প্রিয় বান্ধবীর মেহেন্দি অনুষ্ঠান
নমস্কার বন্ধুরা। আপনারা সকলে কেমন আছেন? সকলের সুস্থতা কামনা করে আমি আমার আজকের লেখাটি শুরু করছি। আশা করছি আপনাদের সকলের খুব ভালো লাগবে।
শীতকাল মানেই বিয়ের মরশুম। আর সেটা যদি হয় বান্ধবীর বিয়ে তাহলে তো আর কোন কথাই হবে না। আমি আমার এই পঁচিশ বছরে যতগুলো বিয়ে বাড়িতে গিয়েছি তার মধ্যে তোমার সবচেয়ে পছন্দের বিয়ে বাড়ি ছিল আমার এই বান্ধবীর বিয়ে। এই বান্ধবীটির সাথে আমার বহু বছরের বন্ধুত্ব। সেই ছোট্টবেলা থেকে ওকে চিনি। একসাথে প্রাইমারি স্কুল, হাইস্কুল এবং তারপর একই কলেজে আমরা পড়াশোনা করেছি। তাই সেই ছোট্ট বয়স থেকেই আমাদের বন্ধুত্ব এখনো পর্যন্ত চলে আসছে। আর তাছাড়া আমার বাড়ির কাছের প্রিয় বন্ধু বলতে এই বান্ধবীটিই আমার সবচেয়ে কাছের। জীবনে চলার পথে বন্ধু তো অনেক হয় তবে সকলকে সবকিছু বলা যায় না। আমার সবার সাথে মেন্টালিটিও ম্যাচ হয় না। তবে এই বান্ধবীটির সাথে আমার মেন্টালিটি খুব ম্যাচ করে। তাই জীবনের খুঁটিনাটি বিষয়গুলো আমি এই বান্ধবীর সাথেই শেয়ার করি। ও আমার কাছে এটা খুব বিশ্বাস ও ভরসার জায়গা। গত ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসে আমার এই প্রিয় বান্ধবীটির বিয়ে হয়। আজ আমি ওর মেহেন্দি অনুষ্ঠানে আমরা কিভাবে সেই সন্ধ্যাটা কাটিয়েছিলাম সেটাই শেয়ার করব।
আমার এই বান্ধবীটি কিন্তু বাঙালি নয়। ওরা বিহারী। তবে বহু বছর যাবত আমাদের এই বাঙালি সমাজে থাকতে থাকতে ওরাও কিন্তু পুরোপুরি বাঙালি কালচারটাকে গ্রহণ করে নিয়েছে। সাধারণভাবে কথা বললে বোঝাই যাবে না কথায় কোন টান আছে। তবে যখন ওরা নিজেদের রিলেটিভদের সাথে কথা বলে তখন বোঝা যায় ওরা বিহারী। ওদের কথার মধ্যে যে একটা টান আছে সেটা বোঝা যায় যখন ওরা নিজেদের রিলেটিভ দের সাথে কথা বলে। যাইহোক, এতদিন বাঙালি কালচারের বিয়ে দেখে আমরা অভ্যস্ত ছিলাম। এই প্রথম আমার কোন বিহারী বিয়ে দেখার অভিজ্ঞতা হতে চলেছিল।
যার সাথে ওর বিয়ে ঠিক হয়েছিল সেও বিহারী। ওদের লাভ কম অ্যারেঞ্জ ম্যারেজ ছিল। তাই বিয়েতে আনন্দ হয়েছিল অনেক। হলদি, মেহেন্দি, বিয়ে----- সব অনুষ্ঠানগুলোতেই আমরা খুব মজা করে কাটিয়েছিলাম। বিয়ের ডেট ঠিক হওয়ার পরেই আমরা সব বান্ধবীরা বিভিন্ন রকম পরিকল্পনা করতে থাকি। কবে কোন শাড়ি পরবো, কীভাবে সাজবো---- এরকমই নানারকম পরিকল্পনা আমরা শুরু করে দিয়েছিলাম। আমাদের বাঙ্গালীদের মধ্যে যেমন বিয়ের দিন গায়ে হলুদ হয় এদের কিন্তু তেমনটা নয়। এদের বিয়ের দুই দিন গায়ে হলুদ হয়। গায়ে হলুদের দিনও আমরা অনেক মজা করেছিলাম। গায়ে হলুদের গল্প না হয় আপনাদের সাথে অন্য কোন পোস্টে শেয়ার করব। গায়ে হলুদের পরের দিন ছিল মেহেন্দির অনুষ্ঠান। চলুন তাহলে আপনার সাথে শেয়ার করি সেদিন আমরা কিভাবে মজা করে কাটিয়েছিলাম।
