সরস্বতী পূজার প্রথম দিন ঠাকুর দেখা

in Incredible Indialast year

নমস্কার বন্ধুরা, সকলে কেমন আছেন ?আশা করছি সকলেই খুব ভালো আছেন। আজকে আবারো নতুন একটা পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি আপনাদের মাঝে। আশা করি সকলেরই ভালো লাগবে।

IMG20250203191120.jpg

প্রত্যেক বছর মাঘ মাসের শুক্লপক্ষের পঞ্চমী তিথিতে সরস্বতী পুজো হয়। ঠিক তেমনি এ বছরেও মাঘ মাসে ১৯ তারিখ এবং কুড়ি তারিখ দুটো তারিখেই পড়েছিল সরস্বতী পুজোর তিথি। আমাদের এখানে ১৯ তারিখে অনেকে পুজো করেছে কারণ কুড়ি তারিখে সকাল ন'টা পর্যন্ত ছিল পঞ্চমী। আবার অনেকে কুড়ি তারিখেও পূজো করেছে। অর্থাৎ সোমবার দিন। সেই ছোটবেলা থেকে দেখে আসছি মা, দিদা সরস্বতী পূজার দিন সকালবেলায় ঘুম থেকে টেনে তুলে কাঁচা হলুদ বেটে মাখিয়ে দিত। তারপরে ঠান্ডা জলে স্নান করা ।ব্যাপারটা এখন মনে পড়লে ভীষণ হাসি পায়। সরস্বতী পূজা স্নান করানোর পর শাড়ি পরিয়ে কাদের বাড়িতে আগে পুজো হবে সেটা খুঁজে খুঁজে বেড়াতাম। সরস্বতী পুজোর অনেকদিন আগে থেকেই ঠিক করতে হতো কার শাড়ি পরবো ।কারণ ছোটবেলায় বড়দের শাড়ি ছোটদের পড়ানো খুবই অসুবিধা হতো। শাড়ি পড়া হয়ে গেলে যার বাড়িতে আগে পুজো হতো তার বাড়িতে ঢুকে অঞ্জলি দিয়ে দিতাম। কারণ আমাদের বাড়িতে সরস্বতী পুজো হতো না।

IMG20250203192434.jpg

অচেনা যে কারোর বাড়িতে ঢুকে অঞ্জলি দিয়ে দিতাম। মামার বাড়ি সামনেই ছিল বারোয়ারী। সেখানেও সরস্বতী পূজা করা হতো। কিন্তু ঠাকুরমশাই বারোয়ারিতে পুজো করতে সবার শেষে আসতো। অনেকটা দেরি হয়ে যেত। অনেক বেলা পর্যন্ত ছোটবেলায় না খেয়ে থাকা সম্ভব হতো না। বাড়ির লোকেরা ভাবত বেশি বেলা হলেই কিছু খেয়ে নেব হয়তো ।তাই সকাল সকাল অঞ্জলি দেওয়া করিয়ে তারপরে খেতে দিত। আর কুল খাওয়ার ব্যাপারটা মনে পড়লে আরো হাসি পায় ।ছোটবেলায় অনেক গাছ থেকে কুল পেড়ে বেড়াতাম। কিন্তু খুব কষ্ট করে থাকতে হতো সরস্বতী পুজো না হলে নাকি কুল খেতে নেই। কিন্তু এখন তেমন কোন ব্যাপার না। সরস্বতী পুজোর আগেই কুল খেয়ে ফেলি। বাড়ির লোকেরা বলতো সরস্বতী পুজোর আগে কুল খেলে নাকি পরীক্ষায় পাস করতে পারবো না। তাই ভয়ে ছোটবেলায় সরস্বতী পুজোর আগে কোনদিন কুল খেতাম না।

IMG20250203194726.jpg

প্রত্যেক বছরের মত এ বছরেও সকালবেলায় ঘুম থেকে উঠে নিজে নিজেই হলুদ মেখে স্নান করে নিয়েছিলাম ।এ বছরে আমাদের অঞ্জলি হবে না। আপনারা সকলেই শুনেছিলেন এ বছরই আমার জেঠু শ্বশুর মারা গিয়েছিলেন। এখনো তার এক বছর কমপ্লিট হয়নি। এবার শুরু করি ঠাকুর দেখার গল্প। প্রত্যেক বছরই ঠাকুর দেখতে বের হয়। ঠিক তেমনি এবছরেও আমি ,আমার বোন আর মামার মেয়ে তিনজন মিলে ঠাকুর দেখতে বেরিয়েছিলাম। কৃষ্ণনগরে তো ঠাকুর দেখে শেষ করা যাবে না ।এখন কৃষ্ণনগরে সরস্বতী পূজার প্রচুর ধুম শুরু হয়ে গেছে।

IMG-20250203-WA0006.jpg

এত পরিমাণে ঠাকুর হয়েছে তা বলার কথা নয়। আমরা তিনজনে হাঁটতে হাঁটতে ঠাকুর দেখে বেরিয়েছিলাম। আমার তো মনে হয় হেঁটে ঠাকুর দেখার মজাই আলাদা। কিন্তু এখন সকলেই বাইকে কিংবা টোটো তে করে ঠাকুর দেখে বেড়াই। গতকাল ঠান্ডা কম ছিল। বাড়ি থেকে বেরিয়েছি প্রায় ছটা নাগাদ রাত আটটার মধ্যে প্রচুর ঠাকুর দেখে ফেলেছিলাম। একেক প্রতিমার এক এক রকম সাজে সুসজ্জিত ।দেখতে অপূর্ব লাগছিল ।আবার কোথাও বিভিন্ন রকমের প্যান্ডেল তৈরি করা হয়েছে। রাস্তায় মোড়ে মোড়ে অনেক জায়গায় অনুষ্ঠান করা হচ্ছে। ঠাকুর দেখার জন্য রাস্তায় মানুষের ভিড়।

IMG20250203195513.jpg


আজ এখানেই শেষ করছি। আবার নতুন কোন গল্প নিয়ে হাজির হব আপনাদের মাঝে।

Sort:  
Loading...
 last year 

কিছু দেখার জন্য যদি আপনি বের হন তাহলে আমি মনে করি হাঁটতে হাঁটতে দেখাটা অনেক বেশি উত্তম এতে করে আপনি সেই অনুষ্ঠানগুলোর আনন্দ সঠিকভাবে উপভোগ করতে পারেন এবং সঠিকভাবে প্রতিটা জিনিস স্বচক্ষে দেখতে পারেন আপনারা তিনজন ঠাকুর দেখতে বের হয়েছেন আপনি লিখেছেন এত পরিমাণে প্রতিমা তৈরি হয়েছে যেটা বলার বাহিরে নয় যেহেতু ভারতবর্ষের বেশিরভাগ হিন্দু ধর্মাবলম্বী মানুষ বসবাস করে তাই ওখানে পুজোর পরিমাণটা একটু বেশি এবং প্রতিমার পরিমান টা একটু বেশি হবে এটাই স্বাভাবিক অসংখ্য ধন্যবাদ ঠাকুর দেখতে যাওয়ার মুহূর্ত আমাদের সাথে উপস্থাপন করার জন্য ভালো থাকবেন।

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.32
JST 0.085
BTC 60680.17
ETH 1603.99
USDT 1.00
SBD 0.42