পাঞ্জাবীর ওপর ফেব্রিক রঙের আর্ট
নমস্কার বন্ধুরা। আশা করছি আপনারা সকলে সুস্থ আছেন। আজকে আমি আপনাদের সাথে আমার একটি হাতের কাজ শেয়ার করতে চলেছি। এই প্লাটফর্মে আসার পর থেকে আমি নিজের গান, ছবি আঁকা, রান্না, ফটোগ্রাফি, কেক তৈরি করা, এর সাথে আরো অনেক ধরনের হাতের কাজ দেখিয়ে থাকি। আজকে বেশ অনেকদিন পর সুযোগ হল আপনাদের সাথে শেয়ার করে নিতে আমারই একটি করা হাতের কাজ।
পাঞ্জাবির ওপর ফেব্রিক আর্ট |
|---|
বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গোৎসব। তাই প্রিয় মানুষদের খুশি করতে আমরা নানান রকম উপহার দিয়ে থাকি। এবারে আমার প্রিয় মানুষটিকে উপহার দেওয়ার সুযোগ হয়নি। তবে সে একটি লাল রঙের পাঞ্জাবি কিনে এনেছিল। সে ভেবেছিল অষ্টমীর দিন সকাল বেলায় এই পাঞ্জাবী পড়ে সে সকালের অঞ্জলি দেবে। আমাদের বাঙালিরা সবাই পূজোর দিনগুলোতে পাঞ্জাবি পড়তে খুবই ভালোবাসে। ছেলেদের পাঞ্জাবী এবং মেয়েদের শাড়িতে অপরূপ সুন্দর যুগলবন্দী তৈরি হয়।
অষ্টমী পূজোর দিন এই পাঞ্জাবি পড়ে প্রিয় মানুষটি |
|---|
কিন্তু পাঞ্জাবিটা সে পুরোপুরি সুতির লাল রঙের কিনেছিল। এবং আমাকে বলে তাতে ফেব্রিক দিয়ে আর্ট করে দিতে। সেই মতোই অষ্টমীর আগের দিন অর্থাৎ সপ্তমীর দিন আমি সকাল থেকে বসে বসে পাঞ্জাবি উপর ডিজাইন করা শুরু করি। পুরো কাজটা আমি সাদা রঙের ফেব্রিক দিয়ে করেছি। কাজটা করতে আমার শুধু রং, তুলি, জল, পেন্সিল আর কম্পাস লেগেছে।
লিংক
পাঞ্জাবির ওপর আর্টের ভিডিও লিংক |
|---|
এই ধরনের ফেব্রিক আর্ট করা পাঞ্জাবি গুলো যে কোন অকেশনে পড়া যায়। এমনকি সরস্বতী পুজোর সময় এই ধরনের পাঞ্জাবি গুলো আরো সুন্দর দেখতে লাগে। তাই আমার নিজেরও পাঞ্জাবির উপর ফেব্রিক দিয়ে আর্ট করতে খুব ভাল লাগে। আর এই সমস্ত কারুকার্য করা আমার একটা ভালো লাগার জায়গা। এসব শিল্পের মধ্যে ব্যস্ত থাকলে সত্যিই মনটা অনেক ঠান্ডা থাকে। কোনরকম দুশ্চিন্তা মাথার মধ্যে খেলা করে না। তাই আমার এ ধরনের কাজ করতে খুবই ভালো লাগে।
আপনাদের সুবিধার্থে , আমি একটা ভিডিও করেছি পুরো কাজটার ওপর। আমার রান্নার ভিডিও গুলো আপনার যেমন দেখতে পারেন ঠিক তেমনি এই পোষ্টের যে ভিডিও লিংক দেওয়া রয়েছে ,তাতে ক্লিক করলে আপনারা এই কাজের পুরো ভিডিও দেখতে পাবেন। এর সাথেই ধাপে ধাপে আমি নিচে আপনাদের সকলের সাথে শেয়ার করে নিচ্ছি কিভাবে আমি পুরো কাজটা করলাম। চলুন তাহলে এবার শুরু করি।
প্রথম ধাপ
প্রথমে আমি লাল পাঞ্জাবীটি নিয়ে নিয়েছি। আর চারিদিকে টান টান করে ক্লিপ লাগিয়ে নিয়েছি পাঞ্জাবির। পাঞ্জাবির ভেতর দিয়ে ড্রইং এর যে বোর্ড হয় সেটা ঢুকিয়ে দিয়েছিলাম। যাতে কাজ করতে সুবিধা হয়।। বোর্ডের সাথে পাঞ্জাবি টাকে এমন ভাবে স্লিপ দিয়ে সেট করেছি যাতে কোন রকম ভাবে পিছলে না যায়। আমার কাছে ছবি আঁকার বোর্ড ক্লিপ না থাকায়, আমি জামা কাপড়ের ক্লিপ ব্যবহার করেছি।
লাল পাঞ্জাবি |
|---|
দ্বিতীয় ধাপ
এবারে যেহেতু আমি গলার কাছ থেকে কাজ শুরু করব। তাই যেখানে বোতাম গুলো রয়েছে তার পাশে একটি জায়গা বেছে নিলাম। মাঝামাঝি একটি জায়গা বেছে নিয়ে, সেখানে কম্পাস বসিয়ে অর্ধবৃত্ত আঁকছি অনেকগুলো। অনেকটা মান্ডালা মত হবে। তাই সেই মতন কাজটা করছি।।
তৃতীয় ধাপ
