Ring ceremony ( শেষ পর্ব)

in Incredible Indialast year

নমস্কার বন্ধুরা। আপনারা সকলে কেমন আছেন? আশা করছি আপনারা সকলে সুস্থ আছেন। গত দুইদিন শারীরিক অসুস্থতার কারণে আপনাদের সাথে কোনো কিছুই শেয়ার করা সম্ভব হয়নি। এই সিজন চেঞ্জের সময়ে প্রায়ই ঘরে ঘরে সর্দি-কাশি, জ্বর হয়। গত দুইদিন আমারও জ্বর থাকায় আপনাদের সাথে কিছু শেয়ার করার মতো শারীরিক অবস্থা ছিল না। তাই আজ আবারো চলে এসেছি আপনাদের সাথে আমার রিং সেরেমনির শেষ পর্ব নিয়ে। বহুদিন যাবৎ একটি টপিক নিয়েই আপনাদের সাথে গল্প করছি তাকে আপনারা খানিকটা বোর হচ্ছেন হয়তো তবে আমার জীবনের একটি বিশেষ দিনের স্মরণীয় মুহূর্তগুলো আমি দু একটি পোস্টের মাধ্যমে শেষ করতেই পারছি না। তবে আজ ঠিক করে নিয়েছি এইটাই হবে আমার এই টপিকের শেষ পোস্ট। চলুন তাহলে সেই দিনের বাকি ঘটনাগুলো আপনাদের সাথে শেয়ার করি।

1000157313.jpg

আজকে বাকি শেয়ার করার আগে আমি আপনাদের সাথে দুজন মানুষকে পরিচয় করিয়ে দিই। এরা হলো আমার দুই স্টুডেন্ট। প্রায় ছয় বছর ধরে আমি ওদেরকে পড়াচ্ছি। তাই এই ছয় বছরে ওদের সাথে আমার একটা দারুণ বন্ডিং তৈরি হয়ে গেছে। ওরা আমাকে ভীষণ ভালোবাসে। শুধু ওরা নয় ওদের বাবা-মাও আমাকে ভীষণ ভালোবাসে। ওদের মা দুপুরবেলা আশীর্বাদে সময়ে কিন্তু এসেছিল। আর ওরা তখন আসতে পারেনি কারণ ওদের তখন স্কুল ছিল। ওরা দুজনেই স্কুল যেতে খুব ভালোবাসে, শরীর অসুস্থ হওয়া ছাড়া ওরা কিন্তু কোনদিন স্কুল কামাই করে না। তাই আমি কাকিকে রিকুয়েস্ট করেছিলাম যাতে স্কুল ছুটির পরে ওদেরকে একবার নিয়ে আসে। তাই কাকি ওদেরকে সন্ধ্যেবেলায় নিয়ে এসেছিল। খুবই আশ্চর্যজনকভাবে দেখলাম ওরা আমাকে দেখামাত্রই কান্না শুরু করে দিয়েছিল। ওরা ভেবেছিল আমার বিয়ে হয়ে যাচ্ছে আর আমি ওদের আর পড়াতে যাবো না। এটা আমার কাছে পুরোপুরি আনএক্সপেক্টেড ছিল। ওদের কান্না দেখেই বুঝতে পেরেছি ওরা আমাকে কতটা ভালোবাসে। যাইহোক ওদের অনেক আদর করে বুঝিয়ে বলা হল যে আমার এখন বিয়ে হচ্ছে না, আর আমি ওদের পড়ানো ছাড়ছি না। তারপর দুজনে কান্না থামিয়ে একটু হাসলো।

1000157275.jpg

আগের দিন তো আপনাদের সাথে আমাদের রিং প্ল্যাটার ও কেক সম্পর্কে অনেক তথ্যই দিয়েছিলাম। তাই কেক কাটিং পর্ব থেকে আপনাদের সাথে একেবারে শেয়ার করি। শেষের দিকে আমাদের কিছু বন্ধুবান্ধব আর ওদের ক্লোজ কিছু আত্মীয় ছাড়া বাকি সকলে চলে গিয়েছিল। তারপর শুরু হল কেক কাটিং পর্ব। এই কেক কাটিং পর্বতেই বেশ অনেকটা সময় লেগে গিয়েছিল কারণ ফটোগ্রাফার দাদারা ভালোভাবে শট নেওয়ার জন্য আমাদের বিভিন্ন রকম ভাবে ইনস্ট্রাকশন দিচ্ছিল। সেগুলো ফলো করেই আমরা আমাদেরকে কাটিং পর্ব শেষ করেছিলাম। আসলে আমি বিশ্বাস করি এই মুহূর্তগুলোকে আমরা চাইলেও আর কখনোই ফিরে পাবো না তাই যদি সুন্দর সুন্দর ফটো কিংবা ভিডিও করে রাখা যায় তাহলে পরবর্তীকালে সেগুলো দেখে অন্তত সেই দিনটাকে বা সেই মুহূর্তটাকে স্মরণ করা যাবে।

1000155745.jpg
এরপর এলো সেই বহু অপেক্ষিত মুহূর্ত। অবশেষে রিং এক্সচেঞ্জ পর্ব শুরু হলো। ইতিমধ্যে মুহূর্তটাকে আরো বেশি স্মরণীয় করে তোলার জন্য আমাদের এক বন্ধু স্পিকারে গান চালিয়েছিল,
"Main Aagar Kahoon Tumsa Haseen

