েক বছর পূর্বের কথা। রসুলপুর গ্রামে এক দরিদ্র পরিবার বসবাস করত। যেখানে পরিবারের কর্তার নাম ছিল রহিম। তিনি খুবই সহজ সরল একজন মানুষ। আপনজন বলতে রহিমের স্ত্রী ও তার একটি মাত্র কন্যা সন্তান ছিল।

রহিম দিনমজু হিসেবে কাজ করতেন পরের বাড়িতে। প্রতিদিন যেটা উপার্জন করতেন তা দিয়ে মোটামুটি ভাবে পরিবার চলে যেত। তাদের একমাত্র কন্যা সন্তান ধীরে ধীরে বড় হতে লাগলো। রহিমের অনেক স্বপ্ন তার কন্যাকে ভবিষ্যত তিনি তিনি শিক্ষিকা হিসেবে দেখতে চান।

কারণ রহিম নিজে লেখাপড়া জানেনা। তার এই অজ্ঞতার সুযোগটা তারই আপন ভাই নিয়েছে। যার ফলে রহিম আজ হতদরিদ্রের কাতারে দাঁড়িয়ে। রহিমের সরলতার সুযোগ নিয়ে তার ভাই তার থেকে এই জায়গা জমি সবকিছু লিখে নিয়েছে।

তবে রহিমের কোনো দুঃখ নেই। তিনি মনে করেন সব সময় ঈশ্বর তার সাথে রয়েছেন । এই কঠিন পরিস্থিতি গুলো ঈশ্বরের নেওয়া একটি পরীক্ষা মাত্র। রহিমের কন্যা প্রাথমিক বিদ্যালয় ভর্তি হবে। এই জন্য রহিম তার কন্যাকে নিয়ে প্রাথমিক বিদ্যালয় গেলেন।

flat-children-back-school-concept_23-2148587425.webpsource

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক রহিমের একমাত্র কন্যা (রিয়া), তাকে বেশ আদর করে বিভিন্ন প্রশ্ন করলেন। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অবাক হলেন, রিয়ার প্রশ্নগুলোর উত্তর শুনে। এইটুকু একটি বাচ্চা মেয়ে এত সুন্দর করে প্রত্যেকটি প্রশ্নের উত্তর বুঝিয়ে দিচ্ছে তার শিক্ষককে।

শিক্ষক রিয়ার মাথায় তার আশীর্বাদের হাত বুলিয়ে দিলেন। রিয়া নিয়মিত বিদ্যালয়ে যেতে শুরু করলো। তারপর দিন দিন রহিমের পরিবারের খরচ বেড়ে যেতে লাগলো। কারণ তার কন্যার লেখাপড়ার জন্য বেশ কিছু টাকা অতিরিক্ত প্রয়োজন হচ্ছিল।

রহিম এবার শুধুমাত্র দিনে না বরং রাতেও পরিশ্রম করতে শুরু করলো। রহিমের কন্যা মাধ্যমিক পরীক্ষায় খুব ভালো ফলাফল করলো। তারপর রহিমের আরো খরচ বেড়ে গেল। তারপর আবার কন্যা উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় খুবই ভালো ফলাফল করলো।

আর রহিম বাড়িতে বসে এভাবে উপার্জন করে খরচ সামাল দিতে পারছে না। রহিম এবার শহরের দিকে রওনা হল। কারণ রহিম যে মালিকের বাড়িতে দিনমজুর হিসেবে কাজ করতো, তার শহরেও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আছে। রহিম খুবই ভালো মানুষ, তাই তিনি তাকে খুব বিশ্বাস করেই সেখানে পাঠালেন।

father-carrying-his-cheerful-son-his-shoulders-with-bright-sky_181624-11786.webpsource

এভাবে দীর্ঘ চার বছর অতিবাহিত হল। রহিমের কন্যা স্নাতক সম্মান অর্জন করল। খুবই ভালো ফলাফলের জন্য, খুব স্বল্প সময়ের মধ্যে তার শিক্ষকতা পেশায় যোগদানের সুযোগ হলো। এই বার্তা রহিমের কানে পৌঁছানো মাত্র, রহিম যেন দীর্ঘশ্বাস ফেলল। রহিম তার স্ত্রীর পাশে বসে কন্যার অনুপস্থিতিতে, এটাই বলল যে আজ আমি বড়ই ক্লান্ত। তবে আমি পৃথিবীর সব থেকে সুখী মানুষ এবং সুখী বাবা।

গল্পটি আপনাদের কাছে কেমন লাগলো জানাতে ভুলবেন না। আগামীকাল আবারও দেখা হবে অন্য কোনো বিষয় নিয়ে। ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।

Sort:  
Loading...

TEAM 5 CURATORS

This post has been upvoted through steemcurator08. We support quality posts anywhere and with any tags. Curated by: @chant

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.31
JST 0.073
BTC 63406.11
ETH 1675.05
USDT 1.00
SBD 0.41