এগরোল বানানোর রেসিপি
আপনারা সকলে কেমন আছেন? আশা করি ভালো আছেন। আমিও ভালো আছি। আজকে আমি একটি নতুন রেসিপি নিয়ে হাজির হয়েছি আপনাদের মাঝে। আশা করি আপনাদের ভালো লাগবে।
এর আগের পোস্টে আমি পনির রোল রেসিপি শেয়ার করেছিলাম। আশা করি আপনাদের ভালো লেগেছে। এগরোল খেতে আমরা প্রত্যেকেই ভালোবাসি। বিশেষ করে কোন মেলায় বেড়াতে গেলে আগে আমরা এগরোল কিনে খাই। মেলায় যত এগ রোলে দোকান দেয় ।সব দোকানেই দেখি মানুষের ভিড়। ছোট থেকে বড় সবাই আমরা এগরোল খেতে ভালবাসি। তবে দোকানে কিনে খাওয়ার থেকে বাড়িতে তৈরি করে খাওয়া খুবই স্বাস্থ্যকর।
আমি তো দোকানে জিনিস কিনে খেতে একদমই পছন্দ করি না। আমি বাড়িতে ঘরোয়া পদ্ধতিতে এগরোল বানিয়েছিলাম। আমি এর আগের পোস্টটি বলেছিলাম। এই সব ধরনের মুখরোচক খাবার খেতে আমার বর খুব পছন্দ। ও যখনই আসে তখনই আমাকে কিছু না কিছু বানিয়ে দিতে হয়। চলুন তাহলে শুরু করি এগ রোল বানানোর পদ্ধতি।
| নং | সামগ্রী | পরিমাণ |
|---|---|---|
| ১ | সাদা ময়দা | ২৫০ গ্ৰাম |
| ২ | সাদা তেল | পরিমাণ মতো |
| ৩ | ডিম | ৫ টা |
| ৪ | বিট লবণ | পরিমাণ মতো |
| ৫ | শসা | ১ টা |
| ৬ | গাজর | ১ টা |
| ৭ | পেঁয়াজ | ১ টা |
| ৮ | কাঁচা লঙ্কা | ২টো |
| ৯ | ধনেপাতা | পরিমাণ মতো |
| ১০ | টমেটোর সস | পরিমাণ মতো |
প্রথম ধাপ
প্রথমে আমি সাদা ময়দা নিয়েছি । ময়দা তে সামান্য পরিমাণে সাদা তেল আর লবণ দিয়ে ভালো করে মিশিয়ে নিয়েছি ।এরপর পরিমাণ মতো জল দিয়ে ময়দা টাকে মেখে রেখে দিতে হবে।
দ্বিতীয় ধাপ
এরপরে মেখে রাখা ময়দাটা রুটির মত লেচি কেটে নিতে হবে। লেচি গুলো রুটির মত গোল করে বেলে নিয়েছি।
তৃতীয় ধাপ
গ্যাসে ফ্রাইপ্যান বসিয়ে গরম হয়ে গেলে প্রথমে রুটি গুলো সেকে নিতে হবে।
চতুর্থ ধাপ
এরপর রুটি গুলোকে সাদা তেল দিয়ে ভাজতে হবে। যেমন করে পরোটা ভাজা হয়।
পঞ্চম ধাপ
আমি একটা করে ডিম একটা বাটিতে ভেঙে। তার মধ্যে সামান্য লবণ দিয়ে ভালোভাবে ডিমটাকে ফাটিয়ে নিয়েছি ।এরপর পরোটা ভাজা হয়ে গেলে ফাটিয়ে নেওয়া ডিমটাকে ফ্রাই প্যানের উপর ঢেলে দিতে হবে ।
ষষ্ঠ ধাপ
ডিমটা উল্টালে হবে না । ডিম একদিক ভাজা হবে। আর একদিকে কাঁচা অবস্থার উপরই পরোটা টাকে দিয়ে ভাঁজতে হবে।
সপ্তম ধাপ
দুই দিক ভালো করে ভেজে নেবার পর ফ্রাইপ্যান থেকে নামিয়ে নিতে হবে।
অষ্টম ধাপ
আমি প্রথমে শসা, গাজর ,পেঁয়াজ ,কাঁচালঙ্কা, ধনেপাতা , কুচি কুচি কেটে রেখে দিয়েছিলাম। এগুলো আমি স্যালাড হিসাবে ব্যবহার করেছি।
