পুরীতে দ্বিতীয় দিন
নমস্কার বন্ধুরা। আশা করছি আপনারা সকলে সুস্থ আছেন। বেশ অনেকদিন পরীক্ষার কারণে আমি পোস্ট করতে আসতে পারিনি। পরপর অনেকগুলো পরীক্ষা ছিল। তার সাথেই বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে যাওয়া। সব মিলিয়ে লেখার মতো পরিস্থিতিতে ছিলাম না।
তাই আজকে অনেকদিন পর আবার লিখতে বসেছি। গত পোস্টগুলোতে আমার পুরী ধাম ভ্রমণের গল্প গুলো শেয়ার করছিলাম। আজকে সেখানকার গল্পই শেয়ার করছি। গত পোস্ট যেখানে শেষ করেছিলাম ,তার পর থেকেই লেখা হচ্ছে।।
পুরীতে দ্বিতীয় দিন অর্থাৎ মে মাসের ১১ তারিখ। জগন্নাথ মন্দির দর্শন সম্পন্ন করে, তারপরে খাওয়া দাওয়া করে, আমরা আবার রেডি হলাম সমুদ্রে স্নান করতে যাব বলে। যখন বাজে একটা সতেরো দুপুর ,তখন খাওয়া-দাওয়া করে রেডি হয়ে আমরা সবাই মিলে সমুদ্রের দিকে এগোলাম।
আমি তখন একটা শর্ট ড্রেস পড়েছিলাম। সানস্ক্রিন লাগানো ছিল হাতে-পায়ে। কারণ এত পরিমাণে রৌদ্র ছিল, তবে এর রৌদ্র যতই থাকুক ,যেহেতু স্নান করবো, তাই মনটা ফুরফুরে ছিল। বাবা সাথে সাথে একটা আমাকে টুপি কিনে দিল । সমুদ্রে যাওয়ার পথে রাস্তার বাঁ দিকে বিভিন্ন ধরনের টুপি নিয়ে একটা দাদা বসে ছিল।টুপিটা ভীষণ সুন্দর ,ভীষণ পছন্দ হয়েছে আমার।
সমুদ্রে আমি চুল ভেজাবো না, মাথা ভেজাবো না, কিন্তু সকালবেলায় স্নান করে অলরেডি গিয়েছিলাম পুজো দিতে। তাই সমুদ্র স্নান করতে নেমে শুধুমাত্র হয়তো কোমর অব্দি ভেজাতে পারি। আর আমার জল দেখে যেহেতু এমনিতেই ভয় লাগে, তাই আমি বেশি দূরে না জাস্ট, একটু সমুদ্রের ঢেউয়ের মজা নিয়ে ফিরে আসবো।
সমুদ্রে পৌঁছে সবাই আবার ছবি তুলতে লাগলাম। মা-বাবা স্নান করতে নেমে গেল। ঈশান আর আমি আর দিশা মিলে সমুদ্রের পাড়ে বসে বসে ওদের সকলের ছবি তুলছিলাম । তারপর কিছুটা একটু এগিয়ে গিয়ে সমুদ্রের ঢেউয়ের আনন্দ নিচ্ছিলাম ।তবে বেশিদূর যাইনি।
পা থেকে বালি যখন সরতে থাকে ,বেশ ভয় লাগে কিন্তু। তবে প্রথম প্রথম লাগলে পরে আর সেই ভয়টা থাকে না। সমুদ্র এর জলটা যখন এগিয়ে আসে ,তখন তো মজা লাগে, তবে যখন জলটা চলে যায় তখন যেভাবে টেনে নিয়ে যায় ,সেটা কিন্তু ভয়ানক।
সমুদ্রের জলের পরিস্থিতি এক সেকেন্ডে বদলে যেতে পারে। তাই বারবার আমি বাবা আর মাকে বলছিলাম যেন বেশি দূরে না যায় ওরা। একটা বড় ঢেউয়ের ঝটকা আর তারপর এসব কিছু টেনে নিয়ে যায়। এভাবেই তো কত দুর্ঘটনা ঘটে।
কিন্তু কার কথা কে শোনে ।আমার মা আর ঈশান কথা শুনলেও বাবা কিছুতেই কথা শুনছিলনা। তাই সমুদ্রের তীরে থাকাকালীনই কতবার যে পড়ে গিয়েছে। ওই ঢেউ যখন এসে চলে যাচ্ছিল ওই সময়। রীতিমতো ওসব দেখে আমরা হাসাহাসি করছি। ওখানেই আমরা একটু সোডা ওয়াটার খেয়েছি। জলের মধ্যে প্রচুর প্রচুর আনন্দ করেছি। আর সবাই মিলে প্রচুর ছবি তুলেছি।
যখন বাজে দুপুর আড়াইটে অর্থাৎ প্রায় এক ঘণ্টার বেশি হয়ে গেছে ,তখন মলয়দা রীতিমতো বকতে লাগলো, যাতে আমরা তাড়াতাড়ি সমুদ্র থেকে উঠে আসি। যেহেতু আমাদের আরো কিছু জায়গায় ঘুরতে যেতে হবে।
অবশেষে সমুদ্র থেকে উঠতে হলো। আমরা আবার হোটেলের দিকে হাঁটতে লাগলাম ।ওই যে বলেছিলাম হাঁটা পথে দু মিনিট। হোটেলে পৌঁছে আবার খাওয়া দাওয়া করে রেডি হয়ে নিলাম বেরোনোর জন্য।
আজকের মত এখানেই শেষ করছি তারপরে কোথায় ঘুরতে গিয়েছিলাম সেটা পরের পোস্টে শেয়ার করব।