পার্কে সময় কাটানোর মুহূর্ত
নমস্কার বন্ধুরা, সকলে কেমন আছেন ।আশা করছি সকলেই ভালো আছেন ।আজকে আবারো নতুন একটা পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি আপনাদের মাঝে। আশা করি সকলেরই ভালো লাগবে।
গত দুদিন ধরে প্রচন্ড গরম পড়ছে।সারাদিন ঘরে থাকার পর বিকেলে বাইরে বেরোতে একটু হলেও মন চাই। সারাদিন চার দেওয়ালের মধ্যে থাকতে থাকতে গরমে মাথার মধ্যে অস্বস্তি হতে শুরু হয়। এখন একটু কাজের চাপ কম আছে তাই রোজ বিকেলেই একটু করে বের হতে পারছি। অনেক সময় কাজের চাপ কম হলেও সঙ্গী না থাকার জন্য বাইরে বেরোতে পারি না। তখন প্রত্যেকদিন বিকেল বেলায় একটু করে দিদার সাথে দেখা করতে চাই। তাও মনটা একটু ভালো হয়ে যায়। আমাদের কৃষ্ণনগরে এখন অনেক ভালো ভালো রেস্টুরেন্ট, এ ছাড়া পার্ক ,অনেক সুন্দর সুন্দর ঘোরার জায়গা রয়েছে। কিন্তু আমার খুব একটা যাওয়া হয়ে ওঠে না। সবসময়ই সব জায়গাতে টোটো করে কিংবা হেঁটে হেঁটে যাওয়া সম্ভব হয়ে ওঠে না।
বাড়িতে একটা গাড়ি থাকলে গাড়ি করে যেতে সুবিধা হয়। এখন যা দিনকাল পড়েছে টিভি কিংবা খবরের কাগজ খুললেই প্রত্যেক দিনই বাইক অ্যাক্সিডেন্ট তো লেগেই রয়েছে। তাই এখনো পর্যন্ত আমার শ্বশুর, শাশুড়ি আমার বর কে বাইক কিনে দেওয়ার সাহস হয়ে ওঠেনি। একটা মাত্র ছেলে ভীষণ আদরের। আমার বরের মত হয়তো অনেক মা-বাবারই একমাত্র সন্তান রয়েছে ।একমাত্র সন্তান হলে খুবই আদরের হবে। কিন্তু আমার বর যে কতটা আদরের সেটা আমি বলে বোঝাতে পারবো না। আমার বাড়ির আশেপাশে যাদের বাড়ি রয়েছে তারা নিজে চোখে দেখে আর হাঁসাহাঁসি করে। ওর মা-বাবা ওকে এখনো ছোটই ভাবে। আমার ও মাঝে মাঝে বিরক্ত লাগে।আমার বরের কোন বায়না নেই। মা- বাবা পছন্দ করে না ।তাই ও আর বাইক কেনার জেদ ধরে না। যাইহোক আমার ছোট মামার একটা ইলেকট্রনিক্সের স্কুটি রয়েছে ।মেজ মামারও রয়েছে। কিন্তু আমাদের সকলের ছোট মামার সাথে একটু ভালো বন্ধুত্ব রয়েছে। আমরা সকলেই বন্ধুর মতো মিশি।
বর কয়েকদিন ধরেই বায়না ধরছিল ছোট আমার স্কুটি করে ঘুরতে যাওয়ার জন্য। মামা প্রত্যেকদিন বাড়ি থাকে না। গতকালকে বাড়ি ছিল। তাই মামার স্কুটি টা নিয়ে দুজনে মিলে বেরিয়ে পড়েছিলাম কৃষ্ণনগরে একটা ছোট্ট পার্কে। এই পার্কটি আউটসাইডে তাই তেমন লোকজন যায় না । জায়গাটির নাম সন্ধ্যা মাঠ পাড়া।ওই দিকটা পঞ্চায়েত এলাকার মধ্যে পরে। জনবসতি বেশি হলেও কোনো ভালো দোকান, শপিংমল ঐদিকে কোন কিছুই নেই। কিন্তু এখন অনেক রেস্টুরেন্ট করা হয়েছে। পার্কে আসেপাশের মানুষজন দেখলাম ভালোই ভিড় করেছে। এই পার্কে বাচ্চাদের খেলার মত ভালো জিনিস রয়েছে। আমাদের বাড়ি থেকে অনেকটাই দূরে। তবে কদম তলা পার্কের থেকে এই পার্কটা বেশ সুন্দর। আমাদের বাড়ি থেকে প্রায় গাড়িতে পাঁচ মিনিট সময় লাগে যেতে। কয়েকদিন আগে ফোনে দেখছিলাম এই পার্কের ভিডিও। বরকে দেখানোর সাথে সাথে বলল ঠিক আছে আমি তোমাকে ঘুরতে নিয়ে যাব। এর আগে কখনো ওই পার্কে যাওয়া হয়নি। পার্কটির নাম ডঃ বিধান চন্দ্র রায় শিশু উদ্যান।
