
Photo edited by canva
- প্রিয় বন্ধুরা,
আশা করছি সবাই ভালো আছেন, আমিও বেশ ভালো আছি । আজ আমি আপনাদের সাথে একদম অন্যরকম একটা পোস্ট শেয়ার করবো, আমার পোষ্ট পরার মধ্য দিয়ে আপনারা ঘুরে আসতে পারবেন, ঢাকার রমনা পার্ক দিয়ে তো চলুন শুরু করছি। আমি আশাবাদী আপনাদের ভালো লাগবে ।
- বিয়ের আগে বেশ কয়েক বার শুনেছি লোকোমুখে ঢাকা রমনা পার্কের কথা। আমি তো এমনিতে এই একটু ঘোরাঘুরি বেশ পছন্দ করি। আর পার্কের কথা শুনলে তো যেতে এই মন চায়। আর তখন থেকে ইচ্ছা ছিলো পার্কে আসার। বিয়ের আগে তো বেশ কয়েক বার বাবা-মায়ের সাথে ঢাকাতে এসেছি। এবং বেশ কয়েক জায়গায় ঘুরেছি । শেষবার যখন এসএসসি পরীক্ষার পরে ঢাকায় এসে ছিলাম আমার আম্মুর সাথে। তখন আম্মুকে বলেছিলাম চলো না রমনা পার্ক দিয়ে ঘুরে আসি।
তখন আমার আম্মু বললো এখন যাওয়ার দরকার নেই, বিয়ের পরে জামাই কে সাথে করে নিয়ে গিয়ে ঘুরে এসো। এটা কোন কথা! আমি তবু ও তার এই কথাই সম্মতি দিলাম কারণ, তখন খুব একটা ইচ্ছা ছিল না যে যেতেই হবে। তাই তখন আর যাওয়া হয় না।
কিন্তুু কাল হঠাৎ করে হাজবেন্ড একটু তাড়াতাড়ি অফিস থেকে চলে এলো প্রায় একটা বাজে তখন, আমি জানতে চাইলাম এত দ্রুত আসার কারণ কি, তখন তিনি বললো আজ এমনি তে একটু তাড়াতাড়ি বের হয়েছি। তাই আমিও এই সুযোগ টা কে কাজে লাগিয়ে দিলাম। বলে ফেললাম আমার একটু রমনা পার্কে যাওয়ার ইচ্ছা আছে, চলো একটু ঘুরে আসি এ কথা শুনে তিনি আর না করলেন না।
তারপরে আর কি ঘুরতে যাওয়ার জন্য রেডি হয়ে নিলাম। মেয়ে আমি এবং হাজবেন্ড মিলে রমনা পার্কের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়লাম। পিলখানা থেকে রমনা পার্ক খুব একটা দূরে নয়। এছাড়া মনে চাইছিলো একটু হাঁটার জন্য তাই রিক্সা না নিয়ে আমরা দুজনে হাঁটতে হাঁটতে বেরিয়ে পড়লাম।
এবং একটা সময়ে এসে রমনা পার্কে পৌঁছে গেলাম। চারিদিক টা বেশ ভালো এই লাগছিলো সবুজে ঘেরা পরিবেশ। এছাড়া বাচ্চাদের জন্য খেলার ব্যবস্থা রয়েছে, যে টা দেখে আমার মেয়ে তো ভীষণ খুশি এবং অনেক সময় এখানে কাটিয়ে ছিলাম মেয়ের খেলা দেখে। এরপরে বেশ কয়েক টা ফটোগ্রাফি করা হয়েছিলো।এখানে আসার পরে যে দিকে তাকাই শুধু জুটি আর জুটি, পার্কে প্রেমিক-প্রেমিকা আসবে এটা স্বাভাবিক।
তবে, আমাদের সম্মান টা নিজেদের কে বজায় রাখা উচিত। কখনো এমন কিছু করা উচিত নয় মানুষের সামনে যেটা দেখে মানুষ খারাপ ভাবে। দেশের অবস্থা যে কোন পর্যায়ে গিয়েছে এটা এখানে এসে আর একবার উপলব্ধি করতে পারলাম। আর কিছু মানুষ আছে যাদের ভিতরে তো সৃষ্টিকর্তার ভয় নেই বললেই চলে।
