বসুন্ধরা শপিংমলে আমরা একদিন,,,।
Photo edited by canva
আসসালামু আলাইকুম, আশা করছি সবাই ভালো আছেন। আমিও আলহামদুলিল্লাহ আল্লাহর রহমতে অনেক ভাল আছি। আর তাই তো দেরি না করে আবারো ফিরে এলাম আপনাদের মাঝে, তবে আমার আজকের পোস্টটা একটু অন্য রকম তবে, আমি আশাবাদী আপনাদের একটু হলেও ভালো লাগবে আমাদের কিছু আনন্দের মুহূর্ত গুলো দেখতে পেয়ে।
ঢাকাতে এর আগেও বেশ কয়েক বার এসেছি তবে তখন হাজবেন্ডের সাথে নয় বাবা মায়ের সাথে, এবং তখন বেশ অল্প কিছু জায়গায় ঘুরেছি দেখেছি।ও সঠিক ভাবে সবকিছু মনে নাই এটাও বলা যেতে পারে, তবে এই বছরের জানুয়ারি থেকে শুরু হয়েছিল আমার জার্নি টা প্রথমে শাশুড়ি আমাকে নিয়ে ডাক্তার দেখানোর, বেশ কয়েক টা দিন ঢাকা শহরের মানুষ গুলোকে একটু হলেও দেখেছি কাছ থেকে,,।
Photo edited by canva
এরপরে হাজবেন্ডের চাকরি সূত্রে ফ্যামিলি কোয়াটারে ওঠা, এবং তিনি আমাকে অনেক জায়গায় ঘুরিয়েছেন দেখিয়েছেন, এবং তার একটাই কথা একটু চালু হও, বাহিরে একা চলতে শিখো,কিন্তু আমি যে ভীতু রাস্তা পার হওয়ার সময় হাত না ধরলে কোন দিক থেকে, কোন দিকে আমাকে নিয়ে যাবে, কেউ আমি নিজেও বলতে পারব না।।।
গতকালকে শুক্রবার ছিলো হাজবেন্ডের অফিস বন্ধ হঠাৎ কারনে দুপুরে খাবার খেতে খেতে বললো,বাহিরে যাবে নাকি? আমি একটু মুচকি এসে বললাম না নিয়ে গেলে শুধু শুধু এত ভাব দেখানোর দরকার নেই,পরক্ষণে বুঝতে পারলাম দুষ্টুমি না সত্যি সত্যি বলতেছে,, আমি ভীতু হলেও একা চলতে না পারলেও কিন্তুু আমি ঘুরতে ভীষণ ভালোবাসি। নতুন নতুন জায়গায় যাওয়া এবং সে সম্পর্কে জানা আমার কিন্তুু মন্দ লাগে না,, এবং আলহামদুলিল্লাহ এখানে আসার পরে আমি বেশ কয়েক জায়গায় গিয়েছি,,।
এরপরে আমি ও আমার মেয়ে মাত্র ৫ মিনিটের মধ্যে রেডি হয়ে নিলাম, আর বেটা ছেলে বলে কথা তাদের নাকি রেডি হতে কোন মিনিটের প্রয়োজন হয় না,এরপরে বাসা থেকে বেরিয়ে পড়ি কিন্তুু কোথায় যাব সেটা আমি তখনও সত্যি জানিনা,পিলখানা থেকে, প্রথমে আমরা গিয়েছিলাম বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর, যদিও আমরা ভিতরে ঢুকেনি এরপরে ওখান থেকে কাওরান বাজার পর্যন্ত যাই,, এবং আমি তখন বুঝতে ছিলাম হয়তো বা আমরা বসুন্ধরার দিকে যাচ্ছি,, যদিও আমি এখানে প্রথম আসছি তবে আমি এই জায়গা গুলোর নাম খুব সুন্দর ভাবে গুগল ম্যাপে আয়ত্ত করেছি।
আমাদের এখানে আসতে দুটো গাড়ি পরিবর্তন করতে হয়েছে এবং অনেক জ্যাম ছিলো,সেই সাথে নানান চরিত্রের মানুষ, সবকিছুই অতিক্রম করে আমরা বসুন্ধরা শপিং মলের সামনে এসে পৌঁছে যায়,,তখন হাজব্যান্ড কে যে কিছু বলবো বলার ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না, তিনি এভাবে হুট করে আমাকে এখানে নিয়ে আসবে।।