নবম ধাপ
এরপর আমি এগরোলের রুটি টার উপর সমস্ত রকম স্যালাড দিয়ে দিয়েছি। স্যালাড দেওয়ার পর স্যালাড এর উপর টমেটো সস ।আর সামান্য পরিমাণে বিট লবণ ছিটিয়ে দিয়েছি।
দশম ধাপ
এরপর নিচে কাগজ দিয়ে এগরোলের মতো রোল তৈরি করে নিলেই তৈরি হয়ে যাবে বাড়িতে বানানো এগরোল।
আমি খুব সহজেই তৈরি করে ফেলেছিলাম এগরোল। আপনারাও বাড়িতে অল্প সময়ের মধ্যে কম খরচে তৈরি করে ফেলুন এগরোল। দোকানে কিনে খাওয়ার থেকে বাড়িতে তৈরি করে ফেলুন এগরোল। আমি এগরোল বানাতে বিশেষ কিছু উপাদান ব্যবহার করিনি। সমস্ত সবজি গুলোই বাড়িতে ছিল। খেতেও খুব সুস্বাদু হয়েছিল। দোকান থেকে কিনে খাওয়া স্বাস্থ্যের পক্ষে খুবই ক্ষতিকর। আমি আমার পরিমাণ মতো স্যালাড ব্যবহার করেছি ।আপনারা চাইলে আপনাদের পরিমাণ মতো ব্যবহার করবেন। আমি পাঁচটা এগরোল বানিয়েছিলাম ।তাই পাঁচটা ডিম ব্যবহার করেছি। সব কিছুই আপনারা আপনাদের পরিমাণ মতো ব্যবহার করবেন।
আজ এইখানে শেষ করছি ।আশা করি আপনাদের ভালো লাগবে। আবার নতুন কোন রেসিপি নিয়ে হাজির হব আপনাদের মাঝে।
অসম্ভব সুন্দর একটি রেসিপি শেয়ার করেছেন খুবই মজাদার লাগছে আপনার রেসিপিটি।
তাছাড়া ঠিক কথা বলেছেন দোকানে থেকে কিনে খাওয়ার চাইতে বাড়িতে তৈরি করা অনেক ভালো। দোকানের খাবার খুব একটা স্বাস্থ্যকর হয় না তৈরি খাবার অনেকটা স্বাস্থ্যকর এবং শরীরের জন্য উপকার। ধন্যবাদ খুব সুন্দর শেয়ার করার জন্য।
আমার পোস্টে এত ভালো একটা কমেন্ট করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
আপনার এগরোল বানানোর রেসিপিটি অসাধারণ ছিল ।বাচ্চারা সাধারণ রুটি খেতে চায় না কিন্তু এভাবে যদি এগরোল বানিয়ে দেওয়া হয় তবে বাচ্চারা খুবই মজা করে খাবে। আর এই রোলটি বানাতে খুবই কম সময় লাগে। এটি বাচ্চাদের টিফিন হিসেবে দেয়া যায়।
রেসিপির প্রতিটি উপকরণ আপনি খুব সুন্দর ভাবে সাজিয়ে দিয়েছেন এবং প্রতিটি ছবি মাধ্যমে তা ফুটিয়ে তুলে ধরেছেন ।আপনার এই রেসিপিটি দেখে যে কোন ব্যক্তি খুব সহজে এটি তৈরি করে নিতে পারবেন ।সুন্দর একটি রেসিপি দেওয়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ ।
বাচ্চাদের তো একদমই বাইরের খাবার দেওয়া উচিত নয়। এভাবেই বাড়িতে তৈরি করে দেন এগ রোলের রেসিপি। বাচ্চারা খুব আনন্দ করেই খাবে। আমার পোস্টে এত ভালো একটা কমেন্ট করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।