নিমন্ত্রণ বাড়িতে যাওয়ার পথে ভোগান্তি
নমস্কার বন্ধুরা, সকলে কেমন আছেন? আশা করছি সকলেই ভালো আছেন ।আজকে আবারো নতুন একটা পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি আপনাদের মাঝে আশা করছি সকলেরই ভালো লাগবে।
বোনের বিয়ে হয়ে গেছে বেশ কিছু মাস কেটে গেছে। বোনের বিয়ের সমস্ত কিছুই আপনাদের মাঝে শেয়ার করে নিয়েছিলাম । কোন পরিস্থিতিতে হয়েছিল সেটাও আপনারা যারা আমার পোস্ট পড়েন সকলেই জানেন।বোনের বিয়ের মাত্র একদিন পরে তার ঠাকুরমা শাশুড়ি মারা গিয়েছিল। তার সমস্ত নিয়ম-কানুন কেটে যাওয়ার পরে আমাদের নিমন্তন্ন করা হয়েছিল। তার শ্রাদ্ধ অনুষ্ঠানে যাওয়ার জন্য। এই নিমন্তন্ন রক্ষা করার জন্য সেদিন আমাদের সকলকে যেতে হয়েছিল। বাড়ি থেকে শাশুড়ি মাকে যাওয়ার জন্য বলেছিলাম । প্রথমে রাজি হলেও কিন্তু পরে উনি নতুন কুটুমবাড়ি শ্রাদ্ধ অনুষ্ঠানে যাওয়ার জন্য রাজি হয়নি। আমার বোনের বাড়ি আমাকেই নেমন্তন্ন রক্ষা করতেই হবে, প্রথমে মামার বাড়িতে কেউ কেউ যেতে রাজি হচ্ছিল না। কারণ আমাদের কৃষ্ণনগর থেকে অনেকটাই দূরে। আর আমিও বারবার বলছিলাম যাবনা। তাই মামারা প্রথমে বলছিল যাব না।
আগের দিন সন্ধ্যা বেলায় হঠাৎ করেই ঠিক করা হয় যাবার জন্য । নতুন কুটুমবাড়ি না গেলে মানসম্মানের ব্যাপার তাই মানসম্মান রক্ষা করার জন্য যাওয়া।তাই রাতের বেলাতেই একটা গাড়ি ঠিক করে রাখা হয়েছিল। অচেনা একটা গাড়ি।আসলে আমরা কেউ কোনদিন ওখানে যায়নি। কেউ আমরা চিনি ও না। বোনের বিয়ে হয়েছে মাটিয়ারীতে। আমাদের কৃষ্ণনগর থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার।কিন্তু ঠাকুরমা শাশুড়ি থাকতো কাটোয়ার নামে একটি জায়গায়। মানে মাটিয়ারী থেকে আরো অনেক কিলোমিটার যেতে হয়।কাটোয়া তে বোনের শ্বশুরমশায়ের আরেকটি বাড়ি রয়েছে। ওখানে ঠাকুরমা শাশুড়ি আর বোনের বড় ভাসুর থাকে। সেই মতো আমরা একটা গাড়ি ঠিক করেছিলাম। পরের দিন সকালে সাড়ে দশটা থেকে এগারোটার মধ্যে বেরিয়ে পড়েছিলাম গন্তব্যস্থলে যাবার জন্য। আমার বর বলেছিল যাব ।তাই ওর জন্য অপেক্ষা করতে গিয়ে দেরি হয়েছিল। এর আগেও অনেক পোস্টে বলেছিলাম আপনাদের মাঝে আমার বরের সময় জ্ঞান একেবারেই নেই। তাই সময়ে ও আসতে পারিনি বলে আমরা রাগ করে বেরিয়ে পড়েছিলাম।
কৃষ্ণনগর থেকে খানিকটা চলে যাবার পর তখন বর ফোন করে জিজ্ঞেস করছিল ।তখন মামা রাগ করে বলে আমরা বেরিয়ে চলে এসেছিলাম। যাইহোক সেদিন ছিল একেবারে কড়া রোদ। প্রচন্ড গরম।খুব ভালোভাবেই অনেকটা রাস্তা চলে গিয়েছিলাম। যাবার পর খানিকটা দূরে গিয়ে দেখি রাস্তায় এক জায়গায় একটা অ্যাক্সিডেন্ট হয়েছিল। তাই ওখানে রাস্তা আটকে দিয়েছিল। হাইরোডের উপর দিয়ে রাস্তা আটকে দিলে ভীষণ অসুবিধা হয়। এরপর কোথা দিয়ে যাব ঠিক করতে পারছিলাম না। কারণ আমরা রাস্তা সঠিক ভাবে চিনতাম না। রাস্তাতে কিছু পুলিশ ছিল তা ওনাদের জিজ্ঞেস করাতে ওনারা রাস্তা দেখিয়ে দিয়েছিল। যাইহোক একেবারেই মাঠের মধ্যে দিয়ে রাস্তা সরু রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করতে ভীষণ অসুবিধা হয়। তাতে আবার ওই রাস্তাতে চাষীরা তাদের জিনিস পত্র আনতে ব্যস্ত।রাস্তার মোড়ে মোড়ে প্রত্যেককে জিজ্ঞেস করতে করতে যাওয়া হয়েছিল।
রাস্তা ভীষণই খারাপ ছিল ।যেখানে আমাদের দু ঘন্টায় পৌঁছানোর কথা সেখানে আমাদের চার ঘণ্টা সময় লেগেছিল। এদিকে মামি বিরক্ত হয়ে যাচ্ছিল।একেতেই মামি কোথাও বেড়োতে চায় না।জোড় করে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।আসলে অতটা রাস্তা গরমের মধ্যে যাওয়া সত্যিই দুষ্কর ব্যাপার। গ্রামের পুকুর ,মাঠ, ঘাট , চাষের জমির সবুজ ক্ষেত সমস্ত দেখতে দেখতে আমরা যাচ্ছিলাম। আমি তো ভীষণ আনন্দ পাচ্ছিলাম।একবার তো অন্য রাস্তাতে ঢুকে পড়েছিলাম। সেখানে খানিকটা যাবার পর আবারো গাড়ি ব্যাক করে ঠিক রাস্তাতে যাচ্ছিলাম। চারিদিকে ছিল শুধুই মাঠ,বিল, পুকুর এর মধ্যে রাস্তা চেনা বড়ো দায় হয়ে দাঁড়িয়েছিল।এই করতে করতে মেন রোডে উঠে পড়েছিলাম। মেইন রোডে উঠে পড়লে আর কোন সমস্যা ছিল না। সত্যিই সেদিন যাওয়ার সময় ভীষণ অসুবিধা হয়েছিল ।এই রকম সমস্যায় পড়লে সকলেরই অসুবিধা হয়। যাইহোক এরপরের মুহূর্ত আপনাদের মাঝে পরের পোস্টটিতে শেয়ার করে নেব।
আজ এইখানেই শেষ করছি । আবারো নতুন কোন পোস্ট নিয়ে হাজির হব আগামীকাল। সকলে ভালো থাকুন ,সুস্থ থাকুন।
Thank you 🙏