তবে, আসার পরে মনে মনে কিন্তুু খারাপ লাগে নি বেশ ভালই লেগেছে, বাংলাদেশের মধ্যে সবচেয়ে বড় শপিংমল হচ্ছে বসুন্ধরা সিটি কমপ্লেক্স, আর এখানে ঘুরতে আসলে খারাপ লাগার তো কোনো কথাই নেই, প্রথমে আমরা ঢুকার পারে যেটা আমার করার কথা, তাহলে আপনাদের জন্য কিছু ফটোগ্রাফি সংরক্ষণ,আমি সেটাই করি বাসায় থাকতেও খুব ভালো কিছু রেসিপি তৈরি করার পরে,, আমি কখনোই হাজবেন্ডের সামনে আগে নিয়ে যাই না। প্রথমে আগে এদিকে সেদিকে করে বেশ কয়েক টা ছবি তুলে তারপরে সবাই শেয়ার করি।
আর এখানে এসে বা তার ব্যতিক্রম কেন হবে, এরপরে ঘুরে দেখার পালা,প্রথম লেভেল থেকে শুরু করে, অষ্টম লেভেল পর্যন্ত আমরা ঘুরেছি এবং দেখেছি,এখানে নতুন করে কিছু বলার নেই, বসুন্ধরা তে আসার পরে আপনি এখান থেকে সকল ব্র্যান্ডের দেশীয় বিদেশি পণ্য কিনতে পারবেন,এবং শুধু যে ব্রান্ডের জিনিসে কিনতে পারবেন এমন টা কিন্তুু নয় নন ব্র্যান্ডের ও অনেক কিছুই এখানে পাওয়া যায়,,।
আমি পর্যায় পর্যায়ে দেখছিলাম, প্রথমতলা থেকে শুরু করে একদম টপ অষ্টমতলা পর্যন্ত, ফোন, ঘড়ি, চশমা এবং মেয়েদের ব্যবহারিত সকল ধরনের খুব নামি দামি ব্রান্ডের জিনিস এখানে আপনি পাবেন, ও হ্যাঁ সেই সাথে তো জুয়েলারি সাইট রয়েছে, এত এত সুন্দর, যে টা সত্যি আমি মনে করি, আমার মত মানুষের কিনে সখ মেটাতে না পারলেও চোখের শখ ঠিকই মিটে যাবে।
ও হ্যাঁ এখানে আসার পরে কিন্তুু আর একটা সুবিধা আপনি নিতে পারবেন, এখানে প্রত্যেক টা লেভেল ঘুরে ঘুরে শপিং করার পরে, আপনার যদি মনে হয় একটু রিলাক্সের প্রয়োজন, আপনি চাইলে ভিতরে মুভি দেখার সাইট রয়েছে দেখতে পারেন, সেই সাথে টপ ৮ রয়েছে খাবারের ব্যবস্থা সেখান থেকে আপনি খাবার খেতে পারবেন ও ক্লান্তি দূর করতে পারবেন।
আমরা এসেছিলাম একটু বিকালের দিকে আর যেহেতু শুক্রবার ছিলো তাই অনেক টা লোকের সমাগম ছিলো,কিন্তুু আমার মতন যারা কোথাও গেলে ছবি করার কথা প্রথমে মাথায় আসে, তারা দুপুরের দিকে গেলেই বেশি ভালো হয় কারণ, তখন লোকের পরিমাণ টা একটু কম থাকে , আর সেক্ষেত্রে আপনার ফটোগ্রাফি গুলো খুব ঠান্ডা মাথায় করতে পারবেন।
তবে বন্ধুরা শপিং মল কিন্তুু সপ্তাহে সাত দিন খোলা থাকে না মঙ্গলবার অবশ্যই বন্ধ থাকে, আর হ্যাঁ আপনারা গেলে কিন্তুু এই মঙ্গলবার টা অবশ্যই মাথায় রেখে যাবেন,না হলে দেখা যাবে কষ্ট করে যাওয়ার পরে কিছু দেখতে ও কিনতে পারলেন না।
অনেক অনেক ঘুরে দেখেছি কোন লেভেলে কোনটা রয়েছে, এরপরে হাজব্যান্ড বললো কিছু কেনার কথা,,প্রথমে ভাবছিলাম কি কিনবো মানুষ টা আমাকে এত দূরে নিয়ে এসেছে, ঘুরে দেখানোর জন্য, মন ভালো করার জন্য, আমি অনেক দামি কিছু চাইবো? নাকি কম দামি কি? সব ভাবতে ভাবতে আরো আধাঘন্টা ঘুরে দেখলাম।
পরবর্তীতে চিন্তা করে বললাম তুমি যেটা কিনি দিবে সেটা এই নিবো,, কারণ সত্যি কথা বলতে আমার চাহিদা খুবই কম আমি সব সময় অল্পতে সন্তুষ্ট থাকার চেষ্টা করি,,এরপরে দুই জনে ঠিক করলাম আগে পেটে কিছু দেওয়া যাক,, তাই আমরা দুই জনে মিলে দুটো জুস খেয়ে নিলাম,সাথে আমার হাজব্যান্ড কোরিয়ার একটা পাস্তা খেয়েছিলো ও আর আমার মেয়ে খেয়েছিলো একটা চিকেন রোল,,আমরা তখন অষ্টমতালা তে ছিলাম, এবং খেতে খেতে নিচের এই দৃশ্য টা দেখতে আমার কাছে ভীষণ ভালো লেগেছিলো,উপর থেকে মানুষগুলো কে কত ছোট ছোট দেখা যায়,,, খেতে খেতে আমরা দুই জনে বেশ গল্পস্বল্প করি।।এবং ঠিক করি কি কিনবো,,।
