ধান থেকে ধানের চারা তৈরি করার দ্বিতীয় পর্ব।
Hello,
Everyone,
আমি প্রথম পর্বে দেখিয়েছি। বীজ ধান রোদে শুকিয়ে, হালকা গরম পানিতে ভিজিয়ে রাখা পর্যন্ত দেখিয়ে ছিলাম। আজ দেখাবো কিভাবে বীজ ধান থেকে ধানের চারা বের করা হয়।
দুই দিন আগে রাতে আমি রেখে ছিলাম সারা রাত, এরপর পরশুদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে , এই ধান গুলো প্রথমে পানি থেকে ছেঁকে নিয়েছি , এবার দুই টা ব্যাগে আলাদা আলাদা করে, ঢেলে নিয়েছি এবং ব্যাগের মুখ সুন্দর ভাবে বেঁধে নিয়েছি। এবার দেখতে পাচ্ছেন এখানে কিছু গাছের পাতা সংরক্ষণ করেছি, এবং পাতা গুলো রোদে ভালোভাবে শুকিয়ে নিয়েছি।এবার এর মাঝখানে ব্যাগ দুই টা রেখে পাতা দিয়ে ঢেকে দিলাম। এর উপর একটা বস্তা দিয়ে রাখলাম। তবে, যাদের পাতার ব্যবস্থা নেই তারা হালকা গরম জায়গায় রাখতে পারেন।
এভাবেই সারাদিন রেখেছি এবং এবং সেদিন রাত টা ও এভাবেই ছিল, গত কাল কে সকালে এই ব্যাগ দুই কে পুকুরে নিয়ে ভিজিয়ে নিলাম, এবং ব্যাগের ভেতর থেকে ধানগুলো আলাদা আলাদা করে বের করে নিলাম। ধানের নিচে কলার পাতা দিয়ে নিয়েছি, এবং ওপরে ও কলার পাতা দিয়ে ঢেকে রাখলাম। এইভাবে গতকাল সারাদিন কেটেছে। এবং আস্তে আস্তে ধান থেকে ধানের অংকুরোদ গমন হতে ছিলো। আজ সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি প্রতি টা ধানের ফেটে চারা বের হয়ে গিয়েছে, দেখতে অসম্ভব সুন্দর লাগছিল।
অন্যদিকে, আমার শশুর জমি প্রস্তুত করে রেখে এসেছে। এখন শুধু ধানের বীজ বপন করার অপেক্ষা, আমার শ্বশুর আমার শাশুড়ি আম্মাকে ডেকে বলল ধানের বীজগুলো এভাবেই রেখে দেওয়ার জন্য কারণ, যে কৃষান ঠিক করা হয়েছে তারা আজ আসতে পারবে না। তার মেয়ে হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে পড়েছে তাই তাকে সেখানে যেতে হবে। তাই আমি ধানের বীজগুলো এভাবেই রেখে দিলাম। ধান থেকে ধানের চারা বের করতে আমার মোট চার দিন সময় লেগেছে তবে, প্রতি টা ধানের ক্ষেত্রে একই সময় লাগবে এমনটা কিন্তুু নয়।
ধান থেকে ধানের চারা বের করার এই পদ্ধতি টা অনেক আগে থেকে প্রচলিত ছিলো ধান চাষীদের মাঝে। তবে এখন, ধানের বীজ উৎপাদন করার অনেক আধুনিক পদ্ধতি ও বের হয়েছে,,,। যদি বুঝে শুনে ধানের বীজ বের করা যায় আধুনিক পদ্ধতিতে তবে এর ফলন অধিক হয় তবে,, আমি যেভাবে বীজ তৈরি করছি সঠিক পরিচর্যা করলে এটাও অধিক ফলন দিবে।
শুধু ধান থেকে বীজ সুন্দর ভাবে বের করলেই হবে না। এর আগে দেখতে হবে আমি যে জমিতে আমার এই বীজ বপন করবো সেই জায়গা টা পরিষ্কার এবং পোকা মাকড়মুক্ত রাখতে হবে। কোন রকমের আগাছা থাকা যাবে না, এবং সঠিক সময় সঠিক সার প্রয়োগ করতে হবে। তাছাড়া, অবশ্যই পানির সেচের দেওয়ার ব্যবস্থা রাখতে হবে। এই সব দিক বিবেচনা করে, বীজ বপন করলে আশা করা যায় খুব ভালো ধান গাছ হবে এবং ফলন ভালো হবে।
আমি গত পর্বে এবং আজকের পর্বে দেখানোর চেষ্টা করছি। কিভাবে ধান থেকে ধানের চারা বা বীজ বের করা হয়, আশা করছি আপনারা খুব ভালোভাবে বুঝতে পেরেছেন তো, আজ আমরা লেখা এখানে শেষ করছি,,যাবার আগে, ধান নিয়ে একটা কবিতা বলতে বলতে সবার থেকে বিদায় জানাচ্ছি ,,,
আউশ- আমন-বোরো- ধান চাষে বড় ।
সোনার বাংলা, সোনার পল্লী, মাঠে।
বিলে- ঝিলে, জলাবদ্ধ নদীর বিস্তৃত র তটে।
প্রযুক্তির গড়া ছাঁচে, উচ্চ ফলের আশে।
আউশ- আমনে নানান প্রজাতির চারা,
চাষীদের ধান চাষে বার মাসে তাড়া,,,,,।
প্রথমে আপনাকে ধন্যবাদ জানাই। আপনি এত সুন্দর একটি, ধানের বিজ বের করার পদ্ধতি আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন।আপনি যেভাবে ধানের বিজ বের করেছেন।এটা মূলত গ্রাম অঞ্চলে দেখা যায়। আমরা আশায় থাকলাম আপনার মাধ্যমে আমরা আরো অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানতে পারবো।
