প্রিয় বন্ধুরা।
আসসালামু আলাইকুম। আপনারা সবাই কেমন আছেন? আশা করছি সবাই ভালো আছেন। আমিও আল্লাহর অশেষ রহমতে আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি। আজ আপনাদের সামনে আমাদের গ্রামের বাড়ির চারিদিকের কিছু ফুলের ফটোগ্রাফি নিয়ে পোস্ট করবো। আপনাদের দোয়া নিয়ে লেখা শুরু করছি।
Edited by my oppo a95 phone
মাস দুয়েক হলো গ্রামে যাওয়া হয়না, শহরের আনাগোনার ব্যস্ততা যেন ফুরা-ই না। তাই তো মাদ্রাসার মাসিক ছুটিতে মা বাবার ভালোবাসার টানে ছুটে চললাম গ্রামের বাড়ির পথে। শহরের যানজট পেরিয়ে গ্রাম বাংলায় আরোহনরত অবস্থায় প্রশান্তির হাওয়ার শ্বাস নিলাম। এ যেন সত্যিই নিজেকে হালকা লাগছে।
রাস্তার দু'ধারে খোলা বড় বড় ক্ষেতের মাঠ। রংবেরঙের ফসলের উজ্জ্বলতা আমাকে মুগ্ধ করছে। ফসলসমূহকে ঘেঁষে আসা সমারোহ আন্তরিকতার সহিত আমার গায়ে মাখছে। চোঁখ শীতল করা প্রকৃতি দেখতে দেখতে কখন যে বাড়ির গন্তব্যে পৌছে গেলাম, বুঝতেই পারলাম না।
সিএনজি ড্রাইভার মামাকে তার প্রাপ্য ভাড়া দিয়ে বিদায় জানালাম। বাসায় ঢুকতেই আম্মুকে সালাম দিয়ে কুশল বিনিময় করলাম। জরুরত বা ফ্রেশ হয়ে আম্মুর হাতে রান্না খাইলাম। গ্রামের ফরমালিনমুক্ত সবজি দিয়ে। গ্রামের সবজি আর শহরের সবজির মধ্যে পার্থক্য বুঝতে পারলাম আম্মুর হাতে রান্না করা খাবার খেয়ে।
যাইহোক সারাদিন জার্নি করে বেশ ক্লান্ত। তাই দেরি না করে ঘুমানোর জন্য প্রস্তুত হলাম। গ্রামের বাড়িতে ঘুমিয়ে যে এত শান্তি অনুভব করলাম তা বুঝানো সম্ভব না। চারিদিকে নাই কোন হরেক রকমের গাড়ির হরেন, নাই কোন মানুষের ভিড় জমানো গুঞ্জন, চারিদিকে যেন মরুভূমি, একদম নিস্তব্ধতা। প্রায় আট ঘণ্টারও বেশি ঘুমে বিভোর ছিলাম। এ যেন ঘুম না, বরং মানসিক তৃপ্তি।
সেই কতদিন হলো আম্মুর ডাকে আমার ঘুম ভাঙ্গে না। আজ সেই আম্মুর ডাকে ঘুম থেকে জাগ্রত হলাম। আহ কি শান্তি...! ঘুমটা যখন পরিপূর্ণতা পায় তখন মানসিক ভাবে তৃপ্তি পায়। সেই তৃপ্তি নিয়ে উঠে গেলাম অজুর ইস্তিঞ্জার ঘরে। অজু ইস্তিঞ্জা সেরে ফজরের নামাজ আদায় করলাম।
নামাজ আদায়ান্তে সকালের সমৃদ্ধ আবহাওয়া গায়ে মাখাতে কিছুক্ষণ পায়চারি করার জন্য রাস্তায় বের হলাম। দেখতেই পাচ্ছেন ছবিতে দেখানো রাস্তাটি। হ্যাঁ এই রাস্তার বাম সাইটেই আমাদের বাসা। গাছ গাছালিতে ভরা তাই বাড়িটা দেখা যাচ্ছে না।
যাইহোক আজ তো একদম ফাঁকা, সকাল সকাল সবাই ঘুমোচ্ছে। রাস্তায় একমাত্র যারা নামাজ আদায় করে হাঁটতেছে তারাই রয়েছে। আমিও একা একা খালি পায়ে পায়চারি করছি। এভাবে কি আর শুধু পায়চারি করলে চলবে?
