অনেক দিন পর একটু ঘুরতে বেড়োনো
নমস্কার বন্ধুরা। আপনারা সকলে কেমন আছেন? আজকে আবারো চলে এসেছি আপনাদের সাথে নতুন কিছু গল্প শেয়ার করে নেওয়ার জন্য।
বেশ অনেকদিন হয়ে গেল আমরা মানে আমি আর আমার পার্টনার একসাথে ঘুরতে বেরোনোর সময় পাইনি। আমার কলেজের পরীক্ষা ছিল এবং সেইসাথে অনেক প্র্যাকটিকালের কাজ ছিল, যেগুলো করতে গিয়ে ঘুরতে বেরনোর সময় হয়ে ওঠেনি। অন্যদিকে ওদের কোম্পানিরও year ending এর জন্য মার্চ মাস জুড়ে প্রচণ্ড চাপ থাকে যার ফলে ওরও সময় হয়ে উঠছিল না। তাই আমরা আগে থেকেই ঠিক করে রেখেছিলাম দুজনেরই কাজের চাপ কিছুটা কমলে আমরা একদিন একটু বেরোবো।
বিয়ের আগে যেহেতু আমাদের হাতে এখনো বেশ কিছু মাস সময় রয়েছে তাই আমরা এই সময়টাকে একটু উপভোগ করতে চাই, মানে ঘুরতে বেড়োতে ইচ্ছে হলে একটু আশেপাশে ঘুরবো, রেস্টুরেন্টে যেতে ইচ্ছে হলে মাঝেমাঝে যাবো, কিছু কেনার হলে সাধ্য মতো কিনবো। কারণ এরপরে আমাদের দুজনের ওপরেই অনেক দায়িত্ব ও কর্তব্য এসে পড়বে। সেইসব পালন করতে করতে নিজেরা কতখানি কোয়ালিটি টাইম কাটাতে পারব জানিনা তাই এই সময়টা আমরা দুজনেই সময় পেলেই একসাথে বেড়িয়ে পড়ি। পরের বছর থেকেই সেভিংস, বাড়ির দায়িত্ব সবই আমাদের দুজনকে ভাগাভাগি করে নিতে হবে, তবে তার আগে আমরা এই বছর টাই নিজেরা একটু নিজেদের ইচ্ছেমতো করে কাটাতে চাই।
যাইহোক, আমার পড়ানোর শেষে এবং ওর অফিসের ছুটির পর আমরা বেরিয়ে পড়েছিলাম একটু খোলা হাওয়ায় ঘুরতে। আমাদের কৃষ্ণনগর এই একটি বড় মাঠ রয়েছে, যেটাকে বলা হয় কলেজের মাঠ, সেখানে গিয়ে আমরা কিছুক্ষণ ঠান্ডা হাওয়া উপভোগ করছিলাম। সন্ধ্যে হলেই সেখানে বহু মানুষের আগমন হয়। কেউ কেউ হাঁটাহাঁটি করে, কেউ এক্সারসাইজ করে, কেউ কেউ গল্প করে---এইভাবেই পুরো মাঠটা ভরে থাকে মানুষ জনে।
সেখানে কিছুক্ষণ সময় কাটিয়ে আমাদের দুজনেরই বড্ড খিদে পেয়ে গিয়েছিল। তাই আমরা একটা রেস্টুরেন্টে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিই। প্রতিদিন বাড়ির খাবার খেতে খেতে আমাদের একঘেয়েমি লাগে। তাই আমরা মাঝে মাঝে বাইরের খাবার খেতে চাই। তাই সময় পেলে আমরাও যখন বাইরে বেরোই রেস্টুরেন্টে কমবেশি খাওয়া হয়। কোন রেস্টুরেন্টে যাব সেটা ভাবতে ভাবতে মনে হল ইতিমধ্যে অনেক রাত হয়ে গেছে, এরপর আমরা যদি দূরের কোন রেস্টুরেন্টে যাই সে ক্ষেত্রে আরও রাত হয়ে যাবে, তাই আমরা ঠিক করলাম আমাদের বাড়ির কাছে 'হ্যাংলা' নামে যে রেস্টুরেন্ট আছে সেখানেই যাব।
আমি এর আগেও এই রেস্টুরেন্টের রিভিউ আপনাদের সাথে শেয়ার করেছিলাম। খুব অল্প জায়গার মধ্যে তৈরি হওয়া এই রেস্টুরেন্টটা কিন্তু বেশ সুন্দর। সেই সাথে স্টাফদের ব্যবহার ও খাবারদাবারও অসাধারণ এবং প্রাইজও খুবই রিজেনেবেল। তাই ব্যক্তিগতভাবে এই রেস্টুরেন্টটা আমার বেশ ভালো লাগে।
