বাড়ি পাশের ওয়াজে কিছু আনন্দে ঘন মূহুর্তে।
Hello,
Everyone,
আমাদের গ্রামের মসজিদে প্রতি বছর এই ওয়াজ মাহফিলের আয়োজন করা হয়। তাই ঠিক এ বছর ও ওয়াজ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। যেহেতু আমাদের বাসার একদম কাছেই মসজিদ, তাই কাছে গিয়ে শোনার প্রয়োজন হয় না। বাসায় বসে খুব সুন্দর ভাবে ওয়াজ শুনতে পাওয়া যায়।
বলে রাখা ভালো, আমি বিয়ের আগে বা পরে কখনোই, ওয়াজের প্যান্ডেলে গিয়ে ওয়াজ শুনিনি, এবং ওই সময়টা তে যে দোকান গুলো ওঠে ওই দোকানে ও যায়নি সবসময় বাসায় বসে শুনেছি। এবং কিছু খেতে ইচ্ছা করলে ভাই বা আমার বাবা এই কেন এনে দিতো, আর বিয়ের পরে আমার হাসবেন্ড।
যেহেতু ওয়াজ রাতে হয়, কি বা বিকালের পর থেকে শুরু হয়। তবে ওয়াজ হওয়ার আগে মাইকিং করা হয়, আশে পাশের এলাকাতে এবং নিজের এলাকাতে, আর ঠিক তখন থেকে আমার মেয়ে শুরু করছে তিনি ওয়াজ দেখতে যাবে,ও দেখতে যাবে, ঠিক তখন বুঝিয়ে রাখলেও পরবর্তীতে বুঝিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি।
ওয়াজ শুরু হবে রাতে, তবে মেয়ে সকাল এবং বিকাল থেকেই শুরু করছে কান্নাকাটি যাওয়ার জন্য, কোন ভাবেই তাকে বোঝানো যাচ্ছে না। সেটা আবার আমাকে সাথে নিয়ে, তার আপার সাথে গেলে হবে না, আপা বলতে আমার শাশুড়ি আম্মা। সারাদিন বুঝে রাখলেও মাগরিবের নামাজের পরেই শুরু হয়েছে তার কান্না, কি আর করা যাবে তাই। শাশুড়ি, আমি ও মেয়ে কে রেডি করে নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম।
যেহেতু, আমি কখনো আগে যায়নি তাই আমি নিজে একটু আনন্দিত ছিলাম। চারিদিকে প্রায় অন্ধকার নেমে এসেছে, যেহেতু বাসার কাছেই তাই বেশি সময় লাগেনি। দুই থেকে তিন মিনিটের মধ্যে চলে এসেছে। এসে দেখলাম এখানে অনেক দোকান উঠেছে, বিভিন্ন ধরনের খাবারের দোকান, এছাড়াও বাচ্চাদের খেলনা দোকান উঠেছে। মেয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে দেখলাম মেয়ে বেশ খুশি তাই হাসতেছে। সেই সাথে আমি নিজেও অনেক খুশি।শুধু যে আমরা আসছি তা কিন্তুু নয়, এখানে অনেক মানুষ এত এত মানুষের ভিড় দেখে বেশ ভালোই লাগছিলো।
এরপরে শাশুড়ি আম্মা এবং মেয়ে কে জিজ্ঞাসা করলাম তারা কি খাবে, আমার মেয়ের বাসা থেকেই বলে এসেছে তিনি ওখানে গিয়ে পপকন খাবে, তাই প্রথমে এই পপকন কিনে নিলাম, কাঁচের ভিতরে বেশ ভালোই লাগছিল পপকন গুলো দেখতে, এরপরে বাসার জন্য বাদাম কিনে নিলাম, বাদাম গুলো বেশ বড় বড় ছিলো। শাশুড়ি আম্মার কাছে জানতে চাইলাম, তিনি কি খাবে আমি জানি তিনি সবকিছু রেখে পানের কথাই বলবে। আর সেটাই হয়েছে।
তাই পান কেনার আগে তাকে নিয়ে চটপটি খেলাম, চটপটি খেতে আমি বেশ পছন্দ করি, এরপরে মেয়ে বলল পিঠা খাবে, তাই তিনটা পিঠা নিলাম কিন্তুু মেয়ে পিঠা খেলো না তাই ওর টা আমি খেলাম। পিঠা গুলো দেখতে যেমন ভালো লাগছিল খেতে খুব একটা ভালো লাগেনি।
এরপরে যাই পানির দোকানে, এত সুন্দর করে সাজিয়ে রেখেছে দেখতে বেশ ভালো লাগছিলো। এরপরে শাশুড়ি আমাকে পান কিনে দিন সাথে নিজেও একটা নিলাম খাওয়ার জন্য। সবকিছু দেখায় এবং কেনাকাটা শেষে বাসায় চলে আসবো, ঠিক তখনই আচারের দোকানটা চোখে পড়ে গেল এটা কি মিস করা যায় বলুন!
