চিংড়ি মাছ দিয়ে পুঁইশাক চচ্চড়ি রেসিপি
নমস্কার বন্ধুরা,সকলে কেমন আছেন?আশা করছি সকলেই খুব ভালো আছেন। আজকে আবারো নতুন একটা রেসিপি নিয়ে হাজির হয়েছি আপনাদের মাঝে।
আমাদের চারপাশে প্রকৃতির সাজিয়ে রেখেছে বিভিন্ন ধরনের উপকারী মূলক শাক। এইসব শাকের মধ্যেই প্রথমেই মনে পড়ে পুঁই শাকের কথা। পুঁইশাকের মধ্যে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন রয়েছে। যা আমাদের শরীরের পুষ্টি ঘাটতি মেটাতে সাহায্য করে। পুঁই শাক খেলে একাধিক রোগের হাত থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। পুঁই শাকে রয়েছে ভিটামিন যা আমাদের ত্বককে ভালো রাখতে সাহায্য করে। এছাড়া আমাদের চোখ ভালো রাখে। চুলকে ভালো রাখতে সাহায্য করে। প্রত্যেকদিন খাদ্য তালিকায় পুঁই শাক রাখলে সত্যিই খুব উপকার পাওয়া যায়। আমাদের বাড়িতে প্রায় দিনই পুঁইশাক খাওয়া হয়। শুধু পুঁই শাক বলেই না। পুঁই শাকের বীজ, যাকে বলা হয় পুঁই মুচুরি। কয়েক মাস আগে আপনাদের মাঝে পুঁই মুচুরি রান্নার রেসিপি আপনাদের মাঝে শেয়ার করেছিলাম।
আজকে শেয়ার করব চিংড়ি মাছ দিয়ে পুঁই শাকের চচ্চরি ।বিভিন্ন রকমের সবজি দিয়ে পুঁইশাক চচ্চরি আমরা সাধারণত সকলে বাড়িতে ঘরোয়া ভাবে বাড়িতে বানিয়ে খেয়ে থাকি। বাড়িতে ছোটখাটো অনুষ্ঠান থাকলেই প্রথমেই চচ্চড়ি বলতে পুঁই শাকের কথা মনে পড়ে যায়। পুঁই গাছ যেখানে সেখানে হয়। পুঁই গাছ লতানো ধরনের গাছ। কোন রকম যত্ন ছাড়া পুঁই গাছ বেড়ে ওঠে। কিছু দিন আগে এমনি আমাদের বাড়িতে দুটো পুঁই শাকের গাছ হয়েছে। অনেক সময় পাখিতে মুখে করে বীজ ফেলে সেই থেকেই আপনা আপনি গাছ গুলো হয়।একটু জল পেলে গাছ গুলো জন্মায়। বেশিরভাগ সময় বর্ষা কালে পুঁই গাছ চারিদিকে জন্মাতে দেখা যায়।
| নং | সামগ্রী | পরিমাণ |
|---|---|---|
| ১ | পুঁই শাকের ডাল | ২ টো |
| ২ | পটল | ২৫০ গ্ৰাম |
| ৩ | মিষ্টি কুমড়ো | ৫০০ |
| ৪ | বেগুন | ২ টো |
| ৫ | আলু | ২ টো |
| ৬ | চিংড়ি মাছ | ৫০০ গ্ৰাম |
| ৭ | সাদা তেল | ৭৫ গ্ৰাম |
| ৮ | পাঁচ ফোড়ন | সামান্য |
| ৯ | আদা | ৫০ গ্ৰাম |
| ১০ | কাঁচা লঙ্কা | ১০ টা |
| ১১ | জিরে | ১ চামচ |
| ১২ | রসুন | ৬ কোয়া |
| ১৩ | লবণ | ৩ চামচ |
| ১৪ | হলুদ | দেড় চামচ |
প্রথম ধাপ
প্রথমেই পরিমাণ মতো সবজি রেডি করে নিয়েছিলাম। সবজি ব্যবহার করেছি -পুঁই শাকের ডাল, বেগুন, মিষ্টি কুমড়ো,পটল, আলু।এরপর সমস্ত সবজি সাইজ করে কেটে নিতে হবে ।সাইজ করে কেটে নেওয়ার পর ভালো করে ধুয়ে জল ঝরানোর জন্য রেখে দিতে হবে।
দ্বিতীয় ধাপ
