মুচমুচে বকফুলের পাকোড়া তৈরীর সহজ রেসিপি
Hello,
Everyone,
আশা করি সকলে ভাল আছেন এবং সুস্থ আছেন । কিছুদিন থেকে নিম্নচাপ হওয়ার কারণে বৃষ্টি আর থামছেই না । বৃষ্টি ভালো লাগে কিন্তু অতিরিক্ত বৃষ্টি একদমই ভালো লাগেনা । আর কিছুদিন পরে আমাদের দুর্গা উৎসব তাই বাসাতে অনেক কাজ আছে। বৃষ্টির জন্য কাজগুলো করতে উঠতে পারছি না।
আপনাদের সাথে এমন একটি রেসিপি শেয়ার করব যা আমি কখনো এর আগে করিনি ,এই প্রথম করেছি, এমনকি আমি জানতাম না এই ফুলটি এভাবে খাওয়া যায় এবং একটি অনেক সুস্বাদু । খুব কম সময়ে এটি তৈরি করা যায়। সন্ধ্যেবেলা চায়ের সাথে খুব ভালো লাগে।
সন্ধ্যাবেলা হঠাৎ আমার হাজব্যান্ড অর্ধ বৃষ্টিভেজা শরীরের বাসায় আসলেন এবং আমার হাতে এক ব্যাগ ফুল ধরিয়ে দিলেন। আমি প্রথমে ভেবেছিলাম এটা আবার কি ফুল? দেখতে পলাশ ফুলের মত কিন্তু পলাশ ফুল তো লাল হয়ে থাকে আর এটি সাদা ফুল। ভাবছি হয়তোবা , এই বৃষ্টির দিনে তার আবার ভালোবাসা জানালাতে উঁকি মারছে তাই তো ফুল নিয়ে এসেছে। যখনই তিনি বললেন, তাড়াতাড়ি পাকোড়া করে দাও, চায়ের সাথে খাবো।
আমি শুনে তো অবাক, ভালোবাসা কি আবার পকোড়া হয়ে গেল? আমি প্রথমে ভাবতে পারছিলাম না এটা দিয়ে কিভাবে পাকড়ো তৈরি করব। বরিশাল অঞ্চলে বলা হয় বকফুল , অন্যান্য অঞ্চলে কি নামে পরিচিত তা আমার জানা নেই । অবশ্য তার কাছ থেকে আমি শুনেনিলাম কিভাবে তৈরি করতে হয়।
এখনো কি আর করা ভালবাসার ফুল দিয়ে পাকোড়া তৈরি করে দিচ্ছি তাকে। বললেন বেসন দিয়ে ভাজতে হবে কিন্তু বাসায় বেসন ছিল । বাসায় ছোলা বুটের ডাল ছিল ।ডালগুলো ব্যালেন্ডারে দিয়ে গুড়ো করে ভাসন বানিয়ে নিলাম । চলুন ভালোবাসার ফুল দিযে মুচমুচে বকফুলের পাকোড়া তৈরী করি।
প্রয়োজনীয় উপকরণ:
| ১ | বেসন | এক কাপ | |
|---|---|---|---|
| ২ | চালের গুড়া | এক কাপ | |
| ৩ | শুকনো মরিচের গুঁড়া | এক চামচ | |
| ৪ | কালোজিরা | সামান্য | |
| ৫ | লবণ | পরিমান মত | |
| ৬ | চিনি | সামান্য | |
| ৭ | পানি | পরিমাণ মতো |
ধাপ ১ |
|---|
ফুল গুলো ৫ মিনিট পানিতে ভিজিয়ে রাখলাম এবং ভালো করে ফুলগুলো ধুয়ে পানি ঝরিয়ে নিলাম । ফুলের মাঝের মোটা রেনুটি ফেলে দেব। আমি বোটার সবুজ অংশ ফেলে দেব না কারণ এটি দেখতে অনেক সুন্দর লাগে তাই এটা রেখে দিলাম না।
ধাপ ২ |
|---|
