এই শীতে খুব সহজে বানিয়ে ফেলুন মজাদার দুধ চিতই পিঠা
সবাইকে সালাম ও শুভেচ্ছা জানিয়ে আমি আমার আজকের রেসিপি পোস্ট শুরু করছি
আসসালামু আলাইকুম, শীতকাল মানেই যেন খেজুরের রস আর রসের তৈরি নানা পিঠাপুলি। এইতো গতকাল কমিউনিটির হ্যাংআউট এর প্রধান বিষয়বস্তু ছিল শীতে কার কি খাবার পছন্দ। বেশির ভাগই মিষ্টি খাবারের তালিকায় খেজুরের রসের তৈরি মিষ্টান্নকে বেছে নিয়েছিল। আমিও ব্যতিক্রম নই।
ঢাকায় থাকলেও প্রতিবছর কিছু আসুক না আসুক, শশুর বাড়ি থেকে ঠিক খেজুরের গুড় চলে আসে আমার বাসায়। এবছরেও চলে এসেছে। আর সেই খেজুরের রসে ভেজানো দুধ চিতই যে কত মজার তা না খেলে বোঝানো সম্ভব নয়। আজকে খেজুরের গুড় ও দুধে ভেজানো দুধ চিতই এর রেসিপি নিয়ে চলে এসেছি। রেসিপি পোস্ট পড়ার আগে একটা বিষয় জানিয়ে রাখি- **পিঠা বানিয়ে খেয়ে হজম করাও হয়ে গিয়েছে, তাই অযথা লোভ করবেন না, রেসিপি ফলো করে বানিয়ে খাবার অনুরোধ থাকলো।
বরাবরের মত মূল রান্নায় যাবার আগে প্রধান উপকরণ গুলো জেনে আসা যাক
প্রয়োজনীয় উপকরণ :
| উপকরণ | পরিমাণ |
|---|---|
| চালের গুড়া | ২-৩ কাপ |
| গরুর দুধ | ১/২ কেজি |
| খেজুর গুড় | ২ কাপ |
| নারিকেল কুড়া | ১ কাপ |
| লবণ | পরিমাণমতো |
| গরম পানি | ১ কাপ |
| গুড়ো দুধ | ২ টেবিল চামচ |
রান্নার পদ্ধতি :
ধাপ - ১ :
আমি প্রথমেই দুধ চিতই এর জন্যে দুধ মালাই বানিয়ে নিবো। এর জন্যে প্রথমে গরুর খাটি দুধ আগুনে জ্বাল দিয়ে ঘন করে নিবো। দুধের মধ্যে খেজুর গুড়, হালকা লবণ যোগ করবো। দুধ একটু ঘন হয়ে আসলে গুড়া দুধ দিয়ে ভালো ভাবে জ্বাল করে নিবো।
ধাপ - ২ :
এখন চিতই পিঠা বানানোর পালা। প্রথমেই চালের গুড়ো একটি পাত্রে নিয়ে নিলাম। এখন একটু পানি মিশিয়ে চালের আটা গুলোকে একটা মন্ডার মত বানিয়ে নিবো।
ধাপ - ৩ :
এখন একটি পাতিলে পানি ফুটিয়ে নিবো।
এই ফুটানো পানি চালের গুড়ির মধ্যে দিয়ে ভালোভাবে মিক্সড করে নিতে হবে। পানি অল্প অল্প করে দিবেন না হলে, দ্রবণ পাতলা হয়ে যেতে পারে।
আমার মেয়ে কোথা থেকে এসে আটা গুলানোর কাজে ব্যস্ত হয়ে গেলো। সে ভালো ভাবেই মিক্সড করছিলো।
ধাপ - ৪ :
এখন চিতই ভাজার জন্যে মাটির তাওয়া গরম করে নিলাম। আমি ছোট চিতই বানাবো, মিস্টি সাইজের। মাটির এই প্লেটটিতে একসাথে ৭ টা চিতই ভাজা যায়। এটা গ্রাম থেকে নিয়ে এসেছি। এখন একটি চামচে করে আটার দ্রবণ চিতই বানানোর ফর্মাতে দিয়ে দিলাম।
ধাপ - ৫ :
