বাধাকপি দিয়ে মজাদার পাকোড়া বানানোর রেসিপি
সবাইকে সালাম জানিয়ে আজকের রেসিপি পোস্ট শুরু করছি
আসসালামু আলাইকুম, আমার মত যারা ভাজাপোড়া পছন্দ করেন, দেখলেই যাদের খাবার জন্য লোভ হয় আজকের পোস্ট তাদের জন্যই। শীতকালে অন্যতম প্রধান একটি সবজি বাধাকপি। তবে তরকারি হিসেবে এটি ভাজি বা অন্য সব্জির সাথে খেতে খেতে অনেক সময় এক ঘেয়েমি চলে আসে। অনেকেই হয়তো জানেন ই না যে এই বাধাকপি দিয়ে চমৎকার পাকোড়া বানানো যায়। আজকে সেই রেসিপিটাই শেয়ার করতে যাচ্ছি।
বর্তমানে বাজারে পেয়াজের দাম আকাশচুম্বী। তাই পেয়াজের বিকল্প হিসেবে বাধাকপি প্রায় সব হোটেলে ব্যবহার করা হচ্ছে। হোটেলের পেয়াজু থেকে শুরু করে সালাত সব খানে এখন বাধাকপি। আমার ক্যান্টিনের পেয়াজু খেতে গিয়ে পেয়াজুর মধ্যে বাধাকপি দেখে আমার প্রথম পাকোড়া বানানোর চিন্তা আসে। তো সেই ধারণা থেকে আমি প্রথমবার এই পাকোড়া বানাই।
তো চলুন, সবার প্রথম দেখে আসি কি কি উপকরণ দরকার পড়ে বাধাকপির পাকোড়া বানাতে।
প্রয়োজনীয় উপকরণ :
| উপকরণ | পরিমাণ |
|---|---|
| বাধাকপি | অর্ধেক অংশ |
| পেঁয়াজ কুচি | ১/২ কাপ |
| ময়দা | পরিমাণমতো |
| কাঁচামরিচ কুচি | ২ টেবিল চামচ |
| ধনিয়া পাতা কুচি | ৪ টেবিল চামচ |
| হলুদের গুঁড়া | ২ টেবিল চামচ |
| মরিচের গুঁড়া | ২ টেবিল চামচ |
| জিরার গুঁড়া | ১/২ টেবিল চামচ |
| লবন | পরিমাণমতো |
| সয়াবিন তেল | পরিমাণমতো |
রান্নার পদ্ধতি :
ধাপ - ১ :
প্রথমেই বাধাকপি কুচি কুচি করে কেটে নিতে হবে। এখন বাধাকপি পানিতে ভালো করে ধুয়ে পানি ঝড়িয়ে নিতে হবে।
ধাপ - ২ :
এখন পেয়াজ ও ধনিয়ার পাতা কুচি কুচি করে কেটে নিতে হবে। পাশাপাশি কাচামরিচ ও কুচি করে নিতে হবে।
ধাপ - ৩ :
এবার বাধাকপি কুচির উপরে পেয়াজ মরিচ ও ধনিয়াপাতার কুচি গুলো দিয়ে দিতে হবে। পাশাপাশি উপরে উল্লেখিত অন্যান্য উপকরণ গুলো একে একে দিয়ে দিতে হবে।
ধাপ - ৪ :
এখন এর উপরে ময়াদা দিয়ে দিতে হবে। এবার হাত দিয়ে ভালো করে সব উপকরণ গুলো মিক্সড করে নেয়ার পালা।
ধাপ - ৫ :
এখন একটি কাচা ডিম ভেংগে দিবো। দিয়ে আবারো ভালো করে হাত দিয়ে মেখে নিবো। এই মাখার উপরেই কিন্তু পাকোড়ার মজা নির্ভর করছে।
ধাপ - ৬ :
এখন ভাজার পালা। একটি প্যানে তেল দিয়ে আগে গরম করে নিলাম। এখন আপনার পছন্দ মতো শেপ করে বাধাকপির পাকোড়া বানিয়ে তেলে ছেড়ে দিতে হবে।
অবশ্যই হাল্কা আচে ভাজতে হবে। এতে করে মচমচে হবে। বেশি আচে ভাজলে দ্রুত কালো হয়ে পুড়ে যাবে। ৫ মিনিট ধরে হাল্কা আচে ভাজলেই দেখবেন একটু লালচে ভাব আস্তে শুরু করবে।
ধাপ - ৭ :
৫ মিনিট পর সবগুলো উলটে দিতে হবে। এতে করে দুপাশে সমান করে ভাজা হয়ে যাবে।
