কুড়িগ্রাম পৌর মাছ বাজার
সেদিন রাতের বেলা একটু কাজে মামার বাসায় গিয়েছিলাম। মামা হঠাৎ করে বলে উঠলো সে মাছ কিনতে পৌরবাজার যাবে। আমাকে বলল চলো দুজন মিলে বাজার থেকে ঘুরে আসি। আমিও ভাবলাম যাই একটু বাজার থেকে ঘুরে আসি বাসায় বসে থাকার থেকে ঘুরে আসলে ভালোই লাগবে।
তারপর আমরা দুজন মিলে মোটরবাইক নিয়ে বাসা থেকে বেরিয়ে পড়লাম বাজারের উদ্দেশ্যে। বাসা থেকে মোটর বাইকে বাজার যেতে সময় লাগে সাত থেকে আট মিনিটের মত। বাজার গিয়ে দেখলাম ট্রাকে করে কেবল মাছ নিয়ে আসা হলো। এ সময় মাছ কিনলে মোটামুটি ভালই টাটকা মাছ পাওয়া যাবে।
তারপর মাছ বাজারের ভিতরে ঢুকে দেখলাম বেশ বড় বড় মাছ বাজারে উঠেছে। বোয়াল মাছ, কালবাউশ মাছ, ইলিশ মাছ সহ আরো বিভিন্ন ধরনের মাছ চোখে পড়ল। সব থেকে বড় ব্যাপার মাছগুলো খুবই টাটকা ছিল।
বাজারে ঢুকতেই দুটি মাছের দোকান চোখে পরলো যেখানে মোটামুটি বড় মাছ ছিল। মাছগুলো খুবই তাজা লাগছিল আমার কাছে। কিন্তু মাছগুলো কেবল আসায় মাঝিরা অনেক বেশি দাম চেয়ে বসেছিল। সে দোকানে ছিল বড় মিরকা মাছ এবং বড় রুই মাছ।
এই মাছগুলো একাই কেনার থেকে দু একজন মিলে ভাগে কিনলে বেশি পাত্তা পড়ে। কিন্তু বাজারে সে সময় এই মাছ কেনার মত কোন লোক ছিল না তাই শুধু মাছগুলো দেখেই মনের স্বাদ মেটাতে হয়েছে। সত্যি মাছগুলো কিনতে পারলে খুবই ভালো লাগতো।
এই মাছ দেখে হয়তো অনেকেই চিনবেন। এটা খুবই স্বাদের একটি মাছ। এই মাছের নাম হলো বোয়াল মাছ। এই মাছটি কুড়িগ্রামের ব্রহ্মপুত্র নদের বোয়াল মাছ ছিল। ব্রহ্মপুত্র নদের মাছ গুলো খুবই সুস্বাদু হয়। এই বোয়াল মাছটি দেখেই বোঝা যাচ্ছিল এটা খেতে খুবই সুস্বাদু হত।
বাজারে আরও বিভিন্ন ধরনের মাছ ছিল। তেলাপিয়া মাছ ছিল সাথে অনেক নদীর ছোট মাছ ও চোখে পড়েছিল। এই পৌর বাজারে আসলে একটা জিনিস খুবই ভালো লাগে সেটা হল এখানে বেশিরভাগ মাছগুলোই ব্রহ্মপুত্র নদের মাছ। চালানি মাছের থেকে এই নদীর মাছগুলো খেতে অনেক বেশি মজার হয়।
তাই এই বাজারে গিয়ে মাছ কিন্তু খুবই ভালো লাগে। আরেকটা ব্যাপার হল ঢাকা কিংবা রংপুরের বাজার গুলোর থেকে এই বাজারে মাছের দাম অনেক কম। সব দিক দিয়েই এখানে মাছ কিনে আত্মতৃপ্তি পাওয়া যায়।
তারপর আরেকটু সামনে এগোতেই এই ইলিশ মাছগুলো চোখে পড়লো। ইলিশ মাছ গুলো খুব একটা বড় ছিল না কিন্তু এই মাছগুলো বড় না হলেও খেতে অনেক মজার কারণ এগুলো ছিল পদ্মার ইলিশ।
এই বাজারে সব সময় এই মাপের ইলিশ যে পাওয়া যায় তা কিন্তু নয়। মাঝে মাঝে অনেক বড় মাপের ইলিশ ও এই বাজারে ওঠে। ছবিতে যেই মাছগুলো আপনারা দেখতে পাচ্ছেন এগুলোর দাম প্রতি কেজি হাজারের নিচে, কিন্তু যখন বড় ইলিশ মাছ গুলো বাজারে ওঠে সেই মাছগুলোর দাম সবসময়ই হাজারের উপরেই থাকে।
যারা নদী এলাকায় বসবাস করেন তারা এই মাছটি চিনবেন। এটা হল নদীর আয়ের মাছের বাচ্চা। আয়ের মাছগুলো মাপে অনেক বড় হয়। যে মাছগুলো ছবিতে দেখতে পারছেন এটা তো মাকে খুবই ছোট।
কিছুদিন আগেই এই ব্রহ্মপুত্র নদে একটি আয়ের মাছ ধরা পড়েছিল, যে মাছটির ওজন ছিল ৫৬ কেজি। তার আগে একবার শুনেছিলাম এর থেকেও অনেক বড় আয়ের মাছ ব্রহ্মপুত্র নদে ধরা পড়েছিল।
এই বাচ্চা আয়ের মাছগুলো খেতে বড় আয়ের মাছের মত মজাদার না হলেও নদীর মাছ হিসেবে খেতে ভালোই সুস্বাদু। এই মাছগুলোতে প্রচুর তেল থাকে তাই খেতে এত সুস্বাদু হয়।
