রথযাত্রার মেলা
নমস্কার বন্ধুরা, সকলে কেমন আছেন ?আশা করছি সকলেই ভালো আছেন। আজকে আবারো নতুন একটা পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি আপনাদের মাঝে আশা করছি সকলেরই ভালো লাগবে।
বাঙ্গালীদের বারো মাসে তেরো পার্বণ লেগেই থাকে। প্রত্যেক পুজো পার্বণ কে ঘিরে বাঙ্গালীদের উত্তেজনার শেষ নেই। গতকাল ছিল শুক্রবার। বাংলার ১২ আষাঢ় আর ইংরেজি ২৭ এ জুন রথযাত্রা। প্রত্যেক বছর আষাঢ় মাসে রথযাত্রা পালিত হয়। রথযাত্রায় আনন্দে সামিল হয়ে শুধু যে হিন্দুরাই আনন্দ করে এমনটা নয় সমস্ত জাতি-সম্প্রদায়ের মানুষরা এই উৎসবে সামিল হয়। এই রথযাত্রাকে কেন্দ্র করেই বিভিন্ন জায়গায় বিরাট মেলার আয়োজন হয়। যেমন পুরীতে জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা ঘিরে অনেক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। এছাড়াও দিঘাতে এখন নতুন জগন্নাথ মন্দির উদ্বোধন হওয়ার পর থেকে জগন্নাথ দেবের স্নান যাত্রা থেকে শুরু করে রথযাত্রা সবকিছুতেই বিরাট আয়োজন করা শুরু হয়েছে।
আষাঢ় মাস শুরু হতেই শুরু হয়ে গেছে বর্ষা। প্রায় প্রত্যেকদিন কম বেশি বৃষ্টি লেগেই রয়েছে। গতকালকেও প্রায় সারাদিনই কম বেশি বৃষ্টি হচ্ছিল। তবে বিকেল বেলাতে হঠাৎ করে কালো মেঘ ঘনিয়ে আসে ।আর শুরু হয় ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি। বৃষ্টির মধ্যেই ভিজে ভিজে ছোট ছোট বাচ্চারা রথ টেনে বেড়াচ্ছে। তারাও খুব আনন্দ সহকারে রথ নিয়ে বের হয়েছিল । কিন্তু বৃষ্টির জন্য সব আনন্দ বিফলে চলে গিয়েছিল।ছোটবেলা থেকে কোনদিনই কারোর হাত ধরে রথ দেখতে যাওয়ার স্মৃতি আমার নেই ।ছোটবেলা থেকেই কয়েকজন সঙ্গী মিলেই চলে যেতাম রথ দেখতে। কারণ আমাদের বাড়ি থেকে মাত্র ৩০ সেকেন্ডের হাঁটা পথ। মানে পুতুল পট্টির মোড়ে রথযাত্রা পালিত হয়। আমরা সেখানেই ছোট থেকেই এখনো পর্যন্ত ওইখানেই রথযাত্রার মেলা দেখতে যাই। এ বছরেও এই বৃষ্টি, জল ,কাদা কে উপেক্ষা করে চলে গিয়েছিলাম রথযাত্রার মেলায়। এই রথ যাত্রার মেলাটি রাস্তার দুই পাশে বসে। গতকালকের রথযাত্রা কে বলা হয় সোজা রথ আর আট দিন পরে যে রথযাত্রা অনুষ্ঠানটি পালিত হবে তাকে বলা হয় উল্টোরথ।
প্রথমেই জল কাদার মধ্যে চলে গিয়েছিলাম একদম রথের কাছে একটু রথের দড়ি টানার জন্য। প্রত্যেক বছর নাকি রথের দড়ি টানতে হয়। রথের দড়ি টানা নাকি খুব ভালো। আমার মত প্রত্যেকেই রথের দড়ি টানার জন্য রথের কাছে ভিড় জমিয়েছে। জল বৃষ্টি কাদা হলেও রথের মেলাতে প্রচুর ভিড়। ভিড়ের মধ্যে রাস্তায় মোটরসাইকেল ,সাইকেল ,টোটো সমস্ত যানবাহন চলাচল করছিল। তাই বেশি ঘোরাঘুরি করতে একদম ইচ্ছে করছিল না।এত বৃষ্টি হলে ও প্রচন্ড গরম করছিল।এছাড়াও রাস্তার দুই পাশেই বৃষ্টির জল জমে ছিল।আমার মত প্রত্যেক বাঙালি রা এই মেলাতে আনন্দ করার জন্য বসে থাকে। তবে সোজা রথে যে পরিমাণে ভিড় হয়। উল্টো রথে একদমই ভিড় হয় না।এই মেলাতে যাওয়া মানে রাস্তার এক মাথা থেকে অন্য মাথায় ঠেলাঠেলি করতে করতে যাওয়া আসা। আজকে ভিড় দেখে মনে হচ্ছিল যেন কৃষ্ণনগরে জগদ্ধাত্রী পুজো শুরু হয়ে গেছে। আমি ,মামার মেয়ে আর আমার বোন তিনজন মিলে গিয়েছিলাম রথের মেলা দেখার জন্য। যেহেতু নিজের এলাকায় তাই একা একা কোন রকম অসুবিধা হয় না।রথের মেলা দেখতে যাবার আগেই মামা বাড়িতে জিলিপি, পাঁপড় সমস্ত কিছুই কিনে এনে দিয়েছিল ।সমস্ত খাবার খেয়েই রথের মেলা দেখতে গিয়েছিলাম। এছাড়াও শ্বশুরবাড়িতে প্রত্যেক বছর মামা জিলিপি, পাঁপড় দিয়ে আসে।
রথে যাওয়া মানেই জিলিপি আর পাঁপড় ভাজা খাওয়া। এই মেলাতে গিয়ে প্রচুর চেনা পরিচিত মানুষের সাথে দেখা সাক্ষাৎ হয় ।কারণ এই মেলাতে সকলে মেলা দেখতে আসে। এটা একদমই কাছে ।তাই ওই এলাকার সকলেরই সুবিধা হয়। গতকালকে প্রচুর মানুষের সাথে দেখা সাক্ষাৎ হয়ে বেশ ভালো লাগলো। জগন্নাথ দেবের প্রসাদ বিতরণ করা হচ্ছিল ।সেখান থেকে জগন্নাথ দেবের প্রসাদ গ্রহণ করেছিলাম ।এরপর সকলে মিলে কিছু খাওয়া দাওয়া করে নিয়েছিলাম ।এই মেলাতে আমার কেনার মত কিছুই ছিল না। তবুও প্রত্যেকটি দোকানে প্রচুর মানুষের ভিড় রয়েছে। এছাড়া প্রত্যেকটি খাবারের দোকানে প্রচুর মানুষের ঢের ভিড়।ছোটবেলায় প্রচুর মাটির পুতুল কিনতাম। তবে বড় হওয়ার পর থেকে তেমন কিছুই কেনা হয় না। শুধুমাত্র খাওয়ার জন্য বেড়াতে যাওয়া আর ঘোরাঘুরি। যাই হোক এই বৃষ্টি কাদার মধ্যেই রথের মেলাতে ঘুরে বেশ ভালোই লাগলো। সকলকে জানাই শুভ রথযাত্রা উপলক্ষে শুভেচ্ছা।
আজ এই পর্যন্তই। আবারো নতুন কোন পোস্ট নিয়ে হাজির হব আগামীকাল।
Your post has been supported by the TEAM FORESIGHT. We support quality posts, good comments anywhere, and any tags
Thank you 🙏