রুই মাছের ডিমের রেসিপি
নমস্কার বন্ধুরা, সকলে কেমন আছেন ?আশা করছি সকলেই ভালো আছেন। আজকে নতুন একটা রেসিপি নিয়ে হাজির হয়েছি আপনাদের মাঝে। আশা করি সকলেরই ভালো লাগবে। গত দুদিন খুব ব্যস্ততার মধ্যে দিয়ে দিনগুলো কেটে গেছে। তাই দুদিন ধরে পোস্ট করতে পারিনি। ব্যস্ততার কারণ আমি আপনাদের মাঝে পরের কোন পোস্টে শেয়ার করে নেব।
আমরা সকলেই মাছ খেতে তো ভীষণ পছন্দ করি। কিন্তু মাছের যে ডিম সেগুলো খেতেও খুবই সুস্বাদু লাগে। আসলে মাছের ডিম আমি আগে একদমই খেতাম না ।কারণ মাছের ওই ডিম ফুটে কত হাজার হাজার মাছ জন্মাবে তার ঠিক নেই।এই সব ভেবে।আগে বেশিরভাগ বর্ষাকালেই মাছের পেটে ডিম পাওয়া যেত। কিন্তু এখন বারোমাস মাছের পেটে ডিম পাওয়া যায়। তবে মাছের পেটে ডিম ভর্তি মাছ গুলো যখন নদী বা পুকুর থেকে ধরা হয় তারপরেই তো মাছগুলো মারা যায়। সকলেই তো মাছ চাষ করে কিছু অর্থ উপার্জনের জন্য। তবে সারা বছর যে মাছগুলোর পেট থেকে ডিম পাওয়া যায় সেগুলো চালানে মাছ। বরফ দিয়ে মাছগুলোকে স্টোর করে রাখা হয়।যাই হোক এখন ওই সব কিছু ভাবি না ।এখন আমি মাছের ডিম খেতে ভীষণ পছন্দ করি আর খেতেও যেন খুব ভালো লাগে। মাছের ডিম ভাজা থেকেই খেতে ইচ্ছে করে।এছাড়া আমরা যে খাবারগুলো খাই সবকিছু থেকেই কিছু না কিছু উপকারিতা আমরা পেয়ে থাকি। মাছের ডিম খেলে আমাদের শরীরে ভিটামিন এ এর অভাব হয় না।
এছাড়াও মাছের ডিম খেলে আমাদের রক্ত পরিষ্কার থাকে। রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ বাড়াতে সাহায্য করে। আরো অনেক উপকারিতা আমরা পেয়ে থাকি। মাছের ডিম দিয়ে বিভিন্ন রকমের রেসিপি তৈরি করা যায়। বাজারে আলাদা করে মাছের ডিম বিক্রি করা হয়। আজকে আমি বড় বড় রুই মাছের ডিমের রেসিপি শেয়ার করব। চলুন তাহলে শুরু করি আজকে মাছের ডিম দিয়ে রেসিপি ।আশা করছি সকলেরই ভালো লাগবে।
| নং | সামগ্রী | পরিমাণ |
|---|---|---|
| ১ | মাছের ডিম | ২৫০ গ্ৰাম |
| ২ | আলু | ৪ টে |
| ৩ | সাদা তেল | ৭৫ গ্ৰাম |
| ৪ | পেঁয়াজ | ১ টা |
| ৫ | রসুন | ৫ কোয়া |
| ৬ | জিরে | ১ চামচ |
| ৭ | ধনে গুঁড়ো | ১ চামচ |
| ৮ | কাঁচা লঙ্কা | ১৫ টা |
| ৯ | আদা | ৫০ গ্ৰাম |
| ১০ | মিট মসলা | ১ চামচ |
| ১১ | কালো জিরে | হাফ চামচ |
| ১২ | লবণ | ২ চামচ |
| ১৩ | হলুদ | হাফ চামচ |
| ১৪ | গরম মসলা | ১ চামচ |
প্রথম ধাপ
প্রথমেই মাছের ডিম গুলো কে ভালো করে পিস পিস করে কেটে ধুয়ে নিয়েছি।
দ্বিতীয় ধাপ
এরপর সামান্য পরিমাণে লবণ আর হলুদ মাখিয়ে রেখে দিয়েছি।