রাস্তার দু'ধারে দেখা যাচ্ছে ছোট ছোট গাছে ফুটন্ত ফুল ফুটে আছে, সেগুলোকে কি আমি মুঠোফোনে ফটোগ্রাফি না করে থাকতে পারি? তাই আর দেরি না করে আমার মোবাইলটা বের করলাম এবং আমার ফটোগ্রাফি শুরু করলাম।
এটাকে আমরা ভামোট গাছ বলে থাকি। এখানে আমি দুইভাবে ছবি তুলেছি, প্রথম টা বড় আকারে আর দ্বিতীয় টি ম্যাক্রো লেন্স দিয়ে। হয়তো বাস্তবে এতটা সুন্দর নাও দেখা যেতে পারে, বাট আমি আমার মত করে সুন্দর করে তোলার চেষ্টা করেছি।

এই গাছগুলোর নাম আমি জানিনা। প্রথম পিকে দেখেন সেই গাছের ছবি দিয়েছি। আর সেই গাছের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ফুল কে বড় আকাঁরে ছবি উঠাইছি।

এই ফুলের নাম গাঁদা ফুল। এই ফুল গাছটি আমার ছোট বোন বাড়ির ভেতরে লাগিয়েছিলো। অল্প সময়েই ফুল গাছটি বড় হয়ে ফুলের সমাহার হয়ে গেছে। এই ছবিতেও ফুল গাছ ও ফুলের আলাদা ছবি দেওয়া হলো।
| Device | Name |
| Android | Oppo A95 |
| Camera | LMC 8.4 |
| Location | Sirajganj, Bangladesh |
| Snoot By | @memamun |
আজ তাহলে এই পর্যন্ত ইতি টেনে বিদায় নিচ্ছি। ফটোগুলো কেমন লাগলো জানানোর অনুরোধ রইলো। সবাই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন আসসালামু আলাইকুম /আদাব।
Curated by - @yousafharoonkhan
Thank you for support. ❤️
প্রথমত আমি আপনাকে বলবো আমিও অনেকদিন হলো বাড়িতে যাই না আগামী একুশে ফেব্রুয়ারি এই দিনে বাসায় যাওয়ার নিয়ত আছে ইনশাল্লাহ ২০ তারিখে পরীক্ষা পরীক্ষা শেষ হলেই ২১ তারিখে চলে যাব। কতদিন হল যায় না ঠিক আপনার মতই।
গ্রামের মনোরম পরিবেশ আর শহরের পরিবেশের সাথে কখনোই খাপ খাইয়ে ওঠেনা তাই গ্রামের পরিবেশ চোখে শীতল করে তোলে। যাই হোক আপনার এই ফুলের ফটোগ্রাফি গুলো বেশ সুন্দর হয়েছে।
অনেক ধন্যবাদ ভাইয়া আপনাকে। আমার পোস্ট টি মনোযোগ সহকারে পড়ে সে অনুযায়ী মন্তব্য করার জন্য। দোয়া করি যেন পরিক্ষা টা শেষ করে সুন্দর ভাবে আল্লাহ তায়ালাগ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার তৌফিক দান করুক আমিন
আরে বাহ আপনি ফজরের নামাজ আদায় করে কিছুক্ষণ পায়চারি করছেন। তার সাথে অনেকগুলো ছবি শেয়ার করলেন। আমাদের সাথে আসলে ফুলের ফটোগ্রাফি এমনিতেই অনেক সুন্দর হয়। আপনার ফুলের প্রত্যেকটা ফটোগ্রাফি আমার কাছে খুবই ভালো লাগলো।
তার সাথে আপনি শেয়ার করেছেন। অনেকদিন পর আপনার মায়ের ডাকে আপনার ঘুম ভাঙলো। আসলে এটা খুবই সৌভাগ্যবান একটা বিষয়।
সৃষ্টিকর্তার কাছে কামনা করছি,সৃষ্টিকর্তা যেন আপনার মাকে অনেকদিন এই পৃথিবীতে বাঁচিয়ে রাখেন, ভালো থাকবেন।