বাবা বুড়োরাজ মন্দিরের গল্প
নমস্কার বন্ধুরা, আশা করছি সকলে সুস্থ আছেন। বেশ কিছুদিন আগে আমার গোটা পরিবারের সাথে আমি এক তীর্থ স্থানে গিয়েছিলাম। মোটামুটি ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম দিকের ঘটনা হবে। বেশ ইন্টারেস্টিং একটা বিষয় তাই ভাবলাম শেয়ার করি।
প্রথমেই শুরু করার আগে কিছু কথা বলি, মানুষ বিশ্বাসে বেঁচে থাকে। কিছু বিষয় অনেকের কাছে শুধু বিশ্বাসের ভিত্তিতেই টিকে থাকে। আবার কিছু জিনিস যে কুসংস্কার অথবা অন্ধবিশ্বাস তাও আমরা বুঝতে পারি। যে বিষয়ে মানুষের অথবা কোন প্রাণীর ক্ষতি হচ্ছে না, সেই বিষয়টা নিয়ে তার সত্য মিথ্যা যাচাই করার চেষ্টা আমরা করি না। বিশ্বাসের ফলে যদি আমাদের জীবনের উন্নতি হয় তবে আমরা সেই বিশ্বাসটাই পূজা করে থাকি।
হিন্দু ধর্ম ভারতের বেশিরভাগ জায়গা জুড়েই প্রচলিত। ভারতবর্ষের বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন মন্দির আছে এবং সেগুলোর পেছনে নানান ধরনের কাহিনী রয়েছে। যা আমরা লোকোমুখে বহু শুনে থাকি। কিছু আমরা বিশ্বাস করি ।কিছু আমরা বিশ্বাস করি না। তাই বলে আমরা কখনোই সেগুলো নিয়ে তর্কাতর্কি করি না ।ধর্ম নিজের কাছে ।ঈশ্বরের বিশ্বাস করাটাও নিজের কাছে। তবে আমি ঈশ্বরে বিশ্বাস করি ।সেই শক্তিকে যে শক্তি আমাদের ব্রহ্মাণ্ড চালনা করছে । আমাদের প্রত্যেকটি কাজে যে শক্তির অস্বাভাবিক প্রভাব রয়েছে। ঈশ্বর আমার কাছে সেই শক্তি।
যাই হোক আমার বিশ্বাস অবিশ্বাসের কথা অন্য একদিন আমি বলব ,আজ যে তীর্থস্থানটির ব্যাপারে আমি পোস্ট লিখছি। সে জায়গাটির নাম বাবা বুড়োরাজ মন্দির। এটি পূর্ব বর্ধমান জেলার জামালপুর নামক জায়গায় অবস্থিত। এই জায়গাটির সম্পর্কে লোকোমুখে নানান কথা প্রচলিত আছে এবং জায়গাটির মহিমা অথবা খ্যাতির কথা মোটামুটি সকলেই জানে।
বলা হয় মন্দিরের ভিতরে যে শিবলিঙ্গটি রয়েছে। তার নাকি কোন শেষ পাওয়া যায়নি। শোনা যায় প্রায় ছয়শো বছর আগে ওই জায়গাটি জঙ্গলে পরিপূর্ণ ছিল। ওই জায়গায় বিশাল বড় একটা উইপোকার ঢিবি ছিল ।একজন দুধওয়ালার গোরু প্রত্যেকদিন সেই ঢিবির ওপরে দাঁড়াতো এবং আপনা থেকেই দুধ পড়তো। এই ঘটনা একদিন সেই দুধওয়ালা লক্ষ্য করে এবং সে ভীষণ চমকে ওঠে ।সেই রাত্রেই সে স্বপ্ন দেখে যে ওই জায়গায় ভগবানের স্থান রয়েছে। পরেরদিন খোঁড়াখুরির পর নাকি ওই জায়গা থেকে গৌরীপট্ট সহ শিবলিঙ্গের এক বিগ্রহ খুঁজে পাওয়া যায়। তবে সেই জায়গা থেকে ওই শিবলিঙ্গ নাকি সরানো যায়নি। শিবলিঙ্গের শেষ খুঁজে পাওয়া যায়নি। অনেকবার চেষ্টা করার পর যখন শিবলিঙ্গ ওখান থেকে তোলা গেল না ,তখন সেখানেই নিত্য পুজো শুরু হয়। বলা হয়ে থাকে ভগবান স্বপ্নাদেশ দিয়েছিলেন যে এই বিগ্রহ ওই জায়গা থেকে সরানো অসম্ভব এবং গরিব দুধওয়ালাকে চাল ও দুধ দিয়ে পুজো করার কথা বলা হয়। তারপর থেকে প্রত্যেকদিন ভগবানকে একটি থালায় সেই ভাবেই ভোগ দেওয়া হয়।
মন্দিরটি বিচুলির চালাঘর । শুধু মেঝেটুকু মাটির৷ অনেকবার স্থানীয় বাসিন্দাদের তরফ থেকে মন্দিরের উন্নতির চেষ্টা করা হয়েছিল কিন্তু তা নাকি প্রতিবারে ব্যর্থ হয়েছে ।নানারকম অদ্ভুত ঘটনার দ্বারা পাকা মন্দির করা হয়ে ওঠেনি। শোনা যায় বুড়ো শিবের “বুড়ো ” আর ধর্মরাজের “রাজ” এক সাথে মিলে নাম রাখা হয়েছে “বুড়োরাজ"। এই বিগ্রহ দুটি গৌরীপট্ট্ যুক্ত একটি মূর্তি। মাটির ভেতরে বিগ্রহর কিছুটা থাকায় ,এর চেয়ে বেশি দেখাও যায় না। ওখানকার স্থানীয়দের মত অনুসারে এই শিবলিঙ্গটি বৌদ্ধ যুগের। অনেকে মনে করেন সেই সময় ধর্ম পুজোর প্রচলন ছিল।
বহুকাল ধরে পূজিত এই বিগ্রহ ভীষণ নাকি জাগ্রত। মানুষ নিজের মনোবাঞ্ছা পূরণের জন্য বাবা বুড়োরাজ এর কাছে পুজো দিতে যায়। এবং সকলের প্রার্থনা পরিপূর্ণতা লাভ করে। এভাবেই প্রতিনিয়ত চলতে চলতে আজকে বুড়োরাজ মন্দিরের মহিমার কথা চারিদিকে ছড়িয়ে গিয়েছে।
যাইহোক মন্দির সংক্রান্ত যা কিছু তথ্য আমি সকলের কাছ থেকে যেটুকু জানতে পেরেছি, তাই আপনাদের সাথে শেয়ার করলাম। পরের পোস্টে জানাবো ওই মন্দিরে হঠাৎ যাওয়ার কারণ এবং যাওয়ার পরে কেমন অনুভূতি হল।
প্রতিটি ছবি আমার অ্যান্ড্রয়েড ফোন samsung galaxy a34 দিয়ে ক্যাপচার করা।
লোকেশন