এখন একটি ঢাকনা দিয়ে ২ মিনিট বসিয়ে রাখবো। ২ মিনিট পর ঢাকনা খুলে যদি দেখেন পিঠার গায়ে অসংখ্য ছিদ্র তাহলে বুঝবেন চিতই হয়ে গেছে। তখন সব গুলো তুলে নিতে হবে।
ধাপ - ৬ :
এই ধাপে এসে প্রথমে বানানো দুধের ঘণ মালাই এর মধ্যে ভাজা চিতই গুলো ডুবিয়ে দিবো।
শেষ ধাপ :
এখন একরাত এভাবেই চিতই গুলো দুধে ভিজিয়ে রাখতে হবে। পরের দিন এর উপর নারিকেল কুচি গুলো ছিটিয়ে দিয়ে পরিবেশন করতে পারবেন মজাদার দুধ চিতই পিঠা। সারা রাত ধরে ভিজে চিতই গুলো একদম রসে টলোমল হবে, মুখে দিলেই মনে হবে যেন রসগোল্লা।
পোস্ট বিবরণ
| শ্রেণী | রেসিপি |
|---|---|
| ডিভাইস | Samsung M31 |
| ফটোগ্রাফার | @mukitsalafi |
| লোকেশন | Dhaka |
শীতের পিঠাপুলিতে দুধ চিতই না থাকলে যেন জমে না। ঠান্ডা ঠান্ডা এই পিঠা খেতে খুব ই মজার, আর পিঠার নিচে পড়ে থাকা রস সে যেন অমৃত। আশা করি এখন নিজেরাই বানিয়ে ফেলতে পারবেন। যাদের বাসায় খেজুরের রস আছে তারা রস দিয়ে বানাবেন, কেননা গুড়ের থেকে রসে ভেজানো পিঠা বেশি সুস্বাদু হয়।
দুধ চিতই রান্নার পদ্ধতিটা আপনি খুব সুন্দরভাবে উপস্থাপন করেছেন। সত্যি বলতে রান্নার ব্যাপারে আমি খুব কাচা।। আপনার রেসিপিটা পড়ে ভালো লাগলো। ধন্যবাদ আপনাকে।
ভাই, আপ্নাকেও ধন্যবাদ, আমার রেসিপি পড়ে সুন্দর মতামতের জন্য। ভালো থাকবেন।
ভালো কিছু দেখতে তো মন্তব্য করা উচিত। ভালো থাকবেন।
Twitter promotional link
https://twitter.com/Mukit_Salafi/status/1745362484662514075?t=482vUp5vMTb3WKdHWAdiWQ&s=19
গরম গরম চিতই পিঠা আমি সব সময় খুব পছন্দ করি। চিতই পিঠা কিন্তু ভর্তা দিয়ে খেতে খুব ভালো লাগে। আর আপনার চিতই পিঠার রেসিপিটি দেখে সত্যিই আবার লোভ সামলাতে পারছিনা।শীতের দিনে অসাধারণ একটি রেসিপি পিঠা নিয়ে আমাদের সাথে হাজির হলেন থ্যাঙ্ক ইউ।
গরম চিতই আর ধনিয়া বা শুটকি ভরতা অসম্ভব মজার। তবে আজকে আমি ঠান্ডা চিতই এর রেসিপি দিয়েছি। ধন্যবাদ আপু।
আপনি আজকে আমাদের মাঝে মজাদার দুধ চিতই পিঠা রেসিপি শেয়ার করেছেন ৷ আসলে দুধ চিতই পিঠা অনেক দিন ধরে খাওয়া হয় না আর এই দুধ চিতই পিঠা খেতে অনেক টেষ্ট লাগে ৷
তারপর আপনি শেয়ার করেছেন কিভাবে তৈরি করতে হয় দুধ চিতই পিঠা সেই সব বিষয়বস্তু গুলো বেশ সুন্দর ভাবে তুলে ধরেছেন ৷
যাই হোক ধন্যবাদ আপনাকে এত সুন্দর একটি রেসিপি আমাদের মাঝে উপহার দেওয়ার জন্য ৷ ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন ৷ শুভকামনা রইলো ৷
আপ্নাকেও ধন্যবাদ ভাই। আশা করি এখন রেসিপি ফলো করে এটি বানিয়ে খেতে পারবেন।