শেষ ধাপ :
মন মতো ভাজা হয়ে গেলে সব গুলো তেল ঝড়িয়ে তুলে ফেলতে হবে।
পোস্ট বিবরণ
| শ্রেণী | রেসিপি |
|---|---|
| ডিভাইস | Samsung M31 |
| ফটোগ্রাফার | @mukitsalafi |
| লোকেশন | Dhaka |
পারসোনাল রেটিং
ভাজার পর এটি এতটাই মচমচে ছিল যে বুঝতেই পারছিলাম না এটি বাধাকপি দিয়ে বানানো। আমি সব সময় মুড়ি মাখা দিয়ে পেয়াজু বা পাকোড়া খেতে ভালো বাসি। আজকেও ব্যতিক্রম ছিলনা। সরিষার তেল দিয়ে মুড়ি মেখে এই পাকোড়ায় কামর দিয়ে মুখে এক মুঠো মুড়ি দেয়ার মজাটাই অন্য্রকম। সব মিলিয়ে দারুণ ছিল আজকের পাকোড়া। রেটিং দিতে বললে ১০ এ ৮ দিবো।
আপনি দারুণ একটি রেসিপি আমাদের সাথে শেয়ার করেছেন। আর শীতের দিনে যেহেতু অনেক ধরনের সবজি পাওয়া যায়। আমার এই ভেজিটেবল পাকোড়া খুবই ভালো লাগে । আপনি পাতাকপি দিয়ে পাকোড়া তৈরি করেছেন ।আমিও প্রায় এই পাকোড়াটা তৈরি করে থাকি । তবে ভাইয়া ,ময়দার সাথে যদি আপনি একটু চালের গুড়া দেন তবে পাকোড়া আরো মুচমুচে হয় ।
আপনি পাকোড়া তৈরি সমস্ত উপকরণ সুন্দরভাবে আমাদের সাথে বর্ণনা করেছেন এবং ফটোগ্রাফির মাধ্যমে তা তুলে ধরেছেন । আপনার এই রেসিপি দেখে যে কোন লোকই খুব সহজেই এটি বাসায় তৈরি করে খেতে পারবে । আপনার পরবর্তী রেসিপির অপেক্ষায় রইলাম ।
ধন্যবাদ আপু এর পর অবশ্যই চালের গুড়া দিয়ে বানাবো। ভালো থাকবেন।
Twitter share link
https://twitter.com/Mukit_Salafi/status/1744273734603854181?t=ABYoP2f7bwagQqeSgZCq3g&s=19
বাঁধাকপির পাকোড়া সত্যি খেতে খুব স্বাত লাগে। তবে আমি বাঁধাকপি পাকোরা খেয়েছি কিন্তু নিজের হাতে বানিয়ে কখনো খাইনি। তবে আশায় আছি নিজের মন মতন একদিন বানিয়ে খাব। পাশাপাশি আপনার রেসিপিটি ফলো করে আমার খুব ভালো হয়েছে যেটা আমার অজানা ছিল কিছু কিছু উপকরণ দিতে তো আপনার পোস্টে পড়ে জানতে পারলাম কি কি উপকরণ দিতে হবে। আমি ভাজাপোড়া খেতে বেশ ভালবাসি আর মুচমুচে পাকোড়া খেতে তো আর কোন কথাই নেই কতটা ভালোবাসি।
থ্যাংক ইউ খুব সুন্দর একটি রেসিপি নিয়ে হাজির হলেন।
আপ্নাকেও ধন্যবাদ আপু আমার পাকোড়া রেসিপি পড়ে সুন্দর মতামতের জন্য।
ওয়াও খুব সুন্দর একটি রেসিপি শেয়ার করেছেন বাঁধাকপি দিয়ে পাকোড়া খেতে সত্যিই অনেক মজাদার হয়ে থাকে এছাড়া এখন শীতকাল। প্রচন্ড ঠান্ডার মাঝে গরম গরম পাকোড়া পেলে আর কিছু প্রয়োজন হবে। ধন্যবাদ খুব সুন্দর একটি রেসিপি শেয়ার করার জন্য।
একদম ই তাই, ঝাল ঝাল মুচমুচে পাকোড়া মানেই শীতকালের অন্যতম সেরা নাস্তা। ধন্যবাদ আপু।
আমার কাছে বাঁধাকপি তেমন একটা ভালো লাগে না,শুধুমাত্র এই পাকোড়া টাই একটু ভালো লাগে।