একটা সন্তান কে যে তার বাবা মা কত কষ্ট করে বড় করে, পড়ালেখা শিখায়, মানুষে মত মানুষ হবে এই আশায় সমাজে মুখ উঁচু করে দাঁড়াতে পারবে এই আশায়। তবে বর্তমান সমাজে কিছু কিছু ছেলে মেয়ে আছে যাদের জন্য বাবা-মায়ের মুখ সামাজে দেখানোর উপায় নাই। নিজেদের কে এত বেশি অপকর্ম দিকে নিয়ে যাচ্ছে। সমাজ কি শিখবে? ভবিষ্যৎ প্রজন্ম কি শিখবে? এদের কাছ থেকে আমি জানিনা।
আল্লাহ সবাইকে এরকম অপকর্ম হাত থেকে দূরে রাখুক, এখানে আসার পরে মনে হয়েছিলো। এই রকম একটা জায়গায় আসার জন্য আমি আফসোস করেছি মায়ের কাছে বায়না ধরেছিলাম। হয়তো তখন বুঝতাম না তাই আসতে চেয়ে ছিলাম। তবে আপনি যেতে পারেন এখানে গিয়ে অনেক ধরনের অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারবেন। এই ছোট জীবনে যে কত কিছু শেখার আছে, আজ রমনা পার্কে ঘুরতে গিয়ে অনেক কিছু শিখতে পারলাম।
যাইহোক, অনেক কথাই বলে ফেললাম যদি কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন। তবে একটা কথা কি জানেন আপনার মন যদি কিছু চায় সেই জায়গা টা খারাপ হক বা ভালো হক নিজেকে একবার নিয়ে যাবেন। কিছু না কিছু শিখতে পারবেন ঘুরলে জ্ঞান বাড়ে এটা সত্যি কথা। রমনা পার্কের ভিতর দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে আর মানুষ জন দেখতে দেখতে অনেক অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি।
সেই সাথে চারদিক টা একটু পর্যবেক্ষণ করেছি, সে যাই হোক বেশ কিছুটা সময় হাঁটার পরে মাগরিবের আজান হলো। এর মধ্যে আমার পায়ের তারা ব্যথা শুরু হয়ে গিয়েছে কারণ, সে দুপুর থেকে শুরু হয়েছে হাঁটাহাঁটির কাজ।। হাজব্যান্ড বললো এখনো অনেক জায়গা বাকি আছে। যদিও কথা টা আমাকে খেপানোর জন্য বলেছে। আমি বললাম দরকার নেই এখন বাসায় চলো, ঘুরতে আসার ইচ্ছা আমার পূর্ন হয়েছে আর না।
রমনা পার্কে এসেছি আর কিছু কিনবো না তা কি করে হয়। তাই আমাকে হাজবেন্ড কাচের চুড়ি কিনে দিলো। যদিও আমি চুরি পরি না তবুও শখ করে দিয়েছে যখন আমি ভালোবেসে এই নিলাম। এরপরে আর কথা না বাড়িয়ে একদম বাসার দিকে রওনা হলাম। আসার সময় গাড়িতে করে এসেছি তাই আর বাসায় পৌঁছাতে খুব একটা দেরি হয় নি।
সবশেষে বলবো, রমনা পার্ক ঘুরতে গিয়ে ভালো লেগেছে তার পাশাপাশি অনেক অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পেরেছি। খারাপ ভালো দুই টা এই তবে, আমার কাছে মনে হয়েছে। যদি পার্ক টা তে আরো বেশি সিকিউরিটি গার্ড থাকতো তাহলে আরো ভালো হতো পরিবেশ টা সুন্দর হইতো। মানুষ ঘুরতে এসে আরো অনেক উপভোগ করতে পারতো। তবে বলে রাখছি আমার মতের সাথে কারো মিল নাও হতে পারে।।।