তাই গতকাল চলে গিয়েছিলাম দুজনে বিকেল বেলায় একান্তে সময় কাটানোর জন্য। এই প্রথমবার বরমশাই আমাকে স্বইচ্ছায় পার্কে বেড়াতে নিয়ে গিয়েছিল। কোনরকম জোড়াজড়ি করতে হয়নি। সেখানে দুজনে বেশ খানিকটা সময় কাটিয়েছিলাম। বাইরে ঠান্ডা ঠান্ডা ঝোড়ো হাওয়া বইছিল। কিন্তু বৃষ্টির নামে কোন নামগন্ধ নেই ।এদিকে আকাশে বিদ্যুতের ঝলকানি। তাই আকাশে মেঘ দেখে বেশিক্ষণ থাকা হয়নি। এই পার্কে বাচ্চাদের অনেক খেলার দোল্লা রয়েছে। বাচ্চারা খুব আনন্দ সহকারে পার্কে খেলাধুলা করছে। আমরা দুজনে বেশ খানিকক্ষণ ঘোরাঘুরি করে পার্ক দেখলাম। পার্কে ছোট ছোট সুন্দর ফুলের গাছ রয়েছে। গাছগুলোকে বেশ সুন্দর করে কাটা হয়েছে। বর্ষার জল পেয়ে গাছ গুলো তরতাজা হয়ে উঠেছে।
পার্কের পাশে রয়েছে একটা ছোট্ট ক্যাফে ।সেখানে আমার বর চা আর চিকেন চাওমিন অর্ডার দিয়েছিল ।ওখানে বসে দুজনে গরমে গরম দুধ চা খেয়ে নিয়েছিলাম। কিন্তু আকাশের অবস্থা দেখে বসে চাউমিন খাওয়ার আর সাহস পেলাম না। তাই ওটা প্যাক করে দুজনেই আবার বাড়ির পথে রওনা দিয়েছিলাম। দুজনে মাঝে মাঝে এরকম একান্তে সময় কাটাতে বেশ ভালো লাগে। কিন্তু কোথাও যাওয়ার আগে আমার বরকে এত জোরাজুরি করে করতে হয়। তাই শেষে আর যাওয়া হয়ে ওঠেনা। কিন্তু বাড়ি ফেরার পর বৃষ্টির কোনো দেখা মেলেনি।আজ ও প্রচন্ড গরম। গরমে মানুষকে অস্থির করে তুলেছে। পার্কটা আমার খুব ভালো লেগেছে।
আজ এই পর্যন্তই। আবারো নতুন কোন পোস্ট নিয়ে হাজির হব আপনাদের মাঝে। সকলে ভালো থাকুন।সুস্থ থাকুন।
আপনার সাথে আমিও সহমত পোষণ করছি আসলে দিনের পর দিন চার দেয়ালের মধ্যে বন্দি থাকতে থাকতে আমাদের জীবনটাই কেমন যেন অন্যরকম হয়ে যায় তবে বর্তমান সময়ে চারপাশে যেভাবে অ্যাক্সিডেন্টের কথা শোনা যাচ্ছে বাড়ি থেকে বের হওয়ার কথাও চিন্তা করলে অনেক বেশি ভয় লাগে।
আপনি ঠিকই বলেছেন যাদের একটা মাত্র সন্তান তাদের বাবা-মা তাদের সন্তানকে অনেক বেশি আদর করে থাকে আর নিজের সন্তানকে কখনোই তারা চায় না মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিতে তাই হয়তোবা আপনার শশুর শাশুড়ির এখনো সাহস হয়ে ওঠেনি আপনার হাসবেন্ডকে একটা বাইক কিনে দেয়ার।
আপনার হাসবেন্ড সহ আপনারা বিকেলে ঘুরতে বের হয়েছেন একটা পার্কে গিয়ে অনেকটা সময় কাটিয়েছেন সেই সাথে বসে দুইজন গরম গরম চায়ের সাথে চিকেন চাওমিন অর্ডার করে খেয়েছিলেন যেটা দেখতে আসলে অনেক বেশি লোভনীয় দেখাচ্ছিল যাই হোক নিজের প্রিয় মানুষের সাথে কাটানো আনন্দঘন মুহূর্তগুলো আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ ভাল থাকবেন।