Photo edited by canva
তবে, সবশেষে বলবো আমার আজকের দিনটা ভীষণ ভালো কেটেছে,এবং একদম হঠাৎ করে আমার হাজবেন্ড আমাকে এইরকম ভাবে আনন্দ দিবে, এটা আমি সত্যি কল্পনাতে ও ভাবিনি। আমি মনে করি, দামি রেস্টুরেন্টে খাওয়ানো, দামি কিছু কিনে দেওয়া, এটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নয়,, একটা মানুষ আপনাকে কতটুকু গুরুত্ব দিল সেটাই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
যাইহোক, কি কিনেছি, সব এই যদি আজকের পোস্টে শেয়ার করি, পরবর্তী পোস্টটে কি আর মজা নিতে আসবেন আপনারা। আসবেন না তাই আজকের মত এখানেই বিদায় নিবো, কথা হচ্ছে পরবর্তী পোস্টে ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন। আল্লাহ হাফেজ।।
ঢাকা থাকাকালীন এই বসুন্ধরা শপিং মলে বহুবার যা হয়েছে শপিং ও করা হয়েছে মনের মতন কাপড় পাওয়া যায়, দাম একটু বেশি
টপ ফ্লোরে শিশু পার্ক টা আমার কাছে খুবই ভালো লাগছে বসুন্ধরা গেলে ওইখানে আমি অবশ্যই ডুকতাম।
ধন্যবাদ আপু এরকম সুন্দর একটা পোস্ট আমাদেরকে পড়ার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য
আপনাদের সবার ঘোরাঘুরি দেখে অনেক আনন্দে লাগলো। পরিবারের মধ্যে টাকা থাকাটা গুরুত্বপূর্ণ নয় ,ভালোবাসা থাকাটা সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আমি দোয়া করি, আপনারা সব সময় এই ভাবে হাসি খুশি থাকেন। আমিও বসুন্ধরা সিটিতে কয়েকবার গিয়েছি, অনেক বড় একটা মার্কেট , মার্কেটের ভিতরে ঢুকলে বের হওয়ার রাস্তা পাওয়া খুব মুশকিল হয়ে যায়। পরবর্তী পোস্টের জন্য অপেক্ষা থাকলাম। ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন।
আমার অনেক ভালো লাগলো আপনার কমেন্ট পড়ে, এবং একটা বাস্তব সত্যি কথা পরিবারের টাকা থাকাটা গুরুত্বপূর্ণ নয়,, ভালোবাসা থাকাটা সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ,, তবে আজ কাল টাকা না থাকলে ভালোবাসা জানালা দিয়ে পালায়।।।
তবে আমার ইচ্ছা কখনো যেন আমার সাথে এমনটা না হয় আমি অল্পতেই সন্তুষ্ট থাকি তাই চাই পরিবারের যেমন পরিস্থিতিই হোক না কেন পরিবারের মানুষগুলোকে যেন ভালো রাখতে পারি মানসিকভাবে। ধন্যবাদ আপনাকে।
প্রত্যেক মেয়েরাই স্বামীর সাথে একটু ঘুরতে বেরোতে পছন্দ করে। শপিং করা তো প্রত্যেকটা মেয়েদেরই একটা পছন্দের জিনিস। বাহ শপিংমল টা দেখে খুবই ভালো লাগছে। শপিং মলটা বেশ অনেকটাই বড়। আপনাদের সুন্দর মুহূর্তটি শেয়ার করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
Your post has been supported by THE QUEST TEAM. We support quality posts, good comments anywhere, and any tags
Thank you