যাইহোক, আজ আর লিখব না এখানে বিদায় নিবো সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন এবং সৃষ্টিকর্তার নাম স্মরণ করবেন, আল্লাহ হাফেজ।
রমনা পার্ক জায়গাটা যদিও সুন্দর। কিন্তু এই জায়গা সম্পর্কে অনেক ধরনের আজেবাজে কথা রয়েছে। তার মানে আজকে রমনা পার্কে আপনি ঘুরতে গিয়ে কিছুটা তার অনুধাবন করেছেন। আসলে আমি গিয়েছিলাম ২০২৩ সালের শেষের দিকে! সত্যি কথা বলতে যাওয়ার জন্য এত পরিমানে আগ্রহ ছিলাম। পরিবেশটা দেখেও বেশ ভালো লেগেছে। কিন্তু ওখানে যাওয়ার পর। যে দৃশ্যগুলো চোখের সামনে ভাসতে লাগলো। সেগুলো দেখার পর যত দ্রুত সম্ভব বাড়িতে আসা যায়, সেই চিন্তা ভাবনা করলাম। ধন্যবাদ পরিবারের সাথে রমনা পার্কে ঘুরতে যাওয়ার মুহূর্তটা, আমাদের সাথে উপস্থাপন করার জন্য। ভালো থাকবেন।
ধন্যবাদ আপনিও গিয়েছিলেন তাহলে ঘুরতে আমার মত বেশ আগ্রহ ছিল। রমনা পার্ক ঘুরতে যাওয়ার জন্য, কিন্তু যে যে অভিজ্ঞতা এবং যে সবকিছু সম্মুখীন হয়েছি এতে আমি ধারণা করে নিয়েছি। ওখানে না যাওয়ার ইচ্ছাটা পোষণ করলেই বেশি ভালো হবে।
ওখানে গেলে চারদিকে তাকালে আমার মত যত লজ্জা বান ব্যক্তি আছে তারা আর ওখানে বেশি সময় থাকতে পারবেনা।
বাংলাদেশের মতো একটা দেশে। এই ধরনের বিষয়গুলো কিভাবে মানুষ মেনে নেয়, সেটা মাঝে মাঝে চিন্তা করার বিষয়। কেননা বাংলাদেশে অতিরিক্ত মুসলমান, আর এই মুসলমানের দেশে এই ধরনের কাজগুলো, এই পার্কের মধ্যে হয়ে থাকে। এটা আসলে মেনে নেয়ার মত না। আপনি একদমই ঠিক বলেছেন, একবার যারা রমনা পার্কে গিয়েছে। দ্বিতীয় বার তারা যাওয়ার আগে দশবার চিন্তা করবে। ধন্যবাদ রিপ্লাই দেয়ার জন্য ভালো থাকবেন।
একেবারে আমার বাসার কাছাকাছি থেকে বেড়িয়ে গেলেন। রমনা পার্ক থেকে হেঁটেই আমার বাসায় আসা যায়। আগে বলতেন তাহলে আপনাকে দাওয়াত দিতাম।
সকাল ছয়টা থেকে দশটা পর্যন্ত ঘোরাঘুরির জন্য রমনা পার্ক খুবই নিরাপদ ও স্বাভাবিক পরিবেশ বিরাজ করে। কিন্তু দশটার পর থেকেই শুরু হয় যত ঝামেলা। এবং মোটামুটি চারটা পর্যন্ত এমন অবস্থা থাকে। বিকেল পাঁচটা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত মোটামুটি ভালো হলেও এরপর আবার যাচ্ছে তাই অবস্থা। তাই রমনা পার্কে সময় ও দিন বুঝে ঘুরতে গিয়ে যাওয়াই উত্তম।
