ধান সিদ্ধ ও শুকানো মাঝে আমার আজকের দিনে।।
গ্রাম বাংলা একটা কথা আছে কাজ করো তো ভাত খাও ,,। যদিও এমন পরিবারে আমি পড়িনি ভীষণ রকমের স্বাধীনতা পেয়েছি আলহামদুলিল্লাহ। তবে নিজের কাজ নিজেকে করতে হবে এতে আমি কোন রকম দ্বিধাবোধ করি না। সেটা যত বড় বা ছোট কাজই হোক না কেন,,,।
ধান সিদ্ধ করা, বছরে আমরা একবার ধান সিদ্ধ করি তখন বেশ কয়েক মন করা হয়,ধান সিদ্ধ পরে ধান থেকে চাল বের করে সারা বছরের জন্য সংরক্ষণ করি। তাই প্রতিবারের মতো এবারও করা হয়েছে,, যদিও বাড়িতে আমি এবং আমার শাশুড়ি আম্মা হাজব্যান্ড ছুটিতে বাড়িতে এসেছে হয়তো বা দুদিন পরে চলে যাবে,,।
নিজেদের খাওয়ার জন্য কিছু ধান সিদ্ধ করা প্রয়োজন, তাই আর কি দেরি না করে গতকাল কে ধান ভিজানো হয়েছিলো,আমাদের বাসা সবসময় একটা কাজের খালাম্মা আছে উনি এসব কাজ করে, তবে এবার আমি ওনার কাজে বেশ সাহায্য করেছি।
আজ খুব ভোরে, ঘুম থেকে উঠে আমার শাশুড়ি আম্মা এবং খালা আম্মা মিলে ধানগুলো সিদ্ধ করেছে,, যদিও সাথে আমার হাজব্যান্ড একটু ছিলো,, এরপরে আমরা সবাই মিলে ধানগুলো উঠোনে দিয়ে দিলাম।
এরপরে শুরু হয়েছে ধানগুলো শুকানোর জন্য কিছুক্ষণ পর পর লারা দিতে হয়, কারণ যাতে খুব দ্রুত শুকিয়ে যায়, এভাবে খুব সুন্দর রৌদ্র ছিল এবং অনেক টা সময় পর ধানের পানি বেশ শুকিয়ে গিয়েছিলো।।
কিন্তু এরই মাঝে শুরু হলো মেঘের বাহানা কিছুক্ষণ পরপর মেঘ আসে আর উঠোনে ছায়া পড়ে যায় তার মধ্যে বৃষ্টি আসার ও লক্ষণ দেখা যায়, আমরা তো সবাই বেশ চিন্তায় পড়ে গিয়েছিলাম কারণ, যত দ্রুত ধান গুলো শুকিয়ে ঘরে নেওয়া যায় ততই ভালো।
এভাবে প্রায় এক ঘণ্টার সময় কেটে গিয়েছিলো ভেবেছিলাম ধানগুলো সব ঘরে তুলব কিন্তুু, দেখি সৃষ্টিকর্তার অনেক রহমতে আবার রোদ উঠেছিলো , এরপরে আবার থাকবো শুকাতে থাকি, খুব রোদ উঠেছিল শেষের দিকে দুপুর বেলা, প্রচন্ড গরম আর এই গরমে নিজেকে ঠান্ডা রাখতে খেয়ে ছিলাম ঠান্ডা ঠান্ডা আমের জুস, একদম ফ্রেশ আমের জুস,,।
এরপর আবারও ধান শুকাতে থাকি। এভাবে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ধান শুকানোর কাজ করি আজকে।আজ আর অন্য কোন দিকে কাজ করা হয়নি, শুধু এই ধানের পিছনে সারাটা দিন ব্যয় করেছি। এরপরে প্রায় তিন টা সময় ধানগুলো উঠিয়ে রেখেছি যদিও সম্পূর্ণ শুকানো হয়নি তবে, আগামীকাল কে আধা ঘন্টা রৌদ্রে দিলে ধানগুলো সম্পূর্ণ শুকিয়ে যাবে আশা করা যায়।
একটা থাম থেকে চাল চাল থেকে ভাত তৈরি করতে যে কতটা পরিশ্রম দিতে হয়। তা হয়তো নিজেরা না করলে বোঝার উপায় থাকে না, আমরা হয়তো মাঝে মধ্যে ভাত ফেলে দেই কিন্তুু এটা একবারেই উচিত না ।কারণ এটা তৈরি করা অনেক বেশি কষ্ট কর।
যাইহোক আমি আমার দিনটা আজ এভাবে কাটিয়েছি, তো সবাই ভালো সুস্থ থাকবেন আল্লাহ হাফেজ।।
গ্রামে যখন ধান উঠে তখন বাড়ি সকল বউ মেয়েরা ধান সিদ্ধ থেকে শোকানো সমস্ত কাজে ব্যস্ত থাকে। আমি আমার মাকে দেখেছি, যখন মাঠ থেকে ধান উঠত তখন মা প্রত্যেকদিন ভোর বেলায় ওঠে ধান সিদ্ধ করত সিদ্ধ করার পর বেলা হলে রোদে মেলে দিত। তারপর ওই ধান পাহারা দেওয়া যাতে মুরগি কিংবা হাঁস খেতে না পারে। এরপর কাঠফাটা রোদে বসে শুকানো খুবই কষ্ট। এর মাঝে যদি কখনো বৃষ্টি চলে আসে হুটোপাটা করে ধান তোলা সব কিছুর সাথে আমি কিছুটা হলেও জড়িত। আপনার সারাদিনের কাজকর্ম শেয়ার করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।