"আমার শখের কোয়েল পাখি বিক্রি করে দেওয়া সিদ্ধান্ত"
| বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম। |
|---|
| আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। |
|---|
আমি আপনাদের মাঝে আমার একটি নতুন পোস্ট শেয়ার করতে চলে আসলাম আজকের পোষ্টের বিষয়বস্তু হলো আমার শখের কোয়েল পাখি বিক্রি করে দেওয়া সিদ্ধান্ত।
একটি ব্যবসা করতে গেলে সেই ব্যবসায়ে সময় আর পরিশ্রম খুবই জরুরী তেমনি আমার এই শখের কোয়েল পাখির লালন-পালন করার মধ্যেই একটু সময়ের পরিশ্রমের অভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হয়।
আমি কোয়েল পাখি লালন পালন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম তখন আমার হাতে খুবই অল্প কাজ ছিল আমাদের বাড়িতে দুজন কর্মচারী ছিল। লালন-পালন করার মধ্যে কোন সমস্যা আসার কোন প্রশ্নই ছিল না।
কর্মচারী ভাইয়েরা একজন সমস্যা দেখিয়ে চলে গিয়েছে আরেকজন সুযোগের সত ব্যবহার করতে চেয়েছিল সেই কাজে আব্বু রাজি না হওয়ায় আমাদের দ্বিতীয় কর্মচারী ভাই চলে যাই। মোটামুটি ভাবে আমি আব্বু আম্মু তিনজন মিলে আমাদের বাড়িতে খামার গুলো ভালই চলমান করতে ছিলাম যখন প্রয়োজন হতো তখন বাইরে থেকে দিনমজুর নিয়ে এসে সেই কাজগুলো সম্পন্ন করতাম।
আমাদের কাজের সুবিধা মত এখনো একজন ও কর্মচারী ভাই পাওয়া যাচ্ছিল না ।যাও পাওয়া যাচ্ছিল তার ডাবল টাকা চেয়ে বসে তা আব্বু রাজি হয় না। যতদিন যাচ্ছে এখন কাজের মাত্রা ততটাই বেড়ে চলেছে। শীত গরমের কি রকম কাজ করতে হয় তা আমি আমার ডাইরি গেম লিখে জানিয়েছি।
আমি হালকা অসুস্থ থাকায় মোটামুটি বাড়ির কাজ গুলো করতে পারি দিন মোটামুটি চলে যাচ্ছিল চলছিল কিন্তু কয়েকদিন যাবত ধরে অসুস্থ থাকার কারণে অনেকটাই ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছি। আব্বু শুধু তার কাজগুলো শেষ করতেই হিমশিম খেয়ে যায় এক্সট্রা কাজ করার সময় হয়ে ওঠে নাই।
আম্মু বাহিরের কাজ খুব কম করে শুধু মুরগিতে কে খাদ্য দেওয়া ছাড়া। আমি যখন কোয়েল পাখিদের কাছে যেতে পারি না তখন আম্মু গিয়ে তাদের খাদ্য পানি ও ডিম তুলে আসে।
কিছুদিন ধরে প্রচন্ড গরম থাকার কারণে পোল্ট্রি ফার্মে মুরগী দের খুবই খারাপ অবস্থা দিনের ৬০% সময়টা পোল্ট্রি ফার্মে দেওয়া লাগে ওদের গরম লাগলেই মুরগি রা মারা যায় এই কয়েকদিনে আমাদের ৯ মুরগি মারা গেছে।
কোয়েল পাখিদের কাছে আসতে পারে নাই ,ওদেরকে সময়ও দিতে পারে নাই, তাই ওদেরও খুব খারাপ অবস্থা একদিনে ১৩ টা উপরে মারা গিয়েছে।