মাঝে মাঝে আপনার পোস্টগুলো পড়লে মনের ভিতরে এক অন্যরকম ভালো লাগা কাজ করে। কারণ আপনার পোস্ট পড়লে বিভিন্ন রকম রান্নার রেসিপি খুঁজে পাওয়া যায়। আপনার পোস্টে দুধ দিয়ে শীতের বিটার পিক গুলো দেখে আমি নিজেই অবাক হয়ে গেছি। তাহলে বাস্তবে খেতে কতটা মজা হয়েছে সেটা শুধু আপনি একমাত্র বলতে পারবেন।
ধন্যবাদ আপনাকে ভাই, সুন্দর মতামতের জন্য।
আপনার মেয়েও ধীরে ধীরে আপনার মত মাস্টার শেফ হয়ে উঠবে। আমাদের এখানে যে দুধ চিতই পিঠা এতদিন খেয়েছি সেগুলোতে ঠিকমতো রস ঢোকে না। তাই শক্ত লাগে খেতে। আপনার পোস্ট থেকে জানতে পারলাম যে এগুলোতে রস ঢুকে একেবারে নরম হয়ে যায়। ধন্যবাদ রেসিপিটা শেয়ার করার জন্য।
চিতই পিঠা এক রাত ভিজিয়ে রাখলে রস ঢুকে। নখন অনেক সফট হয়ে যায়।
এর পর থেকে আমার পদ্ধতি ফলো করে বানাবেন। আশা করি মজা হবে।
দুধ চিতই আমি বেশ পছন্দ করি । আর গুড় দিয়ে ভিজালে দেখতে যেমন ভালো লাগে, খেতেও কিন্তু অসম্ভব ভালো লাগে।
খুবই সুন্দরভাবে ধাপে ধাপে শেয়ার করেছেন রেসিপিটা।
তবে একটা জিনিস আমার কাছে একটু আনকমন মনে হলো।। সেটা হলো চিতই পিঠা গোলানোর প্রসেসটা আমার কাছে একদমই নতুন ছিলো,
ভালো লাগছে খুব সুন্দর একটি পোস্ট করার জন্য।
ধন্যবাদ আপু। গুডের চিতই অনেক বেশি মজার লাগে আমার কাছেও। ভালো থাকবেন।
শীতের দিনে নতুন গুড়ের তৈরি করা ভেজানো পিঠা খাওয়ার মজাই আালাদা। আমি গতকালও খেয়েছি। রাতের বেলা দেখি ভাবী পাঠিয়ে দিয়েছে।
চমৎকার এই রেসেপিটা সবার মাঝে শেয়ার করার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।
ভালো থাকবেন সবসময় এই শুভকামনা রইলো আপনার জন্য।
ধপ্ন্যবাদ আপু। আসলেই এই মজাটা মনে হয় শুধু শীতকালেই বেশি পাওয়া যায়। যাক আপ্নিও খেয়েছেন যেনে ভালো লাগলো।
শীতের সময় পিঠার উৎসব শুরু হয়ে যায় প্রত্যেকটা ঘরে ঘরে। আজকে আপনি আমাদের সাথে দুধ চিতই পিঠা তৈরি পদ্ধতি শেয়ার করেছেন। আসলে এই দুধ চিতই পিঠা খেতে অনেক বেশি মজা লাগে। বিশেষ করে বেশি গুড় যখন দেয়া হয় তখন এর স্বাদ অনেক বেশি বৃদ্ধি পায়। আমার মা ও আগে তৈরি করত। তবে বিয়ের পর থেকে আর খাওয়া হয়নি। কারণ শীতের সময় বাবার বাড়িতে যাওয়া হয় না, খুব কম যাওয়া হয়। ধন্যবাদ আপনাকে চমৎকার পদ্ধতি শেয়ার করার জন্য। ভালো থাকবেন।
বিয়ের পর থেকে খাওয়া হয় নি শুনে খারাপ লাগছে। আশা করি আপনি নিজে একটু ট্রাই করলেই বানাতে পারবেন। আর এত আফসোস ও থাকবেনা।