এরপর চচ্চড়িতে দেওয়ার জন্য পরিমাণমতো চিংড়ি মাছ ভালো করে পরিষ্কার করে বেছে ধুয়ে লবণ, হলুদ মাখিয়ে রেখে দিয়েছিলাম। সুবিধার জন্য আমি চিংড়ি মাছ গুলো টুকরো টুকরো করে কেটে নিয়েছি। চিংড়ি মাছ প্রায় ৫০০গ্ৰাম ছিল। কিন্তু বেছে নেওয়ার পর ২৫০ গ্ৰাম মতো হয়েছিল।
তৃতীয় ধাপ
এরপরে গ্যাস অন করে একটা কড়াই বসিয়ে দিয়েছি। কড়াই ভালো করে গরম হলে কড়াইতে দিয়ে দিয়েছি পরিমাণ মত সাদা তেল। তেল গরম হলে চিংড়ি মাছ গুলো ভালো করে ভেজে একটা পাত্রে তুলে রেখে দিতে হবে।
চতুর্থ ধাপ
এবারে কড়াইতে আরো খানিকটা তেল দিয়েছিলাম। তেলের মধ্যে সামান্য পাঁচফোড়ন দিয়ে দিয়েছি, দেওয়ার পর সমস্ত কেটে রাখা সবজিগুলো কড়াইতে দিয়ে দিতে হবে। সবজি দেওয়ার পর সবজি মধ্যে পরিমাণ মতো লবণ আর হলুদ দিয়ে সবজিগুলো ভালো করে ভেজে নিতে হবে ।
পঞ্চম ধাপ
সমস্ত সবজি ভাজা হয়ে গেলে কেটে রাখা পুঁই শাকগুলো সবজির মধ্যে দিয়ে ভালো করে নেড়ে চেড়ে নিতে হবে। নেড়েচেড়ে নেওয়া হয়ে গেলে খানিকক্ষণ ঢেকে রাখতে হবে। পুঁইশাক রান্না করতে হলে এখানে পুঁইশাক দিয়ে খানিকটা জল বের হবে ।
ষষ্ঠ ধাপ
খানিকক্ষণ পর ঢাকনা খুলে দেখা যাবে পুঁইশাকের জল খানিকটা শুকিয়ে এসেছে ।ঠিক তখনই পেস্ট করে রাখার সমস্ত মসলা পুঁইশাকের ভেতর দিয়ে দিতে হবে। আমি এখানে মসলা হিসেবে ব্যবহার করেছি কাঁচা লঙ্কা, আদা ,জিরে, রসুন সমস্ত কিছু পেস্ট করে নিয়েছিলাম ।
সপ্তম ধাপ
সমস্ত মসলা দিয়ে খানিকক্ষণ নাড়াচাড়া করে কষিয়ে নিয়েছিলাম। কষানোর পর পরিমাণ মতো জল এড করে দিয়ে আবারো খানিকক্ষণ ঢেকে রাখতে হবে।
অষ্টম ধাপ
প্রায় দশ মিনিট পর ঢাকনা খুলে চচ্চড়ি, ঝোল যখন ফুটে উঠবে তখন সেই ঝোলের মধ্যে ভেজে রাখা চিংড়ি মাছ গুলো দিয়ে দিতে হবে। দিয়ে খুব ভালো করে নাড়াচাড়া করে আবারো খানিকক্ষণ ঢেকে রাখতে হবে
তৈরি
আবার খানিকক্ষণ পর ঢাকনা খুলে যখন চচ্চড়ি ঝোল শুকিয়ে আসবে তখন নাড়াচাড়া করে নামিয়ে নিলেই তৈরি হয়ে যাবে ঘরোয়া ভাবে চিংড়ি মাছ দিয়ে পুঁইশাক চচ্চড়ি। তরকারি ঝোলটা আপনারা আপনাদের প্রয়োজন মত রাখবেন। আমি একটু রসালো ভাবেই তরকারিটা তৈরি করেছিলাম।
কোন তরকারি একদম শুকনো একদমই ভালো লাগেনা ।তাই চচ্চড়িতে একটু ঝোল ঝোল না থাকলে খেতে একদমই ভালো লাগেনা। চচ্চড়ি কড়াই থেকে নামানোর পর খানিকক্ষণ কোন পাত্রে রেখে দিলে ঝোলটা আপনা আপনি আস্তে আস্তে বসে যাই। তাই আপনারা আপনাদের পরিমাণ মতো রাখবেন। আমি একদমই সাধারণভাবে চিংড়ি মাছ দিয়ে পুঁইশাক চচ্চড়ি তৈরি করেছিলেন। আমি আমার প্রয়োজন মতো সমস্ত উপকরণ ব্যবহার করেছি ।