ক্ষনিকের স্বস্তি
নমস্কার বন্ধুরা, সকলে কেমন আছেন?আশা করি সকলেই ভালো আছেন। আজকে আবার ও নতুন একটা পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি আপনাদের মাঝে।
গতকাল ছিল বৈশাখ মাসের শেষ দিন ,অর্থাৎ বৈশাখ সংক্রান্তি। বৈশাখ সংক্রান্তি উপলক্ষে বহু জায়গায় মেলা হয়। আবার অনেক জায়গায় সংক্রান্তি উপলক্ষে কালী পূজা ,শিব পূজার আয়োজন করা হয়। বৈশাখ মাসে শেষ দিনে প্রত্যেক বছরই ঝড়-বৃষ্টি লেগেই থাকে। গত কয়েকদিন ধরে যা রোদের তাপ শুরু হয়েছে মানুষ গরমে অতৃষ্ট হয়ে উঠেছে। মানুষ ও যেন চাতক পাখির মত বৃষ্টির আশায় বসে রয়েছে। নতুন বছর পড়তেই যেভাবে বৃষ্টি শুরু হয়েছিল ভেবেছিলাম গত বছরের তুলনায় এ বছরে ঝড়-বৃষ্টি একটু হলেও বেশি হবে। বেশ কয়েকদিন পর গতকাল বিকেলে থেকেই হঠাৎ করে কালো মেয়ে ঘনিয়ে আসে। কালো মেঘ ঘনিয়ে আসতে দেখে বাড়ির সব বাচ্চারা আনন্দে আত্মহারা হয়ে উঠেছিল। সকলে ঠান্ডা ঠান্ডা হাওয়া বইছে আর খেলতে শুরু করে দিয়েছিল। ছোট বেলায় আমি ও আকাশে কালো মেঘ দেখে খুব আনন্দ পেতাম। বিভিন্ন রকমের ছড়া মনে পড়ত।
গতকাল কালো মেঘ ঘনিয়ে আসার সাথে সাথেই শুরু হয়েছিল হালকা ঝড় ।হালকা ঝড় হতেই ভাবলাম হয়তো আর বৃষ্টি হবে না। কিন্তু খানিকক্ষণ পরে শুরু হয়ে গিয়েছিল ঝম ঝম করে বৃষ্টি। তবে খুব ভালো বৃষ্টি না হলেও মানুষজন খনিকের জন্য স্বস্তি পেয়েছিলেন। বৃষ্টির সাথে সাথে শুরু হলো প্রচন্ড মেঘ ডাকা। দূরে কয়েকটা বাজ পড়ারও শব্দ পাওয়া যাচ্ছিল। গতকাল ছিল আমার মামার বাড়ির সামনে একটা শিব মন্দির রয়েছে। সেখানে প্রত্যেক বছর খুব ধুমধাম সহকারে বাবা মহাদেবের পূজা অর্চনা করা হয়। এছাড়াও বৈশাখ মাসের প্রত্যেকটা দিন শিব পূজা করা হয়। গতকাল ভেবেছিলাম সন্ধ্যা থেকেই শিব মন্দিরে শিবের পুজো দেখব।
কিন্তু বিকেল থেকেই শুরু হয়ে গিয়েছিল ঝড়, বৃষ্টি তাই আর বেশিক্ষণ গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে পারিনি। বৃষ্টির মধ্যেই প্রচুর লোকজন এসেছিল পুজো দেখার জন্য। এই দিনটিতে পাড়ার সকলের একত্রিত হয়ে খুব ধুমধাম সহকারে পূজার আয়োজন করে। সন্ধ্যা আরতী থেকে শুরু করে হোম-যজ্ঞ সমস্ত কিছুই নিষ্ঠা সহকারে করা হয়। গতকাল প্রায় তিন ঘন্টা ধরে শিবের পূজো হয়েছে। গতকাল গরমের পরিমাণ কম থাকায় মানুষ শান্তি করে বসে পূজা দেখতে পেরেছে। বৃষ্টি থেমে যাওয়ার পরে যখন আবারো গিয়েছিলাম মন্দিরে তখন পূজা শেষ হয়ে গেছে। সকলকেই প্রসাদ বিতরণ করা হচ্ছে। অনেকে আবার দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে ধৈর্য হারিয়ে বাড়ি চলে আসছিল।