তারপর আরো কিছুদূর এগোতেই সামনে পড়লো এই চিংড়ি মাছের থালাটি। এগুলোও ব্রহ্মপুত্র নদের চিংড়ি মাছ। আমি চিংড়ি মাছ খাই না তাই এই মাছের স্বাদ আমি আপনাদের বলতে পারছি না। তবে মামার কাছে শুনেছিলাম ব্রহ্মপুত্র নদের এই চিংড়ি মাছগুলো খেতে নাকি খুবই সুস্বাদু।
সেদিন আমাদের বাজারে যেতে বেশ রাত হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু মাছের বাজারে ঢুকে মনে হচ্ছিল তখন কেবল সন্ধ্যা হয়েছে। কারণ সেদিন বাজারে আসতে আসতে অনেক রাত হয়ে গিয়েছিল আর এ সময় বাজারে গেলে টাটকা মাছ পাওয়া যায় তাই অনেক মানুষ সেই সময় বাজারে গিয়ে মাছ কিনছিল।
মামা অনেকগুলো মাছ সেদিন কিনেছিল। আমি শুধু ঘুরে ঘুরে মাছগুলো দেখছিলাম। সেদিন মাছের বাজারে গিয়ে অনেকগুলো নতুন মাসের সাথে পরিচিত হতে পেরেছিলাম। এরপর কখনো এরকম সুযোগ পেলে বাজারের ব্যাগ ভর্তি করে মাছ কিনে নিয়ে আসব।
যাইহোক আজ তাহলে এ পর্যন্তই, আমার এই পোস্টটি আপনাদের কেমন লাগলো তা অবশ্যই কমেন্টের মাধ্যমে জানাবেন। সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ আমার এই পোস্টে আসার জন্য। সবাই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন শুভকামনা রইল সকলের জন্য।
মাছগুলোর ছবি দেখেই বোঝা যাচ্ছে, মোটামুটি ভালোই বড় মাছ। এবং দেখতেও সুন্দর লাগছে। আর হ্যাঁ, টাটকা জিনিসের দাম বেশি চাইবেই, কারন মাত্রই বিক্রি শুরু করলো। আর যখন বাজারের শেষ পর্যায়ে আসবে, তখন ঠিকই একটু কম দামে বিক্রি করে দিবে।
বোয়াল মাছ আমার খুবই প্রিয় একটি মাছ। ছোট বেলায় আমার বাবা একটি বড় বোয়াল মাছ ধরেছিলো নদী থেকে। সেই থেকে আমি এই বোয়াল মাছের পাগল। খুব ভালো লাগলো আপনার পোস্ট পড়ে। ভালো থাকবেন।
আমার যতটুকু ধারণা আপনারা বাজারের ভেতরে ঢুকেই মাছ বাজারে ঢুকে পড়লেন। আর মাছ বাজারে প্রবেশ করার সাথে সাথেই আপনারা দেখলেন বড় বড় মাছ। আমি আপনার পোস্টে উল্লেখ করেছেন। আপনি বেশ কয়েকটি মাছের ফটোগ্রাফি আমাদের সাথে শেয়ার করেছেন। যার মধ্যে কিছু মাছ আমি চিনি আবার কিছু মাছ আমি চিনি না।
আচ্ছা যাই হোক সবশেষে একটা কথাই বলব তাজা মাছ যখন বাজারে আসে। সেই মাছের দাম একটু বেশিই হয় এটাই স্বাভাবিক। আপনার মাছের ফটোগ্রাফি গুলো দেখে খুবই ভালো লাগলো। অসংখ্য ধন্যবাদ এত সুন্দর একটা ফটোগ্রাফি আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য।
খুব সুন্দর উপস্থাপনা করেছেন প্রিয় ভাই।
আমার বাবা যখন বেচে ছিলেন তখন মাঝে মাঝে বাজার থেকে আয়ের মাছের বাচ্চা কিনে নিয়ে আসতো।তবে আয়ের মাছ কেমন একটা হিংস্র দেখার কারণে আমি সেগুলো কখনো খাইনি।পরে একসাথে যখন খেতে বসতাম,বাবা বলতো এখন পাচ্ছো তাই খাচ্চো না।পরে যখন আমি এনে দিতে পারবো না, তখন আফসোস করবে।আমি বলতাম,ওরকম হিংস্র মাছ কখনোই খাবো না।
আপনার পোষ্টটি পড়ে আবার মনে পড়ে গেলো বাবার সাথে হাসি খুশিতে কাটানো সেই মূহুর্তগুলো।
সত্যি বলতে ভাইয়া আমি এই কুড়িগ্রামের পৌর মাছ বাজার আছে আগে জানতাম না আমি আপনার পোষ্টের মাধ্যমে আমি জেনে খুবই ভালো লাগলো এখানে অনেক ধরনের মাছ পাওয়া যায়।
অসংখ্য ধন্যবাদ ভাইয়া আপনার পোস্টটি পড়ে এবং দেখে অনেক ভালো লাগলো এত সুন্দর ভাবে আমাদের মাঝে উপস্থিত করেছেন যে আসলেই ভালো না লাগে পারবেনা অনেক সুন্দর হয়েছে।