অন্য একটি পাত্রে পানি ছাড়া শুকনো সকল উপকরণ গুলো একসাথে মিশিয়ে নিলাম এবং অল্প অল্প পানি দিয়ে ভালো করে মিশিয়ে নিতে হবে ।লক্ষ্য রাখতে হবে যেন কোন দলা বেঁধে না থাকে। এই ব্যাটারটা একদম পাতলা বা একদম ঘন হবে না। আমরা যেভাবে বেগুনের জন্য বেটার তৈরি করি সেভাবে করতে হবে।
ধাপ ৩ |
|---|
এবার কড়াইতে ডুবুতেলে ভাজার পরিমাণ মত তেল দিয়ে দিলাম ।তেল গরম হলে সেখান থেকে এক চামচ গরম তেল ব্যাটারের ভিতরে দিয়ে দিলাম এবং ভালো করে নেড়ে নিলাম । তাতে পাকোড়া আরও মুচমুচে হবে ।এবার একটা ফুল ব্যাটারে চুবিয়ে নিলাম আর গরম তেলে ছেড়ে দিলাম ।লক্ষ্য রাখতে হবে যেন চুলার জাল অতিরিক্ত না জ্বলে কিংবা একদম কম না জলে । মাঝারি জালে সমস্ত পাকড়োগুলো ভেজে নিতে হবে তাহলে পকরাগুলো খুব মুচমুচে হবে।
ধাপ ৪ |
|---|
পকোড়া গুলো যখন হালকা বাদামী রঙ চলে আসবে তখন নামিয়ে নেব। আর হয়ে গেল আমার মজাদার বকফুলের মুচমুচে পকোড়া এর সাথে আরো স্বাদ বাড়াতে কিছু কাঁচামরিচ এই ব্যাটারে চুবিয়ে ভেজে নিলাম । এবার গরম গরম এক কাপ চা সাথে মুরি ,মরিচ ও বকফুলের পকোড়া দিয়ে খেতে সত্যি দারুন লাগে।
আমার মনে হয় এটা অনেকেই খেয়েছেন তবে যারা এখনো এটা খেয়ে দেখেননি তারা এভাবে তৈরি করে খেতে পারেন । এই বৃষ্টির দিনে আপনাদের ভালোবাসাটা আরো রোমান্টিক হয়ে উঠবে । আজ এখানে বিদায় নিচ্ছি ভালো থাকুন ও সুস্থ থাকুন।
ও আরেকটি কথা বলতে ভুলে গেলাম, আগামীকাল রোজ সোমবার ৭ তারিখে দুই বাংলা সাহিত্য নিকেতন কর্তৃক আয়োজনে আধুনিক বাংলা গানের সংগীত সন্ধ্যা রূপ রূপান্তরের (@Sahitya Niketon Studio)পক্ষ থেকে আমার মামনিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে তাই কালকে সন্ধ্যায় মামনি আধুনিক গান নিয়ে লাইভে থাকবে। বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৮:০০টা এবং কলকাতার সময় সন্ধ্যা ৭:৩০ মিনিট। এই লাইভে যুক্ত হওয়ার জন্য সকলকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।
| ছবিটি স্ক্রীনশট দিয়ে নেওয়া |
| Device | Description |
|---|---|
| Smartphone | oppo |
| Smartphone Model | oppo A83(2018) |
| Photographer | @muktaseo |
আগে ছোটবেলায় বক ফুলের পাকোড়া খেতাম। কিন্তু এখনতো আর চোখে পরে না। আপনার লেখা দেখে ছোটবেলার কথা মনে পরে গেল।ধন্যবাদ আপনাকে।
আপনার মেয়ের জন্য শুভেচ্ছা রইলো। অনেক এগিয়ে যাক ও একজন ভালো মানুষ হোক এই কামনা করি।