এরপরে আচারের দোকানে যাই এবং সেখান থেকে আমি বড়ই, চালতা, জলপাই, আচার সাথে তেতুলের মিষ্টি আচার টা নিলাম। প্রত্যেকটা আচার আমার কাছে এত বেশি ভালো লেগেছে, এটার কথা আর নাই বলি। এরপরে সবাই মিলে বাসায় চলে আসি। বাসায় এসে সব কিছু রেখে ওয়াজ শুনতে ছিলাম।
ওয়াজ করার জন্য তিন জন বক্তা আনা হয়েছিলো, কোরআন ও হাদিস থেকে খুব সুন্দর ভাবে বক্তব্য দিচ্ছিলেন, এত সুন্দর কথাগুলো শুনে আমি একটু ভাবতে শুরু করে দেই, জীবনে কত পাপ করেছি, এবং মৃত্যু কত নিকটে!! শুনতে শুনতে গতকাল প্রায় রাত এক টা বেজে গিয়েছিলো, এরপরে সৃষ্টিকর্তার স্মরণ করতে করতে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। আর আজ আপনাদের সাথে শেয়ার করছি।
বাহ! খুব সুন্দর মা মেয়ে শাশুড়ি সবাই ওয়াজ দেখতে গেলে । আসলে ছেলে মেয়েরা এরকম জিদ বাহানা করেই থাকে ওদের যেটা মনে হয় সেটা পূরণ করা না পর্যন্ত ওরা থামেনা। সেখানে যাওয়ার পর আপনার মেয়ের মনটা অনেক ভালো হয়ে গেল এবং আপনাদেরই খুব ভালো লাগলো। ওখানে অনেক দোকানপাট উঠেছে যেটা আপনার ফটোগ্রাফি দেখে বুঝতে পারলাম এবং খুব মজার মজার খাবার খেলেন। ঠিক বলেছেন যখন আল্লাহ তাআলার গুনোগান শুনি তখন মনের ভিতরে একটা অস্থিরতা ভাব হয় তখন এই দুনিয়ার কিছুই ভালো লাগেনা। আপনাদের ওখানে ওয়াজ মাহফিলের তিনজন বক্তা এসেছিল এবং খুব সুন্দর সুন্দর কথা বল কোরআন হাদিসের যেটা আপনি বললেন।
থ্যাংক ইউ বাড়ির পাশে ওয়াজ মাহফিলে যাওয়ার আনন্দটুকু আমাদের সাথে শেয়ার করলেন।
একদম তাই বাচ্চারা একবার যদি জিৎ করে ওটা তখন আর লাগবেই ।।আর না দিলে এমন বাহানা শুরু করে যেটা শেষ করার মত না।
ঠিক বলেছেন, যখন আমরা সৃষ্টিকর্তার গুণগানের কথা শুনি তখন সত্যিই মনটা এত বেশি ভালো লাগে,,আমরা কত শত শত পাপ কাজে লিপ্ত থাকি। এবং পরকালের কথা চিন্তা করি তখনই দুনিয়ার ভালো লাগেনা।
একদিন আমাদের আসল ঠিকানা হবে বাঁশ বাগানের নিচে ওই মাটির ঘরটি আর সেই আমরাই কত লড়াই বড়াই করি। সব সময় সৃষ্টিকর্তার কাছে এটাই বলি আমি যেন সবসময় নিজেকে খারাপ কাজ থেকে দূরে রাখতে পারে।
শীতের সময় ওয়াজ মাহফিল বেশি হয়ে থাকে। আর আপনাদের বাসার পাশেই একটা মসজিদ রয়েছে আর সেখানে প্রতিবছর ওয়াজ মাহফিল হয়।। বাসার পাশেই হওয়াতে বাসায় থেকেই শুনতে পারেন ।।
আপনার মেয়ে কান্নাকাটি করতেছিল তাই আপনি সন্ধ্যার আগে গিয়েছিলেন। আর ওয়াজ মহফিল হলে সেখানে অনেক দোকান বসে। আপনিও সেখানে যেয়ে বেশ কিছু কেনাকাটা করেছেন আর পান টা দেখে আমার খেতে ইচ্ছে করছিল।।
ওয়াজ মাহফিল আমি সব সময় বাসায় বসেই শুনেছি তবে এ বছর কাছে গিয়ে দেখে আমার বেশ ভালো লেগেছে সেই সাথে অনেক মানুষ এবং দোকান পাট উঠেছিল আর হ্যাঁ পানগুলো কিন্তু বেশ সুন্দরী সাজিয়ে রেখেছে। যে কেউ দেখলেই খেতে মন চাইবে। ধন্যবাদ খুব সুন্দর একটি মন্তব্য করার জন্য।
সুন্দরী মানুষ গেছে পান গুলো সুন্দর হবে না তা কি আর হয় 😄
শীতের সময়ে বিশেষ করে গ্রামগুলিতে এরকম মাহফিল বেশি হয়ে থাকে। আগে আরও বেশি হত এখন অবশ্য অনেকটাই কমে গেছে কারন এখন মানুষজন শিক্ষিত হওয়ার কারনে নিজেরা ইচ্ছে করলে ঘরে বসেই অনেক কিছু জানতে পারে।
আসলে বাচ্চাদের আবদার রক্ষা করতে গিয়ে অনেক কিছুই করতে হয়। আপনার জন্য ভালোই হয়েছে। একটা নতুন অভিজ্ঞতা হলো। আমি নিজেও কখনো এরকম মাহফিল এ যাই নাই।
