পুরী পৌঁছানো
নমস্কার বন্ধুরা, আশা করছি আপনারা সকলে সুস্থ আছেন। আজকে আমি আপনাদের সকলের সাথে শেয়ার করতে চলেছি আমার পুরী পৌঁছানোর কিছু মুহূর্ত। আগের দিন যেখানে লেখা শেষ করেছিলাম তারপর থেকেই আজ লেখা শুরু করছি।
কোলাঘাটের ওখানে একটা জায়গায় ব্রেক নিয়ে রান্না করে খাওয়া হয়েছিল, ওই সময় সত্যি বিষয়টা পুরো পিকনিকের মত লাগছিল ।আমার মা বিগত এক বছর ধরে শরীরটা একদমই ভালো নেই। এখনো শরীর ভালো নেই ,তাই মায়ের পক্ষে পরিশ্রম করাটা একটু কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। তবে আমাদের সাথে লোকজন থাকাতে রান্না নিয়ে অতটা চাপ হয়নি।
আর সত্যি কথা বলতে এখন যে পুরী ঘুরে এসেছি,তাই বলতে পারি ,নিজের মতন করে রান্না করে খাওয়া দাওয়া করা হয়েছিল বলেই হয়তো পেটটা ঠিক আছে। না হলে পুরী থেকে আসার পরে সকলেরই পেটের সমস্যা হয়।
মোটামুটি যখন রবিবার সকাল সাড়ে নটা, তখন আমরা পুরীতে ঢুকে গিয়েছি। আমরা বেরিয়েছিলাম শনিবার দিন দুপুরবেলায় ,ধরা যেতে পারে তিনটে। বলতে গেলে অনেক জায়গায় আমাদের ব্রেক নিতে হয়েছে। রান্নার জায়গাতেও দুই ঘন্টা আমাদের থামতে হয়েছে, পারমিটের জায়গায় সময় লেগেছে, তো সব মিলিয়ে বলতে গেলে ১৭ ঘণ্টা । তবে যে জায়গাগুলোতে ব্রেক দেয়া হয়েছে ,সেগুলো বাদ দিলে ১৩ থেকে ১৪ ঘণ্টা আমাদের সময় লেগেছে জার্নি করতে।
পুরী পৌঁছেই যখন সমুদ্রের দেখা পেলাম, তখন একদম মনটা ভালো হয়ে গেল, কোন রকম ক্লান্তি মনে হচ্ছিল না। যাওয়ার সময় সত্যি কথা কষ্ট হয়নি কোনরকম ।গাড়িতে এসি চলছিল। আমরা এত জায়গায় ব্রেক নিয়েছি। আনন্দ মজা করতে করতে পৌঁছেছি ,আর সামনে যখন পুরী সমুদ্র দেখতে পেলাম ,তখন তো মনের মধ্যে আর কোন কিছুই ছিল না ,শুধুমাত্র ভাবছিলাম কখন একটা হোটেল ঠিক ঠাক ভাবে চুস করতে পারব এবং একটু ফ্রেশ হব।
পুরীতে পৌঁছে গাড়িটা একটা জায়গায় রেখে, আমি বাবা আর মলয়দা মিলে একটু বেরিয়ে পড়লাম টোটো করে হোটেলের উদ্দেশ্যে। আমাদের হোটেল এরকম নেয়ার ছিল যেখানে রান্নার ব্যবস্থা থাকবে। অর্থাৎ রান্না করতে দেবে।
সমুদ্রের সাইডে অর্থাৎ সমুদ্রের সামনে যে হোটেল গুলো ছিল, সব কটাতেই নিজের রান্না করার সুবিধা ছিল না। সবকটাই মেরিন ড্রাইভের সামনে। তবে তার ঠিক পেছনের দিকের হোটেলগুলোতেই আমরা পেয়েছি রান্নার ব্যবস্থা। তো তার মধ্যে একটা হোটেল আমরা চুজ করে নিই ,যেটার নাম পুরি ইন ।
এবং সেখানেই ছাদের ওপরে সেড দেওয়া জায়গাতে রান্নার সুব্যবস্থা করে দেয়া হয়েছিল আমাদের সকলের জন্য। আমরা টোটাল তিনটে ফ্যামিলি ছিলাম ।তাই তিনটে রুম নিয়ে নিয়েছিলাম। যথেষ্ট বড় বড় বেড ছিল। ঘর ভীষণ পরিষ্কার ছিল। ওয়াশরুম থেকে শুরু করে রুম থেকে শুরু করে ওদের ব্যবহার থেকে শুরু করে সবকিছু ভালো ছিল। এইভাবে যদি গ্রুপ টুর করা হয় ,এইভাবে প্ল্যান থাকে তাহলে আমি অবশ্যই ওই হোটেলটাই সাজেস্ট করব।।
সবাই মিলে গেলে সবার মন মতন করেই সবকিছু করতে হয় । না হলে তো ঝামেলা হবে। এ কারণেই সবকিছু সবাইকে বুঝে শুনে সবার মতামত নিয়ে তারপরেই করা উচিত যখন আমরা একটা গ্রুপে ট্রাভেল করি। অনেকেই সেটা বুঝতে না পেরে নিজের মনমর্জি করতে থাকে। এই জিনিসটা একেবারেই মেনে নেওয়ার মতো না। যাই হোক পরবর্তী পোস্টে বাকি কথা শেয়ার করব। আজ এখানেই শেষ করলাম।