আপনারা চাইলে অন্যান্য উপকরণ এড করতে পারেন । পুঁই শাক যেরকম ভাবেই রান্না করা যায় না কেন সেই রকম ভাবে খেতে খুবই সুস্বাদু লাগে। আমাদের বাড়িতে সাধারণত এই ভাবেই আমরা তৈরি করে থাকি। সমস্ত সবজি আমার পছন্দ মতো ব্যবহার করেছি। চচ্চড়ির মধ্যে একটু বেশি পরিমাণে নানা রকমের সবজি দিলে খেতে অত্যন্ত সুস্বাদু হয়। আমি পরিমানে অনেক টা রান্না করেছিলাম। আপনারা আপনাদের পরিমাণ মতো করবেন।কেমন লেগেছে চিংড়ি মাছ দিয়ে পুঁইশাক চচ্চড়ি আপনারা অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন ।
আজ এখানে শেষ করছি। আবার অন্য কোন রেসিপি নিয়ে হাজির হব আপনাদের মাঝে।
চিংড়ি দিয়ে পুই শাক আমিও রান্না করি ।আমার ছোট ছেলে ছাড়া সবাই পছন্দ করে ।তবে আমি শুধুমাত্র চিংড়ি দিয়েই রান্না করি ।এর সাথে কখনো এত ধরনের সব্জি দিয়ে কখনো রান্না করি নাই ।
তবে পরবর্তীতে রান্না করলে আপ্নার রেসেপি ফলো করে কিরে দেখবো কেমন লাগে খেতে।
@mou.sumi বলছি এরপর যেদিন এই রান্না করবে, আগে থেকে খবর দিও, খুব বেশি দূরের পথ নয়, পৌঁছে যাওয়া যাবে।
আর হ্যাঁ! পুঁই শাক এর উপকারিতার সাথে একটা অপকারিতা হলো এটি ইউরিক অ্যাসিড বৃদ্ধি করে শরীরে, তবে যেহেতু আমার সেই ঝামেলা নেই, তাই আমি অবলীলায় সাবাড় করে দিতে পারি।
শুধু নিমন্ত্রণের অপেক্ষা! না তুমি করছ আর না তোমার পাশের বাড়ি!
নিজেরাই ঘুরে বেড়াচ্ছে আর খাচ্ছে।
অবশ্যই খাওয়াবো দিদি।আপনি কি খেতে ভালোবাসেন বলবেন আমি রান্না করে খাওয়াবো।আপনি চলে আসুন জমিয়ে খাওয়া দাওয়া হবে।
ওয়াও একদম আমার পছন্দের একটি তরকারির রেসিপি রান্না করেছেন এই রেসিপিটা আমার বাসার সবাই অনেক বেশি পছন্দ করে চিংড়ি মাছ দিয়ে বিভিন্ন সবজি দিয়ে চচ্চড়ি দেখে মনে হচ্ছে অনেক সুস্বাদু হয়েছে তরকারির কালার টাই বলে দিচ্ছে যে কতটা সুস্বাদু হয়েছে এবং রান্নার সমস্ত ধাপ গুলো আমাদের মাঝে খুবই ভালোভাবে উপস্থাপন করেছেন এত সুন্দর একটি রান্নার রেসিপি আমাদের মাঝে তুলে ধরবার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে
আমি চিংড়ি মাছ খাই কিন্তু পুঁইশাক খাই না কারণ পুঁই শাকের মধ্যে প্রচুর পরিমাণে এলার্জি রয়েছে পুঁই শাখ খাওয়া ডাক্তারের বারণ যার কারণে খাওয়া হয় না। তবে আজকে আপনি আমাদের সাথে চমৎকারভাবে শেয়ার করেছেন কিভাবে চিংড়ি মাছ দিয়ে বৈশাখের চচ্চড়ি তৈরি করা হয়ে থাকে আসলে এটা আমি প্রথম দেখলাম যাইহোক অসংখ্য ধন্যবাদ পুইশাক দিয়ে চিংড়ি মাছ চচ্চড়ি করার পদ্ধতি আমাদের সাথে তুলে ধরার জন্য ভালো থাকবেন।