আমরা সেখানে পৌঁছতে পৌঁছতে প্রায় ৯ টা বেজে যায়। আমরা সেখানে গিয়ে প্রথমেই একটা স্টার্টার অর্ডার দিয়ে দিই। স্টার্টারে আমরা নিয়েছিলাম প্যান ফ্রায়েড মোমো। এর আগেও আমি এখানকার এই ডিশটা ট্রাই করেছিলাম। আমার এবং শুভায়নের এটা খেতে বেশ ভালো লাগে। তাই আমরা দুজনে প্রথমে এটাই অর্ডার দিয়েছিলাম। এটাটে বেশ বড় সাইজের ছয় পিস চিকেন মোমো থাকে।এর দাম ভারতীয় মূল্যে ১২০ টাকা।
প্যান ফ্রায়েড মোমো |
|---|
স্টার্টার চলে এলে আমরা একে একে আমাদের পছন্দমত ডিশ অর্ডার দিয়ে দিই। এখানকার ফ্রাইড রাইসটা আমার খুব ভালো লাগে। আগের বছর পুজোর সময় থেকে এখানে একটা কম্বো প্যাকেজ শুরু হয়েছে, যেখানে ফ্রাইড রাইস, ৩ পিস চিকেন কষা, একটা কোলড্রিংস ও স্যালাড থাকে, ভারতীয় মূল্যে যার প্রাইজ ১৮০ টাকা। ফ্রাইড রাইসের কোয়ানটিটি বেশ অনেকটাই থাকে। কোন বারই আমি একা পুরোটা শেষ করতে পারি না। ১৮০ টাকায় এত ভালো একটা কম্বো সত্যিই ভাবা যায় না। অন্য রেস্টুরেন্ট গুলো তুলনায় এখানকার দাম অনেকটাই কম।
ফ্রাইড রাইস, ৩ পিস চিকেন কষা, কোল্ডড্রিংস ও স্যালাড |
|---|
অন্যদিকে শুভায়ন বিরিয়ানি খেতে একটু বেশিই ভালোবাসে। তাই ওদের ওখানকার আরো একটি কম্বো প্যাকেজ-- মটন বিরিয়ানি, চিকেন চাপ, কোলড্রিংস ও স্যালাড টা ও নিজের জন্য অর্ডার করেছিলাম। এখানকার কম্বোগুলো কিন্তু খুব ভালো। এই প্যাকেটটার দাম ছিল ভারতীয় মূল্যে ২৪০ টাকা।
মটন বিরিয়ানি, চিকেন চাপ, কোলড্রিংস ও স্যালাড |
|---|
অর্ডার দেওয়ার পর আমরা দুজনে বসে একটু গল্প করছিলাম। তারপর অল্প সময়ের মধ্যেই আমাদের খাবার নিয়ে চলে আসে।যেহেতু বড্ড খিদে পেয়ে গিয়েছিল তাই আমরা দুজনেই বেশিক্ষন অপেক্ষা না করে খাওয়া শুরু করেছিলাম। প্রত্যেকটা রান্নাই অনেক টেস্টি হয়েছিল। আমরা দুজনে দুজনের খাবার শেয়ার করে খেয়েছিলাম। তারপরেও হাফ বাটি ফ্রাইড রাইস থেকে গিয়েছিল। তাই আমি ওটা প্যাক করে বাড়ি এনেছিলাম। কোনো বারই আমি পুরোটা শেষ করতে পারিনা। তবুও এতটা খিদে পেয়ে যায় যে ভাবি হয়তো এবার খেয়ে ফেলবো। তবে সেটা কোন বারই হয় না।
এইভাবেই আমরা একটা সুন্দর সন্ধ্যে কাটিয়েছিলাম। আজ তাহলে এখানেই শেষ করছি। আগামীকাল আবার অন্য কোন লেখা নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হব। সকলে ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন।
যেহেতু আপনাদের বিয়ের এখনো কয়েক মাস সময় আছে তাই যখন ইচ্ছে হয় আপনি আপনার হবু বরের সাথে ঘুরতে বের হন আসলে এই সময়টাকে উপভোগ করার মধ্যে অন্যরকম একটা আনন্দ আছে পরবর্তীতে এই সময়টা মনে করে হাসাহাসি করতে পারবেন যাইহোক রেস্টুরেন্টে গিয়ে আপনারা বেশ কয়েক ধরনের খাবার অর্ডার করেছেন এবং গ্রহণ করেছেন যেটা জানতে পেরে ভালো লাগলো ধন্যবাদ। ধন্যবাদ হবু বরের সাথে ঘুরতে যাওয়ার আনন্দঘন মুহূর্তটা আমাদের সাথে তুলে ধরার জন্য ভালো থাকবেন।