আপনি পাকোড়াতে ময়দা ব্যবহার করেছেন,কিন্তু আমি আবার চালের গুড়া ব্যবহার করি।
তবে শীতের সময় পাকোড়া খেতে অনেক ভালো লাগে।ধন্যবাদ আপনাকে সুন্দর এবং সহজ একটি রেসিপি শেয়ার করার জন্য।
ময়দা বা চালের গুড়ি দুইটাই ব্যবহার করা যায়। সাদ প্রায় একই রকম হয়।
পাকোড়া দেখলেই আমার লোভ লাগে। আপনার তৈরি করা বাঁধাকপির পাকোড়া দেখতে তো যথেষ্ট লোভনীয় হয়েছে। আমি নিশ্চিত যে খেতেও খুবই মজাদার হয়েছিল। বাঁধাকপির পকোড়া এই প্রথমবার দেখলাম। এমন কি দোকানেও বিক্রি হতে দেখিনি। ধন্যবাদ রেসিপিটা শেয়ার করার জন্য।
ধন্যবাদ ভাই সুন্দর মন্তব্য করে পাশে থাকার জন্য।
বাঁধাকপির পাকোড়া সত্যিই অনেক সুস্বাদু হয়। আমি শীতের দিনে বাজারে যতরকম সবজি পাওয়া যায় সবরকম সবজি মিলিয়ে আদা কুচি দিয়ে পাকোড়া বানাই। বেশ ভালো লাগে খেতে। আপনার পোষ্ট দেখে সেই পাকোড়ার কথা মনে পড়ে গেল। আর শীতের দিনে মুচমুচে যে কোন পাকোড়াই ভালো লাগে। আপনি খুব সুন্দর করে আপনার রেসিপি গুলো উপস্থাপন করেন। পড়ে আরাম পাওয়া যায়। অনেক ধন্যবাদ আপনাকে এত সুন্দর একটি রেসিপি শেয়ার করার জন্য।
শীতের দিনে যেকোন ভাজা পোড়া অন্যান্য দিনের থেকে বেশি মজা হয়। আপনার পাকোড়া রেসিপির অপেক্ষায় থাকলাম।
বাধাকপি দিয়ে মজাদার পাকোড়া বানানোর রেসিপি আমাদের মাঝে উপাস্থাপন করেছেন ৷ কিন্তু ভাবার বিষয় হচ্ছে এই ধরনের রেসিপি আগে কখনও শুনিনি কিন্তু আজকে আপনার পোস্ট পরিদর্শন করতে গিয়ে জানতে পারলাম কিভাবে বাধাকপি দিয়ে মজাদার পাকোড়া বানানোর রেসিপি তৈরি করতে হয় ৷ অনেক ভালো লাগলো আপনার এই রেসিপি টি ৷
ধন্যবাদ আপনাকে এত সুন্দর একটি পোস্ট আমাদের মাঝে তুলে ধরার জন্য ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন ৷
আপ্নাকেও ধন্যবাদ। অবাক হচ্ছি যে এই রেস্পি আপনি শুনেন ই নাই। এটা তো কমন রেসিপি। আশা করি এর পর বাসায় বানাতে পারবেন।
বাঁধাকপির পাকোড়া আমি নিজেও অনেক বেশি পছন্দ করি। তবে আমাদের এখানে এটাকে সবজি পিঠা বলে সম্বোধন করা হয়। এই বাঁধাকপির সাথে সিম এবং অন্যান্য ধরনের শাকসবজি দিলে। এই পিঠা খেতে অনেক বেশি মজা লাগে।
গরম গরম এই পিঠার সাথে যদি সস দিয়ে খাওয়া যায়। তাহলে তার মজা অনেক দ্বিগুণ হয়ে যায়। ধন্যবাদ আপনাকে চমৎকার পিঠা তৈরি করার পদ্ধতি আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য। আসলে শীত আসলে বিভিন্ন ধরনের পিঠা তৈরির উৎসব বিভিন্ন জায়গায় চালু হয়ে যায়। আপনার ফটোগ্রাফি গুলো চমৎকার হয়েছে। ভালো থাকবেন।
সব্জি পিঠা নাম এর আগে শুনি নি, তবে আমার মনে হয় জিনিস একই শুধু এলাকা ভেদে নাম আলাদা। ধন্যবাদ সুন্দর মন্তব্য ও ফটোগ্রাফির প্রশংসার জন্য।