গ্ৰামের মিষ্টি শীতের সকাল
নমস্কার বন্ধুরা, সকলে কেমন আছেন ?আশা করছি সকলেই ভালো আছে। আজকে আবারো নতুন একটা পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি আপনাদের মাঝে। আশা করছি সকলেরই ভালো লাগবে।
আজকে বাপের বাড়ি থাকাকালীন গ্রামের মিষ্টি সকালের মুহূর্ত আপনাদের মাঝে তুলে ধরবো। কিছুদিন আগেও বেশ ভালোই ঠান্ডা ছিল। কিন্তু গতকাল আর আজকে একদমই ঠান্ডা কম। ঠান্ডা নেই বললেই চলে। আর কিছু দিনের মধ্যেই আবার সেই ফিরে আসছে গরম। তবে যত শীত পড়ুক না কেন আমার সর্বদা শীতকাল ভীষণ প্রিয়। গ্রামে থাকাকালীন প্রত্যেকটা দিন প্রত্যেকটা মুহূর্ত খুব মজা করে কাটিয়েছিলাম। সকাল বেলায় ঘুম থেকে একদমই উঠতে ইচ্ছে করতো না। আপনারা যারা প্রত্যেকদিন আমার পোস্ট পড়ে থাকেন। তারা সকলেই আমার বাপের বাড়ি অনেক কিছু বর্ণনাই পেয়েছেন। বাড়ির পিছনেই ফাঁকা মাঠ। সকালবেলায় হতে না হতেই চাষের বিভিন্ন রকমের কাজকর্ম শুরু হয়ে যায়। এছাড়াও আশেপাশে বাড়ির মহিলারা সকলেই ভোরবেলায় ঘুম থেকে উঠে পড়ে।
রীতিমতো আমারও প্রত্যেকটা দিন সকাল সকাল ঘুম ভেঙে যেত। সেদিন ঘুম থেকে উঠেই বাড়ির পিছনে যেতেই অনেক কিছুই চোখে পড়ল। এর আগেও গ্রামের মিষ্টি সকালের গল্প শেয়ার করেছি ।তবে প্রত্যেক দিনের সকালের গল্প এক রকম হয় না। একেক দিন একেক রকম জিনিস দেখতে পাওয়া যায়। বেশ খানিকটা বেলা হয়ে গিয়েছিল। সূর্যের রোদটা বেশ মিষ্টি লাগছিল রোদ থেকে একদমই ভিতরে ঢুকতে ইচ্ছে করছিল না। বাড়ির পিছনে অনেকেই গম গাছ, জব গাছ লাগানো রয়েছে ।সেই গাছের ডালে কুয়াশার শিশিরের বিন্দু বিন্দু জমে রয়েছে। সূর্যে আলোয় আরো ঝলমল করছে। আমার ফোনে ভালো ছবি ওঠেনা। তাও আমি ছবিগুলো তোলার চেষ্টা করেছি আপনাদের মাঝে শেয়ার করব বলে। পাশে জমিগুলোতে লাঙ্গল দিয়ে বীজ ছেটানো রয়েছে চাষ করার জন্য ।সেই সব জমিতে কত পাখি এসে বীজগুলো খেয়ে নিচ্ছিল। প্রথমে আমি বুঝতে পারিনি । পাখিগুলো দেখে মাকে জিজ্ঞেস করতে মা বলল পাখিগুলো বীজ খাচ্ছে। জমিতে বীজ ছড়ানো রয়েছে।দূরে দেখা যাচ্ছিল অনেক বক তারাও হয়তো জমিতে লাগানো বীজগুলো কিংবা পোকামাকড় খুঁটে খুঁটে খাচ্ছিল।
বাড়ির পিছন থেকে সামনের দিকে আসতে চোখে পড়ল রংবেরঙের ফুলের গাছ। আমার বোন বাড়িতে ছোট্ট ছোট্ট চন্দ্র মল্লিকা ফুলের গাছ লাগিয়েছে। সেই গাছ ভর্তি কুড়ি এসে গাছগুলো ঢলে পড়েছে। বেশ কিছু গাছে হলুদ রঙের ছোট্ট ছোট্ট চন্দ্রমল্লিকা ফুল ফুটে রয়েছে। এই সমস্ত ফুল গাছগুলি আমাকে আমার মেজ বোনের বর দিয়েছিল ।বাড়িতে নিয়ে এসে লাগানোর জন্য ।কিন্তু সেই সময় আমি বেশ কিছুদিন বাপের বাড়িতে ছিলাম ।গাছগুলো মরে যাবে ।তাই ওখানেই লাগানো হয়েছিল। কিন্তু এখন এত ফুল ফুটেছে গাছ গুলোতে নিজেরই লোভ লাগে। সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে গাছ ভর্তি ফুল দেখে মনটা খুবই ভালো হয়ে যায়।
আজ এইখানেই শেষ করছি। আবারো নতুন কোন গল্প নিয়ে হাজির হবো আগামীকাল।
খুব সুন্দর একটা পরিবেশ খুব সুন্দর একটা সকালের বর্ণনা শুনলাম আপনার কাছে, আপনার লেখা পড়ে জানতে পারলাম আপনার শীতকাল খুব পছন্দ, আমি খানিকটা উল্টো শীতকালটা আমার খুব একটা ভালো লাগে না। কারণ শীতকালে আমি খুব বেশি অলস হয়ে যাই, শীতের সকালটা অলসতার মধ্যেই কেটে যায়। কিন্তু শীতের সময় বিকেল বেলা কিংবা অনেক রাতের বেলা ঘুরতে বের হওয়া যায়, ঘোরাঘুরির জন্য শীত কাটা সবসময় পারফেক্ট।
আপনার গ্রামের শীতের সকালের বর্ণনা পড়ে মনটা একদম প্রশান্তিতে ভরে গেল! কুয়াশার শিশিরবিন্দু, জমিতে চাষের দৃশ্য, রোদের মিষ্টি উষ্ণতা সব মিলিয়ে যেন প্রকৃতির এক অসাধারণ ছবি ফুটে উঠেছে। চন্দ্রমল্লিকা ফুলের গাছের কথা পড়ে তো মনে হলো, সকালবেলায় ফুলে ভরা গাছ দেখে সত্যিই মন ভালো হয়ে যায়! আপনার বর্ণনায় গ্রামের প্রকৃতি যেন চোখের সামনে ভেসে উঠল। অসাধারণ।
আমরা যারা গ্রামে বাস করি তারা কিন্তু গ্রামের মিষ্টি সকালের রোদ উপভোগ করতে পারি আর গ্রামের মধ্যে যারা রয়েছে চারপাশে সবুজ শ্যামলের ঘেরা প্রকৃতির সৌন্দর্য যেমন উপভোগ করতে পারি ঠিক তেমনি প্রকৃতির খুব কাছাকাছি গিয়ে নিজের মনের অনুভূতি প্রকাশ করতে পারি আমি তো মোটামুটি সবাইকেই বলি যদি মন খারাপ থাকে তাহলে কিছুটা সময় প্রকৃতির কাছে গিয়ে হাঁটাহাঁটি করুন দেখবেন মন এমনিতেই ভালো হয়ে যাবে অসংখ্য ধন্যবাদ প্রকৃতির মাঝে কাটানো আনন্দঘন মুহূর্তটা আমাদের সাথে উপস্থাপন করার জন্য ভালো থাকবেন।