Kaynaat Mein Nai Hai Kahin

Tareef Yeh Bhi To Sach Hai Kuch Bhi Nahi"

সত্যি কথা বলতে গেলে গানটা চালানো মাত্রই পরিবেশ টা যেন অন্যরকম হয়ে উঠলো। এ অনুভূতি সত্যিই অন্যরকম। বন্ধু বান্ধবেরা হৈ-হুল্লোর করতে লাগলো। সে এক অন্যরকম পরিবেশ হয়ে উঠল। আমরা দুজনেই একটু লাজুক স্বভাবের, তাই রিং এক্সচেঞ্জ এর সময় ও যে ঐভাবে বসে আমাকে রিং পরাবে এটা সকলের কাছেই আন-এক্সপেকটেড ছিল।

1000155775.jpg

যাইহোক, এই রিং এক্সচেঞ্জ এর পর সকলকে কেক দেওয়া হয়েছিল। এবং এরপর বন্ধুবান্ধবরা সবাই চলে গিয়েছিল। সেই সাথে আমাদের আত্মীয়-স্বজনরাও সবাই এক এক করে লজ থেকে বেরিয়ে গিয়েছিল বাড়ি যাওয়ার উদ্দেশ্যে। লজে তখন আমাদের ফ্যামিলির লোকজন ছাড়া আর কেউই ছিল না। তাই সারাদিনের দৌড় -ঝাপের মধ্যে ফ্যামিলির মানুষদের সাথে সেভাবে ফটো তোলা হয়নি। তাই বাড়ি যাওয়ার আগে সকলের সাথে কিছু ফটো তুলে নিয়েছিলাম।

1000157277.jpg

এরপর লজে আমি, শুভায়ন, দাদা আর বাকি দুই ক্যামেরাম্যান দাদা ছাড়া আর কেউই ছিল না। এখনকার দিনে বিভিন্ন ধরনের রিলস ফেসবুক কিংবা ইনস্টাগ্রাম করলেই দেখতে পাওয়া যায়। তাই আমারও ইচ্ছে ছিল সেই রকমই একটা রিলস বানানোর। তাই সেই রিলস বানানোর জন্য যা যা উপকরণের প্রয়োজন হয়, আমি সবই জোগাড় করে রেখেছিলাম। এরপর ক্যামেরাম্যান instruction অনুযায়ী ভিডিওটা বানাচ্ছিলাম ‌। শেষমেশ ভিডিওটা কিন্তু বেশ ভালোই হয়েছিল।

1000157291.jpg

লোকজনের মাঝে আমাদের সেইভাবে ডুয়েট ছবি তোলা হয়নি। আর শ্বশুর বাড়ির সব নতুন মানুষদের মাঝে সেইভাবে ডুয়েট ছবি তুলতে একটু লজ্জাবোধ করছিলাম তাই সবাই চলে যাওয়ার পর আমাদের বেশ কিছু ডুয়েট ছবি তোলা হয়েছিল। যেহেতু অ্যালবাম তৈরি করতে হতে পারে তাই তার মধ্যে কিছু ডুয়েট ফটো দিতে হবে, সেজন্য দাদা কতগুলো ডুয়েট ফটো তুলে নিয়েছিল।

1000157269.jpg

এরপর আমরা সমস্ত জিনিসপত্র ভালোভাবে গুছিয়ে নিয়ে বাড়ি চলে গিয়েছিলাম। এভাবেই আমরা আমাদের এই দিনটাকে সুন্দরভাবে সেলিব্রেট করেছিলাম। আপনাদের কেমন লাগলো অবশ্যই জানাবেন। আর তাহলে এখানেই শেষ করছি। আগামীকাল আবার অন্য কোন লেখা নেই আপনাদের সামনে হাজির হব। সকল ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন।

Sort:  
Loading...
 last year 

একটা মানুষের সাথে চলতে চলতে তার প্রতি ভালোবাসা সব কিছুই জন্ম হয় আপনার স্টুডেন্টদের প্রতি আপনার যেমন ভালোবাসা আছে আপনার প্রতি তাদেরও ভালোবাসা আছে তারা হয়তো বা আপনাকে দেখে মনে করেছিল আপনার বিয়ে হয়ে যাচ্ছে আপনার সাথে তাদের আর কখনো দেখা হবে না।

তবে পরবর্তী সময়ে আপনি তাদেরকে বুঝিয়ে বলেছেন এখন বিয়ে না শুধুমাত্র এংগেজমেন্ট হচ্ছে আপনি তাদের সাথে আবার যুক্ত হতে পারবেন সেই সাথে আপনারা অনেক সুন্দর কিছু মুহূর্ত পার করেছেন এংগেজমেন্টের দিন ধরে রাখার জন্য আপনারা বেশ কিছু ফটোগ্রাফিক এর সাথে অনেক ধরনের অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছেন অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাদের এনগেজমেন্টের আনন্দঘন মুহূর্তগুলো আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য ভালো থাকবেন।

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.33
JST 0.105
BTC 64599.23
ETH 1911.76
USDT 1.00
SBD 0.37