হঠাৎ কিছু ফটোগ্রাফি।
Hello Steemians,
বর্ষার ভয়াবহতা স্বচক্ষে না দেখলে আন্দাজ করা মুশকিল। গতকাল বোনের কলেজে কাজ ছিল তাই অন্য পথে বোন ও পুচকু কলেজে এসেছিল। এই কলেজে থেকে আমিও উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করেছি যে কারণে ঐ সময়ের সকল প্রভাষক, অধ্যাপক -অধ্যাপিকা আমার পরিচিত।
আমাদের গ্রামের দক্ষিণ পাড়ার একটা এলাকা যেখানে রয়েছে বিলের মধ্য দিয়ে পিচ ঢালা রাস্তা। রাস্তার এক পাশে সারিবদ্ধভাবে কিছু পরিবার বংশপরম্পরায় বসবাস করে আসছে। জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে প্রতিনিয়ত কিন্তু দেশের আয়তন তো আর বাড়ছে না , যে কারণে রাস্তার অপরপাশে ও এখন অনেক পরিবার বাড়ি করে বসবাস শুরু করেছে। এটাও ফসলি জমি হ্রাসের অন্যতম একটা কারণ।
কিছুটা সামনেই একটা তিন রাস্তার মোড় যেখানে ইটের একটা টলি গাড়ি দেখা যাচ্ছিল। প্রতিনিয়ত গ্রামে ও কোথাও না কোথাও ইট দিয়ে ভবন তৈরি করা হচ্ছে। অন্য কোনো গ্রামের কথা তো বলা মুশকিল তবে আমাদের গ্রামে শহরের স্পর্শ পড়েছে যেটা দেখলেই বোঝা যায়।
আবার কিছুটা সামনেই দুইপাশে সবুজ ধানক্ষেত যে দৃশ্য দেখলে যেন মনে হয় সবুজের মধ্যে বিচরণ করেছি। তবে এখানে একটা সাইনবোর্ড ও কিন্তু রয়েছে যেটার দ্বার এটা স্পষ্ট যে এখানে সরকারী কোনো প্রকল্পের সম্পৃক্ততা রয়েছে।
এই যে সেই সিকির খাল যেখানে দীর্ঘদিন ধরে রয়েছে কাঠের সাঁকো। মানুষের ভোগান্তির আর শেষ নেই। আমার দূর থেকেই মনে হচ্ছিল খালে যেন জল ফেঁপে উঠেছিল, অনেক দূর থেকেই দেখা যাচ্ছিল।
ভিডিও টা খুলে ভালো কোয়ালিটির টা একটু দেখবেন যে সামান্য এই ছোট্ট খালের স্রোতের ভয়াবহতা কেমন হতে পারে। এটাত ছিল সবেমাত্র জোয়ারের প্রথম দিকের দৃশ্য। যেখানে সাঁকোর ওপরে জল উঠতে শুরু করেছিল। যেহেতু অমাবস্যা একদম কাছাকাছি তাই জলের উচ্চতা এমন বৃদ্ধি পেয়েছিল।
কলেজের সদর দরজার সামনে গিয়েই হঠাৎ চোখ চলে গিয়েছিল দারোয়ান কাকুর চেয়ারের দিকে। মানুষটা এখন আর নেই কিন্তু চেয়ারটা ঠিকই তাঁর জায়গায় রয়েছে। সময় পরিবর্তনশীল, কখন যে কে সময়ের সাথে হারিয়ে যাবে বোঝা মুশকিল।
বোনকে খুঁজে পাচ্ছিলাম না, তাই একাডেমিক ভবনে গিয়েছিলাম। একাডেমিক ভবন নতুন করা হয়েছে যার সামনে বিশাল কাশবন। কাশবাগান যেন শিক্ষার্থীদের কলেজ পার্ক, সুযোগ পেলেই শিক্ষার্থীরা কাশবনের দিকে যাচ্ছে। তবে এটা যথেষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ, কারণ তিনপাশে জলভর্তি বড় বিল যে কোনো সময় উঁচু স্থান ও ঝোপঝাড়ের মধ্যে বিষধর সাপ চলে আসতে পারে।
এই শহীদ মিনারটাও নতুন, এটা আমাদের পড়াকালীন সময়ে ছিল না। এখনকার অধিকাংশ শিক্ষার্থীরা মনে হয় মোবাইল ইউজ করার জন্যই কলেজে এসেছে। অথচ আমাদের সময় মোবাইলে কথা বলা তো দূরের কথা মোবাইল নিয়ে কলেজে প্রবেশই নিষেধ ছিল। ঈশ্বর আমাদের সহায় হোন, আমার মাঝে মধ্যেই খুব দুশ্চিন্তা হয় যে আগামীর ভবিষ্যত যেন মোবাইলেই ধ্বংস না হয়ে যায়। এখানে উন্নত প্রযুক্তির কোনো দোষ নেই বরং দোষটা আমরা যাঁরা ব্যবহার করছি তাঁদের।
পুচকুর সাথে দেখা হলো এবং কিছু সময় দুষ্টুমি করে ওকে কিছু খাবার কিনে দিয়েই আমি বাড়ির উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়েছিলাম। ফেরার পথে দেখলাম খালে জলের অবস্থা আরো খারাপ। ব্রিজের কাজ শেষ করতে আর কতোদিন লাগাবে সেইটা ঈশ্বরই ভালো মানেন। যদিও আমার কাছে ব্রিজটা বড় মনে হচ্ছিল, তবে আজকের জলের স্রোত দেখে মনে হলো ঠিকই আছে।
কাঠের পোল বা সাঁকোর ওপর হাঁটু অবধি জল ফেঁপে উঠেছিল, যেখান থেকে হেঁটে যেতে আমার রীতিমতো ভয়ই লাগছিল।
আমার আজকের লেখাটা এখানেই সমাপ্ত করছি। সকলে ভালো থাকুন, সুস্থ্য থাকুন।
@ninapenda, thank you so much 🙏