মাটির পাতিল, বাদাম আর স্মৃতিময় এক ভর্তা। সহজ উপায়ে ঘরোয়া বাদাম ভর্তা রেসিপি
কিছু খাবার থাকে যেগুলোর স্বাদ শুধু মুখে নয়, থেকে যায় মনের গহীনে। ঠিক তেমনই এক জাদুকরী স্বাদের নাম বাদাম ভর্তা। এটি খুব সাধারণ একটি খাবার হলেও এর ঘ্রাণ, স্বাদ যেকোনো বাঙালির জন্য স্মৃতির জানালায় ফিরিয়ে নিয়ে যায়।
সাম্প্রতিক এক ছুটির বিকেলে যখন আকাশে রোদ ঝিমিয়ে পড়ছিল, ঠিক তখনই ভাবলাম, আজ একটা ভিন্ন কিছু করিই। রান্নাঘরের কোণায় রাখা বাদামের বোতলটা চোখে পড়তেই মনে হলো, ছোটবেলায় নানির হাতে খাওয়ার সেই বাদাম ভর্তার স্বাদ অনেক দিন আর জিভে লাগেনি।
তাই আর দেরি না করে ঝটপট নেমে পড়লাম রান্নায়।
| উপকরণ | পরিমাণ |
|---|---|
| কাঁচা বাদাম | ১ কাপ |
| পেঁয়াজ কুচি | ২টি (মাঝারি) |
| রসুন | ৩-৪ কোয়া |
| শুকনা/কাঁচা মরিচ | ৪-৫টি (স্বাদমতো) |
| সরিষার তেল | ২ চামচ (আরও একটু হাতে দেওয়ার জন্য) |
| লবণ | স্বাদমতো |
ধাপে ধাপে প্রস্তুত প্রণালী
১. বাদামের খোসা ছাড়ানো ও মাটির পাতিলে ভাজা
প্রথমেই বাদামের খোসা ছাড়িয়ে নিলাম। তারপর একটি মাটির পাতিল বের করে সেখানে বাদামগুলো শুকনোভাবে ভেজে নিলাম।
মাটির পাত্রে রান্নার একটা আলাদা মজা আছে এতে বাদামের গায়ে যে হালকা পোড়া ঘ্রাণ তৈরি হয়, তা নানাভাবে স্মৃতিতে নাড়া দেয়। ভাজা বাদামগুলো যতক্ষণ না হালকা সোনালি রঙ নেয়, ততক্ষণ ধৈর্য ধরে নাড়াচাড়া করতে হয়।
2. পেয়াজ, মরিচ আর রসুন ভাজা
এবার একটা ছোট ফ্রাইপ্যানে সরিষার তেল গরম করলাম। এতে পেঁয়াজ কুচি, মরিচ আর রসুন দিয়ে মাঝারি আঁচে ভাজতে লাগলাম।
রং হালকা বাদামি হয়ে এলেই বুঝে নিলাম এটা এখন বাদামের সাথে মিশে এক অনন্য স্বাদ তৈরি করবে।
৩ . ঠান্ডা করে ব্লেন্ড করা
ভাজা বাদামগুলো ঠান্ডা হলে একটি ব্লেন্ডারে দিয়ে ভালোভাবে ব্লেন্ড করলাম। এখানে একটা টিপস একেবারেই কোনো পানি বা তেল দিবে না। কারণ দিলে ব্লেন্ডার জ্যাম বেধে যায় আর ঠিকমতো পেস্ট হয় না।কিছুক্ষণ ব্লেন্ড করতেই বাদামগুলো থেকে প্রাকৃতিক তেল বের হয়ে সুন্দর একটা ক্রীমি texture তৈরি হয়।
৪. সব উপকরণ একত্র করে ভর্তা বানানো
এখন ব্লেন্ড করা বাদাম এর উপর ভাজা পেয়াজ,মরিচ,রসুন দিয়ে দিলাম। এবার ৩০ সেকেন্ড আবার ব্লেন্ড করে নিলাম। এবার হাত দিয়ে সুন্দর করে চটকে নিয়ে মিশ্রণটা একদম মোলায়েম করে ফেললাম। লবণটা তখনই চেখে দেখে মেপে নিলাম।
৫. গোলাকার শেইপ দিয়ে পরিবেশন
সবশেষে একটুখানি সরিষার তেল হাতে মেখে, মিশ্রণটা দিয়ে গোল গোল শেইপ করে নিলাম। এই উপায়ে পরিবেশন করলে দেখতে যেমন সুন্দর লাগে, খেতেও যেন আরও মজাদার লাগে।
পরিবেশন
এই বাদাম ভর্তা যদি গরম ভাতের সাথে খাওয়া হয়, তাহলে যে কোনো সাধারণ খাবারও হয়ে ওঠে বিশেষ। পাশে যদি থাকে একটা কাঁচা মরিচ আর একফালি লেবু তাহলে তো কথাই নেই! চাইলে আলুভর্তা বা ডাল ভাতের সাথেও মিলিয়ে খেতে পারেন।
হয়তো ছবি গুলো দেখে মনে প্রশ্ন আস্তে পারে, একটা গোল্লার রঙ আলাদা কেন? আসলে ওটা মেহেকের জন্য, সে ঝাল খেতে পারেনা, তাই ওর ভরতা ঝাল ছাড়া, এই কারণেই রঙ টা হাল্কা।
রান্না কখনো কখনো শুধু রান্না থাকে না। তা হয়ে ওঠে একটা অনুভূতি, একটা স্মৃতি। এই বাদাম ভর্তা তৈরির সময় আমার যেমন একটা পুরনো দিনের ঘ্রাণ লেগে ছিলো পুরো সন্ধ্যায়, তেমনই আপ্নারাও চাইলে সহজ উপায়ে এই রেসিপিটা ট্রাই করে দেখতে পারেন।