তৃতীয় ধাপ
এবারে সমস্ত মসলা রেডি করে নিয়েছি পেস্ট করার জন্য। আর পরিমাণ মতো আলু পিস পিস করে কেটে নিয়েছি।
চতুর্থ ধাপ
এরপর গ্যাস অন করে একটা কড়াই বসিয়ে দিয়েছি কড়াই গরম হলে কড়াইতে পরিমাণ মতো সাদা তেল দিয়ে দিয়েছি। তেল গরম হলে মাছের ডিম গুলো ভালো করে দুই পিঠ লাল লাল ভেজে নিতে হবে।
পঞ্চম ধাপ
মাছের ডিম গুলো ভাজা হয়ে গেলে কড়াই থেকে তুলে একটা পাত্রে রেখে দিয়েছি।
ষষ্ঠ ধাপ
এবারে ওই তেলের মধ্যে আর খানিকটা তেল এড করে দিয়েছি। তেলের মধ্যে সামান্য পরিমাণে কালো জিরে দিয়ে দিয়েছি।
সপ্তম ধাপ
এরপরে কেটে রাখা আলু গুলো কড়াইতে দিয়ে ভালো করে ভেজে নিতে হবে। আলু ভাজার সময় সামান্য পরিমাণে লবণ ,হলুদ দিয়ে দিয়েছি।
অষ্টম ধাপ
আলু ভাজা হয়ে গেলে পেস্ট করে রাখা সমস্ত মসলা দিয়ে ভালো করে কষিয়ে নিতে হবে। আমি এখানে মশলা ব্যবহার করেছি পেঁয়াজ, রসুন, আদা, কাঁচা লঙ্কা, জিরে, ধনে গুঁড়ো, মিট মসলা। সমস্ত মসলা পেস্ট করার সময় মিট মসলা পেস্ট করা মসলার মধ্যে মিশিয়ে নিয়েছি।
নবম ধাপ
কষানোর সময় মসলা থেকে যখন তেল ছাড়বে তখন পরিমাণ মতো জল দিয়ে ঢাকা দিয়ে দিতে হবে।
খানিকক্ষণ পর যখন মিডিয়াম আঁচে ফুটতে দিতে হবে।
দশম ধাপ
যখন খুব ভালো করে ফুটে উঠবে তখন মাছের ডিম গুলো একটা একটা করে ঝোলের মধ্যে দিয়ে দিতে হবে।মাছের ডিম গুলো ঝোলের মধ্যে দিয়ে আবারো খানিকক্ষণের জন্য ঢেকে দিতে হবে।
শেষ ধাপ
এবারে ঢাকনা খুলে সামান্য গরম মসলা দিয়ে নেড়েচেড়ে নিতে হবে। আমি এখানে সান রাইজের গরম মসলা ব্যবহার করেছি।
তৈরি
নাড়াচাড়ার পর গ্যাস অফ করে দিয়ে নামিয়ে নিয়েছি।এই ভাবেই তৈরি হয়ে যাবে বাড়িতে তৈরি মাছের ডিমের রেসিপি।
আপনারাও এইভাবে খুব সহজে বাড়িতে তৈরি করতে পারেন মাছের ডিমের রেসিপি। মাছের ডিমের মধ্যে আমি এখানে আলু ব্যবহার করেছি ।আপনারা চাইলে শুধু মাছের ডিম রান্না করতে পারেন। সমস্ত কিছু আমি আমার পরিমাণ মতো জিনিস ব্যবহার করেছি। খুব সহজেই অল্প সময়ের মধ্যে রেসিপিটি তৈরি হয়ে যায়। গরম ভাতের সাথে খেতে অসাধারণ লাগে। আমরা তো প্রায়ই বাড়িতে রেসিপিটি তৈরি করে খাই। আমি সমস্ত রান্নায় ঘরোয়া পদ্ধতিতে করি। আমরা প্রত্যেকদিন এইভাবে তরকারি রান্না করে খায়। রেসিপিটি ভালো লাগলে অবশ্যই জানাবেন।
আজ এখানেই শেষ করছি। আবার নতুন কোন রেসিপি নিয়ে হাজির হব আপনাদের মাঝে।
Your post has been supported by THE QUEST TEAM. We support quality posts, good comments anywhere, and any tags