পোল্ট্রি ফার্মে উপরে ফ্যান চালের উপরে ঝর্ণা থাকা এবং বেশি গরম পড়লে দিনে দুইবার করে মুরগিদেরকে ভিজিয়ে দেওয়া,সত্ত্বেও ৯ টা মুরগি মারা যায় আর কোয়েল পাখিদের ঘরের ফ্যানের ব্যবস্থা না থাকার কারণে আরও খারাপ অবস্থা হবে এটাই স্বাভাবিক।
শুরু থেকেই অল্প কোয়েল পাখির লালন-পালন করার চিন্তাভাবনা ছিল তাই ঘর টাও ছোট করে তোলা হয়েছিল হঠাৎ করে কিভাবে ছোট থেকে বড় হয়েছিল তা আমি কোয়েল পাখি তোলার সময় পোস্টে লিখেছিলাম,আশা করি সবাই জানেন।
আমার মতে কোয়েল পাখির ঘরে এখনো ৯৫০থেকে ১১০০ এর কাছাকাছি পাখি আছে এই গরমে আর যাতে না মারা যায় না নষ্ট হয়ে যায় তাই আব্বু আম্মু আমাকে বিক্রি করে দেওয়ার জন্য বলে। আব্বু আম্মু কোথায় রাজি না হয়ে আমি ওদের জন্য ছোট ছোট ফ্যান ক্রয় করার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললাম।
ক্রয় করার আগের দিন রাত্রে আম্মু আমাকে বোঝায় যে তুমি সুস্থ হয়ে উঠো বড় ঘর করে পাখি লালন পালন করবে তখন কোন সমস্যা হবে না। এখন দেখো তোমার খাদ্যে খরচ ওঠে না এ পাখিগুলো বিক্রি করে সুস্থ হয়ে আবার নিয়ে আসবে।
আম্মুর কথায় চিন্তাভাবনা করে আমার শখের কোয়েল পাখি বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নেই।
আজকের পোস্ট এ পর্যন্তই সকলে ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন সাবধানে থাকবেন।
আজকে আপনি কোয়েল পাখি বিক্রি করার মুহূর্ত তুলে ধরেছেন। আপনার শখের কোয়েল পাখি দেখাশোনার জন্য কোন কর্মচারী না পাওয়ার জন্য সমস্ত ফার্মের পাখিগুলো বিক্রি করে দিতে হচ্ছে আপনার মত একই সমস্যা আমাদেরকে ক্ষেত্রে হয়েছিল। আমাদেরও গ্রামের বাড়িতে একটা ছোট্ট ফার্ম ছিল। সেখানে আমার বর শখ করে সোনালি মুরগির ব্যবসা শুরু করে দিয়েছিল। তবে ওই মুরগি দেখাশোনার জন্য একটা মহিলা রাখা হয়েছিল সে সমস্ত দায়িত্ব নিয়ে কাজকর্ম করতো। এমনকি আমার বরকে ওই মহিলাটি উৎসাহ দিয়েছিল যে আমি সমস্ত দেখাশোনা করব কিন্তু মাঝপথ থেকে যখন সরে যায় তখন আমাদেরও সমস্ত মুরগি বিক্রি করে দিতে হয়েছিল। আপনার পোষ্টে পড়ে আমারও সেই ফার্মের সমস্ত ঘটনা মনে পড়ে গেল। তবে এই গরমে কোয়েল পাখি বিক্রি করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে খুব ভালো করেছেন কারণ এই গরমের সময় মুরগি বলুন কিংবা পাখিদের বিভিন্ন রকম সমস্যা দেখা দেয়।
আপনার পোস্টে প্রতিদিন কোয়েল পাখিকে খেতে দেওয়া ও যত্ন নেওয়ার মুহুর্ত পড়তে বেশ ভালো লাগে। তনে আপনি কোয়েল পাখি বিক্রি করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, আমি মনে করি, হয়ত এই সিদ্ধান্ত নেওয়াটা আপনার কাছে সহজ ছিলো না। গরমে এসব প্রাণীর অনেক সমস্যা হয়। যাই হোক৷ ভালো থাকবেন।