ইনশাআল্লাহ অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ পোস্টগুলো আপনাদের সাথে শেয়ার করার চেষ্টা করব।
ধন্যবাদ এরকম একটি পোস্ট আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য।
আমরা শহরের মানুষ, কোনরকমের চাষাবাদ করি না বললেই চলে। আমরা শুধু বাজার থেকে টাকা দিয়ে জিনিসপত্র কিনে এনে খাই। কিন্তু কৃষকরা যে কত কষ্ট করে ফসল ফলিয়ে আমাদের জন্য খাবার প্রস্তুত করে সেটার খোঁজ কেউ রাখি না।
যখন গ্রামে থাকতাম তখন দেখতাম গ্রামের মা চাচীরা নিজেরাই ধানের বীজ উৎপন্ন করতো। এবং সেই ধানের বীজ জমিতে ছিটিয়ে দিয়ে চারা উৎপাদন করতো। আবার সেই চারা মাঠে রোপণ করে ফসল ফলাত।
আপনার কমেন্টের মধ্যে একটা অন্যরকম মাধুর্য আছে যেটা শুধু পড়তে ইচ্ছা করে ধন্যবাদ আপনাকে।
আপনি খুব সুন্দর ভাবে তুলে ধরেছেন কিভাবে ধান বীজ গজায়।আমাদের অঞ্চলে বছরে একবারই ধান রোপন করে।আমাদের ও কিছু জমিতে ধান চাষ করবে।আজই দেখলাম বীজ ধান ভিজিয়ে তা গজানোর জন্য প্রসেস করে রেখেছে। আপনাকে ধন্যবাদ এত সুন্দর পোস্ট শেয়ার করার জন্য।
ধন্যবাদ আপনাকে মূল্যবান সময় দিয়ে পোস্ট করার জন্য
আপনি খুব সুন্দর ভাবে ধানের বীজ তৈরির প্রক্রিয়া গুলো ধাপে ধাপে উপস্থাপন করেছেন।
যে কেউ এই ধাপ গুলো অনুসরন করে বীজ তৈরি করতে পারবে বলে আমার বিশ্বাস। খুব সময় উপযোগী একটি পোস্ট আমাদের সাথে শেয়ার করেছেন।এখন ধান রোপণ করার মৌসুম। নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য খুবই উপকারী একটি পোস্ট। ধন্যবাদ আপনাকে। আমাদের সাথে ই থাকবেন সবসময়।
জি আপু তাদের কথা মাথায় রেখে আমি আজকের পোস্টটা হাজির করেছি বিশেষ করে।
খুব সুন্দর উদ্যোগ। এমন আর দুর্দান্ত পোস্ট আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য অনুরোধ রইল।
জি আপু অবশ্যই অনুরোধ রাখার চেষ্টা করব
ধন্যবাদ
Welcome 🤗
ধানক্ষেততো অনেকেই দেখেছি কিন্তু কিভাবে ধানের চস্রা বের করা হয় এ বিষয়ে কোন ধারণা ছিলো না আমার। আপনার লেখা পড়ে এ সম্পর্কে জানতে পারলাম। ধন্যবাদ এই বিষয় টা নিয়ে লেখার জন্য।
ভালো থাকবেন সবসময় এই শুভকামনা রইলো আপনার জন্য
ধন্যবাদ আপনাকে খুব সুন্দর একটা বিষয় জানতে পেরেছেন জেনে ভালো লাগলো
গত পর্ব দেখার পর এই পর্বের জন্যে অপেক্ষা করছিলাম। অবশেষে এলো। জীবনে অনেকবার নিজ হাতে ধানের বীজ করেছি। অনেকটা একই রকম পদ্ধতি। তবে আমরা আলাদা হাউজে পানি ভরে ধান ভেজাতাম, যেটা আওনারা বস্তায় করে করেছেন।
ধন্যবাদ, মেয়ে হয়েও কৃষি নিয়ে এত চমৎকার হেলপফুল কন্টেন্ট শেয়ার করার জন্যে।
ধন্যবাদ আপনাকে চমৎকার একটি কমেন্ট করার জন্য
আপনার ধান থেকে চার আনার পদ্ধতিটা প্রথম পর্ব বেশ ভালোভাবেই পরিদর্শন করেছি। আজকে দ্বিতীয় পর্ব পরিদর্শন করতে গিয়ে অনেক কিছুই জানতে পারলাম। আমিও ঠিক একইভাবে ধান থেকে চারা নিয়ে এসেছিলাম কিছুদিন আগে। এবং সেটা জমিনে রোপণ করে দিয়েছে। চমৎকারভাবে এই বিষয়টা আমাদের সাথে উপস্থাপন করার জন্য ধন্যবাদ।
ধন্যবাদ আপনাকে কমেন্টে করার জন্য।
ধান থেকে ধানের চারা তৈরি করার প্রথম পর্বটি আপনি খুব সুন্দরভাবে করেছিলেন আজকে তার দ্বিতীয় পর্ব আমাদের মাঝে উপস্থাপন করেছেন।।
কিভাবে ধান থেকে ধানের চারার তৈরি করতে হয় সেটি আপনি খুব সহজে দেখিয়েছেন। আমরাও ধানের চারা রোপন করে কিন্তু এবার এখনো করা হয়নি।।
ধন্যবাদ আপনাকে সুন্দর একটি মন্তব্য করার জন্য
আশা করি এরকম আরো শিক্ষণীয় পোস্ট আমাদের মাঝে উপস্থাপন করবেন।।
ইনশাআল্লাহ অবশ্যই চেষ্টা করব।