আগে থেকেই ঠিক করে রেখেছিলাম কোন দিন কোন ড্রেসটা পরবো। মেহেন্দি অনুষ্ঠানের জন্য আমি একটি লেহেঙ্গা পরেছিলাম, যেটা অনলাইন থেকেই কেনা হয়েছিল। অল্প দামের মধ্যে আমার এটা বেশ ভালই লেগেছিল। সন্ধ্যের আগে আগে রেডি হয়ে পৌঁছে গিয়েছিলাম বান্ধবীর বাড়ি। আমি সবার প্রথম পৌঁছেছিলাম। এরপর একে একে সমস্ত বান্ধবীরা এক জায়গায় হয়েছিলাম। মাধুরী বাড়িতে পৌঁছে দেখি সে তখন মেহেন্দি করতে বসেছে। বিহারীদের মধ্যে যেহেতু তু পায়েও মেহেন্দি পরার রীতি রয়েছে তাই ওর মেহেন্দি পড়তে বেশ অনেকটাই সময় লেগেছিল। দুই পা ও দুই হাত ভরে খুব সুন্দর করে মেহেন্দি পরেছিল। মেহেন্দি পরানোর জন্য দুজন মেহেদী আর্টিস্ট এসেছিল।
ও যখন মেহেন্দি পরতে ব্যস্ত ছিল তখন আমরা বাকি বান্ধবীরা ও মেহেন্দি পরা শুরু করেছিলাম। যে এরকম পারে, সেভাবে নিজেদের হাতে মেহেন্দি করছিল। দেখতে দেখতে সকলেই নিজেদের মতো করে অল্পস্বল্প মেহেন্দি করেছিলাম। তারপর আমরা সব বান্ধবীরা মিলে অনেক অনেক ফটো তুলেছিলাম, রিলস্ বানিয়েছিলাম।
সব মজার মাঝেও, মাঝে মাঝে আমার ভীষণ কষ্ট হচ্ছিল। যার সাথে এত সুখ-দুঃখের গল্প করতাম তার সাথে প্রতিদিন চাইলেও আর দেখা করতে পারবো না। এটা ভেবে খুব কষ্ট হচ্ছিল। প্রতিদিন যদিও দেখা-সাক্ষাৎ হতো না তবুও মন খারাপ করলে কিংবা খুব ডিপ্রেসড লাগলে পাঁচ মিনিটের দূরত্বেই পৌঁছে যেতাম ওদের বাড়ি। কিন্তু ও শ্বশুর বাড়ি বেশ খানিকটা দূরে হওয়ায় চাইলেও আমি যখন তখন ওর সাথে দেখা করতে পারব না। এই সবকিছু ভেবে কষ্টও হচ্ছিল। সত্যি কথা বলতে কান্নাও পেয়েছিল। গায়ে হলুদের দিন থেকে ও যেমন কাঁদছিল আমিও খুব কেঁদেছিলাম।
আমি তেমন বিশেষ নাচি না। মানে নাচতেও পারিনা। তবে এই বান্ধবীর বিয়েতে আমরা অনেক নেচে ছিলাম। যেহেতু ওখানে সবাই আমাদের চেনা পরিচিত ছিল তাই নাচতে একটুও লজ্জা করছিল না। আমরা সব বান্ধবীরা অনেক নেচে ছিলাম। সত্যিই দিনটা খুবই মজা করে আমরা কাটিয়ে ছিলাম। আমরা ততক্ষণ পর্যন্ত নেচেছিলাম যতক্ষণ না আমরা হাঁপিয়ে যাই। আর কোন বান্ধবী বিয়েতে এত আনন্দ করেছি বলে আমার মনে পড়ে না।
সবশেষে আমি নিজেরও অনেক অনেক ফটো তুলেছিলাম। দিনটা আমার কাছে খুবই আনন্দের এবং মজার ছিল। সাথে খানিকটা দুঃখও ছিল। অন্য কারোর বিয়েতে যেমন এত বেশি মজা হয়নি ঠিক তেমনি আর কারোর বিয়েতে আমি কখনো কান্না করিনি। তবে এই বান্ধবীটির বিয়েতে আমি খুব কান্নাও করেছি। আমি সব মিলিয়ে দিনটা মনে রাখার মতোই ছিল।
ফোনের গ্যালারি ঘাটতে ঘাটতে আজ হঠাৎই ছবিগুলো সামনে আসাই আপনাদের সাথে শেয়ার করলাম। আজ তাহলে এখানেই শেষ করছি। আগামীকাল আবার অন্য কোনো গল্প নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হব। সকলে ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন।
আপনার ফটোগ্রাফি এবং আপনার লেখা পড়েই বোঝা যাচ্ছে আপনি আপনার বান্ধবীর মেহেদী অনুষ্ঠানে কতটা আনন্দ করেছেন আসলে একটা বন্ধুত্বের সম্পর্ক এমন একটা সম্পর্ক যেটার মায়া আমরা সহজে কাটিয়ে উঠতে পারি না আমাদের যত ধরনের আনন্দ অনুষ্ঠান থাকুক না কেন বান্ধবীর বিয়ে কিংবা তার মেহেদী অনুষ্ঠানটা আমাদের জন্য অনেক বেশি স্পেশাল হয়ে থাকে বান্ধবীর বিয়ে তো হয়ে গেল এবার আপনার বিয়ে কবে সেটাই জানার অপেক্ষায় রইলাম ভালো থাকবেন।