পান যেভাবে সুন্দর করে সাজিয়ে রাখে তাতে দেখলে আমারো খাওয়ার লোভ লাগে কিন্তু আমি পান খেতে পারি না।বিয়ের পর একবার খেয়েেছিলাম তাতে আমার মুখের বারোটা বেজে গিয়েছিল। কয়েকদিন আর কিছু খেতে পারি নাই ভালো করে।মুখ ছিলে গিয়েছিল একদম।
আপনার দিনলিপি পড়ে ভালো লাগলো।
ভালো থাকবেন সবসময়।
একদম তাই আপু নতুন অভিজ্ঞতা কত যে নতুন অভিজ্ঞতা তৈরি হয়েছে ।।আমার মেয়ে হওয়ার পরে। অনেক কিছু শিখেছি বুঝেছি মাঝে মধ্যে আবার উপভোগও করেছি।
আমার শাশুড়ি পান প্রিয় মানুষ বলা যায়, তিনি পান খেতে বেশ পছন্দ করে এবং খায়। এবং তিনি আমাকে একটা কথা বলে বাসায় কেউ আসলে নাস্তা দেওয়ার পরে অবশ্যই যদি বয়স্ক হয় পান দিবে।
আমাকেও বলে মাঝেমধ্যে খেতে তবে ওই আপনার মত অবস্থা পান খেলে সে বেলার ভাত খেতে পারি না। ধন্যবাদ খুব সুন্দর একটি কমেন্ট করার জন্য।
পানের ডেকোরেশন তো দারুণ করেছে, দেখলেই খেতে ইচ্ছে করছে। এই বাদাম গুলো একটা সময় সিনেমা দেখতে গেলেই সিনেমার হলে বসে খেতাম। একটা বেশ ছোটখাটো মেলা বসে গেছিল আপনাদের ওখানে। আপনার মেয়ের দৌলাতে আপনার ওখানে যাওয়া হলো, তা না হলে আপনি যেতেন না।
আপনাদের বাড়ির পাশে ওয়াজ মাহফিল বেশ কিছু মূহুর্ত আনন্দ উপভোগ করতে পেরেছেন ৷ আসলে সত্যি কথা বলতে কি ওয়াজ মাহফিল শুনতে বেশ ভালোই লাগে ৷ বক্তা গুলো বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কথা বলে যেগুলো আসলেই অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে ৷
ধন্যবাদ আপনাকে এত সুন্দর একটি পোস্ট আমাদের মাঝে তুলে ধরার জন্য ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন ৷
ছোট বাচ্চাদের ইচ্ছে গুলো পূরণ করতে গিয়ে। মাঝে মাঝে মায়েদের অনেক বড় সিদ্ধান্ত নিতে হয়। আসলে মেয়েদের ক্ষেত্রে মাহফিলে যাওয়ার ঠিক না। কিন্তু আপনি আপনার মেয়ের ইচ্ছাটা পূরণ করার জন্য গিয়েছেন। সৃষ্টিকর্তা অবশ্যই সেই বিষয়টা লক্ষ্য করে। কিছুটা হলেও সহানুভূতি আপনার প্রতি হবে।
মৃত্যু আমাদের খুব নিকটে। আমরা এক সেকেন্ড বেঁচে থাকতে পারবো কি,না তার নিশ্চয়তা কেউই দিতে পারি না। এই পৃথিবীতে সৃষ্টিকর্তা আমার জন্য অনেক কিছুই সৃষ্টি করেছেন। একমাত্র তার অনুগত্য থাকার জন্য। ধন্যবাদ আপনার আনন্দঘন মুহূর্তটা আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য। ভালো থাকবেন।
ওয়াজ মাহফিল মানেই মজা আর মিজা। সন্ধ্যা থেকে দোকানে ঘুরাঘুরি করেছেন। মিষ্টি পানের ছবি গুলো অসাধারণ ছিল। আপনি দোকান ঘুরে ঘুরে খুব সুন্দর ছবি ক্যাপচার করেছেন। সব মিলিয়ে দারুণ কেটেছে আপনার সময়
বাংলাদেশের ঐতিহ্য শীতের সময় প্রায় প্রত্যেক জায়গায় ওয়াজ মাহফিল হয় যেখানে ইসলামিক বক্তারা বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে থাকেন যাতে করে আমাদের ঈমানী শক্তি আরও বৃদ্ধি পায়।
তবে একটা জিনিস আমার কাছে খুবই খারাপ লাগে পান সিগারেট খাওয়া হারাম বিশেষ করে জর্দা দিয়ে পান খাওয়া হারাম আর এই হারাম কাজ ওয়াজ মাহফিলে করতে না দেওয়াই উচিত।
আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ ওয়াজ মাহফিলে কাটানো সুন্দর মুহূর্তগুলো আমাদের কাছে উপস্থাপনা করার জন্য।