লাল পাঞ্জাবির উপর বিশেষ করে সাদা রং খুব পরিমাণে ফোটে। এছাড়াও হলুদ অথবা কালো ব্যবহার করা যেতে পারে। সুতির কাপড়ের ফেব্রিক টা বেশ স্থায়ী হয়। জামা কাপড় কাচার পরও ওঠেনা। আমি এর আগে অনেকবার জামা কাপড়ের উপর ফেব্রিক রং করেছি। তাই আমি এখানে সাদা ফেব্রিক রং দিয়ে ডিজাইন করা শুরু করলাম। প্রথমেই অর্ধবৃত্তাকার একে নিয়েছিলাম, সেইটাকেই সাদা রং দিয়ে ভরিয়ে দিচ্ছি।
চতুর্থ ধাপ
বৃত্তের মাঝে মাঝে পছন্দমত ডিজাইন করে নিয়েছি। সেগুলো একে একে সাদা রং দিয়ে একে নিচ্ছি আবারো। আপনারা দেখতেই পাচ্ছেন প্রত্যেকটা লাইনের আলাদা আলাদা ডিজাইন আমি করতে থাকছি।
পঞ্চম ধাপ
এটা বলা যেতে পারে চার নম্বর বড় বৃত্ত। এই জায়গায় এসে আমি আরো একটি আলাদা রকম কলকা এঁকেছি। আর সেটাকে রং তুলির সাহায্যে কভার করে নিচ্ছি।
ষষ্ঠ ধাপ
মান্ডালা এমনই একটা সুন্দর আর্ট যেটাকে দূর থেকে দেখতে সবথেকে বেশি ভালো লাগে। প্রত্যেকটি কলকার সাথে প্রত্যেকটি কলকার যে জ্যামিতিক গ্যাপ বা দূরত্ব , তা বজায় রাখতে পারলে তবেই একটি আল্পনা সুন্দর হয়। এই আল্পনার নতুন ডিজাইনগুলো আমার নিজের খুব পছন্দের। আপনারা দেখতেই পাচ্ছেন ডিজাইন কিভাবে প্রত্যেকটা ধাপে ধাপে চেঞ্জ হচ্ছে।
সপ্তম ধাপ
এই জায়গায় এসে ডিজাইনটা আমি একটু আলাদা রকম করেছি। তুলিতে বেশি পরিমাণে জল নিলে রং কিন্তু ভালোভাবে ফুটবেনা। এর সাথেই রংটা ভালোভাবে বসবে ও না। তাই বুঝেশুনে রং এবং জলের পরিমাণ ঠিক রাখতে হবে।।
অষ্টম ধাপ
আবারো একটা বড় বৃত্তাকার গোল কে সাদা রং তুলি দিয়ে এঁকে নিয়ে তাতে ত্রিভুজাকৃতির ডিজাইন করছি।
নবম ধাপ
ত্রিভুজাকৃতির ডিজাইন গুলোকে ভরাট করছি নিজের পছন্দমত ডিজাইন দিয়ে।
দশম ধাপ
একদম শেষের বৃত্তে চলে এসেছি। আর এখানে আমি একটু অন্যরকম ডিজাইন করছি যাতে আর্ট টা আরেকটু ভালোভাবে ফুটে ওঠে। অন্যান্য বৃত্তের ডিজাইন গুলি থেকে একেবারে আলাদা ধরনের ডিজাইন আমি এখানে করে নিলাম।
আর এভাবেই দেখুন কত সুন্দর একটি আর্ট তৈরি হয়ে গেছে। এবারে পাঞ্জাবিটি পড়লে একদম দুর্দান্ত লাগবে। ফাঁকা ফাঁকা পাঞ্জাবিটা পড়লে কেমন যেন সাদামাটা দেখতে লাগতো। ফেব্রিক আর্ট করার পর পাঞ্জাবির আভিজাত্য আরো বেড়ে গেছে।
ফেব্রিক আর্ট শেষ, ফাইনাল লুক |
|---|
পুরো আর্টটা করার পর মোটামুটি আধ ঘন্টার বেশি হাওয়াতে রাখলে পুরো কাজটা শুকিয়ে যাবে।। অথবা সারা রাতের জন্য আপনারা রাখতে পারেন। তারপর পড়লেই দুর্দান্ত লাগবে।
আমার পছন্দের মানুষটিকে আমি এবছর পূজোতে কিছু না দিতে পারলেও, আমার কাজের মাধ্যমে তাকে এইভাবেই সন্তুষ্ট করেছি। আপনারাও চাইলে আপনাদের প্রিয় মানুষদের ঠিক এমন কিছু দিয়ে একদম অবাক করে দিতে পারেন। হাতের কাজের তুলনা হয় না। আর উপহার যখন প্রিয় মানুষের হাতে তৈরি হয়। তখন সেটার মর্যাদা আরো বেড়ে যায়। আশা করছি আপনাদের সকলের আমার পুরো কাজটা ভালো লেগেছে। আপনাদের সকলকে আমি অনুরোধ করব ভিডিওটি দেখার জন্য। আর এর সাথেই আপনাদের সকলকে ধন্যবাদ আমার পুরো পোস্টটি পড়ার জন্য। আজকে এখানেই শেষ করছি। সকলে ভালো থাকবেন।
THE QUEST TEAM has supported your post. We support quality posts, good comments anywhere, and any tags
পাঞ্জাবি রংটা খুব সুন্দর হয়েছে। যখন ফেব্রিক দিয়ে আঁক ছিলে তখন আমি তো পুরোটাই দেখেছি। প্রথম থেকেই আঁকাটা আমার খুব সুন্দর লেগেছিল। যাকে দিয়েছো তাকেও পড়ে খুব সুন্দর লাগছে। তাকে বোলো বৌদি বলেছে তোমাকে খুব সুন্দর লাগছে। পাঞ্জাবিটা পড়ে।
দারুণ হয়েছে ঈশা। কত গুণ রে তোর। কত্ত কিছু করতে পারিস। খুব সুন্দর হয়েছে।