নবমীতে ঠাকুর দেখা
নমস্কার বন্ধুরা, সকলে কেমন আছেন ?আশা করছি সকলেই খুব ভালো আছেন ।আজকে আবারো নতুন একটা পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি আপনাদের মাঝে।
এ বছরে অষ্টমী, নবমী একই দিনে পড়েছিল। পঞ্জিকা অনুসারে একই দিনে অষ্টমী , নবমী পালন করা হয়েছিল। যেহেতু বাঙালিদের অনেক আবেগ ঘিরে আছে এই দুর্গা পুজোকে নিয়ে। তাই আমাদের কাছে এই পাঁচটা দিন অনেক কম মনে হয়। মা দুর্গার বিসর্জনের পর আমরা সকলেই মনে মনে ভাবি, মা আর কয়েকটা দিন থাকলে খুব ভালো হতো। অষ্টমী, নবমী একই দিনে হলেও গতকাল প্রত্যেকে নবমী বলেই মনে করেছিল। গত কালকেও প্রত্যেকের ঠাকুর দেখার ধুম ছিল। বেশিরভাগ ক্লাব বা বারোয়ারি মা দুর্গাকে রেখে দেওয়া হয়েছিল। আবার অনেক মণ্ডপ থেকে প্রতিমা বিসর্জন হয়ে গিয়েছিল। গতকাল থেকেই মন খারাপের পালা শুরু হয়ে গেছে। আবার দিন গোনার পালা শুরু হলো।
লিংক
সপ্তমীর দিন ঠাকুর দেখতে বেরোনোর পর অষ্টমীর দিনার ঠাকুর দেখতে বের হতে পারিনি। কারণ সন্ধ্যের পর থেকে খুব জোরে জোরে মেঘ ডাকছিল। আর হালকা ছিটে ফোঁটা বৃষ্টি হয়েছিল। তাই রাতের বেলায় আর বের হতে ইচ্ছে হয়নি। গতকাল রাতের বেলায় আমি আর আমার বর দুজনেই রাতের খাবার খেয়ে বেরিয়ে পড়েছিলাম ঠাকুর দেখার জন্য। দুজনে হেঁটে হেঁটে বেশ অনেকে ঠাকুর দেখেছি। রাস্তা পুরো ফাঁকা। নির্জনে দুজনে হাঁটছিলাম। অনেকে টোটো ভাড়া করে বেরিয়েছে ঠাকুর দেখতে ।আবার বেশিরভাগ লোকজন বাইকে করে বেরিয়েছে ঠাকুর দেখবার জন্য। আসলে রাতের বেলায় সবাই এখন ফাঁকায় ঠাকুর দেখতে পছন্দ করে।
লিংক
আমরা বেরিয়েছিলাম তখন রাত প্রায় ১১ টা বেজে গেছে। আগের দিন দূর তিনটে ঠাকুর দেখেছিলাম ।তাই মনটা একটু খারাপ ছিল। গত কালকে অধিকাংশই ঠাকুর দেখতে পেয়ে মনটা একটু ভালো হয়েছিল। গতকাল রাত্রে ও অনেক জায়গায় অনুষ্ঠান চলছিল। আমাদের বাড়ির পাশেই জেল রোড বলে একটা জায়গা রয়েছে। ওইখানে এখন নতুন জেলার এসেছে ।তিনি খুব ধুমধাম করে অনুষ্ঠান সহকারে পূজা টা করেন। কিছু কিছু জায়গায় ঠাকুর দেখতে গিয়ে সত্যিই খুব ভালো লাগে ।আমাদের শহর এত উন্নত হচ্ছে দেখলেই মনটা ভরে ওঠে। ছোটবেলায় যখন ঠাকুর দেখতে যেতাম। তখন এসব কোন কিছুই হত না।
লিংক
জেল রোড থেকে ঠাকুর দেখে অনেকটা হাঁটতে হাঁটতে চলে গিয়েছিলাম বাড়ি থেকে অনেকটাই দূরে পাত্র বাজার বলে একটা জায়গায়। ওখানে খুব সুন্দর একটা প্যান্ডেল হয়েছে। পাত্র বাজারে প্যান্ডেল দেখে প্রতিমা দর্শন করে আবার ওখান থেকে বেরিয়ে পড়েছিলাম বাড়ি ফিরব বলে। কিন্তু বাড়ি ফেরার পথে আশেপাশে বেশ অনেকগুলোই ঠাকুর ছিল। সেই ঠাকুর গুলো প্রত্যেকটা দর্শন করলাম। কিন্তু অনেকটাই রাত হয়ে গিয়েছিল। হাঁটতেও পারছিলাম না। পায়ে প্রচণ্ড ব্যথা করছিল। দুজনে মিলে উকিল পাড়া বলে একটা বারোয়ারী তে ঠাকুর দর্শন করতে গিয়ে ওখানে একটু রেস্ট নিয়েছিলাম ।তারপরে ওখান থেকে আবার রওনা দিলাম আরেক জায়গায় ঠাকুর দেখতে যাব বলে।
লিংক
দুর্গা পূজোয় রাস্তায় অত বেশি লোকজন থাকে না ।হাতে গোনা কয়েকজন মাত্র। এরপর ঠাকুর দেখেছিলাম কৃষ্ণনগরে ষষ্ঠী তলার দুর্গা প্রতিমা। তখন ঘড়িতে বাজে রাত পৌনে দুটো বেশ অনেকটাই রাত হয়ে গিয়েছিল। বাইরে হালকা শিশির পড়ছিল। দিনের বেলাতে গরম হলেও রাতের বেলায় বেশ হালকা হালকা ঠান্ডা আভাস পাওয়া যায়। এত রাতে রাস্তায় প্রচন্ড কুকুরের উৎপাত দুজনে আসতে ভয় পাচ্ছিলাম। রাস্তাতে টোটো যাতায়াত ও ছিল না। যে টোটো করে বাড়ি চলে আসবে। আমার বর যাওয়ার সময় বলছিল স্কুটি নিয়ে বের হবো।কিন্তু আমি ভয় পাচ্ছিলাম ।যদি ঠিকঠাক চালাতে না পারে সেই জন্য দুজনে হাঁটতে হাঁটতে বেরিয়েছিলাম। চারিদিকে শিউলি ফুল ,বকুল ফুলের গন্ধে সারা রাস্তা ম ম করছিল। রাতের বেলাতেই ফুলের গন্ধে বেশ মন ভরে যায়। এভাবেই দুজনে মিলে হাঁটতে হাঁটতে রাত দুটো নাগাদ বাড়ি পৌঁছেছিলাম।
লিংক
চলুন আজকে আপনাদের কৃষ্ণনগরের বেশ কয়েকটা প্রতিমা দর্শন করাবো। সকলকে জানাই শুভ নবমীর আন্তরিক প্রীতি শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।
লিংক
আজ এইখানেই শেষ করছি ।আশা করছি সকলেরই ভালো লাগবে। পরবর্তী আবার কোন পোস্ট নিয়ে হাজির হব আপনাদের মাঝে।
বাঃ! তাহলে নবমীতে তো অনেক গুলো ঠাকুরই দেখেছেন। আমিও এই পাত্র বাজার ও উকিল পাড়ার ঠাকুর গুলো দেখেছি। খুব ভালো করেছে।
হ্যাঁ, নবমীর দিন বেশ অনেকগুলো ঠাকুর দেখেছিলাম।