জন্মদিনের দুপুর বেলা
নমস্কার বন্ধুরা, সকলে কেমন আছেন? আশা করছি সকলেই খুব ভালো আছেন ।আজকে আবারও নতুন একটা পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি আপনাদের মাঝে। আশা করছি সকলেই ভালো আছেন।
আপনাদের মাঝে বোনের মেয়ে কে দেওয়া সারপ্রাইজ প্ল্যান আগেই শেয়ার করেছিলাম ।আজকে বোনের মেয়ের জন্মদিনের দুপুরবেলার আয়োজন আপনাদের মাঝে শেয়ার করব। গতকালকে আমি যখন বাপের বাড়ি পৌঁছেছিলাম তখন সকলে সেজেগুজে ফটো তুলছিল। ছোট বোনের যেহেতু বাড়ির কাছেই বিয়ে হয়েছে। সে সকাল সকাল চলে এসেছিল। মা নিজের হাতে সমস্ত কিছু রান্না বান্নার আয়োজন করেছিল। একমাত্র নাতনির জন্মদিন বলে কথা। মা অসুস্থ থাকার সত্বে ও সমস্ত আয়োজন করেছিল। আয়োজনে কোন কিছুতেই খামতি রাখেনি। মায়ের যত টুকুনি সামর্থ্য ততটুকু দিয়েই সমস্ত আয়োজন করেছিল। এছাড়াও আশেপাশে বেশ কয়েকটা বাচ্চাকে নেমন্তন্ন করেছিল। বাঙালির নিয়মে যেমন -পাঁচ রকমের ভাজা, মাছ, মাংস ,দই, মিষ্টি, চাটনি এই সমস্ত কিছু রান্নাবান্না করা হয় সেই সমস্ত কিছুই করেছিল।
যাইহোক আমাকে দেখে তো সকলেই ভীষণ খুশি হয়েছিল। আমি যখন পৌঁছালাম তখন ওদের ঘর সাজানো কোন কিছুই সম্পন্ন হয়নি। আমি সাথে করে কিছু ঘর সাজানোর জন্য জিনিস বাড়ি থেকে নিয়ে গিয়েছিলাম। সাথে বোনের মেয়ের জন্য প্রচুর খাবার- দাবার নিয়ে গিয়েছিলাম ।ওতো সমস্ত কিছু পেয়ে ভীষণ খুশি হয়েছিল। ওদিকে আমি আর ছোট বোন মিলে সমস্ত ঘরটা ছোট্ট আয়োজন করে সুন্দর করে সাজিয়ে নিয়েছিলাম। আমাদের এই ছোট্ট আয়োজন দেখে বোনের মেয়ে আনন্দে ভীষণ উত্তেজিত হয়েছিল। কারণ এই রকম করে কখনোই সাজিয়ে গুজিয়ে ওর জন্মদিন পালন করা হয়নি। বাচ্চারা অল্পতেই খুশি হয়। ওর খুশি দেখে আমারও ভীষণ আনন্দ হচ্ছিল। ছোট্ট একটা ফুলের মত শিশু তাকে তার জেঠি, পিসিরা কিভাবে দূরে সরিয়ে রাখে আমি বুঝে উঠতেই পারি না।
এরপর সমস্ত অ্যারেঞ্জ মেন্ট করা হয়ে গেলে ভাতের থালায় সমস্ত কিছু সাজিয়ে গুছিয়ে বাঙালির রিচুয়াল অনুযায়ী ফুল,পান দিয়ে সুন্দর করে সাজিয়ে তুলেছিলাম। বোনের মেয়ে যতবারই আমাদের এইসব আয়োজন করা দেখছিল ও ভীষণ আনন্দে খুশিতে কি করবে ভেবে পাচ্ছিল না ।ছোট ছোট বাচ্চারা খেতে এসেছিল তাদের বারবার ডেকে নিয়ে এসে দেখাচ্ছিল। ওকে আমি গিয়ে ওইটুকু আনন্দ দিতে পেরেছি এটাই দেখে আমি ভীষণ খুশি হয়েছিলাম। এরপর ওকে খেতে বসানো হয়েছিল ।প্রথমেই আমার মা ,এরপর বোন, বোনের বর ,আমি আরো একটা বোন মোট পাঁচজন মিলে ওকে আশীর্বাদ করেছিলাম। সকলে ওকে আশীর্বাদ করছিল আর হাতে টাকা দিচ্ছিল ।কিন্তু টাকার বদলে ও ছোট ছোট গিফট পেয়ে ভীষণ খুশি হয়েছে।
এরপর আশীর্বাদ পর্ব সারা হয়ে যাওয়ার পর ও খেতে বসে পড়েছিল। আর যে সমস্ত বাচ্চাদের নিমন্ত্রণ করা হয়েছিল তাদের সকলকে আস্তে আস্তে খেতে দেওয়া হয়েছিল ।কারণ অলরেডি অনেকটা দেরী হয়ে গিয়েছিল।বাচ্চারা খিদের জ্বালায় ছটফট করছিল। সব বাচ্চাদের খাওয়া হয়ে গেলে আমরা চার বোন মিলে এক জায়গায় আনন্দ করে গল্প করতে করতে দুপুরের খাওয়া শেষ করেছিলাম। খেতে খেতে প্রায় পাঁচটা বেজে গিয়েছিল। আমার ও ভীষণ খিদে পেয়েছিল। সকালে বাড়ি থেকে খাবার খেয়ে বেরিয়ে ছিলাম।এরপর ছিল আবারও রাতের আয়োজন। রাতের আয়োজন আপনাদের অন্য পোস্টে শেয়ার করে নেব।
আজ এই পর্যন্তই ।আবার অন্য কোন পোস্ট নিয়ে হাজির হবো আগামীকাল।
SPOT-LIGHT TEAM: Your post has been voted on from the steemcurator07 account.
Thank you 🙏