বন্ধুর বিয়ের অনুষ্ঠান।
শুভ সকাল
আপনারা সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই ভাল আছেন এবং সুস্থ আছেন। আমার নাম মোঃ শাহিন আপনাদের সাথে যুক্ত রয়েছি মালয়েশিয়া থেকে। গত শনিবার দুপুর এক টার পরে আমি সহ আমার কোম্পানির সকল বন্ধুরাই বিয়েতে গিয়েছিলাম। আমাদের কোম্পানিতে দুই মাস হল নতুন জয়েন দিয়েছে সেই বন্ধুর বিয়ের দাওয়াতে।
যেহেতু শনিবার দুপুর একটা পর্যন্ত ডিউটি ছিল তাই বাসা থেকেই বিয়েতে যাওয়ার জন্য কাপড় নিয়ে এসেছিলাম একটার পরে কোম্পানির ভিতরে গোসল করে তারপর আমরা দুই বন্ধু ও আমার মামা তিনজন একটি গাড়িতে করেই বিয়েতে গিয়েছি।
মালয়েশিয়াতে বিয়ের অনুষ্ঠান ও সকল কার্যক্রম একদিন আগেই গুছিয়ে নেয়। তারপরের দিন মূলত খাওয়া দাওয়া ছবি উঠানো ঘোরাঘুরি করা এই আর কি । বিয়ে পড়ানো থেকে শুরু করে অন্যান্য আনুষঙ্গিক কাজ আগেই তারা সেরে নিয়েছিল।
বিয়ের অনুষ্ঠান অনেক বড় করেই করছে । আমাদের কোম্পানির মানুষ ছাড়া এখানে আমি আর কাউকেই চিনি না। আমাদের যাওয়ার আগে অনেকেই এখানে আসছে খাওয়া-দাওয়া শেষ করে তারা টেবিলে বসেছিল তারপর আমরা যাই। গেট সাজিয়েছে আর্টিফিশিয়াল ফুল দিয়ে দেখতে খুব সুন্দর লাগছে এগুলো সব কাপড়ের তৈরি ফুল। ভিতরে ঢোকার আগেই আমি একটি সেলফি নিলাম সামনে থেকে।
ভিতরে ঢুকতেই দেখতে পেলাম কোন টেবিল খালি নাই । এরা অনেক আগে থেকে আসছে অনেকে খাওয়া-দাওয়া শেষ করে বসে বসে গল্প করছে। টেবিল খালি না হওয়া পর্যন্ত বসতে পারছি না। এই সময়টুকু ঘুরে ঘুরে দেখছি খাবার কি কি আইটেম রয়েছে , বিরানি, সাদা ভাত, খাসির মাংস , মুরগির মাংস ও সব্জি।
দুই থেকে তিন রকম ফল ছিল। তারপর আরো দুইতিন প্রকার মালয়েশিয়ান পিঠা, ও কেক টেবিলে বসার আগেই এগুলো ঘুরে ঘুরে দেখছি। কোথায় কি খাবার রাখা আছে। যাই হোক অবশেষে একটা টেবিলে খালি হল আর সেখানে আমরা ছয় জন বসলাম ।
খাবারের আইটেম গুলো দেখে মনে হল যে আজকে কি পরিমাণ যে খাব সেটা কল্পনার বাইরে । তবে খাবার মুখে দিতেই একটু অনীহা চলে আসলো বাংলাদেশের খাবারে যেমন ঝাল ঝাল থাকে ।মালয়েশিয়াতে খাবারে সেরকম নয় এরা ঝাল পছন্দ করেনা। মুরগির মাংস ও মিষ্টি লাগে মনে হচ্ছে যে চিনি দিয়ে রান্না করছে। ছাগলে মাংস ও একই রকম। বাংলাদেশের খাবারের আলাদা রকম সুঘ্রাণ পাওয়া যায়। তবে এ দেশের খাবারে সেই সুঘ্রাণ টা পায়না।
যাইহোক মাশাল্লাহ দুপুর খুদার টানে তাও অনেকটা খেয়ে নিলাম বলা চলে মালয়েশিয়াতে থাকতে থাকতে অনেকটাই অভ্যাস হয়ে গেছে মিষ্টি তরকারি খাওয়ার। তবে মালয়েশিয়াতে যেসব জায়গায় তামিল মামারা রান্না করে তাদেরর রান্না অনেকটাই বাংলাদেশের মতো খাইতেও অনেক স্বাদ।
যাই হোক ৬ জন একটি টেবিলে বসে খাওয়া দাওয়া শেষ করলাম । তারপর কিছু সময় বসে রইলাম আমার অনেক বন্ধুরা তো এখানে ফ্যামিলি সহ এসেছে তাদের ছেলে মেয়ে নিয়ে এসেছে।
আমাদের কোম্পানি থেকে যে কয়েকজন ওখানে ছিলাম সর্বশেষ আমরা গ্রুপ ফটো উঠাই বর বউ সহকারে। অনেকদিন পরে আরো একটা বিয়ের দাওয়াত খেতে পেরে নিজের কাছে ভালোই লাগছিল। ছবি উঠানো শেষ হলে বরের হাতে কিছু হাদিয়া দিলাম। তারপর খাওয়া-দাওয়া শেষ করে আমরা বাসায় চলে আসি।
বন্ধুর বিয়ে মানে অনেক আনন্দ আর মজা। এর সাথে জমিয়ে খাওয়া দাওয়া করা। বিদেশে বিয়ের অনুষ্ঠানগুলো হয়তো একটু অন্যরকমের হয়। বিদেশে বিয়ের অনুষ্ঠানের কিছু ছবি শেয়ার করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।