প্রথমবার বরিশাল ভ্রমণের অভিজ্ঞতা। পর্ব-১
ভ্রমণ মানুষের মনকে প্রফুল্ল করে। একটানা দীর্ঘদিন কাজের কারণে মানুষ অনেক সময় হাপিয়ে ঊঠে , তখন প্রয়োজন পরে ভ্রমণের। একটা সময় ছিল যখন মাসে অন্তত একবার দূরে কোথাও ঘুরতে যেতাম। ফটোগ্রাফি করতে যারা ভালোবাসে তারা দেখবেন ঘুরতেও ভালোবাসে। কেননা ঘুরতে গিয়ে অনেক নতুন জিনিসের সন্ধান পাওয়া যায়, সেগুলোকে ক্যামেরাবন্দী করাটা একটা নেশা। আমারো সেই নেশা আছে। আগে বেশি ছিল, তবে সময়ের ব্যাবধানে ব্যস্ততা অনেক বেড়ে গিয়েছে, তাই আগের মত আর ঘুরতে যাওয়া হয়ে ঊঠে না।
তবে অনেকদিন পর মন চাইলো অজানা গন্তব্য ঘুরে আসতে। মোটামুটি সব বিভাগীয় শহরে যাওয়া হলেও বাকি ছিল কেবল বরিশাল বিভাগ। অবশেষে গত শনিবার সুযোগ হলো বরিশাল ঘুরে আসার। আজকে সেই অভিজ্ঞতাই আপনাদের সাথে শেয়ার করবো। আর বরিশাল ভ্রমণকে আমি ২ টি পর্বে ধারাবাহিক ভাবে আপনাদের সামনে উপস্থাপন করবো। আজকে তার প্রথম পর্ব।
গত শনিবার আমি, আমার ভাই ও ভাগ্নে একটা গাড়ি ঠিক করে বরিশালের উদ্দেশ্যে রওনা হই সকাল ৮ টা ৩০ মিনিটে। শনিবার ছুটির দিন থাকায় ঢাকা শহরে তেমন জ্যাম নেই। আমরা শাহবাগ হয়ে চানখারপুলে গিয়ে হানিফ ফ্লাইওভারে ঊঠলাম। এই ফ্লাইওভার গিয়ে যাত্রাবারিতে নেমেছে। অনেকদিন এই পথা না আসায় কেমন অচেনা লাগছিল।
শনিড় আখড়া হয়ে এক্সপ্রেসওয়ে দিয়ে খুব অল্প সময়েই আমরা মাওয়া এসে পোঁছালাম । খুব ই সুন্দর রাস্তা, কোথাও কোন জ্যাম নেই, গাড়ি গুলো যে যার মত ছুটছে। মাওয়া থেকে যখন পদ্মাসেতুর উপর ঊঠলাম, তখন অন্যরকম একটা অনুভূতি হলো। এর আগে একবার এই মাওয়া দিয়ে জাজিরা গিয়েছিলাম, তবে সেটা বছর দশেক আগে, তখন এই সেতু হয় নি, স্পীডবটে করে নদী পার হতে ২০ মিনিট লাগতো। সেতু দিয়ে এই নদী পার হতে আরো কম সময় লাগলো। মাত্র ১০ মিনিটেই পদ্মা সেতু পার হয়েগেলাম।
পদ্মা পার হয়ে ভাংগা এক্সপ্রেসওয়েতে গাড়ি ছুটলো তখন মনে হতে লাগলো আমি মনে হয় বাংলাদেশে নেই। খুব দ্রুতই আমরা কালকিনি পার হয়ে গেলাম। সেখানে একটা পেট্রোল পাম্পে গাড়ি দাড় করিয়ে পেট্রোল নেয়া হলো, এই সুযোগে আমরা ফ্রেশ হয়ে হালকা নাস্তা করে নিলাম।
আবারো গাড়ি ছুটলো , ১২ টা বাজার পরপর ই আমরা বরিশাল ডিআইজির কার্যালয়ে চলে গেলাম, সেখানে একজন পরিচিত ভাই ছিল তার সাথে সাক্ষাত করে আমরা পুরো এলাকাটা ঘুরে দেখলাম। মনেই হবেনা এটা একটা অফিস, মনে হচ্ছে কোন বাংলো, চারিদিকে গাছপালায় ঘেরা, চমৎকার মনোরম পরিবেশ।
সেখান থেকে বিদায় নিয়ে আমাদের গাড়ি ছুটলো বরিশাল শহরের সাগরদিতে অবস্থিত কারিতাসের আঞ্চলিক কার্যালয়ের দিকে। আমরা ২ টা নাগাদ সেখানে পৌছে গেলাম। কারিতাসের রেস্ট হাউজে আমাদের রুম বুকিং করা ছিল।
কারিতাসের ভেতরটাও অনেক সুন্দর গোছানো। কেউ বরিশাল ঘুরতে গেলে এখানে সময় কাটানোর সুযোগ আছে। নন এসি রুমের সিংগেল রুমের ভাড়া ৬০০ টাকা আর এসি রুম ১২০০ টাকা।
আমরা কারীতাস এর চার পাশ ঘুরে দেখলাম। এটি একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান। একদম নীচতলায় মাদার তেরেসার একটা ম্যুরাল রয়েছে। সাধারণত মিশনে আসা মানুষদের এটি ট্রেনিং সেন্টার হিসেবে পরিচিত।
আমরা কারিতাসে বসে অভ্যর্থনা রুমে একজনকে পেলাম, উনি আমাদের বরিশাল সম্পর্কে বেশ কিছু তথ্য দিলেন। উনার ভাষ্যমতে অনেক আগে বরিশালে অনেক বড় বড় শাল গাছ ছিল, এরই কারণে এই অঞ্চলের নাম বরিশাল। তবে আমার কাছে এই তথ্যটা তেমন মনোপুত হয় নি তাই ইন্টারনেট ঘেটে দেখলাম, সত্যি এটা একটা কারণ, তবে বরিশাল নামকরনে আরো কিছু কথা প্রচলিত রয়েছে।
কেউ কেউ বলেন পর্তুগীজ শাসন আমলে বরিশালে বড় বড় লবণের চাকতি উৎপাদন হতো, যেগুলোকে পর্তুগীজ বনীকররা বরিসল্ট বলতো। এখান থেকে এই শহরের নাম বরিশাল হয়েছে।
আমরা দুপুরের লাঞ্চ করতে চলে গেলাম রুপাতলি বাসস্ট্যান্ডে। সেখানের হুমাহুম রেস্টুরেন্টে ইলিশ আর ৫ রকমের ভর্তা দিয়ে পেট ভরে ভাত খেলাম।
আমি আজকের পর্ব আর দীর্ঘ করবো না। আগামি পর্বে বাকি বরিশাল ঘুরে দেখাবো। আজকের মত বিদায়।
THE QUEST TEAM has supported your post. We support quality posts, good comments anywhere, and any tags
অনেক অনেক ধন্যবাদ প্রিয় ম্যাম, এভাবে আমাকে সাপোর্ট দেয়ার জন্য।