গতকাল ছিল আমার বাপের বাড়ি কাছে সংক্রান্তি উপলক্ষে সিদ্ধেশ্বরী মেলা ।ওখানে বিরাট কালী মন্দির রয়েছে। সেই উপলক্ষে বৈশাখ মাসের শেষে বিরাট বড় মেলা হয়। এই মেলা গত বছর আমি আপনাদের মাঝে শেয়ার করে নিয়েছিলাম। কারণ গত বছর আমি বাপের বাড়িতেই ছিলাম ।সকাল থেকেই মা যাওয়ার জন্য প্রচন্ড বায়না ধরছিল ।কিন্তু প্রচন্ড গরমে আমি যেতে একদমই রাজি হয়নি। ওখানেও দুপুর বেলা থেকে প্রচন্ড ঝড় বৃষ্টি। ছোটবেলা থেকে যতবারই ওখানে মেলা দেখতে গিয়েছি ততবারই ঝড়-বৃষ্টির মুখে পড়তে হয়েছে। যাইহোক মেলা দেখতে যেতে পারিনি বলে একদমই মন খারাপ হয়নি। তার থেকেও বিকেল বেলায় বৃষ্টিতে খানিকটা স্বস্তি পেয়ে একদম মন ভালো হয়ে গিয়েছিল। কয়েক ফোঁটা বৃষ্টিতে মানুষের মন একেবারে ভালো হয়ে যায়।
আজ এই পর্যন্তই ।আবার অন্য কোন পোস্ট নিয়ে হাজির হব আগামীকাল।
বৈশাখ মাসের শেষে মেলাতে যে পূজোটা হয় আপনাদের মামাবাড়িতে সেই পূজা হতো । শিব মন্দিরের মেলা বসতো । এখন গ্রীষ্মকাল তাই তো হঠাৎ ঝড় বৃষ্টি শুরু হয়ে যায়। সকল ঝড় বৃষ্টি থেকে শিব ঠাকুর আমাদের রক্ষা করুন।
সবাইকে সুস্থ রাখুক। শারীরিক সুস্থতা খুব প্রয়োজন। কিছু দিন থেকে অসুস্থ । দিদিভাই আমার জন্য প্রার্থনা করবেন ।CMHএ বসে আপনার পোস্টটি পড়ে অনেক ভালো লাগলো ।
বৃষ্টিতে মেলা দেখতে না পারে মন খারাপ করেন নাই ।বৃষ্টিটা আপনি উপভোগ করেছেন। আপনার জন্য অনেক শুভকামনা রইল।
কালবৈশাখী ঝড় হলে চারপাশ অন্ধকার হয়ে ঝড় শুরু হয় আর তখন মনে হয় এই পৃথিবীর মধ্যে কিছুটা প্রশান্তি নেমে আসে বিশেষ করে এই গরমের মধ্যে প্রকৃতি যখন নিজের সবচাইতে ভালো রূপ ধারণ করে বৃষ্টি শুরু করে তখন কিন্তু চারপাশের পরিবেশ একেবারেই শান্ত হয়ে যায় আপনার বাপের বাড়ির পাশে ছিল শিবেশ্বরী পূজার মেলা যেখানে আপনি অংশগ্রহণ করেছেন। অসংখ্য ধন্যবাদ বৈশাখে ঝড় সম্পর্কে আপনার মনের অনুভূতি আমাদের সাথে তুলে ধরার জন্য ভালো থাকবেন।