রমনা পার্কে এসেছেন আর একটু হাঁটলেই তো শিল্পকলা একাডেমী দেখে যেতে পারতেন। ওটা বাচ্চাদের জন্য বেশ সুন্দর ও মনোরম জায়গা।
তবে রমনা পার্কে আপনার বেড়ানোর অনুভূতি পড়ে বেশ ভালো লাগলো।
ওমা তাই নাকি! কেমন টা লাগে বলুন বড় একটা দাওয়াত মিস করে ফেলেছি তবে সমস্যা কোন কারণ নেই,,।
একবার দাওয়াত দিয়েই বসেন আমি করবি হাজির হব আপনার বাসায়। সে যাই হোক আপনি কিন্তুু সঠিক তথ্য দিয়েছেন।
অনেক হেঁটেছি তাই আর শিল্পকলা একাডেমী দিকে যায়নি, যদিও হাজব্যান্ড বলেছিলো,,,,
তবে তাকে জানিয়ে রেখেছি আগামী সপ্তাহে মেয়েকে সাথে নিয়ে শিল্পকলা একাডেমির দিকে যাবো এবং ঘুরে দেখবো।। ইনশাআল্লাহ।
আপনি মাত্র কয়েকদিন ধরে ঢাকায় আাসর মাঝেই রমনা পার্কে ঘুরে এলেন জেনে ভালো লাগলো।আমার কেন জানি এখনো এই জায়গাটায় যাওয়া হয় নাই, অসংখ্য বার এর সামনে দিয়ে আসা যাওয়ার পরও।
আসলে প্রতিটি মানুষের চিন্তাভাবনা আলাদা যার কারনে এই ধরনের জায়গাগুলোতে বিভিন্ন ধরনের মানুষ ও দৃশ্য দেখা যায়। আস্তে আস্তে আপনার চোখে সহ্য হয়ে যাবে। তখন আর চোখ যাবে না ওইভাবে।
ভালো লাগলো আপনার বেড়ানোর অভিজ্ঞতা পড়ে। ভালো থাকবেন সবসময়ই এই শুভকামনা রইলো আপনার জন্য।
রমনা পার্ক জায়গাটা অনেক সুন্দর কিন্তু আগের মত এত সুন্দর নেই এখনকার পরিবেশটা কিছু, নষ্টের দিকে। আমি ঢাকায় পড়াশোনা করতাম আমার ক্যাম্পাসের অল্প খানিক দূরে এই পার্ক। বিকেলে সময় পেলেই ওই পার্কে হাঁটতে যেতাম। আর মূল বিষয় হচ্ছে ওই খানকে আরো বড় একটি মসজিদ আছে শুক্রবার ওই মসজিদে নামাজ পড়তাম আসার সময় পার্ক হয়ে ঘুরে আসতাম।
আপনার আম্মু ঠিক বলেছিল কেননা বিয়ের পরে ঢাকা শহরে পার্কে যাওয়া উচিত বিয়ের আগে পার্কে গেলে সেরকম মজা হয় না।
ধন্যবাদ আপনার পোস্টটি পড়ে অনেক কিছু জানতে পারলাম ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন আর বেশি বেশি করে ঘোরাফেরা করবেন
আমি অনেক আগে থেকে এই ঢাকার রমনা পার্কের কথা শুনেছি। ঢাকার বহুবার গিয়েছি এবং থেকে ছিলাম কিন্তু কখনো এই রমনা পার্কে ঘুরতে যাওয়ার মতো সুযোগ হয়নি। তবে বন্ধু-বান্ধব এবং পরিচিত জনের কাছে শুনেছি পার্কটি দেখতে অনেকটা সুন্দর।
আপনার সম্পন্ন পোস্ট করে যা বুঝলাম আপনি ঘোরাফেরা করতে একটু পছন্দ করেন। আপনার হাজবেন্ডের তাড়াতাড়ি অফিস ছুটি হওয়ায় হঠাৎ করে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন রমনা পার্কে ঘুরতে যাওয়ার জন্য।
ঘুরতে যাওয়ার সুন্দর মুহূর্ত নিয়ে পোস্ট শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ। ভালো থাকবেন।