বাবা মা এর ম্যারেজ অ্যানিভার্সারির আরো কিছু মুহূর্ত
নমস্কার বন্ধুরা। আশা করছি সকলে সুস্থ আছেন।
গতকাল আমি আপনাদের সকলের সাথে শেয়ার করছিলাম মা-বাবার অ্যানিভার্সিনির দিনের মুহূর্তগুলো। তারপরে সন্ধ্যেবেলা থেকে আমার মা এর যত্ন করে তুলে রাখা বিয়ের শাড়ি গুলোর কথাও শেয়ার করছিলাম।
কোন শাড়িটা পড়বে মা বুঝতে পারছিল না প্রথমে, তারপর অনেক ভেবেচিন্তে অবশেষে মা, বৌভাতের দিন যে শাড়িটা পড়েছিল , সেই শাড়িটায় আবার পরল। মাকে এই শাড়িতে আমার ভীষণ ভালো লাগছিল।
ততক্ষণে একবার রাধুনীঠাকমার কাছে গিয়ে দেখে আসলাম ঠাকুমা তখন পনিরের পকোড়া করছে। পনিরের পকরাগুলোকে দেখে আমার যা লোভ লাগছিল ।কিন্তু সেই সময় খাওয়ার সময় ছিল না। আমাকে জেঠুকে নিয়ে বার হতে হলো একটু মার্কেটের দিকে।মা-বাবার অ্যানিভার্সারির জন্য আবার একটা কেক লাগবে ,তাই সেই কেক কিনতেই বেরিয়ে পড়েছিলাম জেঠুর সাথে।
জেঠুর সাথে বেরিয়ে চলে গেলাম প্রথমে মিও আমরে। গিয়ে দেখি সেরকম কেক নেই। আমি অবাক হয়ে গেলাম। সেদিনকে দোকান পুরো ফাঁকা ।কেক একটাও ঠিকভাবে পাচ্ছিনা। আসলে সেদিনকে অনেক বিয়ের ডেট ছিল ।ফার্স্ট মে তে অনেক অ্যানিভার্সারি ডেট ও ছিল।
আমরা আরও দুটো জায়গা ঘুরলাম। সেখানেও কেক পেলাম না। অবশেষে আমাদের কৃষ্ণনগরেই মিও আমরের আরও একটা আউটলেট আছে , সেখানে চলে গেলাম এবং সেখান থেকেই যেটা হাতের কাছে পেলাম সেটাই অবশেষে নিতে হল ।ঠিকমতো পছন্দ না হলেও নিয়ে নিতে হলো শুধুমাত্র কেক ছিল না বলে।
এবার আপনারা বলতেই পারেন আমি এত সুন্দর কেক বানাতে পারি ,মা-বাবার অ্যানিভার্সারিতে কেন কেক বানালাম না ।আসলে এত পরিশ্রমের মধ্যে আরও একটা বাড়তি পরিশ্রম করতে একদম ইচ্ছা করছিল না।
আগে থেকে যে একটা ভাল দেখে অর্ডার করবো, সেরকম সময়ও ছিল না ।তাই ভেবেছিলাম একেবারে গিয়ে কিনে নিয়ে আসব। কিন্তু কিনতে গিয়েও দেখি সমস্যা দাঁড়িয়ে গিয়েছিল। যাক গে যেটা পেয়েছি সেটাও ভালো পেয়েছি। একটা বাটার স্কচ ফ্লেভারের আর একটা স্ট্রবেরি ফ্লেভারের কেক কিনে নিয়েছিলাম।
আমি আর জেঠু সেই সুযোগে ওই দোকানে পেস্ট্রি খেয়েছিলাম। আসলে অনেকটা সময় হল আমরা কিছু খাইনি আর যখন আমরা বার হচ্ছি তখন পনির পকোড়া পুরোপুরি ভাজা শেষ হয়নি। এ কারণে আমাদের না খেয়ে বেরিয়ে আসতে হয়েছিল বাড়ি থেকে। তাই কেক কিনতে গিয়ে সেই সুযোগে দুটো পেস্ট্রি খেয়ে নিলাম আমি আর জেঠু মিলে।
এবারে বাড়ি আসার পর সেলিব্রেশন শুরু হল। ততক্ষণে বাড়িতে সবাই এসে হাজির। বাবার সমস্ত বন্ধুরা এবং তাদের স্ত্রী অথবা ছেলেমেয়েরা সকলে। সকলের পকোড়া খাওয়া কমপ্লিট। শুধুমাত্র আমি আর জেঠু বাকি ছিলাম। সেলিব্রেশন শুরু করার আগে আমি আর জেঠু অল্প করে পকোড়া খেয়ে নিলাম। এবার শুরু হয়ে গেল পাগলামি। সে পাগলামি দেখে আমি লজ্জায় কোথায় লুকাবো, বুঝতে পারছিলাম না। সেই পাগলামির কথা না হয় পরের পোস্টে বলবো। আজকে এখানেই শেষ করছি।
বিবাহ বার্ষিকীর দিন আবারো জেঠুর সাথে কেনাকাটা করার জন্য বেরিয়ে পড়েছিলেন। তোমার মায়ের মত এরকম সমস্যা আমারও অনেক সময় হয় কোন জায়গায় যাওয়ার সময় কিংবা কোন অকেশনে কোন শাড়ি বা জামাটা পড়বো বুঝে উঠতে পারি না। জেঠুর সাথে গিয়ে কেক শাড়ি সমস্ত কিছু কেনাকাটা করে নিয়ে চলে এসেছিলে। কিন্তু তোমার মা এই সেই বিয়ের দিনে শাড়িটায় পড়েছিল যাইহোক করে খুব সুন্দর লাগছিল সুন্দর মুহূর্ত শেয়ার করে নেয়ার জন্য তোমাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।